হাদীস নং ৩৩৭৫
সাদাকা ইবনে ফাযল রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয়েছিল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা সাক্ষী থাক।
হাদীস নং ৩৩৭৬
আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ও খলীফা রহ……….আনাস রা. থেকে বর্ণিত যে, মক্কাবাসী কাফিররা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট মুজিযা দেখানোর জন্য দাবী জানালে তিনি তাদেরকে চাঁদ দ্বিখণ্ডিত করে দেখালেন।
হাদীস নং ৩৩৭৭
খালাফ ইবনে খালিদ আল-কুরায়শী রহ…….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যামানায় চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয়েছিল।
হাদীস নং ৩৩৭৮
মুহাম্মদ ইবনে মুসান্না রহ………..আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দু’জন সাহাবী (আব্বাদ ইবনে বিশর ও উসাইদ ইবনে হুযাইর রা.)অন্ধকার রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরবারে হতে বের হলেন, তখন তাদের সাথে দুটি বাতির ন্যায় কিছু তাদের সম্মুখভাগ আলোকিত করে চলল। যখন তারা পৃথক হয়ে গেলেন তখন প্রত্যেকের সাথে এক একটি বাতি চলতে লাগল। অবশেষে তাঁরা নিজ নিজ বাড়ীতে পৌছে গেলেন।
হাদীস নং ৩৩৭৯
আবদুল্লাহ ইবনে আবুল আসওয়াদ রহ………..মুগিরা ইবনে শুবা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা বিজয়ী থাকবে। এমন কি কিয়ামত আসবে তখনও তারা বিজয়ী থাকবে।
হাদীস নং ৩৩৮০
হুমাইদী রহ……….মুআবিয়া রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা আল্লাহর দীনের উপর অটল থাকবে। তাদেরকে যারা সাহায্য না করবে অথবা তাদের বিরোধীতা করবে, তারা তাদের কোন প্রকার প্রকার ক্ষতি করতে পারবে না। এমনকি কিয়ামত আসা পর্যন্ত তাঁরা তাদের অবস্থার উপর মজবুত থাকবে। উমাইর ইবনে হানী রহ. মালিক ইবনে ইউখামিরের রহ. বরাত দিয়ে বলেন, মুআয রা. বলেছেন, ঐ দলটি সিরিয়ার অবস্থান করবে। মুআবিয়া রহ. বলেন, মালিক রহ.-এর ধারণা যে ঐ দলটি সিরিয়ায় অবস্থান করবে বলে মুআয রা. বলেছেন।
হাদীস নং ৩৩৮১
আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ……….উরওয়া বারিকী রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি বকরী ক্রয় করে দেয়ার জন্য তাকে একটি দিনার দিলেন। তিনি ঐ দীনার দিয়ে দুটি বকরী ক্রয় করলেন। তারপর এক দীনার মূল্যে একটি বকরী বিক্রি করে দিলেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খেদমতে একটি বকরী ও একটি দীনার নিয়ে হাযির হলেন। তা দেখে তিনি তার ব্যবসা বাণিজ্যে বরকত হওয়ার জন্য দু’আ করে দিলেন। এরপর তার অবস্থা এমন হল যে, ব্যবসার জন্য যদি মাটিও তিনি খরীদ করতেন তাতেও তিনি লাভবান হতেন। সুফিয়ান রহ. শাবীব রহ. বলেন, আমি উরওয়া রা.-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, ঘোড়ার কপালের কেশগুচ্ছ বরকত ও কল্যাণ নিহিত রয়েছে কিয়ামত পর্যন্ত। রাবী বলেন, আমি তার গৃহে সত্তরটা ঘোড়া দেখেছি। সুফিয়ান রহ. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য যে বকরীটি ক্রয় করা হয়েছিল, তা ছিল কুরবানীর উদ্দেশ্যে।
হাদীস নং ৩৩৮২
মুসাদ্দাদ রহ……….ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ঘোড়ার কপালের কেশগুচ্ছে কিয়ামত পর্যন্ত কল্যাণ ও বরকত নিহিত রয়েছে।
হাদীস নং ৩৩৮৩
কায়স ইবনে হাফস রহ………..আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ঘোড়ার কপালে কল্যাণ ও বরকত নিহিত রয়েছে।
হাদীস নং ৩৩৮৪
আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ঘোড়া তিন প্রকার। (ঘোড়া পালন) একজনের জন্য পূণ্য, আর একজনের জন্য (দারিদ্র্য ঢেকে রাখার) আবরণ ও অন্য আর একজনের জন্য পাপের কারণ। সে ব্যক্তির জন্য পূণ্য যে, আল্লাহর রাস্তায় (জিহাদ করার উদ্দেশ্যে) ঘোড়াকে সদা প্রস্তুত রাখে এবং সে ব্যক্তি যখন লম্বা দড়ি দিয়ে ঘোড়াটি কোন চারণভূমি বা বাগানে বেঁধে রাখে তখন ঐ লম্বা দড়ির মধ্যে চারণভূমি অথবা বাগানের যে অংশ পড়বে তত পরিমাণ সাওয়াব সে পাবে। যদি ঘোড়াটি দড়ি ছিড়ে ফেলে এবং দুই একটি টিলা পার হয়ে কোথাও চলে যায় তার পরে তার লেদাগুলিও নেকী বলে গণ্য হবে। যদি কোন নদী-নালায় গিয়ে পানি পান করে, মালিক যদিও পানি পান করানোর ইচ্ছা করে নাই তাও তার নেক আমলে গণ্য হবে। আর যে ব্যক্তি নিজের স্বচ্ছলতা দারিদ্র্যের গ্লানি ও পরমুখাপেক্ষিতা থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য ঘোড়া পালন করে এবং তার গর্দান ও পিঠে আল্লাহর যে হক রয়েছে তা ভুলে না যায়। তবে এই ঘোড়া তার জন্য আযাব থেকে আবরণ স্বরূপ। অপর এক ব্যক্তি যে অহংকার, লোক দেখানো এবং আহলে ইসলামের সাথে শত্রু তার কারণে ঘোড়া লালন-পালন করে এ ঘোড়া তার জন্য পাপের বোঝা হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে গাধা (পালন) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে, তিনি বললেন, এ সম্বন্ধে নির্দিষ্ট কোন আয়াত আমার নিকট অবতীর্ণ হয়নি। তবে ব্যাপক অর্থবোধক অনুপম আয়াতটি আমার নিকট নাযিল হয়েছে : যে ব্যক্তি অণু পরিমাণ নেক আমল করবে সে তার প্রতিফল অবশ্যই দেখতে পাবে। আর যে ব্যক্তি অণূ পরিমাণ মন্দ কাজ করবে সেও তার প্রতিফল দেখতে পাবে।(৯৯: ৭৮)।
