হাদীস নং ৩৫৪২
সুলাইমান ইবনে হারব রহ……….আবু বুরদা রা. বলেন, আমি মদীনায় গেলাম; আবদুল্লাহ ইবনে সালামের সাথে আমার সাক্ষাত হল। তিনি আমাকে বললন, তুমি আমাদের এখানে আসবে না? তোমাকে আমি খেজুর ও ছাতু খেতে দেব এবং একটি (মর্যাদাপূর্ণ) ঘরে থাকতে দেব। অতঃপর তিনি বললেন, তুমি এমন স্থানে (ইরাকে) বসবাস কর, যেখানে সুদের কারবার অত্যন্ত ব্যাপক। যখন কোন মানুষের নিকট তোমার কোন প্রাপ্য থাকে আর সেই মানুষটি যদি তোমাকে কিছু ঘাস, খড় অথবা খড়ের ন্যায় নগণ্য বস্তুর হাদীয়া পেশ করে তার তা গ্রহণ করো না, যেহেতু তা সুদের অন্তর্ভূক্ত। নযর রহ. আবু দাউদ রহ. ও ওয়াহাব রহ. শুবা রহ. থেকে بيت শব্দটি বর্ণনা করেননি।
হাদীস নং ৩৫৪৩
মুহাম্মদ ও সাদাকা রহ…………আলী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মারিয়াম আ. ছিলেন (তৎকালীন) নারী সমাজের শ্রেষ্ঠতমা নারী। আর খাদীজা রা. (এ উম্মতের) নারীদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ।
হাদীস নং ৩৫৪৪
সাঈদ ইবনে উফাইর রহ………..আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোন সহধর্মিণীর প্রতি এতটুকু অভিমান প্রদর্শন করিনি ; যতটুকু খাদীজা রা.-এর প্রতি করেছি। কেননা, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর কথা বারবার আলোচনা করতে শুনেছি, অথচ আমাকে বিবাহ করার পূর্বেই তিনি ইন্তিকাল করেছিলেন। খাদীজা রা.-কে জান্নাতে মণি-মুক্তা খচিত একটি প্রাসাদের সু-সংবাদ দেয়ার জন্য আল্লাহ তায়ালা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আদেশ করেন। কোন দিন বকরী যবাহ হলে খাদীজা রা.-এর বান্ধবীদের নিকট তাদের প্রত্যেকের আবশ্যক পরিমাণ গোশত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদীয়া স্বরূপ পাঠিয়ে দিতেন।
হাদীস নং ৩৫৪৫
কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ………..আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অন্য কোন সহধর্মিণীর প্রতি এতটুকু ঈর্ষা প্রকাশ করিনি, যতটুকু খাদীজা রা.-এর প্রতি করেছি। যেহেতু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর আলোচনা অধিক করতেন। তিনি (আরো) বলেন, খাদীজা রা.-এর (ইন্তিকালের) তিন বছর পর তিনি আমাকে বিবাহ করেন। আল্লাহ স্বয়ং অথবা জিবরাঈল আ. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আদেশ করলেন যে, খাদীজা রা.-কে জান্নাতে মণিমুক্তা খচিত একটি প্রাসাদের সুসংবাদ দিন।
হাদীস নং ৩৫৪৬
উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাসান রহ…………আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য অন্য কোন সহধর্মিণীর প্রতি এতটুকু অভিমান করিনি যতটুকু খাদীজা রা.-এর প্রতি করেছি। অথচ আমি তাকে দেখিনি। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কথা অধিক সময় আলোচনা করতেন। কোন কোন সময় বকরী যবেহ করে গোশতের পরিমাণ বিবেচনায় হাড়-মাংসকে ছোট ছোট টুকরা করে হলেও খাদীজা রা.-এর বান্ধবীদের ঘরে পৌঁছে দিতেন। আমি কোন সময় অভিমানের সূরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতাম, (আপনার অবস্থা দৃষ্টে) মনে হয়, খাদীজা রা. ব্যতীত পৃথিবীতে যেন আর কোন নারী নাই। প্রতি উত্তরে তিনি বলতেন, হ্যাঁ। তিনি এমন ছিলেন, এমন ছিলেন তাঁর গর্ভে আমার সন্তান জন্মেছিল।
হাদীস নং ৩৫৪৭
মুসাদ্দাদ রহ……….ইসমাঈল রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনে আবু আওফা রা.-কে জিজ্ঞাসা করলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাদীজা রা.-কে জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছিলেন কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ। এমন একটি সুরম্য প্রাসাদের সুসংবাদ দিয়েছিলেন, যে প্রাসাদটি তৈরী করা হয়েছে এমন মুতী দ্বারা যার ভিতরদেশ ফাঁকা। আর সেখানে থাকবে না হৈ হুল্লোড়, কোন প্রকার ক্লেশ ও ক্লান্তি।
হাদীস নং ৩৫৪৮
কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, জিবরাঈল আ. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খেদমতে হাযির হয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ যে খাদীজা রা. একটি পাত্র হাতে নিয়ে আসছেন। ঐ পাত্রে তরকারী, অথবা খাবার দ্রব্য অথবা পানীয় ছিল। যখন তিনি পৌঁছে যাবেন তখন তাকে তাঁর প্রতিপালকের পক্ষ থেকে এবং আমর পক্ষ থেকেও সালাম জানাবেন আর তাকে জান্নাতের এমন একটি সুরম্য প্রাসাদের সুসংবাদ দিবেন যার ভিতরদেশ ফাঁকা-মুতি দ্বারা তৈরী করা হয়েছে। সেখানে থাকবে না কোন প্রকার হট্টগোল; না কোন প্রকার ক্লেশ ও ক্লান্তি।
ইসমাঈল ইবনে খলীল রহ……..আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার খাদীজার বোন হালা বিনতে খুওয়ায়লিদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসার অনুমতি চাইলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মনে করলেন খাদীজার অনুমতি প্রার্থনার কথা। এজন্য তিনি খুশী হয়ে বললেন, ইয়া আল্লাহ ! হালা (এর কি খবর?) আয়েশা রা. বললেন, এতে আমি অভিমান করে বললাম, আপনি কি কুরাইশ বংশের লাল গণ্ডধারী এক বৃদ্ধার স্মরণ করছেন, যে অনেক আগে মৃত্যুবরণ করেছে? আল্লাহ তো তার চেয়ে উত্তম মহিলা দান করেছেন।
