হাদীস নং ৩৫৪৯
ইসহাক আল ওয়াসিতী রহ……….জারীর ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইসলাম গ্রহণ করার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর গৃহে প্রবেশ করতে কোনদিন আমাকে বাঁধা প্রদান করেননি এবং যখনই আমাকে দেখেছেন মুচকি হাসি দিয়েছেন।
জারীর রা. আরো বলেন, জাহিলী যুগে (খাসআম গোত্রের একটি প্রতীমা রক্ষিত মন্দির) যুল-খালাসা নামে একটি ঘর ছিল। যাকে কাবায়ে ইয়ামানী ও কাবায়ে শামী বলা হত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, তুমি কি যুল-খালাসার ব্যাপারে আমাকে শান্তি পার? জারীর রা. বলেন, আমি আহমাস গোত্রের একশ পঞ্চাশ জন অশ্বারোহী সৈন্য নিয়ে যাত্রা করলাম, এবং (প্রতীমা ঘরটি) বিধ্বস্ত করে দিলাম। সেখানে যাদেরকে পেলাম হত্যা করে ফেললাম। ফিরে এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সংবাদ শুনলাম। তিনি (অত্যন্ত খুশী হয়ে) আমাদের জন্য এবং আহমাস গোত্রের জন্য দু’আ করলেন।
হাদীস নং ৩৫৫০
ইসমাঈল ইবনে খালীল রহ………..আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উহুদ যুদ্ধে (প্রথম দিকে) মুশরিকরা যখন চরমভাবে পরাজিত হয়ে পড়ল, তখন ইবলীস চীৎকার করে (মুসলমানগণকে) বলল, হে আল্লাহর বান্দাগণ ! পিছনের দিকে লক্ষ্য কর। তখন অগ্রবর্তী দল পিছন দিকে ফিরে (শত্রু দল মনে করে) নিজদলের উপর আক্রমণ করে বসল এবং একে অন্যকে হত্যা করতে লাগল। এমন সময় হুযায়ফা রা. পিছনের দলে তাঁর পিতাকে দেখতে পেয়ে চীৎকার করে বলতে লাগলেন, হে আল্লাহর বান্দাগণ, এই যে আমার পিতা, এই যে আমার পিতা। আয়েশা রা. বলেন, আল্লাহর কসম, কিন্তু তারা কেহই বিরত থাকেনি। শেষ পর্যন্ত তাকে হত্যা করে ফেলল। হুযায়ফা রা. বললেন, আল্লাহ তোমাদিগকে মাফ করে দিন। আমার পিতা উরওয়া রহ. বলেন, আল্লাহর কসম, এ কথার কারণে হুযায়ফা রা.-এর মধ্যে তাঁর জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মঙ্গলের চিহ্ন বিদ্যমান ছিল।
হাদীস নং ৩৫৫১
মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর রহ………আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, ওহী নাযিল হওয়ার পূর্বে একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কার নিম্নাঞ্চলে বালদা নামক স্থানে যায়েদ ইবনে আমর ইবনে নুফায়েলের সাথে সাক্ষাত করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সম্মুখে আহার্য পূর্ণ একটি খানচা পেশ করা হল। তিনি তা থেকে কিছু খেতে অস্বীকৃতি জানালেন। এরপর যায়েদ রা. বললেন, আমিও ঐ সব জন্তুর গোশত খাই না যা তোমরা তোমাদের দেব-দেবীর নামে জবাই কর। আল্লাহর নামে জবাইকৃত অন্যের নামে যবাই করা জন্তুর গোশত আমি খাইনা। যায়েদ ইবনে আমর কুরাইশের যবাইকৃত জন্তু সম্পর্কে তাদের উপর দোষারোপ করতেন এবং বলতেন, বকরীকে সৃষ্টি করলেন আল্লাহ, তাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য আকাশ থেকে বারি বর্ষণ করলেন। ভূমি থেকে উৎপন্ন করলেন, তৃণ-লতা অথচ তোমরা আল্লাহ তায়ালার সমূহদান অস্বীকার করে প্রতিমার প্রতি সম্মান করে আল্লাহর নাম ছাড়া অন্যের নামে যবেহ করছ।
মূসা (সনদসহ) বলেন………. সালিম ইবনে আবদুল্লাহ রহ. আমার নিকট বর্ণনা করেছেন। মূসা রহ. বলেন, আমার জানা মতে তিনি ইবনে উমর রা. থেকে এ ঘটনাটি বর্ণনা করেছেন যে, যায়েদ ইবনে আমর সফিক তাওহীদের উপর প্রতিষ্ঠিত দীনের তালাশে সিরিয়ায় গমন করলেন। সে সময় একজন ইয়াহূদী আলেমের সাথে তাঁর সাক্ষাত হল। তিনি তার নিকট তাদের দীন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন এবং বললেন, হয়ত আমি তোমাদের দীনের অনুসারী হব, আমাকে সে সম্পর্কে অবহিত কর। তিনি বললেন, তুমি আমাদের দীন গ্রহণ করবেনা। গ্রহণ করলে যে পরিমাণ গ্রহণ করবে সে পরিমাণ আল্লাহর গযব তোমার উপর আপতিত হবে। যায়েদ বললেন, আমি তো আল্লাহর গযব থেকে পালিয়ে আসছি। আমি যথাসাধ্য, আল্লাহর সামান্যতম গযবকেও আমি বহন করব না। আর আমার কি ইহা বহনের শক্তি-সামর্থ্য আছে? তুমি কি আমাকে এ ছাড়া অন্য কোন পথের সন্ধান দিতে পার? সে বলল, আমি তা জানি না, তবে তুমি দীনে হানীফ গ্রহণ করে নাও। যায়েদ জিজ্ঞাসা করলেন। (দীনে) হানীফ কি? সে বলল, তাহল ইবরাহীম আ.-এর দীন। তিনি ইয়াহূদীও ছিলেন না নাসারাও ছিলেন না। তিনি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো ইবাদত করতেন না। তখন যায়েদ বের হলেন এবং তাঁর সাথে একজন খৃষ্টান আলিমের সাক্ষাত হল। ইয়াহূদী আলিমের নিকট ইতিপূর্বে তিনি যা যা বলেছিলেন তার কাছেও তা বললেন। তিনি বললেন, তুমি আমাদের দীন গ্রহন করবেনা । গ্রহণ করলে যে পরিমাণ গ্রহণ করবে সে পরিমাণ আল্লাহর লানত তোমার উপর আপতিত হবে। যায়েদ বললেন, আমি তো আল্লাহর লানত থেকে পালিয়ে আসছি। আর আমি যথাসাধ্য সামান্যতম আল্লাহর লানত ও গযবও বহন করব না। তিনি বললেন, আমাদের ধর্মের যে পরিমাণ তুমি গ্রহণ করবে সে পরিমাণ আল্লাহর লানত তোমার উপর পড়বে। যায়েদ রা. বললেন, আমি তো আল্লাহর লানত থেকে পালিয়ে এসেছি এবং আমি আল্লাহর লানত ও গযবের সামান্যতম অংশ বহন করতে রাযী নই, এবং আমি কি তা বহনের শক্তি রাখি? তুমি কি আমাকে এ ছাড়া অন্য কোন পথের সন্ধান দেবে সে বলল, আমি অন্য কিছু জানিনা। শুধু এতটুকু বলতে পারি যে, তুমি দীনে হানিফ গ্রহণ কর। তিনি বললেন, হানীফ কি? উত্তরে তিনি বললেন তাহল ইবরাহীম আ.-এর দীন, তিনি ইয়াহূদীও ছিলেন না এবং খৃষ্টানও ছিলেন না। এবং আল্লাহ ছাড়া আর কারো ইবাদত করতেন না। যায়েদ যখন ইবরাহীম আ. সম্পর্কে তাদের মন্তব্য জানতে পারলেন, তখন তিনি বেরিয়ে পড়ে দু’হাত উঠিয়ে বললেন, হে আল্লাহ ! আমি তোমাকে সাক্ষী রেখে বলছি আমি দীনে ইবরাহীম আ.-এর উপর আছি। লায়স রহ. বলেন হিশাম তাঁর পিতা সূত্রে তিনি আসমা বিনতে আবু বকর রা. থেকে বর্ণনা করতে গিয়ে আমার কাছে লিখছেন যে, তিনি (আসমা) বলেন, আমি দেখলাম যায়েদ ইবনে আমর ইবনে নুফায়লকে কাবা শরীফের দেয়ালে পিঠ লাগিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন এবং বলছেন, হে কুরাইশ গোত্র আল্লাহর কসম, আমি ব্যতীত তোমাদের কেউ-ই দীনে ইবরাহীমের উপর নেই। আর তিনি তো যেসব কন্যা সন্তানকে জীবন্ত কবর দেওয়ার জন্য নেওয়া হত তাদেরকে তিনি বাঁচাবার ব্যবস্থা করতেন। যখন কোন লোক তার কন্যা সন্তানকে হত্যা করার জন্য ইচ্ছা করত, তখন তিনি এসে বলতেন, হত্যা করো না আমি তার জীবিকার ব্যবস্থার ব্যয়ভার গ্রহণ করব। এ বলে তিনি শিশুটিকে উদ্ধার করে নিয়ে আসতেন। শিশুটি বড় হলে পরে তার পিতাকে বলতেন, তুমি যদি তোমার কন্যাকে নিয়ে যেতে চাও, তাহলে আমি দিয়ে দেব। আর তুমি যদি নিতে ইচ্ছুক না হও, তবে আমিই-এর যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করতে থাকব।
