হাদীস নং ৩৪৪১
মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ……….সাদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তাবুক যুদ্ধের প্রাক্কালে) আলী রা.-কে বলেছিলেন, তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, যেভাবে হারূন আ. মূসা আ. এর প্রতিনিধিত্বের মর্যাদা লাভ করেছিলেন, তুমিও আমার নিকট সেই মর্যাদা লাভ কর।
হাদীস নং ৩৪৪২
আলী ইবনে জাদ রহ…………আলী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তোমরা পূর্বে থেকে যেভাবে ফয়সালা করে আসছে সেভাবেই কর কেননা পারস্পারিক বিবাদ আমি অপছন্দ করি। যেন সকল লোক একদল ভুক্ত হয়ে থাকে। অথবা আমি এমতাবস্থায় দুনিয়া থেকে বিদায় হই যেভাবে আমার সাথীগণ দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন। (মুহাম্মদ) ইবনে সীরীন রহ. এ ধারণা পোষণ করতেন যে, আলী রা.-এর (প্রথম খলীফা হওয়া সম্পর্কে) যে সব কথা তার থেকে (রাফেযী সম্প্রদায় কর্তৃক) বর্ণিত তার অধিকাংশই ভিত্তিহীন।
হাদীস নং ৩৪৪৩
আহমদ ইবনে আবু রহ…………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, লোকজন (অভিযোগের সুরে) বলে থাকেন যে, আবু হুরায়রা রা. অনেক বেশী হাদীস বর্ণনা করে থাকেন। বস্তুতঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খেদমতে আত্মতৃপ্তি নিয়ে পড়ে থাকতাম। ঐ সময় আমি সুস্বাদু রুটি ভক্ষণ করিনি, দামী বস্ত্র পরিধান করিনি। তখন কেউ আমার খেদমত করত না। এবং আমি ক্ষুধার জ্বালায় পাথরময় যমিনের সাথে পেট চেপে ধরতাম। কোন কোন সময় কুরআনে কারীমের আয়াত বিশেষ, আমার জানা থাকা সত্ত্বেও অন্যদেরকে জিজ্ঞাসা করতাম যেন, তারা আমাকে তাদের বাড়ীতে নিয়ে গিয়ে কিছু আহারের ব্যবস্থা করেন। গরীব মিসকিনদের জন্য সর্বাপেক্ষা উত্তম ব্যক্তি ছিলেন জাফর ইবনে আবু তালিব রা.। তিনি প্রায়ই আমাকে নিজ ঘরে নিয়ে যেতেন এবং যা ঘরে থাকত তাই আমাকে আহার করিয়ে দিতেন। (কোন সময় এমন হত যে তাঁর ঘরে কিছুই থাকেনা) ঘিয়ের শূন্য পাত্র এনে তিনি আমাদের সামনে তা ভেঙ্গে দিতেন আর তা চেটে খেতাম।
হাদীস নং ৩৪৪৪
আমর ইবনে আলী রহ……….শাবী রহ. থেকে বর্ণিত যে, আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. যখন জাফর রা.-এর ছেলে (আবদুল্লাহ) কে সালাম করতেন তখন বলতেন, হে দু’বাহু বিশিষ্ট ব্যক্তির পুত্র। আবু আবদুল্লাহ (ইমাম বুখারী) রহ. বলেন, বলা হয় كن في جناحى অর্থ তুমি আমার পাশে থাক। প্রত্যেক বস্তুর দু’পাশকে দু’বাহু বলা হয়।
হাদীস নং ৩৪৪৫
হাসান ইবনে মুহাম্মদ রহ………..আনাস রা. থেকে বর্ণিত যে, উমর রা. (এর খিলাফত কালে) অনাবৃষ্টির কারণে দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিব রা.। এর ওয়াসিলা নিয়ে বৃষ্টি বর্ষণের দু’আ করতেন। তিনি বলতেন, হে আল্লাহ ! আমরা অনাবৃষ্টি দেখা দিলে আমাদের নবীর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াসিলা নিয়ে দু’আ করতাম তুমি (আমাদের দু’আ কবূল করে) বৃষ্টি বর্ষণ করতে, এখন আমরা আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চাচা আব্বাস রা.-এর ওয়াসিলায় বৃষ্টি বর্ষণের দু’আ করছি। তুমি আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ কর। তখন বৃষ্টি হত।
হাদীস নং ৩৪৪৬
আবুল ইয়ামান রহ………আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু বকর রা. এর নিকট ফাতিমা রা. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে তাঁর উত্তরাধিকার সুত্রে প্রাপ্ত অংশ দাবী করলেন যা আল্লাহ তা’আলা তাকে বিনাযুদ্ধে দান করেছিলেন, যা তিনি সাদকা স্বরূপ মদীনা, ফাদাকে রেখে গিয়েছিলেন এবং খায়বারের এক-পঞ্চমাংশ হতে যে অবশিষ্ট ছিল তাও। আবু বকর রা. (তার উত্তরে) বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমাদের (নবীগণের মালের ওয়ারিস হয় না। আমরা যা কিছু রেখে যাই তা সবই সাদকা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পরিবারবর্গ এ মাল থেকে অর্থাৎ আল্লাহর মাল থেকে খেতে পারবে। তবে (আহারের জন্য) প্রয়োজনের অধিক নিতে পারবে না। আল্লাহর কসম, আমি অবশ্যই তা করব যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করে গেছেন। এরপর আলী রা. শাহাদত (হামদ-সানা) পাঠ করে বললেন, হে আবু বকর ! আমরা আপনার মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে অবহিত এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে তাদের যে আত্মীয়তা ঘনিষ্ঠতা রয়েছে তা এবং তাদের অধিকারের কথাও উল্লেখ করলেন। আবু বকর রা. ও এ বিষয়ে উল্লেখ করে বললেন, আল্লাহর কসম! যার হাতে আমার প্রাণ, আমার আত্মীয়দের সাথে সদাচারণ করার চেয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আত্মীয়দের সাথে সদাচরণ করা আমি অধিক পছন্দ করি।
হাদীস নং ৩৪৪৭
আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল ওয়াহহাব রহ………..আবু বকর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরিবারবর্গের প্রতি তোমরা অধিক সম্মান দেখাবে।
হাদীস নং ৩৪৪৮
আবু ওয়ালিদ রহ……….মিসওয়ার ইবনে মাখরামা রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ফাতিমা আমার (দেহের) টুকরা। যে তাকে কষ্ট দিবে, সে যেন আমাকে কষ্ট দিল।
হাদীস নং ৩৪৪৯
ইয়াহইয়া ইবনে কাযাআ রহ………আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওফাতের সময় যে রোগে আক্রান্ত হন তখন তাঁর কন্যা ফাতিমা রা.-কে ডেকে পাঠালেন। (তিনি আসলে) চুপিচুপি কি যেন তাকে বললেন, তিনি এতে কাঁদতে লাগলেন। তাপর তিনি তাকে ডেকে পুনরায় চুপিচুপি কি যেন বললেন, এবারে তিনি হাসতে লাগলেন। আমি তাকে (হাসি-কান্নার) কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে জানালেন যে, তিনি এ রোগে ওফাত লাভ করবেন, এতে আমি কাঁদতে শুরু করি। এরপর তিনি চুপেচুপে বললেন, আমি তাঁর পরিবার বর্গের মধ্যে সর্বপ্রথম তাঁর সাথে মিলিত হব, তখন আমি হাসতে শুরু করি।
