হাদীস নং ৩৩৮৫
আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ………….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুব ভোরে খায়বারে পৌঁছলেন। তখন খায়বারবাসী কোদাল নিয়ে ঘর থেকে বের হচ্ছিল। তাকে দেখে তারা বলতে লাগল, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুরা সৈন্যবাহিনী নিয়ে এসে পড়েছে। (এ বলে) তারা দৌড়াদৌড়ি করে তাদের সুরক্ষিত কিল্লায় ঢুকে পড়ল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’হাত উপরে উঠিয়ে বললেন, আল্লাহু আকবার খায়বার ধ্বংস হোক, আমরা যখন কোন জাতির (বিরুদ্দে অভিযান চালিয়ে) তাদের আঙ্গিনায় অবতরণ করি তখন এসব আতংকগস্থ লোকদের প্রভাতটি অত্যন্ত অশুভ হয়। আবু আবদুল্লাহ (বুখারী রহ.) বলেন, “ফারাআ ইয়াদাইহি” শব্দটি বর্জন করুন। কেননা আমার ধারণা যে, এ শব্দটি বিশুদ্ধ বর্ণনায় পাওয়া যায় না। যদি পাওয়াও যায় তবে তা নিশ্চয়ই অপ্রসিদ্ধ হবে।
হাদীস নং ৩৩৮৬
ইবরাহীম ইবনে মুনযির রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বললেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার থেকে অনেক হাদীস আমি শুনেছি, তবে তা আমি ভুলে যাই। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার চাদরটি বিছাও। আমি চাদরটি বিছিয়ে দিলাম। তিনি তার হাত দিয়ে চাদরের মধ্যে কি যেন রাখলেন এবং বললেন, চাদরটি চেপে ধর। আমি (বুকের সাথে) চেপে ধরলাম, তারপর আমি আর কোন হাদীস ভুলি নাই।
সাহাবাগণের ফযীলত অধ্যায় (৩৩৮৭-৩৫০৪)
হাদীস নং ৩৩৮৭
আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ……….আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জনগণের উপর এমন এক সময় আসবে যখন তাদের বিরাট সৈন্যবাহিনী জিহাদের উদ্দেশ্যে বের হবে। তখন তাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে, তোমাদের মধ্যে এমন কেউ আছেন কি যিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাহচর্য লাভ করেছেন? (অর্থাৎ সাহাবী) তাঁরা বললেন, হ্যাঁ আছেন। তখন (ঐ সাহাবীর বরকতে) তাদেরকে জয়ী করা হবে। তারপর জনগণের উপর পুনরায় এমন এক সময় আসবে যখন তাদের বিরাট বাহিনী যুদ্ধে লিপ্ত থাকবে। তখন তাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে, তোমাদের মধ্যে এমন কেউ আছেন কি যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহচর্য লাভে ধন্য কিংবা কোন ব্যক্তির (সাহাবীর) সাহচার্য লাভ করেছেন? (অর্থাৎ তাবেয়ী) তখন তারা বলবেন, হ্যাঁ, আছেন। তখন (ঐ তাবেয়ীর বরকতে) তাদেরকে জয়ী করা হবে। এরপর লোকদের উপর এমন এক সময় আসবে তাদের বিরাট বাহিনী জিহাদে অংশগ্রহণ করবে। তখন তাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে, তোমাদের মধ্যে এমন কেউ আছেন কি, যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণের সাহচার্য লাভকারী কোন ব্যক্তির (তাবেয়ীর) সাহচার্য লাভ করেছেন? (অর্থাৎ তাবে-তাবেয়ী) বলা হবে আছেন। তখন তাদেরকে (ঐ তাবে-তাবেয়ীর বরকতে) জয়ী করা হবে।
হাদীস নং ৩৩৮৮
ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ রহ…………ইমরান ইবনে হুসাইন রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমার উম্মতের সর্বশ্রেষ্ঠ যুগ আমার (সাহাবীগণের) যুগ। এরপর তৎ-সংলগ্ন যুগ (তাবেয়ীদের যুগ)।এরপর তৎসংলগ্ন (তাবে-তাবেয়ীদের যুগ)। ইমরান রা. বলেন, তিনি তাঁর যুগের পর দুযুগ অথবা তিন যুগ বলছেন তা আমার স্মরণ নেই। তারপর (তোমাদের যুগের পর) এমন লোকের আগমন ঘটবে যারা সাক্ষ্য প্রদানে আগ্রহী হবে অথচ তাদের নিকট সাক্ষ্য চাওয়া হবে না। বিশ্বাস ভঙ্গের কারণে তাদেরকে কেউ বিশ্বাস করবে না। তারা মান্নত করবে কিন্তু তা পূর্ণ করবে না। পার্থিব ভোগ বিলাসের কারণে তাদের মাঝে চর্বিযুক্ত স্থলদেহ প্রকাশ পাবে।
হাদীস নং ৩৩৮৯
মুহাম্মদ ইবনে কাসীর রহ……….আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমার উম্মতের সর্বোত্তম মানুষ আমার যুগের মানুষ (সাহাবীগণ)। এরপর তৎসংলগ্ন যুগ। তারপর তৎসংলগ্ন যুগ। তারপর এমন লোকদের আগমন হবে যাদের কেউ কেউ সাক্ষ্য প্রদানের পূর্বে কসম এবং কসমের পূর্বে সাক্ষ্য প্রদান করবে। (মিথ্যাকে প্রমাণিত করার জন্য সাক্ষ্য, হলফ ইত্যাদি নির্দ্বিধায় করতে থাকবে) ইবরাহীম (নাখয়ী; রাবী) বলেন, ছোট বেলায় আমাদের মুরুব্বীগণ আল্লাহর নামে কসম করে সাক্ষ্য প্রদানের জন্য এবং ওয়াদা-অঙ্গীকার করার কারণে আমাদেরকে মারধর করতেন।
হাদীস নং ৩৩৯০
আবদুল্লাহ ইবনে রাজা রহ…………বারা (ইবনে আযিব) রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু বকর রা. আযিব রা.-এর নিকট থেকে তের দিরহাম মূল্যের একটি হাওদা ক্রয় করলেন। আবু বকর রা. আযিবকে বললেন, তোমার ছেলে বারাকে হাওদাটি আমার কাছে পৌঁছে দিতে বল। আযিব রা. বললেন, আমি বারাকে বলব না যতক্ষণ আপনি আমাদেরকে (হিজরতের ঘটনা) সবিস্তার বর্ণনা করে শুনাবেন যে আপনি ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি করছিলেন যখন আপনারা (হিজরতের উদ্দেশ্যে) মক্কা থেকে বেরিয়ে পড়েছিলেন? আর মক্কার মুশরীকগণ আপনাদের পিছু ধাওয়া করেছিল। আবু বকর রা. বললেন, আমরা মক্কা থেকে বেরিয়ে সারারাত এবং পরের দিন দুপুর পর্যন্ত অবিরাম চললাম। যখন ঠিক দুপুর হয়ে গেল, এবং উত্তাপ তীব্রতর হল আমি চারদিকে চেয়ে দেখলাম কোথাও কোন ছায়া দেখা যায় কিনা, যেন আমরা সেখানে বিশ্রাম নিতে পারি। তখন একটি বৃহদাকার পাথর নযরে পড়ল। এই পাথরটির পাশে কিছু ছায়াও আছে। আমি সেখানে আসলাম এবং ঐ ছায়াবিশিষ্ট স্থানটি সমতল করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য বিছানা করে দিলাম এবং বললাম, হে আল্লাহর নবী, আপনি এখানে শুয়ে পড়ুন, তিনি শুয়ে পড়লেন। আমি চতুর্দিকের অবস্থা পর্যবেক্ষণের উদ্দেশ্য বেরিয়ে পড়লাম, আমাদের তালাশে কেউ আসছে কিনা? ঐ সময় আমি দেখতে পেলাম, একজন মেষ রাখাল তার ভেড়া ছাগল হাঁকিয়ে ঐ পাথরের দিকে আসছে। সেও আমাদের মত ছায়া তালাশ করছে। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, হে যুবক, তুমি কার রাখাল? সে একজন কুরাঈশের নাম বলল, আমি তাকে চিনতে পারলাম। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, তোমার বকরীর পালে দুগ্ধবতী বকরী আছে কি? সে বলল, হ্যাঁ, আছে। আমি বললাম, তুমি কি আমাদেরকে দুধ দোহন করে দিবে? সে বলল, হ্যাঁ, দিব। আমি তাকে তা দিতে বললাম তৎক্ষণাৎ সে বকরীর পাল থেকে একটি বকরী ধরে নিয়ে এল। এবং পিছনের পা দুটি বেঁধে নিল। আমি তাকে বললাম, বকরীর স্তন দুটি ঝেড়ে মুছে ধূলাবালি থেকে পরিষ্কার করে নেও এবং তোমার হাত দুটি পরিষ্কার কর। তিনি এক হাত অন্য হাতের উপর মেরে (পরিষ্কারের পদ্ধতিটিও) দেখালেন। এরপর সে আমাদিগকে পাত্রভরে দুধ এনে দিল। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য এমন একটি চামড়ার পাত্র সাথে রেখে ছিলাম যার মুখ কাপড় দ্বারা বাঁধা ছিল। আমি দুধের মধ্যে সামান্য পানি মিশিয়ে দিলাম যেন দুধের নিম্নভাগও ঠান্ডা হয়ে যায়। এরপর আমি দুধ নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খেদমতে হাযির হয়ে দেখলাম তিনি জেগেছেন। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি দুধ পান করুন। তিনি দুধ পান করলেন; আমি খুশী হলাম। তারপর আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের রওয়ানা হয়ে যাওয়ার সময় হয়েছে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ, হয়েছে। আমরা রওয়ানা হয়ে পড়লাম। মক্কাবাসী মুশরিকরা আমাদের অনুসন্ধানে ছুটাছুটি করছে। কিন্তু সুরাকা ইবনে মালিক ইবনে জশাম ব্যতীত আমাদের সন্ধান তাদের অন্য কেউ পায়নি। সে ঘোড়ায় চড়ে আসছিল। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! অনুসন্ধানকারী আমাদের নিকটবর্তী। তিনি বললেন, চিন্তা করনা, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ আমাদের সাথে রয়েছেন।
