হাদীস নং ৩৪৮৭
সুলাইমান ইবনে হারব রহ……….মাসরূক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে আমর রা.-এর মজলিসে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা.-এর আলোচনা হলে তিনি বললেন, আমি এই ব্যক্তিকে ঐদিন থেকে অত্যন্ত ভালবাসি যেদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, তোমরা চার ব্যক্তি থেকে কুরআন শিক্ষা কর, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ সর্বপ্রথম তাঁর নাম উল্লেখ করলেন, আবু হুযায়ফা রা.-এর আযাদকৃত গোলাম সালিম, উবাই ইবনে কাব রা. ও মুআয ইবনে জাবাল রা. থেকে। শেষোক্ত দুজনের মধ্যে কার নাম আগে উল্লেখ করছিলেন শুধু এ কথাটুকু আমার স্মরণ নেই।
হাদীস নং ৩৪৮৮
হাফস ইবনে উমর রহ…………মাসরূক রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে আমর রা. বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জন্মগতভাবে বা ইচ্ছাকৃতভাবে অশ্লীল ভাষী ছিলেন না ; তিনি বলেছেন, তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তিই আমার সর্বাধিক প্রিয় যে সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী। তিনি আরো বলেছেন, তোমারা চার ব্যক্তির নিকট হতে কুরআন শিক্ষা কর, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ, সালিম মাওলা আবু হুযায়ফা, উবাই ইবনে কাব ও মুআয ইবনে জাবাল রা.।
হাদীস নং ৩৪৮৯
মূসা রহ………….আলকামা রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি সিরিয়া গেলাম, মসজিদে দু’রাকআত (নফল) সালাত আদায় করে দু’আ করলাম, হে আল্লাহ! আমাকে একজন সৎ সাথী মিলিয়ে দিন। তখন আমি একজন বৃদ্ধকে আসতে দেখলাম। তিনি ছিলেন আবু দারদা রা.। তিনি যখন আমার কাছে আসলেন, তখন আমি বললাম, আশা করি আমার দু’আ কবুল হয়েছে। তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কোন স্থানে বাসিন্দা? আমি বললাম, আমার ঠিকানা কুফায়।তোমাদের মাঝে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জুতা, বালিস ও অজুর পাত্র বহনকারী (আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা.) কি বিদ্যমান নেই? তোমাদের মাঝে ঐ ব্যক্তি কি নেই, যাকে শয়তান থেকে নিরাপদ করে দেয়া হয়েছে? (অর্থাৎ আম্মার রা.)। তোমাদের মাঝে কি গোপন তথ্যাভিজ্ঞ ব্যক্তিটি (হুযায়ফা রা.) নেই, যিনি ব্যতীত এসব গোপন রহস্য অন্য কেউ জানে না। (আমি বললাম, আছেন) তারপর তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, ইবনে মাসউদ রা. সূরা والليل কি ভাবে পাঠ করেন? আমি সূরাটি পড়লাম: والليل إذا يغشى والنهار إذا تجلى والذكر والأثى এভাবে পড়েন। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে সূরাটি সরাসরি এ ভাবেই শিক্ষা দিয়েছিলেন। কিন্তু এসব লোক বার বার বলে আমাকে এ থেকে বিচ্যুতি ঘটানোর উপক্রম করেছে।
হাদীস নং ৩৪৯০
সুলাইমান ইবনে হারব রহ………..আবদুর রাহমান ইবনে ইয়াযীদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা হুযায়ফা রা.-কে এমন এক ব্যক্তির সন্ধান দিতে অনুরোধ করলাম যার আকার আকৃতি, চাল-চলন, আচার-ব্যবহার এবং স্বভাব-চরিত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সর্বাধিক সাদৃশ্য আছে, আমরা তাঁর থেকে শিক্ষা গ্রহণ করব। হুযায়ফা রা. বললেন, আকার-আকৃতি, চাল-চলন, আচার-ব্যবহার এবং স্বভাব-চরিত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সর্বাধিক সাদৃশ্য রাখেন এমন ব্যক্তি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. ব্যতীত অন্য কাউকে আমি জানি না।
হাদীস নং ৩৪৯১
মুহাম্মদ ইবনে আলা রহ……….আসওয়াদ ইবনে ইয়াযীদ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবু মূসা আশআরী রা.-কে বলতে শুনেছি যে, আমি এবং আমার ভাই ইয়ামান থেকে মদীনায় আগমন করি এবং বেশ কিছুদিন মদীনায় অবস্থান করি। তখন আমরা মনে করতাম যে, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরিবারেরই একজন সদস্য। কেননা আমরা তাকে এবং তাঁর মাকে অহরহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘরে যাতায়াত করতে দেখতাম।
হাদীস নং ৩৪৯২
হাসান ইবনে বিশর রহ………..ইবনে আবু মুলায়কা রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার মুআবিয়া রা. ইশার সালাতের পর এক রাকআত মিলিয়ে বিতরের সালাত আদায় করেন। তখন তাঁর নিকট ইবনে আব্বাসের আযাদকৃত গোলাম উপস্থিত ছিলেন। তিনি ইবনে আব্বাস রা.-এর নিকট ঘটনাটি বর্ণনা করেন, তখন ইবনে আব্বাস রা. বললেন, তাকে কিছু বলোনা, কেননা, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহচর্য লাভে ধন্য হয়েছেন।
হাদীস নং ৩৪৯৩
ইবনে আবু মারইয়াম রহ………ইবনে আবু মুলাইকা রহ. থেকে বর্ণিত, ইবনে আব্বাস রা. কে বলা হল, আপনি আমীরুল মুমিনীন মুআবিয়া রা.-এর সাথে এ বিষয় আলাপ করবেন কি? যেহেতু তিনি বিতর সালাত এক রাকআত মিলিয়ে আদায় করেছেন। ইবনে আব্বাস রা. বললেন, তিনি (তাঁর দৃষ্টিতে) ঠিকই করেছেন, কেননা তিনি নিজেই একজন ফকীহ।
হাদীস নং ৩৪৯৪
আমর ইবনে আব্বাস রহ………… মুআবিয়া রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, তোমরা এমন এক সালাত আদায় কর, আমরা (দীর্ঘদিন) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহচর্য লাভ করেছি আমরা তাকে তা আদায় করতে দেখিনি বরং তিনি এ দু’রাকআত সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন। অর্থাৎ আসরের পর দু’রাকআত (নফল)।
হাদীস নং ৩৪৯৫
আবুল ওয়ালীদ রহ………মিসওয়ার ইবনে মাখরামা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ফাতিমা আমার (দেহের) অংশ। যে তাকে অসন্তুষ্ট করল সে আমাকেই অসন্তুষ্ট করল।
