হাদীস নং ৩৫৩৬
আবুল ওয়ালিদ রহ…………মাসরূক রহ. থেকে বর্ণিত যে, আবদুল্লাহ ইবনে আমর রা.-এর মজলিসে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা.-এর আলোচনা চলছিল। তখন তিনি বললেন, তিনি সে ব্যক্তি যাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বক্তব্য শুনার পর থেকে আমি অত্যন্ত ভালবাসি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কুরআন শিক্ষা কর চারজনের নিকট থেকে, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (সর্বপ্রথম তিনি এ নামটি বললেন) সালিম আবু হুযাইফার আযাদকৃত গোলাম, মুআয ইবনে জাবাল ও উবাই ইবনে কাব রা.।
হাদীস নং ৩৫৩৭
মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ……….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উবাই ইবনে কাব রা.-কে বললেন, আল্লাহ সূরা لم يكن الذين كفروا তোমাকে পড়ে শুনানোর জন্য আমাকে আদেশ করেছেন। উবাই ইবনে কাব রা. জিজ্ঞাসা করলেন আল্লাহ আমার নাম উচ্চারণ করেছন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ। তখন তিনি (আনন্দের আতিশয্যে) কাঁদলেন।
হাদীস নং ৩৫৩৮
মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ………..আনাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে (সর্বপ্রথম) যে চার ব্যক্তি সম্পূর্ণ কুরআনুল কারীম হিফয করছিলেন, তাঁরা সবাই ছিলেন আনসারী (তাঁরা হলেন) উবাই ইবনে কাব রা., মুআয ইবনে জাবাল রা., আবু যায়েদ রা. ও যায়েদ ইবনে সাবিত রা.। কাতাদা রা. বলেন, আমি আনাস রা.-কে জিজ্ঞাসা করলাম, আবু যায়েদ কে? তিনি বললেন, উনি আমার চাচাদের মধ্যে একজন।
হাদীস নং ৩৫৩৯
আবু মামার রহ………..আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উহুদ যুদ্ধের এক পর্যায়ে সাহাবায়ে কেরাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন। তখন আবু তালহা রা. ঢাল হাতে নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সম্মুখে প্রাচীরের ন্যায় অটল হয়ে দাঁড়ালেন। আবু তালহা রা. সুদক্ষ তীরন্দাজ ছিলেন। অনবরত তীর ছুড়তে থাকায় তাঁর হাতে ঐদিন দু’ বা তিনটি ধনুক ভেঙ্গে যায়। ঐ সময় তীর ভর্তি শরাধার নিয়ে যে কেউ তাঁর নিকট দিয়ে যেত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকেই বলতেন, তোমরা তীরগুলি আবু তালহার জন্য রেখে দাও। এক সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাথা উচু করে শত্রু দের অবস্থা অবলোকন করতে চাইলে আবু তালহা রা. বললেন, হে আল্লাহর নবী ! আমার মাতা পিতা আপনার জন্য কুরআন হউক, আপনি মাথা উচু করবেন না। হয়ত শত্রুদের নিক্ষিপ্ত তীর এসে আপনার গায়ে লাগতে পারে। আমার বক্ষ আপনাকে রক্ষা করার জন্য ঢাল স্বরূপ। আনাস রা. বলেন, ঐদিন আমি আবু বকর রা.-এর কন্যা আয়েশা রা.-কে এবং (আমার মাতা) উম্মে সুলাইমকে দেখতে পেলাম যে, তাঁরা পরিধেয় কাপড় এতটুকু পরিমাণ তুলে ফেলেছেন যে, তাদের পায়ের খাড়ু আমি দেখতে পাচ্ছিলাম। তাঁরা পানির মশক ভরে নিজেদের পিঠে বহন করে এনে আহতদের মুখে পানি ঢেলে দিচ্ছিলেন। পুনরায় ফিরে গিয়ে পানি ভরে নিয়ে আহতদের কে পান করাচ্ছিলেন। ঐ সময় আবু তালাহ রা.-এর হাত থেকে (তন্দ্রাবেশে) তাঁর তরবারীখানা দু’বার অথবা তিনবার পড়ে গিয়েছিল।
হাদীস নং ৩৫৪০
আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……….সাদ ইবনে আবু ওয়াক্কাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আবদুল্লাহ ইবনে সালাম রা. ব্যতীত ভূ-পৃষ্ঠে বিচরণকারী কারো সম্পর্কে এ কথাটি বলতে শুনিনি যে, ‘নিশ্চয়ই তিনি জান্নাতবাসী’। সাদ রা. বলেন, তাঁরই সম্পর্কে সূরা আহকাফের এ আয়াত নাযিল হয়েছে: ‘এ বিষয়ে বনী ইসরাঈলের মধ্য থেকেও একজন সাক্ষ্য প্রদান করেছে।
হাদীস নং ৩৫৪১
আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ……….কায়েস ইবনে উবাদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি মদীনায় মসজিদে বসা ছিলাম। তখন এমন এক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করলেন যার চেহারায় বিনয় ও নম্রতার ছাপ ছিল। (তাকে দেখে) লোকজন বলতে লাগলেন, এই ব্যক্তি জান্নাতিগণের একজন। তিনি, সংক্ষিপ্তাকারে দু’রাকআত সালাত আদায় করে মসজিদ থেকে বেরিয়ে এলেন। আমি তাকে অনুসরণ করলাম এবং তাকে বললাম, আপনি যখন মসজিদে প্রবেশ করছিলেন তখন লোকজন বলাবলি করছিল যে, ইনি জান্নাতবাসিগণের একজন। তিনি বললেন, আল্লাহর কসম কারো জন্য এমন কথা বলা উচিত নয়, যা সে জানেনা। আমি তোমাকে প্রকৃত ঘটনাটি বলছি কেন ইহা বলা হয়। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবদ্দশায় একটি স্বপ্ন দেখে তাঁর নিকট বর্ণনা করলাম। আমি দেখলাম যে, আমি যেন একটি বাগানে মধ্যে একটি লোহার স্তম্ভ যার নিম্নভাগ মাটিতে এবং উর্ধ্বভাগ আকাশ স্পর্শ করেছে, স্তম্ভের উর্ধ্বে একটি শক্ত কড়া সংযুক্ত রয়েছে। আমাকে বলা হল, উর্ধ্বে আরোহণ কর। আমি বললাম, ইহা তো আমার সমর্থের বাইরে। তখন একজন খাদিম এসে পিছন দিক থেকে আমার কাপড় সমেত চেপে ধরে আমাকে আরোহণে সাহায্য করলেন। আমি চড়তে লাগলাম এবং উপরে গিয়ে আংটাটি ধরিলাম। তখন আমাকে বলা হল, শক্তভাবে আংটাটি আকড়ে ধর। তারপর কাড়াটি আমার হাতের মেঠায় ধারণ অবস্থায় আমি জেগে গেলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট স্বপ্নটি বললে, তিনি স্বপ্নটির (তাবীর হিসাবে) বললেন, এ বাগন হল ইসলাম, আর স্তম্ভটি হল ইসলামের খুটিসমূহ (করণীয় মৌলিক বিষয়াদি) কড়াটি হল (কুরআনে কারীম উল্লিখিত) ‘উরওয়াতুল উসকা’ (শক্ত ও অটুট কড়া) এবং তুমি আজীবন ইসলামের উপর অটল থাকবে। (রাবী বলেন) এই ব্যক্তি হলেন, আবদুল্লাহ ইবনে সালাম রা. খলীফা রহ. منصف এর স্থলে وصيف বলেছেন।
