হাদীস নং ৩৩০৭
আবদান রহ………..আবদুল্লাহ ইবনে আমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অশ্লীল ভাষী ও অসদাচারী ছিলেন না। তিনি বলতেন, তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সর্বশ্রেষ্ঠ যে নৈতিকতায় সর্বোত্তম।
হাদীস নং ৩৩০৮
আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………..আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে (জাগতিক বিষয়ে) যখনই দুটি জিনিসের একটি গ্রহণের ইখতিয়ার দেওয়া হত, তখন তিনি সহজ সরলটিই গ্রহণ করতেন যদি তা গুনাহ না হত। যদি গুনাহ হত তবে তা থেকে তিনি অনেক দূরে সরে থাকতেন । রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যক্তিগত কারণে কারো থেকে কখনো প্রতিশোধ গ্রহণ করেন নি। তবে আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা লঙ্ঘন করা হলে আল্লাহকে রাযী ও সন্তুষ্ট করার মানসে প্রতিশোধ করতেন।
হাদীস নং ৩৩০৯
সুলাইমান ইবনে হারব রহ……….আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাতের তালু অপেক্ষা মোলায়েম কোন রেশম ও গরদকেও স্পর্শ করি নাই। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শরীর মোবারকের খুশব অপেক্ষা অধিকতর সুঘ্রাণ আমি কখনো পাই নাই।
হাদীস নং ৩৩১০
মুসাদ্দাদ রহ……….আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্তপুরবাসিনী পর্দানশীন কুমারীদের চেয়েও অধিক লজ্জাশীল ছিলেন। মুহাম্মদ রহ………শুবা রহ. থেকে অনুরূপ রেওয়ায়েত বর্ণিত হয়েছে। (তবে এ বাক্যটি অতিরিক্ত রয়েছে যে,) যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন কিছু অপছন্দ করতেন তখন তাঁর চেহারা মুবারকে তা (বিরক্তির ভাব) দেখা যেত।
হাদীস নং ৩৩১১
আলী ইবনে জাদ রহ…………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো কোন খাদ্যবস্তুকে মন্দ বলতেন না। রুচি হলে খেয়ে নিতেন নতুবা ত্যাগ করতেন।
হাদীস নং ৩৩১২
কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ………… আবদুল্লাহ ইবনে মালিক ইবনে বুহায়না রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সিজদা করতেন, তখন উভয় বাহুকে শরীর থেকে এমনভাবে পৃথক করে রাখতেন যে, আমরা তাঁর বগল দেখতে পেতাম। অন্য বর্ণনায় আছে, বগলের শুভ্রতা দেখতে পেতাম।
হাদীস নং ৩৩১৩
আবদুল আলা ইবনে হাম্মাদ রহ………..আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইস্তিসকা (বৃষ্টির জন্য সালাত ও দু’আ) ব্যতীত অন্য কোন দু’আয় তাঁর বাহুদ্বয় এতটা উর্ধ্বে উঠাতেন না কেননা এতে হাত এত উর্ধ্বে উঠাতেন যে তাঁর বগলের শুভ্রতা দেখা যেত। আবু মূসা রহ. হাদীস বর্ণনায় বলেন, আনাস রা. বলেছেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’আর মধ্যে দুনু হাত উপরে উঠিয়েছেন ; এবং আমি তাঁর বগলের শুভ্রতা দেখেছি।
হাদীস নং ৩৩১৪
হাসান ইবনে সাব্বাহ রহ…………আবু জুহায়ফা রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে, (একদা) আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরবারে নেয়া হল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন আবতাহ নামক স্থানে দুপুর বেলায় একটি তাবুতে অবস্থান করছিলেন। বেলাল রা. তাবু থেকে বেরিয়ে এসে যুহরের সালাতের আযান দিলেন এবং (তাঁবুতে) পুনঃ প্রবেশ করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অজুর অবশিষ্ট পানি নিয়ে বেরিয়ে এলেন। লোকজন ইহা নেওয়ার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ল। অতঃপর তিনি আবার তাঁবুতে ঢুকে একটি ছোট বর্শা নিয়ে বেরিয়ে আসলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও (এবার) বেরিয়ে আসলেন। আমি যেন তাঁর পায়ের গোছার ঔজ্জ্বল্য এখনো দেখতে পাচ্ছি। বর্শাটি সম্মুখে পুতে রাখলেন। এরপর যুহরের দু’রাকআত এবং পরে আসরের দু’রাকআত সালাত আদায় করলেন। বর্শার বাহির দিয়ে গাধা ও মহিলা চলাফেরা করছিল।
হাদীস নং ৩৩১৫
হাসান ইবনে সাব্বাহ রহ………….আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনভাবে (থেমে থেমে) কথা বলতেন যে, কোন গণনাকারী গণনা করতে চাইলে তাঁর কথাগুলি গণনা করতে পারত। লায়স রহ……….আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তুমি অমুকের (আবু হুরায়রা রা.) অবস্থা দেখে কি অবাক হও না? তিনি এসে আমার হুজরার পাশে বসে আমাকে শুনিয়ে হাদীস বর্ণনা করেন। আমি তখন (নফল) সালাতে ছিলাম। আমার সালাত শেষ হওয়ার পূর্বেই তিনি উঠে চলে যান। তাকে যদি আমি পেতাম তবে আমি অবশ্যই তাকে সতর্ক করে দিতাম যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদের মত দ্রুত কথা বলতেন না (বরং তিনি ধীরস্থির ও স্পষ্টভাবে কথা বলতেন)।
হাদীস নং ৩৩১৬
আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ……….আবু সালামা ইবনে আবদুর রাহমান রহ. থেকে বর্ণিত যে, তিনি আয়েশা রা.-কে জিজ্ঞাসা করলেন, রমযান মাসে (রাতে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাত কিভাবে ছিল? আয়েশা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযান মাসে ও অন্যান্য সব মাসের রাতে এগার রাকআতের বেশী সালাত আদায় করতেন না। প্রথমে চার রাকআত পড়তেন। এ চার রাকআত আদায়ের সৌন্দের্যের ও দৈর্ঘ্যের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করোনা। (ইহা বর্ণনাতীত) তারপর আরো চার রাকআত সালাত আদায় করতেন। এ চার রাকআতের সৌন্দর্য ও দৈর্ঘ্যের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করো না। তারপর তিন রাকআর (বিতর) আদায় করতেন। তখন আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আপনি বিতর সালাত আদায়ের পূর্বে ঘুমিয়ে পড়েন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার চক্ষু ঘুমায় তবে আমার অন্তর ঘুমায় না।
