হাদীস নং ৩৪৬৮
ইসহাক ইবনে নাসর রহ………ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবনকালে কেউ কোন স্বপ্ন দেখলে, তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিটক বর্ণনা করতেন। আমিও স্বপ্ন দেখার জন্য আকাঙ্খা করতাম এ উদ্দেশ্যে যে তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বর্ণনা করব। আমি ছিলাম অবিবাহিত একজন তরুণ যুবক। তাই আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে মসজিদেই ঘুমাতাম। এক রাতে স্বপ্নে দেখতে পেলাম যে, যেন দু’জন ফেরেশতা আমাকে ধরে জাহান্নামের নিকট নিয়ে গেলেন। আমি দেখতে পেলাম যে কূপের ন্যায় তার দুটি উচু পাড়ও রয়েছে। তাতেই এমন এমন মানুষও রয়েছে যাদেরকে আমি চিনতে পারলাম। তখন আমি ‘জাহান্নামের আগুন থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাচ্ছি’ বার বার পাঠ করতে লাগলাম। তখন তৃতীয় একজন ফেরেশতা তাদের দু’জনের সাথে সাক্ষাত করলেন এবং তিনি আমাকে বললেন, ভয় করোনা (এরপর আমি জেগে গেলাম) স্বপ্নটি (আমার বো) হাফসা রা.-এর কিটন বললাম। তিনি তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বর্ণনা করেন। তিনি বললেন, আবদুল্লাহ অত্যন্ত ভাল মানুষ। যদি সে শেষ রাতে (তাহাজ্জুদের) সালাত আদায় করত (তবে আরও ভাল হত) (তাঁর পুত্র (সালিম রহ. বলেন, এরপর আবদুল্লাহ রা. রাতে অতি অল্প সময়ই ঘুমাতেন।
হাদীস নং ৩৪৬৯
ইয়াহইয়া ইবনে সুলাইমান রহ………হাফসা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নিকট বলেছেন যে, আবদুল্লাহ অত্যন্ত নেক ব্যক্তি।
হাদীস নং ৩৪৭০
মালিক ইবনে ইসমাঈল……………আলকামা রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি সিরিয়ায় গমন করলাম (সেখানে পৌঁছে) দু’রাকআত (নফল) সালাত আদায় করে দু’আ করলাম, হে আল্লাহ ! আপনি আমাকে একজন নেককার সাথী মিলিয়ে দিন। তারপর আমি একটি জামাতের নিকট এসে তাদের নিকট বসলাম। তখন একজন বৃদ্ধ লোক এসে আমার পাশেই বসলেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ইনি কে? তারা উত্তরে বললেন, ইনি আবু দারদা রা.। আমি তখন তাকে বললাম, একজন নেককার সাথীর জন্য আমি আল্লাহর নিকট দু’আ করিছিলাম। আল্লাহ আপনাকে মিলিয়ে দিয়েছেন। তিনি বললেন, তুমি কোথাকার বাসিন্দা? আমি বললাম, আমি কুফার বাসিন্দা। তিনি বললেন, (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর) জুতা, বালিশ এবং অজুর পাত্র বহনকারী সর্বক্ষণের সহচর ইবনে উম্মে আবদ রা. কি তোমাদের ওখানে নেই? তোমাদের মাঝে কি ঐ ব্যক্তি নেই যাকে আল্লাহ শয়তান থেকে নিরাপদ করে দিয়েছেন? (অর্থাৎ আম্মার ইবনে ইয়াসির রা. তোমাদের মধ্যে কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গোপন তথ্য অভিজ্ঞ লোকটি নেই? যিনি ব্যতীত অন্য কেউ এসব রহস্য জানেন না (অর্থাৎ হুযায়ফা রা.) তারপর তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. সূরা والليل কি ভাবে পাঠ করতেন? তখন আমি তাকে সূরাটি পড়ে শুনালাম : والليل إذا يغشى والنهار إذا تجلى والذكر والأثى তিনি বললেন, আল্লাহর কসম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে সূরাটি সরাসরি এ ভাবেই শিক্ষা দিয়েছিলেন।
হাদীস নং ৩৪৭১
সুলাইমান ইবনে হারব রহ……….ইবরাহীম রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আলকামা রহ. একবার সিরিয়ায় গেলেন। যখন মসজিদে প্রবেশ করলেন, তখন তিনি দু’আ করলেন, হে আল্লাহ, আমাকে একজন নেককার সাথী মিলিয়ে দিন। তখন তিনি আবু দারদা রা.-এর নিকট গিয়ে বসলেন, তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কোথাকার বাসিন্দা। আমি বললাম, কুফার বাসিন্দা। তিনি বললেন, তোমাদের মাঝে কি ঐ ব্যক্তিটি নেই যাকে আল্লাহ তাঁর রাসূল-এর জবানীতে শয়তান থেকে নিরাপদ করে দিয়েছেন। অর্থাৎ আম্মার (ইবনে ইয়াসির) রা.। আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তোমাদের মধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গোপন তথ্যাভিজ্ঞ ব্যক্তিটি কি নেই যিনি ব্যতীত অন্য কেউ এ সব গোপন রহস্যাদি জানেন না? অর্থাৎ হুযায়ফা রা.। আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তোমাদের মধ্যে কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মিসওয়াক ও সামান বহনকারী (নিত্য সহচর আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা.) নেই? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন আবদুল্লাহ والليل কিভাবে পাঠ করেন। আমি বললাম, والذكر والأثى পড়েন। তখন তিনি বললেন, (এভাবে পড়ার কারণে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যেভাবে শুনেছিলাম এরা (সিরিয়াবাসী) তা থেকে আমাকে সরিয়ে দেয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা করেছে।
হাদীস নং ৩৪৭২
আমর ইবনে আলী রহ……….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রত্যেক উম্মতের মধ্যে একজন আমীন (অত্যন্ত বিশ্বস্ত) ব্যক্তি থাকেন আর আমাদের এই উম্মতের মধ্যে আমীন ব্যক্তি হচ্ছে আবু উবাইদা ইবনে জাররাহ রা.।
হাদীস নং ৩৪৭৩
মুসলিম ইবনে ইবরাহীম রহ……….হুযায়ফা রা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাজরানবাসীকে লক্ষ্য করে বলেছিলেন, আমি (তোমাদের ওখানে) এমন এক ব্যক্তিকে পাঠাব যিনি হবেন অত্যন্ত আমীন ও বিশ্বস্ত। এ কথা শুনে সাহাবায়ে কেরাম আগ্রহের সাথে অপেক্ষা করতে লাগলেন। পরে তিনি আবু উবাইদা রা.-কে পাঠালেন।
