হাদীস নং ৩৪৩৬
কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ……….সাহল ইবনে সাদ রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি আগমীকাল এমন এক ব্যক্তিকে পতাকা দিব যার হাতে আল্লাহ বিজয় দান করবেন। রাবী বলেন, তারা এই আগ্রহ ভরে রাত্রি যাপন করলেন যে, কাকে ঐ পতাকা দেয়া হবে। যখন সকাল হল তখন সকলেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গিয়ে হাযির হলেন। তাদের প্রত্যেকেই এ আশা পোষণ করছিলেন যে পতাকা তাকে দেয়া। হবে। তারপর তিনি বললেন, আলী ইবনে আবু তালিব কোথায়? তাঁরা বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! তিনি চক্ষু রোগে আক্রান্ত। তিনি বললেন, কাউকে পাঠিয়ে তাকে আমার কাছে নিয়ে এস। যখন তিনি এলেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দুচোখে থুথু লাগিয়ে দিলেন এবং তাঁর জন্য দু’আও করলেন। এতে তিনি এমন সুস্থ হয়ে গেলেন যেন তাঁর চোখে কোন রোগই ছিলনা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে পতাকাটি দিলেন। আলী রা. বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তারা যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের মত না হয়ে যাবে ততক্ষণ পর্যন্ত আমি কি তাদের সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যাব। তিনি বললেন, তুমি সোজা অগ্রসর হতে থাক এবং তাদের আঙ্গিনায় উপনীত হয়ে তাদেরকে জানিয়ে দাও। আল্লাহর কসম, তোমার দ্বারা যদি একটি মানুষও হিদায়েত প্রাপ্ত হয়, তা হবে তোমার জন্য লাল রঙ্গের উট প্রাপ্তির চেয়েও অধিক উত্তম।
হাদীস নং ৩৪৩৭
কুতাইবা রহ………..সালামা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আলী রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে খায়বার যুদ্ধে যাননি। কেননা তাঁর চোখে অসুখ ছিল। এতে তিনি (মনে মনে) বললেন, আমি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে (জিহাদে) যাব না? তারপর তিনি বেড়িয়ে পড়লেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে মিলিত হলেন। যেদিন সকালে আল্লাহ বিজয় দান করলেন, তার পূর্ব রাত্রে (সন্ধ্যায়) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আগামীকাল সকালে আমি এমন এক ব্যক্তিকে পতাকা প্রদান করব, অথবা বলেছিলেন যে, এমন এক ব্যক্তি ঝান্ডা গ্রহণ করবে যাকে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভালবাসেন, অথবা বলেছিলেন, সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালবাসে। তাঁর মাধ্যমে আল্লাহ তা’আলা বিজয় দান করবেন। তারপর আমরা দেখতে পেলাম তিনি হলেন আলী রা. অথচ আমরা তাঁর সম্পর্কে এমনটি আশা করিনি। তাই সকলেই বলে উঠলেন, এই যে আলী রা. । রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকেই (পতাকা) দিলেন এবং তাঁর মাধ্যমেই আল্লাহ তা’আলা বিজয় দিলেন।
হাদীস নং ৩৪৩৮
আবদুল্লাহ ইবনে মাসলাম রহ………..আবু হাযিম রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি সাহল ইবনে সাদ রা.-এর খেদমতে হাযির হয়ে বললেন, মদীনার অমুক আমীর মিম্বরের নিকট বসে আলী রা. সম্পর্কে অপ্রিয় কথা বলছে। তিনি বললেন, সে কি বলছে? সে বলল, সে তাকে আবু তুরাব রা. বলে উল্লেখ করছে। সাহল রা. (একথা শুনে) হেসে দিলেন এবং বললেন, আল্লাহর কসম, তাঁর এ নাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ই রেখে ছিলেন। এ নাম অপেক্ষা তাঁর নিকট অধিক প্রিয় আর কোন নাম ছিল না। আমি (নাম রাখার) ঘটনাটি জানার জন্য সাহল রা. -এর নিকট আগ্রহ প্রকাশ করলাম এবং তাকে বললাম, হে আবু আব্বা, এটা কিভাবে হয়েছিল। তিনি বললেন, (একদিন) আলী রা. ফাতিমা রা. এর নিকট গেলেন এবং কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে সমজিদে শুয়ে রইলেন। (অল্পক্ষণ পর) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার চাচাত ভাই (আলী) কোথায়? তিনি বললেন, মসজিদে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়লেন। পরে তিনি তাকে এমন অবস্থায় পেলেন যে তাঁর চাদর পিঠ থেকে সরে গিয়েছে। তাঁর পিঠে ধুলো-বালি লেগে গেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পিঠ থেকে ধূলা-বালি ঝাড়তে ঝাড়তে বলতে লাগলেন, উঠে বস হে আবু তুরাব। এ কথাটি তিনি দু’বার বলেছিলেন।
হাদীস নং ৩৪৩৯
মুহাম্মদ ইবনে রাফি রহ…………সাদ ইবনে উবাদইদা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি ইবনে উমর রা.-এর নিকট এসে উসমান রা.-এর সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করল। তিনি উসমান রা.-এর কতিপয় ভাল গুণ বর্ণনা করলেন। ইবনে উমর রা. ঐ ব্যক্তিকে বললেন,মনে হয় এটা তোমাদের কাছে খারাপ লাগছে। সে বলল, হ্যাঁ। ইবনে উমর রা. বললেন, আল্লাহ (তোমাকে) অপমানিত করুন! তারপর সে ব্যক্তি আলী রা.-এর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল। তিনি তাঁরও কতিপয় ভাল গুণ বর্ণনা করলেন এবং বললেন, ঐ দেখ। তাঁর ঘরটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘরগুলোর মধ্যে অবস্থিত এরপর তিনি বললেন, মেন হয় এসব কথা শুনতে তোমার খারাপ লাগছে। সে বলল, হ্যাঁ। ইবনে উমর রা. বললন, আল্লাহ তোমাকে লাঞ্ছিত করুন। যাও, আমার বিরুদ্ধে তোমার শক্তি ব্যয় কর।
হাদীস নং ৩৪৪০
মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ…………আলী রা. থেকে বর্ণিত যে, ফাতিমা রা. যাতা চলানোর কষ্ট সম্পর্কে একদিন (আমার নিকট) অভিযোগ প্রকাশ করলেন। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট কিছু সংখ্যক যুদ্ধবন্দী আসল। ফাতিমা রা. (একজন গোলাম পাওয়ার আশা নিয়ে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খেদমতে গেলেন। কিন্তু তাকে না পেয়ে, আয়েশা রা.-এর কাছে তাঁর কথা বলে আসলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ঘরে আসলেন তখন ফাতিমা রা. এর আগমন ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে আয়েশা রা. তাকে অবহিত করলেন। (আলী রা.) বলেন) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের এখানে আসলেন, যখন আমরা বিছানায় শুয়ে পড়েছিলাম। তাকে দেখে আমি উঠে বসতে চাইলাম। কিন্তু তিনি বললেন, তোমরা নিজ নিজ অবস্থায় থাক এবং তিনি আমাদের মাঝখানে এমনভাবে বসে পড়লেন যে আমি তাঁর পদদ্বয়ের শীতলতা আমার বক্ষে অনুভব করলাম। তিনি বললেন, আমি কি তোমরা যা চেয়েছিলে তার চেয়েও উত্তম জিনিস শিক্ষা দিব না? (তা হল) তোমরা যখন ঘুমানোর উদ্দেশ্যে বিছানায় যাবে তখন চৌত্রিশ বার ‘আল্লাহু আকবার’ তেত্রিশবার ‘সুবহানাল্লাহ’ তেত্রিশবার ‘আল হামদুলিল্লাহ’ পড়ে নিবে। এটা খাদিম (যা তোমরা চেয়েছিলে) অপেক্ষা অনেক উত্তম।
