হাদীস নং ৩৪৭৪
সাদাকা (ইবনে ফাযল) রহ………..আবু বাকরা রা. থেকে বর্ণিত, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মিম্বরের উপর বলতে শুনেছি, ঐ সময় হাসান রা. তাঁর পাশে ছিলেন। তিনি একবার উপস্থিত লোকদের দিকে আবার হাসান রা.-এর দিকে তাকালেন এবং বললেন, আমার এ সন্তান (পৌত্র) সায়্যেদ (নেতা) আল্লাহ তা’আলা তাঁর মাধ্যমে বিবাদমান দু’দল মুসলামানের মধ্যে আপোষ মিমাংসা করিয়ে দিবেন।
হাদীস নং ৩৪৭৫
মুসাদ্দাদ রহ…………উসামা ইবনে যায়েদ রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে এবং হাসান রা.-কে এক সাথে কোলে তুলে নিয়ে বলতেন, হে আল্লাহ ! আমি এদের দু’জনকে মুহাব্বত করি, আপনিও এদেরকে মুহাব্বাত করুন। অথবা এরূপ কিছু বলেছেন।
হাদীস নং ৩৪৭৬
মুহাম্মদ ইবনে হুসাইন ইবনে ইবরাহীম রহ………..আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উবাইদুল্লাহ ইবনে যিয়াদের সম্মুখে হুসাইন রা.-এর (বিচ্ছেদ কৃত) মস্তক আনা হল এবং একটি বড় পাত্রে তা রাখা হল। তখন ইবনে যিয়াদ তাঁর (নাকে মুখে) খোঁচাতে লাগল এবং তাঁর রূপ লাবণ্য সম্পর্কে কটূক্তি করল। আনাস রা. বলেন, (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরিবার বর্গের মধ্যে) হুসাইন রা. গঠন ও আকৃতিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অবয়বের সর্বাধিক সাদৃশ্যপূর্ণ ছিলেন। (শাহাদত বরণ কালে) তাঁর চুল ও দাঁড়িতে ওয়াসমা (এক প্রকার পাতার রস) দ্বারা কলপ লাগানো ছিল।
হাদীস নং ৩৪৭৭
হাজ্জাজ ইবনে মিনহাল রহ………….বারা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হাসানকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাঁধের উপর দেখেছি। তখন তিনি বলেছিলেন, হে আল্লাহ ! আমি একে ভালবাসি, তুমিও তাকে ভালবাস।
হাদীস নং ৩৪৭৮
আবদান রহ……….উকবা ইবনে হারিস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবু বকর রা.-কে দেখলাম, তিনি হাসান রা.-কে কোন তুলে নিলেন এবং বলতে লাগলেন, এত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সদৃশ, আলীর সদৃশ নয়। তখন আলী রা.(নিকটেই দাঁড়িয়ে) হাসছিলেন।
হাদীস নং ৩৪৭৯
ইয়াহইয়া ইবনে মায়ীন ও সাদাকা রহ………..ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু বকর রা. বললেন, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সন্তুষ্টি তাঁর পরিবারবর্গের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে অর্জন কর।
হাদীস নং ৩৪৮০
ইবরাহীম ইবনে মূসা রহ………..আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরিবারে হাসান ইবনে আলী রা.-এর চেয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ আর কেউ ছিলেন না। আবদুর রাজ্জাক রহ……….আনাস রা. থেকে অনুরূপ বর্ণিত।
হাদীস নং ৩৪৮১
মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ…………আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, তাকে ইরাকের জনৈক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করল, ইহরামের অবস্থায় মশা-মাছি মারা জায়েয আছে কি? তিনি বললেন, ইরাকবাসী মশা-মাছি মারা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছে অথচ তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নাতীকে হত্যা করেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন, হাসান ও হুসাইন রা আমার কাছে দুনিয়ার দুটি পুষ্প বিশেষ।
হাদীস নং ৩৪৮২
আবু নুআঈম রহ……….জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমর রা. বলতেন, আবু বকর রা. আমাদের নেতা এবং মুক্ত করেছেন আমাদের একজন নেতা বিলাল রা.-কে।
হাদীস নং ৩৪৮৩
ইবনে নুমাইর রহ………..কায়েস রা. থেকে বর্ণিত যে, বিলাল রা. আবু বকর রা.-কে বললেন, আপনি যদি আপনার ব্যক্তিগত কাজের জন্য আমাকে ক্রয় করে থাকেন তবে আপনার খেদমতেই আমাকে রাখুন আর যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের (আযাদ করার) আশায় আমাকে ক্রয় করে থাকেন, তাহলে আমাকে আল্লাহ তা’আলার ইবাদত বন্দেগী করার সুযোগ দান করুন।
হাদীস নং ৩৪৮৪
মুসাদ্দাদ রহ………..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তাঁর বুকে জড়িয়ে ধরলেন এবং বললেন, হে আল্লাহ, তাকে হিকমত শিক্ষা দান করুন।
হাদীস নং ৩৪৮৫
আবু মামার রহ………..আবদুল ওয়ারিস রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথাটিও বলেছিলেন) ইয়া আল্লাহ, তাকে কিতাবের (কুরআনের) জ্ঞান দান করুন। মূসা রহ……….খালিদ রহ. থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারী রহ. বলেন, ‘আল-হিকমাতু’ নবুওয়াতের বিষয় ব্যতীত অন্যান্য বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছা।
হাদীস নং ৩৪৮৬
আহমদ ইবনে ওয়াকিদ রহ………..আনাস রা. থেকৈ বর্ণি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মূতা যুদ্ধে শাহাদত বরণকারী যায়েদ (ইবনে হারিসা) জাফর (ইবনে আবু তালিব) ও (আবদুল্লাহ) ইবনে রাওয়াহা রা.-এর মৃত্যু সংবাদ যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সংবাদ আসার পূর্বেই আমাদিগকে শুনিয়ে ছিলেন। তিনি বলছিলেন, যায়ে রা. পতাকা ধারণ করে শাহাদত বরণ করেছেন। তারপর জাফর রা. পতাকা ধারণ করে শাহাদতের মর্যাদা লাভ করলেন। এরপর আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা রা. পতাকা হাতে নিয়ে শাহাদত বরণ করলেন। তিনি যখন এ কথাগুলি বলছিলেন। তখন তাঁর উভয় চোখ দিয়ে অশ্রু প্রবাহিত হচ্ছিল। (এরপর বললেন) আল্লাহ তা’আলা অন্যতম বিশিষ্ট তরবারী (খালিদ ইবনে ওয়ালিদ রা.) পতাকা উঠিয়েছেন অবশেষে আল্লাহ মুসলমানগণকে বিজয় দান করেছেন।
