হাদীস নং ৩৫২১
মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ………..উসাইদ ইবনে হুযায়র রা. থেকে বর্ণিত, একজন আনসারী বললেন, ইয়া রাসূলাল্লা! আপনি কি আমাকে অমুকের ন্যায় দায়িত্বে নিয়োজিত করবেন না? তিনি বললেন, তোমরা আমার ওফাতের পর অপরকে অগ্রাধিকার দেওয়া দেখতে পাবে, তখন তোমরা ধৈর্যধারণ করবে অবশেষে আমার সাথে সাক্ষাত করবে এবং তোমাদের সাথে সাক্ষাতের স্থান হল হাউযে কাউসার।
হাদীস নং ৩৫২২
আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ………..ইয়াইয়া ইবনে সাঈদ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি যখন ইবনে মালিক রা.-এর সঙ্গে ওয়ালীদ (ইবনে আবদুল মালিক)-এর সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে বাসরা থেকে দামেস্ক সফর করতে গিয়েছিলেন, তখন তিনি আনাস রা.-কে বলতে শুনেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাহরাইনের জমি তাদের জন্য (জায়গীর হিসাবে) বরাদ্দ করার উদ্দেশ্যে আনসারদিগকে আহবান করলে তারা বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের মুহাজির ভাইদের জন্য এরূপ জায়গীর বরাদ্দ না করা পর্যন্ত আমরা তা গ্রহণ করব না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা যদি তা গ্রহণ করতে নাও চাও, তবে (কিয়ামতর ময়দানে) হাউযে কাউসারের নিকট আমার সাথে সাক্ষাত না হওয়া পর্যন্ত ধৈর্যধারণ করতে থাক। কেননা অচিরেই তোমরা দেখতে পাবে, আমার পরে তোমাদের উপর অন্যদেরকে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে।
হাদীস নং ৩৫২৩
আদম রহ…………আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, হে আল্লাহ ! আখিরাতের জীবনই প্রকৃত জীবন। হে আল্লাহ ! আনসার ও মুহাজিরদের মঙ্গল করুন। কাতাদা রা. আনাস রা. সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এরূপ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন হে আল্লাহ ! আনসারকে ক্ষমা করে দিন।
হাদীস নং ৩৫২৪
আদম রহ……….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আনসারগণ খন্দক যুদ্ধের পরিখা খননকালে বলছিলেন, আমরা হলাম ঐ সমস্ত লোক যারা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাতে জিহাদের জন্য বায়আত করেছি যতদিন আমরা বেঁচে থাকব। এর উত্তরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আল্লাহ ! আখিরাতের জীবনই প্রকৃত জীবন। (হে আল্লাহ) আনসারও মুহাজিরদের বৃদ্ধি করে দিন।
হাদীস নং ৩৫২৫
মুহাম্মদ ইবনে উবাইদুল্লাহ রহ………..সাহল রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা যখন পরিখা খনন করে আমাদের কাঁধে করে মাটি বহন করছিলাম, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট এসে বললেন, হে আল্লাহ ! প্রকৃত জীবন একমাত্র আখিরাতের জীবনই। মুহাজির ও আনসারদেরকে আপনি ক্ষমা করে দিন।
হাদীস নং ৩৫২৬
মুসাদ্দ রহ…………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, জনৈক (ক্ষুধার্ত) ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খেদমতে এল। তিনি খাদ্য দ্রব্য কিছু আছে কিনা তা জানার জন্য) তাঁর সহধর্মিণীদের কাছে লোক পাঠালেন। তাঁরা জানালেন, আমাদের নিকট পানি ব্যতীত অন্য কিছু নেই। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কে আছ যে এই (ক্ষুধার্ত) ব্যক্তিকে মেহমান হিসাবে নিয়ে নিজের সাথে খাওয়াতে পার? তখন জনৈক আনসারী সাহাবী (আবু তালহা রা.) বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মেহমানকে সম্মান কর। স্ত্রী বললেন, (বাড়িতে) গেলেন এবং স্ত্রীকে বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মেহমানকে সম্মান কর। স্ত্রী বললেন, বাচ্চাদের আহার্য ব্যতীত আমাদের ঘরে কিছুই নেই। আনসারী বললেন, তুমি আহার প্রস্তুত কর এবং বাতি জ্বালাও এবং বাচ্চারা খাবার চাইলে তাদেরকে ঘুম পাড়িয়ে দাও। (স্বামীর কথা অনুযায়ী) সে বাতি জ্বালাল, বাচ্চাদেরকে ঘুম পাড়াল এবং সামান্য খাবার যা তৈরী ছিল তা উপস্থিত করল। (তারপর মেহমান সহ তারা খেতে বসলেন) বাতি ঠিক করার বাহানা করে স্ত্রী উঠে গিয়ে বাতিটি নিভিয়ে দিলেন। তারপর তারা স্বামী-স্ত্রী উভয়ই অন্ধকারের মধ্যে আহার করার মত শব্দ করতে লাগলেন এবং মেহমানকে বুঝাতে লাগলেন যে তারাও সঙ্গে খাচ্ছেন। তাঁরা উভয়েই (বাচ্চারাসহ) সারারাত অভুক্ত অবস্থায় কাটালেন। ভোরে যখন তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গেলেন, তখন তিনি বললেন, আল্লাহ তোমাদের গত রাতের কার্যকলাপ দেখে হেসে দিয়েছেন অথবা বলেছেন খুশী হয়েছেন এবং এ আয়াত নাযিল করেছেন। (আনসারদের অন্যতম গুণ হল এই) তারা অভাবগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও নিজেদের উপর অন্যদেরকে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। আর যাদেরকে অন্তরের কার্পণ্য থেকে মুক্ত রাখা হয়েছে, তারাই সফলকাম। (৫৯: ৯)।
হাদীস নং ৩৫২৭
মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আবু আলী রহ……….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন অন্তিম রোগে আক্রান্ত তখন আবু বকর ও আব্বাস রা. আনসারদের কোন একটি মজলিসের পাশ দিয়ে যাওয়ার কালে দেখতে পেলেন যে, তারা (সকলেই বসে বসে) কাঁদছেন। তাদের একজন জিজ্ঞাসা করলেন, আপনারা কাঁদছেন কেন? তাঁরা বললেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে আমাদের মজলিস স্মরণ করে কাঁদছি। তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে আনসারদের অবস্থা বললেন, রাবী বললেন, (তা শুনে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাদরের কিনারা দিয়ে মাথা বেঁধে (ঘর থেকে) বেরিয়ে আসলেন এবং মিম্বরে উঠে বসলেন। এ দিনের পর আর তিনি মিম্বরে আরোহণ করেননি। তারপর হামদ ও সানা পাঠ করে সমবেত সাহাবীদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, আমি আনসারগণের প্রতি বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখার জন্য তোমাদিগকে নির্দেশ দিচ্ছি ; কেননা তাঁরাই আমার অতি আপনজন, তাঁরাই আমার বিশ্বস্ত লোক। তারা তাদের উপর আরোপিত দায়িত্ব ও কর্তব্য পরিপূর্ণভাবে পালন করেছে। তাদের যা প্রাপ্য তা তাঁরা এখনো পায়নি। তাদের নেক লোকদের উত্তম কার্যকলাপ সাদরে গ্রহণ করবে এবং তাদের ত্রু টি বিচ্যুতি ক্ষমা করবে।
