হাদীস নং ৩৪৫০
খালিদ ইবনে মাখলাদ রহ………মারওয়ান ইবনে হাকাম রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উসমান রা. কঠিন নাকের পীড়ায় (নাক দিয়ে রক্তপাত) আক্রান্ত হলেন (একত্রিশ হিজরী) সনে যে সনকে নাকের পীড়ার সন বলা এ কারণে তিনি ঐ বছর হজ্জ পালন করতে পারলেন না এবং ওসিয়ত করলেন। ঐ সময় কুরাইশের এক ব্যক্তি তাঁর নিকট এসে বলল, আপনি কাউকে আপনার খলীফা মনোনীত করুন। উসমান রা. জিজ্ঞাসা করলেন, জনগণ কি একথা চলেছে? সে বলল, হ্যাঁ, উসমান রা. বললেন, বলতো কাকে (মনোনীত করব?) রাবী বলেন তখন সে ব্যক্তি নীরব হয়ে গেল। তারপর অপর এক ব্যক্তি আসল, (রাবী বলেন) আমার ধারণা সে হারিস (ইবনে হাকাম মারওয়ানের ভাই) ছিল। সেও বলল, আপনি খলীফা মনোনীত করুন। উসমান রা. জিজ্ঞাসা করলেন, জনগণ কি চায়? সে বলল, হ্যাঁ। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, কাকে? রাবী বলেন, সে নীরব হয়ে গেল। উসমান রা. বললেন, সম্ভবতঃ তারা যুবাইর রা.-এর নাম প্রস্তাব করেছে। সে বলল, হ্যাঁ। উসমান রা. বললেন, ঐ সত্তার কসম, যার হাতে আমার প্রাণ, আমার জানামতে তিনিই সর্বোত্তম ব্যক্তি এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সর্বাধিক প্রিয়পাত্র ছিলেন।
হাদীস নং ৩৪৫১
উবাইদ ইবনে ইসমাঈল রহ…………মারওয়ান রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি উসমান রা.-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তখন এক ব্যক্তি এসে তাকে বলল, আপনি খলীফা মনোনীত করুন। তিনি বললেন, তা কি বলাবলী হচ্ছে? সে বলল, হ্যাঁ, তিনি হচ্ছেন যুবাইর রা. এই শুনে তিনি বললেন, আল্লাহর কসম তোমরা নিশ্চয়ই জান যে যুবাইর রা. তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি। একথাটি তিনি তিনবার বললেন।
হাদীস নং ৩৪৫২
মালিক ইবনে ইসমাঈল রহ………জাবির রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক নবীরই হাওয়ারী (বিশেষ সাহায্যকারী) ছিলেন। আর আমার হাওয়ারী হলেন যুবাইর রা.।
হাদীস নং ৩৪৫৩
আহমদ ইবনে মুহাম্মদ রহ………..আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, খন্দক যুদ্ধ চলাকালে আমি এবং উমর ইবনে আবু সালামা (স্বল্প বয়সের কারণে) মহিলাদের দলে চলছিলাম। হঠাৎ (আমার পিতা) যুবাইরকে দেখতে পেলাম যে, তিনি অশ্বারোহণ করে বনী কুরায়যা গোত্রের দিকে দুবার অথাবা তিনবার আসা যাওয়া করছেন। যখন ফিরে আসলাম, তখন বললাম, হে আব্বা আমি আপনাকে (বনী কুরায়যার দিকে) কয়েকবার যাতায়াত করতে দেখেছি। তিনি বললেন, হে প্রিয় পুত্র, তুমি কি আমাকে দেখতে পেয়েছিলে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন কে বনী কুরায়যা গোত্রের নিকট গিয়ে তাদের খবরা-খবর জেনে আসবে? তখন (সে কাজে) আমিই গিয়ে ছিলাম। (সংবাদ নিয়ে) যখন আমি ফিরে আসলাম তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার জন্য তাঁর মাত-পিতার একত্র করে বললেন, আমার মাতাপিতা তোমার জন্য কুরবান হোক।
হাদীস নং ৩৪৫৪
আলী ইবনে হাফস রহ…………উরওয়া রহ. থেকে বর্ণিত, ইয়ারমুক যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী মুজাহিদগণ যুবাইরকে বললেন, আপনি কি আক্রমণ কঠোরতর করবেন না? তাহলে আমরাও আপনার সাথে (সর্বশক্তি নিয়ে) আক্রমণ করব। এবার তিনি ভীষণভাবে আক্রমণ করলেন। শত্রু রা তাঁর কাঁধে দুটি আঘাত করল। ক্ষতদ্বয়ের মধ্যে আরো একট ক্ষতের চিহ্ন ছিল যা বদর যুদ্ধে হয়েছিল। উরওয়া রহ. বলেন, আমি যখন ছোট ছিলাম তখন ঐ ক্ষতস্থানগুলিতে আঙ্গুল ঢুকিয়ে দিয়ে খেলা করতাম।
হাদীস নং ৩৪৫৫
মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর মুকাদ্দামী রহ…………আবু উসমান রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যেসব যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বয়ং অংশগ্রহণ করেছিলেন, তার মধ্য থেকে এক যুদ্ধে (উহুদ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে কোন এক সময় তালহা ও সাদ রা. ব্যতীত অন্য কেউ ছিলেন না। আবু উসমান রা. তাদের উভয় থেকে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
হাদীস নং ৩৪৫৬
মুসাদ্দাদ রহ……….কায়েস ইবনে আবু হাযিম রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি তালহা রা.-এর ঐ হাতকে অবশ অবস্থায় দেখেছি, যে হাত দিয়ে (উহুদ যুদ্ধে শত্রুদের আক্রমণ হতে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে হিফাযত করেছিলেন।
হাদীস নং ৩৪৫৭
মুহাম্মদ ইবনে মুসান্না রহ………..সাদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উহুদ যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মাতা-পিতাকে একত্র করে (বলে) ছিলেন, (তোমার উপর আমার মাতা-পিতা কুরবান হউক।
হাদীস নং ৩৪৫৮
মাক্কী ইবনে ইবরাহীম রহ……….সাদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমাকে খুব ভালভাবে জানি, ইসলাম গ্রহণে আমি ছিলাম তৃতীয় ব্যক্তি (পুরুষদের মধ্যে)।
হাদীস নং ৩৪৫৯
ইবরাহীম ইবনে মূসা রহ…………..সাদ ইবনে আবু ওয়াক্কাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (আমার জানা মতে) যে দিন আমি ইসলাম গ্রহণ করি সেদিন (এর পূর্বে খাদীজা রা. ও আবু বকর রা. ব্যতীত) অন্য কেউ ইসলাম গ্রহণ করেনি। আমি সাতদিন এমনিভাবে অতিবাহিত করেছি যে আমি ইসলাম গ্রহণে তৃতীয় ব্যক্তি ছিলাম।
হাদীস নং ৩৪৬০
আমর ইবনে আওন রহ……….কায়েস রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি সাদ রা. -কে বলতে শুনেছি যে, আরবদের মধ্যে আমিই সেই ব্যক্তি যে আল্লাহর রাস্তায় প্রথম তীর নিক্ষেপ করেছে। আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে থেকে লড়াই করেছি। তখন গাছের পাতা ব্যতীত আমাদের কোন আহার্য ছিল না এমনকি আমাদেরকে (কোষ্ঠকাঠিন্য হেতু) উট অথবা ছাগলের ন্যায় বাড়ির মত মল ত্যাগ করতে হত। আর যখন (এ অবস্থা দাঁড়িয়েছে যে,) বনু আসাদ আমাকে ইসলামের ব্যাপারে লজ্জা দিচ্ছে। আমি তখন অত্যন্ত ক্ষতিগ্রস্থ হব এবং আমার আমলসমূহ বৃথা যাবে। বনূ আসাদ উমর রা. এর নিকট সাদ রা.-এর বিরুদ্ধে যথা নিয়মে সালাত আদায় না করার অভিযোগ করছেন। আবু আবদুল্লাহ ইমাম বুখারী রহ. বলেন, ইসলামের তৃতীয় ব্যক্তি একথা দ্বারা তিনি বলতে চান যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে যারা প্রথমে ইসলাম এনেছিল আমি এদের তিনজনের তৃতীয়।
