হাদীস নং ৩৫২৮
আহমদ ইবনে ইয়াকুব রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (অন্তিম পীড়ায় আক্রান্তকালে) একখানা চাদর গায়ে জড়িয়ে, চাদরের দু-প্রান্ত দু’কাধে পেঁচিয়ে এবং মাথার একটি কাল রঙের পাগড়ি বেঁধে (ঘর থেকে) বের হলেন এবং মিম্বরে উঠে বসলেন। হামদ ও সানার পর বললেন, হে লোক সকল, জনসংখ্যা উত্তর উত্তর বৃদ্ধি পেতে থাকবে আর আনসারগণের সংখ্যা ক্রমশ: হ্রাস পেয়ে যাবে! এমনকি তারা খাদ্য-দ্রব্যে লবণের মত (সামান্য পরিমাণে) পরিণত হবে। তোমাদের মধ্যে যদি কেউ এমন ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব লাভ করে সে ইচ্ছা করলে কারো উপকার বা অপকার করতে পারে, তখন সে যেন নেককার আনসারদের নেক কার্যাবলী কবুল করে এবং তাদের ত্রু টি-বিচ্যুতি ক্ষমা করে দেয়।
হাদীস নং ৩৫২৯
মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ……….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আনসারগণ আমার অতি আপনজন ও বিশ্বস্ত লোক। সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকবে আর তাদের সংখ্যা হ্রাস পেতে থাকবে। তাই তাদের নেককারদের উত্তম কার্যাবলী কবুল কর এবং তাদের ত্রু টি-বিচ্যুতি ক্ষমা করে দাও।
হাদীস নং ৩৫৩০
মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ………বারা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এক জোড়া রেশমী কাপড় হাদীয়া দেয়া হল। সাহাবা কেরাম রা. তা স্পর্শ করে এর কোমলতায় অবাক হয়ে গেলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এর কোমলতায় তোমরা অবাক হচ্ছ ? অথচ সাদ ইবনে মুআয রা.-এর (জান্নাতে প্রদত্ত) রুমাল এর চেয়ে অনেক উত্তম, অথবা বলেছেন অনেক মুলায়েম। হাদীসটি কাতাদা ও যুহরী রহ. আনাস রা. সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন।
হাদীস নং ৩৫৩১
মুহাম্মদ ইবনে মুসান্না রহ……….জাবির রা. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি সাদ ইবনে মুআয রা.-এর মৃত্যুতে আল্লাহ তায়ালার আরশ কেঁপে উঠে ছিল। আমাশ রহ………. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে, একব্যক্তি জাবির রা. বললেন, সাদ ও বারা রা.-এর গোত্রদ্বয়ের মধ্যে কিছুটা বিরোধ ছিল, (কিন্তু এটা ঠিক নয়) কেননা, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ‘আল্লাহর আরশ’ সাদ ইবনে মুআযের (মৃত্যুতে) কেঁপে উঠল বলতে শুনেছি।
হাদীস নং ৩৫৩২
মুহাম্মদ ইবনে আরআরা রহ………আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, কতিপয় লোক (বনী কুরায়যার ইয়াহূদীগণ) সাদ ইবনে মুআয রা.-কে সালিশ মেনে (দুর্গ থেকে) নেমে আসে (তিনি আহত ছিলেন) তাকে নিয়ে আসার জন্য লোক পাঠানো হল। তিনি গাধায় সাওয়ার হয়ে আসলেন। যখন (যুদ্ধকালীন অস্থায়ী) মসজিদের নিকটে আসলেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তি অথবা (বললেন) তোমাদের সরদার আসছেন তাঁর দিকে দাঁড়াও। তারপর তিনি বললেন, হে সাদ! তারা (বনী কুরায়যার ইয়াহূদীগণ) তোমাকে সালিশ মেনে (দুর্গ থেকে) বেরিয়ে এসেছে। সাদ রা. বললেন, আমি তাদের সম্পর্কে এ ফয়সালা দিচ্ছি যে, তাদের যোদ্ধাদেরকে হত্যা করা হোক এবং শিশু ও মহিলাদেরকে বন্দী করে রাখা হোক। (তাঁর ফয়সালা শুনে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি আল্লাহ তায়ালার ফায়সালা অনুযায়ী ফায়সালা দিয়েছ অথবা (বলে ছিলেন) তুমি বাদশাহর (আল্লাহর) ফায়সালা অনুযায়ী ফায়সালা করেছ।
হাদীস নং ৩৫৩৩
আলী ইবনে মুসলিম রহ…………আনাস রা. থেকে বর্ণিত, দু’ব্যক্তি অন্ধকার রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট থেকে বের হলেন। হঠাৎ তারা তাদের সম্মুখে একটি উজ্জ্বল আলো দেখতে পেলেন। রাস্তায় তাঁরা যখন ভিন্ন হয়ে পড়লেন তখন আলোটিও তাদের উভয়ের সাথে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে গেল। মামার রহ. সাবিত রহ.-এর মাধ্যমে আনাস রা. থেকে বর্ণনা করেন যে, এদের একজন উসাইদ ইবনে হুযায়র রা. এবং অপরজন এক আনসারী ব্যক্তি ছিলেন এবং হাম্মাদ রহ. সাবিত রহ.-এর মাধ্যমে আনাস রা. থেকে বর্ণনা করেন যে, উসাইদ (ইবনে হুযায়র) ও আব্বাদ ইবনে বিশর রা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ছিলেন।
হাদীস নং ৩৫৩৪
মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ………আবদুল্লাহ ইবনে আমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, কুরআন পাঠ শিক্ষা কর চারজনের নিকট থেকে : ইবনে মাসউদ আবু হুযায়ফার আযাদকৃত গোলাম সালিম , উবাই (ইবনে কাব) ও মুআয ইবনে জাবাল রা. থেকে।
হাদীস নং ৩৫৩৫
ইসহাক রহ……….আবু উসাইদ রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আনসার গোত্রগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠতম গোত্র হল, বানূ নাজ্জার তারপর বানূ আবদ-ই আশহাল, তারপর বানূ হারিস ইবনে খাযরাজ তারপর বানূ সায়িদা। আনসারদের সকল গোত্রের মধ্যেই খায়র ও কল্যাণ রয়েছে। তখন সাদ ইবনে উবাদা রা. বললেন, তিনি ছিলেন প্রথম যুগের অন্যতম মুসলমান। আমার ধারণা হয় যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্যদেরকে আমাদের উপর প্রাধান্য দিয়েছেন (তদুত্তরে তাকে বলা হল, আপনাদেরকে বহু গোত্রের উপর প্রাধান্য দেয়া হয়েছে।
