হাদীস নং ৩২৯৬
আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেমানান লম্বাও ছিলেন না বা বেঁটেও ছিলেন না। তাঁর শরীরের রং গোলাপী ধরনের ছিল, ধবধবে সাদাও নয় কিংবা তামাটে বর্ণেও নয়। মাথার চুল কুঁকড়ানোও ছিল না আবার সম্পূর্ণ সোজাও ছিল না। চল্লিশ বছর বয়সে তাঁর উপর নবুওয়্যাত প্রাপ্ত হন। তাঁর নবুওয়্যাত কালের প্রথম দশ বছর মক্কায় এবং পরের দশ বছর মদীনায় অতিবাহিত করেন। অতঃপর তাঁর ওফাত হয় তখন তার মাথা ও দাঁড়িতে কুড়িটি সাদা চুলও ছিল না।
হাদীস নং ৩২৯৭
আহমদ ইবনে সাঈদ রহ…………বারা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেহারা মুবারক ছিল মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর এবং তিনি ছিলেন সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী। তিনি অতিরিক্ত লম্বাও ছিলেন না এবং বেমানান বেঁটেও ছিলেন না।
হাদীস নং ৩২৯৮
আবু নুআইম রহ……….কাতাদা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আনাস রা.-কে জিজ্ঞাসা করলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুলে খেযাব ব্যবহার করেছেন কি ? তিনি বললেন, না (তিনি তা ব্যবহার করেননি)। তাঁর কানের পাশে গুটি কয়েক চুল সাদা হয়েছিল মাত্র। (কাজেই চুলে খেযাব ব্যবহারের আবশ্যক হয় নাই)।
হাদীস নং ৩২৯৯
হাফস ইবনে উমর রহ……….বারা ইবনে আযিব রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাঝারি গড়নের ছিলেন। তাঁর উভয় কাঁধের মধ্যবর্তী স্থান প্রশস্ত ছিল। তাঁর মাথার চুল দুই কানের লতি পর্যন্ত প্রসারিত ছিল। আমি তাকে লাল ডোরাকাটা জোড় চাদর পরিহিত অবস্থায় দেখেছি। তাঁর চেয়ে অধিক সুন্দর কাউকে আমি কখনো দেখিনি। ইউসুফ ইবনে আবু ইসহাক তাঁর পিতা থেকে হাদীস বর্ণনায় বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাথার চুল কাঁধ পর্যন্ত প্রসারিত ছিল।
হাদীস নং ৩৩০০
আবু নুআইম রহ…………আবু ইসহাক তাবেই রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বারা রা.-কে জিজ্ঞাসা করা হল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেহারা মুবারক কি তরবারীর ন্যায় (চকচকে) ছিল ? তিনি বলেন না, বরং চাঁদের মত (স্নিগ্ধ ও মনোরম) ছিল।
হাদীস নং ৩৩০১
হাসান ইবনে মানসুর আবু আলী রহ……….হাকাম রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবু জুহায়ফা রা.-কে বলতে শুনেছি। তিনি বলেছেন, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুপুর বেলায় বাতহার দিকে বেরিয়ে গেলেন। সে স্থানে অজু করে যুহরের দু’রাকআত ও আসরের দু’রাকআত সালাত আদায় করেন। তাঁর সম্মুখে একটি বর্শা পোতা ছিল। বর্শার বাহির দিক দিয়ে নারীগণ যাতায়াত করছিল। সালাত শেষে লোকজন দাঁড়িয়ে গেল এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উভয় হাত ধরে তারা নিজেদের মাথা ও চেহারায় বুলাতে লাগলেন। আমিও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাত মুবারক ধারণ করতঃ আমার চেহারায় বুলাতে লাগলাম। তাঁর হাত তুষার চেয়ে স্নিগ্ধ শীতল ও কস্তুরীর চেয়ে অধিক সুগন্ধ ছিল।
হাদীস নং ৩৩০২
আবদান রহ………..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বাপেক্ষা অধিক দানশীল ছিলেন। তাঁর বদান্যতা বহুগুণ বেড়ে যেত রমযান মোবারকের পবিত্র দিনে যখন জিবরাঈল আ. তাঁর সাক্ষাতে আসতেন। জিবরাঈল আ. রমযানের প্রতিরাতে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাত করে কুরআনে করীমের দাওর করতেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কল্যাণ বিতরণে প্রবাহিত বায়ূ অপেক্ষাও অধিক দানশীল ছিলেন।
হাদীস নং ৩৩০৩
ইয়াহইয়া ইবনে মূসা রহ……….আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত যে, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অত্যন্ত আনন্দিত ও প্রফুল্লচিত্তে তাঁর কাছে প্রবেশ করলেন। খুশীর আমেজে তাঁর চেহারার খুশীর চিহ্ন ঝলমল করছিল। তিনি তখন আয়েশাকে বললেন, হে আয়েশা ! তুমি শুননি, মুদলাজী ব্যক্তিটি (চেহারার ও আকৃতি গণনায় পারদর্শী) যায়েদ ও উসামা সম্পর্কে কি বলেছে? পিতা পুত্রের শুধু পা দেখে (শরীরের বাকী অংশ ঢাকা ছিল) বলল, এ পাগুলো একটা অন্যটির অংশ (অর্থাৎ তাদের সম্পর্ক পিতা-পুত্রের)।
হাদীস নং ৩৩০৪
ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ………….আবদুল্লাহ ইবনে কাব রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার পিতা কাব ইবনে মালিক রা.-কে তার তাবুক যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করার ঘটনা বর্ণনা করতে শুনেছি। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সালাম করলাম, খুশী ও আনন্দে তাঁর চেহারা মুবারক ঝলমল করে উঠল। তাঁর চেহারা এমনি-ই খুশী ও আনন্দে ঝলমল করত। মনে হত যেন চাঁদের একটি টুকরা। তাঁর চেহারা মুবারকের এ অবস্থা থেকে আমরা তা বুঝতে সক্ষম হতাম।
হাদীস নং ৩৩০৫
কাতাইবা ইবনে সাঈদ রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি মানব জাতির সর্বোত্তম যুগে আবির্ভূত হয়েছি। যুগের পর যুগ হয়ে আমি সেই যুগেই জন্মেছি যে যুগ আমার জন্য নির্ধারিত ছিল।
হাদীস নং ৩৩০৬
ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চুল পিছনের দিকে আঁচড়িয়ে রাখতেন আর মুশরিকগণ তাদের চুল দু’ভাগ করে সিঁতি কেটে রাখত। আহলে কিতাব তাদের চুল পিছনের দিকে আঁচড়িয়ে রাখত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে কোন বিষয়ে আল্লাহর আদেশ না পাওয়া পর্যন্ত আহলে কিতাবের অনুকরণকে ভালবাসতেন। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চুল দু’ভাগ করে সিঁথি কেটে রাখতে রাখতে লাগলেন।
