মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ……….গায়লান ইবনে জারীর রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আনাস রা.-কে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনাদের আনসার নামকরণ সম্পর্কে আপনার বক্তব্য কি? এ নাম কি আপনারা করেছেন না আল্লাহ আপনাদের এ নামকরণ করেছেন? আনাস রা. বললেন, বরং আল্লাহ তা’আলা আমাদের এ নামকরণ করেছেন। (গায়লান রহ. বলেন) আমরা (বসরায়) যখন আনাস রা.-এর নিকট যেতাম, তখন তিনি আমাদেরকে আনসারদের গুণাবলী ও কীর্তি সমূহ বর্ণনা করে শুনাইতেন। তিনি আমাকে অথবা আযদ গোত্রের এক ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে বলতেন, তোমার গোত্র অমুক দিন অমুক কাজ করেছেন, অমুক দিন অমুক (সাহসিকতা পূর্ণ) কাজ করেছেন।
হাদীস নং ৩৫০৬
উবাইদ ইবনে ইসমাঈল রহ……….আয়েশা র. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বুআস যুদ্ধ (যা আউস ও খাযরাজ গোত্রদ্বয়ের মধ্যে সংঘটিত হয়ে দীর্ঘ একশ বিশ বছর স্থায়ী ছিল) এমন একটি যুদ্ধ ছিল, যা আল্লাহ তা’আলা (মদীনার পরিবেশকে) তাঁর (রাসূলের অনুকুল করার জন্য) মদীনা আগমনের পূর্বেই ঘটিয়ে ছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদীনায় আগমন করলেন তখন সেখানকার সম্ভ্রান্ত ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ নানা দলে উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল। তাদের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিগণ এ যুদ্ধে নিহত ও আহত হয়েছিল। তাদের ইসলাম গ্রহণকে আল্লাহ তা’আলা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য অনুকূল করে দিয়েছিলেন।
হাদীস নং ৩৫০৭
আবুল ওয়ালীদ রহ………..আবু তাইয়্যাহ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আনাস রা.-কে বলতে শুনেছি, মক্কা বিজয়ের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরাইশদেরকে মালে গনীমত দিলে কতিপয় আনসার বলেছিলেন যে, এ বড় আশ্চর্যের বিষয় যে, তিনি কুরাইশদের আমাদের গনীমতের মাল দিলেন অথচ আমাদের তরবারি থেকে তাদের রক্ত এখনও ঝরছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এ কথা পৌঁছলে তিনি আনসারদেরকে ডেকে বললেন, আমি তোমাদের থেকে যে কথাটি শুনতে পেলাম সে কথাটি কি ছিল? যেহেতু তাঁরা মিথ্যা কথা বলতেন না, সেহেতু তাঁরা বললেন, আপনার নিকট যা পৌঁছেছে তা সত্যই। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা কি এতে সন্তুষ্ট নও যে লোকজন গনীমতের মাল নিয়ে তাদের ঘরে প্রত্যাবর্তন করবে আর তোমরা আল্লাহর রাসূলকে নিয়ে নিজ ঘরে প্রত্যাবর্তন করবে। যদি আনসারগণ উপত্যকা বা গিরিপথ দিয়ে চলে তবে আমি আনসারদের উপত্যকা বা গিরিপথ দিয়েই চলবে।
হাদীস নং ৩৫০৮
মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অথবা তিনি বলেছেন আবুল কাসিম বলেন, আনসারগণ যদি কোন উপত্যকা বা গিরিপথে চলে তবে আমি আনসারদের উপত্যকা দিয়েই চলব। যদি হিজরত (এর বিধান) না হত, তবে আমি আনসারদেরই একজন হতাম। আবু হুরায়রা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথায় কোন অত্যুক্তি করেন নাই। আমার মাতা-পিতা তাঁর উপর কুরবান হউক তারা তাকে আশ্রয় দিয়েছেন, সর্বোতভাবে সাহায্য-সহায়তা করেছেন। অথবা এরূপ কিছু বলেছেন।
হাদীস নং ৩৫০৯
ইসমাঈল ইবনে আবদুল্লাহ রহ…………আবদুর রহমান ইবনে আওফ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন মুহাজিরগণ মদীনায় আগমন করলেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুর রাহমান ইবনে আওফ ও সাদ ইবনে রাবী রা. এর মধ্যে ভ্রাতৃত্ব সম্পর্ক স্থাপন করে দিলেন। তখন তিনি (সাদ রা.) আবদুর রাহমান রা. কে বললেন, আনসারদের মধ্যে আমিই সবচেয়ে অধিক সম্পদশালী ব্যক্তি। আপনি আমার সম্পদকে দু’ভাগ করে নিন। আমার দু’জন স্ত্রী রয়েছে, আপনার যাকে পছন্দ হয় বলুন, আমি তাকে তালাক দিয়ে দিব। ইদ্দতান্তে আপনি তাকে বিয়ে করে নিবেন। আবদুর রাহমান রা. বললেন, আল্লাহ আপনার পরিবারে এবং সম্পদে বরকত দান করুন। (আমাকে দেখিয়ে দিন) আপনাদের (স্থানীয়) বাজার কোথায়? তারা তাকে বনূ কায়নুকার বাজার দেখিয়ে দিলেন। (কয়েক দিন পর) যখন ঘরে ফিরলেন তখন (ব্যবসায় মুনাফা হিসেবে) কিছু পনীর ও কিছু ঘি সাথে নিয়ে ফিরলেন। এরপর প্রত্যহ সকাল বেলা বাজার যেতে লাগলেন। একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম–এর কাছে এমতাবস্থায় আসলেন যে, তাঁর শরীর ও কাপড়ে হলুদ রং এর চিহ্ন ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ব্যাপার কি ! তিনি (আবদুর রাহমান রা.) বললেন, আমি (একজন আনসারী মহিলাকে) বিয়ে করেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন, তাকে কি পরিমাণ মোহর দিয়েছ? তিনি বললেন, খেজুরের এক আটির পরিমাণ অথবা খেজুরের এক আটির ওজন পরিমাণ স্বর্ণ দিয়েছি।
হাদীস নং ৩৫১০
কুতাইবা রহ………..আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুর রাহমান ইবনে আওফ রা. হিজরত করে আমাদের কাছে এলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ও সাদ ইবনে রাবী রা.-এর মাঝে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন করে দিলেন। তিনি (সাদ রা.) ছিলেন অধিক সম্পদশালী ব্যক্তি। সাদ রা. বললেন, সকল আনসারগণ জানেন যে আমি তাদের মধ্যে অধিক বিত্তবান ব্যক্তি। আমি অচিরেই আমার ও তোমার মাঝে আমার সম্পত্তি ভাগাভাগি করে দিব দুই ভাগে। আমার দু’জন স্ত্রী রয়েছে ; আপনার যাকে পছন্দ হয় বলুন, আমি তাকে তালাক দিয়ে দিব। ইদ্দতকালীন আপনি তাকে বিয়ে করে নিবেন। আবদুর রাহমান রা. বললেন, আল্লাহ আপনার পরিবারে এবং সম্পদে বরকত দান করুন। (এরপর তিনি বাজারে গিয়ে ব্যবসা আরাম্ভ করেন) বাজার থেকে ব্যবসায় মুনাফা হিসেবে পনীর ও ঘি সাথে নিয়ে ফিরলেন। অল্প কয়েকদিন পর তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর খেদমতে হাযির হলেন। তখন তাঁর শরীর ও কাপড়ে হলুদ রং এর চিহ্ন ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ব্যাপার কি ! তিনি (আবদুর রাহমান রা.) বললেন, আমি একজন আনসারী মহিলাকে বিয়ে করেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন, তাকে কি পরিমাণ মোহর দিয়েছ? তিনি বললেন, খেজুরের এক আটির ওজন পরিমাণ স্বর্ণ অথবা (বলেছেন) একটি আটি পরিমাণ স্বর্ণ দিয়েছি।
