হাদীস নং ৩৪৯৬
ইয়াহইয়া ইবনে কাযাআ রহ………আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে রোগে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওফাত লাভ করেন সে সময়ে তাঁর কন্যা ফাতিমা রা.-কে ডেকে আনলেন এবং তার সাথে চুপে চুপে কিছু বললেন। এতে ফাতিমারা. কেঁদে দিলেন। এরপর আবার কাছে ডেকে এনে তার সাথে চুপে চুপে কিছু বললেন। এতে তিনি হেসে দিলেন। আয়েশা রা. বলেন, আমি এ ব্যাপারে ফাতিমা রা.-কে জিজ্ঞাসা করলাম। তখন তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে চুপে চুপে অবহিত করলেন যে তিনি এ রোগে ওফাত লাভ করবেন। এতে আমি কেঁদে ছিলাম। তারপর আবার আমাকে চুপে চুপে জানালেন যে আমি তাঁর পরিবার পরিজনের প্রথম ব্যক্তি যে তাঁর সাথে মিলিত হব। এতে আমি হেসে ছিলাম।
হাদীস নং ৩৪৯৭
ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ………..আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (একদিন) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আয়েশা, জিবরাঈল আ. তোমাকে সালাম বলেছেন। আমি উত্তরে বললাম, ওয়া আলাইহিস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। আপনি যে দেখতে পান (জিবরাঈলকে) আমি তা দেখতে পাই না। এ কথা দ্বারা তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বুঝিয়েছেন।
হাদীস নং ৩৪৯৮
আদম ও আমর রহ……….আবু মূসা আশআরী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, পুরুষদের মধ্যে অনেকেই কামিল হয়েছে, কিন্তু মহিলাদের মধ্যে মারইয়াম বিনতে ইমরান (ঈসা আলাইহিস সালামের মাতা) ও ফিরাউনের স্ত্রী আসিয়া রা. ব্যতীত অন্য কেউ তাদের মত কামিল হননি। আর আয়েশা রা.-এর মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব অন্যান্য মহিলাদের উপর এমন যেমন যেমন সারীদ (গোশত এবং রুটি দ্বারা তৈরী খাদ্য বিশেষ) এর শ্রেষ্ঠত্ব অন্যান্য খাদ্য সামগ্রীর উপর।
হাদীস নং ৩৪৯৯
আবদুল আযীয ইবনে আবদুল্লাহ রহ……….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি বলতে শুনেছি, আয়েশা রা.-এর মহিলাদের উপর এমন যেমন যেমন সারীদের মর্যাদা অন্যান্য খাদ্য সামগ্রীর উপর।
হাদীস নং ৩৫০০
মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ………..কাসিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ রা. থেকে বর্ণিত, আয়েশা রা.। যখন (মৃত্যু) রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়লেন। তখন ইবনে আব্বাস রা. এসে বললেন, হে উম্মুল মুমিনীন, আপনি সত্য পূর্বগামী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবু বকর রা.-এর নিকট যাচ্ছেন।
হাদীস নং ৩৫০১
মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ……….আবু ওয়াইল রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আলী রা.-এর স্বপক্ষে জিহাদে সাহায্য করার জন্য লোক সংগ্রহের উদ্দেশ্যে আম্মার ও হাসান রা.-কে কুফায় প্রেরণ করেন। আম্মার রা. তাঁর ভাষণে একদিন বললেন, এ কথা আমি ভালভাবেই জানি যে, আয়েশা রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দুনিয়া ও আখিরাতের সম্মানিত সহধর্মিণী। কিন্তু এখন আল্লাহ তোমাদেরকে পরীক্ষা করছেন যে তোমরা কি আলী রা.-এর আনুগত্য করবে না, আয়েশা রা.-এর আনুগত্য করবে।
হাদীস নং ৩৫০২
উবাইদ ইবনে ইসমাঈল রহ………আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি (তাঁর বোন) আসমা রা.-এর নিকট থেকে একটি হার চেয়ে নিয়েছিলেন। পরে হারটি হারিয়ে যায়। এর অনুসন্ধানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু সংখ্যক সাহাবীকে পাঠালেন। ইতিমধ্যে সালাতের সময় হয়ে গেলে তাঁরা পানির অভাবে অযু ছাড়াই সালাত আদায় করলেন। তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে এই বিষয়ে অভিযোগ পেশ করলেন। তখন তায়াম্মুমের আয়াত নাযিল হল। উসাইদ ইবনে হুযাইর রা. বললেন, (হে আয়েশা) আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদানে পুরস্কৃত করুন। আল্লাহর কসম! যখনই আপনি কোন সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন, তখনই আল্লাহ তা’আলা এর সমাধান করে দিয়েছেন এবং মুসলমানদের জন্য এর মধ্যে কল্যাণ নিহিত রেখেছেন।
হাদীস নং ৩৫০৩
উবাইদ ইবনে ইসমাঈল রহ……….উরওয়া রহ. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মৃত্যু রোগে আক্রান্ত তখন (পূর্বরীতি অনুযায়ী) সহধর্মিণীগণের ঘরে ঘরে ধারাবাহিকভাবে অবস্থান করতে থাকেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়েশা রা.-এর ঘরে অবস্থানের আগ্রহে এ কথাটি বলতেন, আগামীকাল আমি কার ঘরে থাকব? আগামীকাল আমি কার ঘরে থাকব? আয়েশা রা. বলেন, আমার ঘরে অবস্থানের নির্ধারিত দিনই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তিকাল করেন।
হাদীস নং ৩৫০৪
আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল ওয়াহহাব রহ………..উরওয়া রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, লোকেরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে হাদীয়া প্রদানের জন্য আয়েশা রা.-এর গ্রহে তাঁর অবস্থানের দিন তালাশ করতেন। আয়েশা রা. বলেন, একদিন আমার সতীনগণ উম্মে সালামা রা.-এর নিকট সমবেত হয়ে বললেন, হে উম্মে সালামা। আল্লাহর কসম, লোকজন তাদের হাদীয়াসমূহ প্রেরণের জন্য আয়েশা রা.-এর গৃহে অবস্থানের দিন তালাশ করেন। আয়েশা রা.-এর ন্যায় আমরাও কল্যাণ আকাঙ্খা করি। আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলুন, তিনি যেন লোকদের বলে দেন, তারা যেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেদিন যেখানেই অবস্থান করেন সেখানেই তারা হাদীয়া পাঠিয়ে দেন। উম্মে সালামা রা. বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে এ বিষয়ে আলোচনা করলেন। উম্মে সালামা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কথা শুনে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। পরে আমার গৃহে অবস্থানের জন্য পুনরায় আসলে আমি ঐ কথা তাকে বলি। এবারও তিনি মুখ ফিরিয়ে নিলেন। তৃতীয়বারেও আমি ঐ কথা তাকে বললাম, তিনি বললেন, হে উম্মে সালামা! আয়েশা রা.-এর ব্যাপারে তোমরা আমাকে কষ্ট দিবে না। আল্লাহর কসম, তোমাদের মধ্যে আয়েশা রা. ব্যতীত অন্য কারো শয্যায় শায়িত অবস্থায় আমার উপর ওহী নাযিল হয়নি।
আনসারদের মর্যাদা অধ্যায় (৩৫০৫-৩৬৬৩)
হাদীস নং ৩৫০৫
