হাদীস নং ৩৩৯১
মুহাম্মদ ইবনে সিনান রহ………..আবু বকর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা যখন (সাওর) গুহায় আত্মগোপন করেছিলাম। তখন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললাম, যদি কাফেরগণ তাদের পায়ের নীচের দিকে দৃষ্টিপাত করে তবে আমাদেরকে দেখে ফেলবে। তিনি বললেন, হে আবু বকর ! ঐ দুই ব্যক্তি সম্পর্কে তোমার কি ধারণা স্বয়ং আল্লাহ যাদের তৃতীয় জন।
হাদীস নং ৩৩৯২
আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ……….আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন সাহাবীদের উদ্দেশ্যে খুতবা প্রদানকালে বললেন, আল্লাহ তাঁর এক প্রিয় বান্দাকে পার্থিব ভোগ বিলাস এবং তাঁর নিকট রক্ষিত নিয়ামতসমূহ এ দুয়ের মধ্যে যে কোন একটি গ্রহণ করার ইখতিয়ার দান করেছেন এবং ঐ বান্দা আল্লাহর নিকট রক্ষিত নিয়ামতসমূহ গ্রহণ করেছে। রাবী বলেন তখন আবু বকর রা. কাঁদতে লাগলেন। তাঁর কান্না দেখে আমরা আশ্চর্যান্বিত হলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক বান্দার খবর দিচ্ছেন যাকে এভাবে ইখতিয়ার দেওয়া হয়েছে। (তাতে কান্নার কি কারণ থাকতে পারে?) কিন্তু পরে আমরা বুঝতে পারলাম, ঐ বান্দা স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন এবং আবু বকর রা. আমাদের মধ্যে সর্বাধিক জ্ঞানী ব্যক্তি ছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যে ব্যক্তি তার ধন-সম্পদ দিয়ে, তার সাহচার্য দিয়ে আমার উপর সর্বাধিক ইহসান করেছে সে ব্যক্তি হল আবু বকর রা.। আমি যদি আমার রব ব্যতীত অন্য কাউকে অন্তরঙ্গ বন্ধু রূপে গ্রহণ করতাম, তবে অবশ্যই আবু বকরকে করতাম। তবে তার সাথে আমার দীনি ভ্রাতৃত্ব, আন্তরিক মুহাব্বত রয়েছে। মসজিদের দিকে আবু বকরের দরজা ব্যতীত অন্য কোন দরজা খোলা রাখা যাবে না।
হাদীস নং ৩৩৯৩
আবদুল আযীয ইবনে আবদুল্লাহ রহ……….ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যামানায় সাহাবীগণের পরস্পরের মধ্যে মর্যাদা নিরূপণ করতাম। আমরা সর্বাপেক্ষা মর্যাদা দিতাম আবু বকর রা.-কে তারপর উমর ইবনে খাত্তাব রা.-কে তারপর উসমান ইবনে ইবনে আফফান রা.-কে।
হাদীস নং ৩৩৯৪
মুসলিম ইবনে ইবরাহীম রহ………..আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি আমার উম্মতের কাউকে যদি অন্তরঙ্গ বন্ধু রূপে গ্রহণ করতাম, তবে আবু বকরকেই গ্রহণ করতাম। তবে তিনি আমার (দীনি) ভাই ও সাহাবী।
হাদীস নং ৩৩৯৫
মুআল্লা ইবনে আসাদ ও মূসা ইবনে সাঈদ রহ………আইয়্যূব রহ. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি কাউকে যদি অন্তরঙ্গ বন্ধুরূপে গ্রহণ করতাম, তবে তাকেই (আবু বকরকেই) গ্রহণ করতাম। কিন্তু ইসলামী ভ্রাতৃত্বই সর্বোত্তম। কুতাইবা রহ……….আইয়্যূব থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেন।
হাদীস নং ৩৩৯৬
সুলাইমান ইবনে হারব রহ………আবদুল্লাহ ইবনে আবু মুলাইকা রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কুফাবাসীগণ দাদার (মিরাস) সম্পর্কে জানতে চেয়ে ইবনে যুবাইরের নিকট পত্র পাঠালেন, তিনি বললেন, ঐ মহান ব্যক্তি যার সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এ উম্মতের কাউকে যদি অন্তরঙ্গ বন্ধু রূপে গ্রহণ করতাম, তবে তাকেই করতাম। (অর্থাৎ আবু বকর রা.) তিনি দাদাকে মিরাসের ক্ষেত্রে পিতার সমপর্যায়ভুক্ত করেছেন।
হাদীস নং ৩৩৯৭
হুমাইদী ও মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ রহ………যুবাইর ইবনে মুতঈম রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একজন মহিলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খেদমতে এল। (আলোচনা শেষে যাওয়ার সময়) তিনি তাকে আবার আসার জন্য বললেন। মহিলা বলল, আমি এসে যদি আপনাকে না পাই তবে কি করব? একথা দ্বারা মহিলাটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওফাতের প্রতি ইঙ্গিত করেছিল। তিনি বললেন, যদি আমাকে না পাও তবে আবু বকরের নিকট আসবে।
হাদীস নং ৩৩৯৮
আহমদ ইবনে আবু তৈয়্যেব রহ…………আম্মার রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এমন অবস্থায় দেখেছি যে তাঁর সাথে মাত্র পাঁচজন গোলাম, (বিলাল, যায়েদ ইবনে হারিসা, আমির ইবনে ফুহাইরা, আবু ফুকীহা ও আম্মারের পিতা ইয়াসির) দুজন মহিলা (খাদীজা ও সুমাইয়া) এবং আবু বকর রা. ব্যতীত অন্য কেউ ছিল না।
হাদীস নং ৩৩৯৯
হিশাম ইবনে আম্মার রহ……….আবু দারদা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বসা ছিলাম। এমন সময় আবু বকর রা. পরিহিত কাপড়ের একপাশ এমনভাবে ধরে রেখে আসলেন যে তার উভয় হাটু বেরিয়ে পড়ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের এ সাথী এইমাত্র কারো সাথে ঝগড়া করে আসছে। (এমন সময় আবু বকর রা. মজলিসে উপস্থিত হয়ে) তিনি সালাম করলেন এবং বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার এবং উমর ইবনে খাত্তাবের মাঝে একটি ক্ষমা চেয়েছি। কিন্তু তিনি ক্ষমা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এখন আম আপনার খেদমতে হাযির হয়েছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করবেন, হে আবু বকর রা.। একথাটি তিনি তিনবার বললেন। এরপর উমর রা. লজ্জিত ও অনুতপ্ত হয়ে আবু বকর রা.-এর বাড়ীতে এসে জিজ্ঞাসা করলেন, আবু বকর কি বাড়ীতে আছেন? তারা বলল, না। তখন উমর রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খেদমতে চলে আসলেন। (তাকে দেখে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেল। আবু বকর রা. ভীত হয়ে নতজানু হয়ে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমিই প্রথম অন্যায় করেছি। একথাটি দুবার বললেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহ যখন আমাকে তোমাদের নিকট রাসূল রূপে প্রেরণ করেছেন তখন তোমরা সবাই বলেছ, তুমি মিথ্যা বলছ আর আবু বকর বলেছে, আপনি সত্য বলছেন। তাঁর জান মাল সর্বস্ব দিয়ে আমার প্রতি যে সহানুভূতি দেখিয়েছে তা নযীরবিহীন। তোমরা কি আমার খাতিরে আমার সাথীকে অব্যাহিত প্রদান করবে? এ কথাটি তিনি দুবার বলেছেন। এরপর আবু বকর রা.-কে আর কখনও কষ্ট দেয়া হয়নি।
