হাদীস নং ৩৪৬১
আবুল ইয়ামান রহ……….মিসওয়ার ইবনে মাখরামা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু জেহেলের কন্যাকে আলী রা. বিবাহের প্রস্তাব দিয়ে পাঠালেন। ফাতিমা রা. এই সংবাদ শুনতে পেরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খেদমতে এস বললেন, আপনার গোত্রের লোকজন মনে করে যে, আপনি আপনার মেয়েদের খাতিরে রাগান্বিত হন না। আলী তো আবু জেহেলের কন্যাকে বিবাহ করতে প্রস্তুত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (এ শুনে) খুতবা দিতে প্রস্তুত হলেন। (মিসওয়ার বলেন) তিনি যখন হামদ ও সানা পাঠ করেন, তখন আমি তাকে বলতে শুনেছি যে, আমি আবুল আস ইবনে রাবির নিকট আমার মেয়েকে শাদী দিয়েছিলাম। সে আমার সাথে যা বলেছেন সত্যই বলেছে। আর (শোন) ফাতিমা আ. (স্নেহের) টুকরা; তাঁর কোন কষ্ট হোক তা আমি কখনও পছন্দ করি না। আল্লাহর কস, আল্লাহর রাসূলের মেয়ে এবং আল্লাহর চরম দুশমনের মেয়ে একই ব্যক্তির কাছে একত্রিত হতে পারে না। (একথা শুনে) আলী রা. তাঁর বিবাহের প্রস্তাব প্রত্যাহার করলেন। মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে হালহালা রহ………..মিসওয়ার রহ. থেকে অতিরিক্ত বর্ণনা করে বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বনী আবদে শামস গোত্রে তাঁর এক জামাত সম্পর্কে অত্যন্ত প্রশংসা করতে শুনেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সে আমাকে যা বলেছে- সত্য বলেছে। যা অঙ্গীকার করেছে, তা পূরণ করেছে।
হাদীস নং ৩৪৬২
খালিদ ইবনে মাখলাদ রহ………..আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মৃত্যু রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর) একটি সেনাবাহিনী প্রেরণের জন্য উদ্যেগ গ্রহণ করেন, এবং উসামা ইবনে যায়েদ রা. কে উক্ত বাহিনীর অধিনায়ক মনোনীত করেন। কিছু সংখ্যক লোক তাঁর অধিনায়কত্বের উপর মন্তব্য প্রকাশ করতে লাগল। (ইহা শুনে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তার নেতৃত্বের প্রতি তোমাদের সমালোচনা অস্বাভাবিক কিছু নয়। কেননা, এর পূর্বে তার পিতার (যায়েদের) নেতৃত্বের প্রতিও তোমরা সমালোচনা করেছ। আল্লাহর কসম, নিশ্চয়ই সে (যায়েদ) নেতৃত্বের জন্য যোগ্যতম ব্যক্তি ছিল এবং আমার প্রিয়জদের মধ্যে একজন ছিল। তারপর তার পুত্র (উসামা) আমার প্রিয়তম ব্যক্তিদের অন্যতম।
হাদীস নং ৩৪৬৩
ইয়াহইয়া ইবনে কাযাআ রহ………আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা জনৈক কায়িফ (রেখা চিহ্ন বিশেষজ্ঞ) আসে, সে সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপস্থিত ছিলেন। উসামা রা. ও তাঁর পিতা (পা বাইরে রেখে উভয়ই একটি চাদরে শরীর আবৃত করে) শুয়ে ছিলেন। কায়িফ (তাদের শুধু পা দেখে বলে উঠল, এ পাগুলো একটি অন্যটির অংশ। রাবী বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অত্যন্ত আনন্দিত হয়ে (কায়িফের মন্তব্যটি) আয়েশা রা. কেও অবহিত করলেন।
হাদীস নং ৩৪৬৪
কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ…………আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, মাখযুম গোত্রের এক মহিলার চুরির ঘটনায় কুরাইগণ ভীষণভাবে চিন্তিত হয়ে পড়ল। তারা পরস্পরে বলাবলি করতে লাগল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রিয় পাত্র উসামা ইবনে যায়েদ রা. ব্যতীত কে আর তাঁর নিকট (সুপারিশ করার) সাহস করবে?
হাদীস নং ৩৪৬৫
আলী রহ……….আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মাখযুম গোত্রের জনৈক মহিলা চুরি করেছিল। তখন তারা বলল, দেখত, এ ব্যাপারে কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে কথা বলতে পারবে? কিন্তু তাদের মধ্যে কেউ-ই কথা বলার সাহস করল না। উসামা রা. এ ব্যাপারে তাঁর সাথে আলোচনা করলেন। তখন তিনি বললেন, বনী ইসরাইল তাদের সম্ভ্রান্ত পরিবারের কেউ চুরি করলে তাকে (বিচার না করে) ছেড়ে দিত। এবং দুর্বল কেউ চুরি করলে তারা তার হাত কেটে দিত। (আমার কন্যা) ফাতিমা রা. (চুরির অপরাধে দোষনীয়) হলেও (আল্লাহ তাঁর হিফাযত করুন) তবে অবশ্যই আমি তাঁর হাত কেটে ফেলতাম।
হাদীস নং ৩৪৬৬
হাসান ইবনে মুহাম্মদ রহ………..আবদুল্লাহ ইবনে দিনার রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. এক ব্যক্তিকে দেখতে পেলেন যে, মসজিদের এক কোণে তার কাপড় টেনে নিচ্ছে, তিনি বললেন, দেখতো, লোকটি কে? সে যদি আমার নিকট থাকত (তবে আমি তাকে সদুপদেশ দান করতাম) তখন একজন তাকে বলল, হে আবু আবদুর রাহমান, আপনি কি তাকে চিনতে পেরেছেন। তিনি উসামা রা.-এর পুত্র মুহাম্মদ। এ কথা শুনে ইবনে উমর রা. মাথা নীচু করে দু’হাত দিয়ে মাটি আছড়াতে লাগলেন এবং বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দেখলে নিশ্চয়ই আদর করতেন।
হাদীস নং ৩৪৬৭
মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ………..উসামা ইবনে যায়েদ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বর্ণনা করেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে এবং হাসান রা.-কে এক সাথে (কোলে) তুলে নিতেন এবং বলতেন, হে আল্লাহ! তুমি এদেরকে ভালবাস। আমিও এদেরকে ভালবাসি। মুআইয রহ. উসামা রা.-এর আযাদকৃত গোলাম। (হারমালা) রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন সে আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা.-এর সঙ্গে ছিল। তখন (উসামা রা. এর বৈপিত্রেয়) ভাই হাজ্জাজ ইবনে আয়মান (মসজিদে) প্রবেশ করল, এবং সালাতে রুকু ও সিজদা পূর্ণভাবে আদায় করেনি। ইবনে উমর রা. তাকে বললেন, সালাত পুনারায় আদায় কর।
