হাদীস নং ৩৩১৭
ইসমাঈল রহ………..আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি মসজিদে কাবা থেকে রাতে অনুষ্ঠিত ইসরা -এর ঘটনা বর্ণনা করছিলেন, যে তিন ব্যক্তি (ফেরেশতা) তাঁর নিকট হাযির হলেন মিরাজ সম্পর্কে ওহী অবতরণের পূর্বে। তখন তিনি মসজিদুল হারামে ঘুমন্ত ছিলেন। তাদের প্রথম জন বলল, তাদের (তিন জনের) কোন জন তিনি? (যেহেতু নবীজীর পাশে হামযা ও জাফর শুয়ে ছিলেন) মধ্যম জন উত্তর দিল, তিনিই (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের শ্রেষ্ঠ জন। আর শেষজন বলল, শ্রেষ্ঠজনকে নিয়ে চল। এ রাত্রে এতটুকুই হল, এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাদেরকে আর দেখেন নাই। তারপর আর এক রাতে তাঁরা আগমন করল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অন্তর তা দেখতে পাচ্ছিল। যেহেতু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চোখ ঘুমাত কিন্তু তাঁর অন্তুর সদা জাগ্রত থাকত। সকল আম্বিয়ায়ে কেরাম এর অবস্থা এরূপই ছিল যে, তাদের চোখ ঘুমাত কিন্তু অন্তর সদা জাগ্রত থাকত। তারপর জিবরাঈল আ. (ভ্রমণের) দায়িত্ব গ্রহণ করলেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নিয়ে আকাশের দিকে চড়তে লাগলেন।
হাদীস নং ৩৩১৮
আবুল ওয়ালিদ রহ…………ইমরান ইবনে হুসাইন রা. থেকে বর্ণিত যে, এক সফরে (খায়বার যুদ্ধ থেকে প্রত্যাবর্তন কালে) তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলেন। সারারাত পথ চলার পর যখন ভোর নিকটবর্তী হল,তখন বিশ্রাম গ্রহণের জন্য থেমে গেলেন এবং গভীর নিদ্রায় ঘুমিয়ে পড়লেন। অবশেষে সূর্য উদিত হয়ে অনেক উপরে উঠে গেল, (কিন্তু কেউই জাগলেন না) (ইমরান রা. বলেন) যিনি সর্বপ্রথম ঘুম থেকে জাগলেন তিনি হলেন আবু বকর রা.। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বেচ্ছায় জাগ্রত না হলে তাকে জাগানো হত না। তারপর উমর রা. জাগলেন। আবু বকর রা. তাঁর শিয়রের নিকট গিয়ে বসে উচ্চস্বরে আল্লাহু আকবার বলতে লাগলেন। অবশেষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জেগে উঠলেন এবং অন্যত্র চলে গিয়ে অবতরণ করে আমাদেরকে নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করলেন। তখন এক ব্যক্তি আমাদের সঙ্গে সালাত আদায় না করে দূরে দাঁড়িয়ে রইল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাত শেষ করলেন তখন বললেন হে অমুক, আমাদের সাথে সালাত আদায় করতে কিসে বাধা দিল? লোকটি বলল, আমি অপবিত্র হয়েছি। (গোসলে প্রয়োজন হয়েছিল) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে পাক মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করার আদেশ দিলেন, তারপর সে সালাত আদায় করল। (ইমরান রা. বলেন) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে অগ্রগামী দলের সাথে পাঠিয়ে দিলেন এবং আমরা ভীষণ তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়লাম। এমতাবস্থায় আমরা পথ চলছি। হঠাৎ এক উষ্ট্রারোহিণী মহিলা আমাদের নযরে পড়ল। সে পানি ভর্তি দুটি মষকের মধ্য খানে পা ঝুলিয়ে বসে ছিল। আমরা তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, পানি কোথায়? সে বলল, (আশেপাশে) কোথায়ও পানি নেই। আমরা বললাম, তোমার ও পানির জায়গার মধ্যে দূরত্ব কতটুকু? সে বলল, একদিন ও একরাতের দূরত্ব। আমরা তাকে বললাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিকট চল। সে বলল, রাসূলুল্লাহ কি? আমরা তাকে যেতে না দিয়ে তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খেদমতে নিয়ে গেলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খেদমতে এসেও ঐ জাতীয় কথাবার্তাই বলল যা সে আমাদের সাথে বলেছিল। তবে সে তাঁর নিকট বলল, সে কয়েকজন ইয়াতিম সন্তানের মাতা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার মশক দুটি নামিয়ে ফেলতে আদেশ করলেন। তারপর তিনি মশক দুটির মুখে হাত বুলালেন। আমরা তৃষ্ণাকাতর চল্লিশ জন মানুষ পানি পান করে পিপাসা নিবারণ করলাম। তারপর আমাদের সকল মশক, বাসনপত্র পানি ভর্তি করে নিলাম। তবে উটগুলিকে পানি পান করান হয় নাই। এত সবের পরও মহিলার মশকগুলি এত পানি ভর্তি ছিল যে তা ফেটে যাওয়ার উপক্রম হয়ে গিয়েছিল। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের নিকট (খাবার জাতীয়) যা কিছু আছে উপস্থিত কর। কিছু খেজুর ও রুটির টুকরা জমা করে তাকে দেয়া হল। এ নিয়ে মহিলা আনন্দের সাথে তার গৃহে ফিরে গেল। গৃহে গিয়ে সকলের কাছে সে বলল, আমার সাক্ষাত হয়ে ছিল, এক মহাযাদুকরের সাথে অথবা মানুষ যাকে নবী বলে ধারণা করে তার সাথে। আল্লাহ এই মহিলার মাধ্যমে ও বস্তিবাসীকে হেদায়াত দান করলেন। মহিলাটি নিজেও ইসলাম গ্রহণ করল এবং বস্তিবাসী সকলেই ইসলাম গ্রহণে ধন্য হল।
হাদীস নং ৩৩১৯
মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ……….আনাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটি একটি পানির পাত্র আনা হল, তখন তিনি (মদীনার নিকটবর্তী) যাওরা নামক স্থানে অবস্থান করছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাত মোবারক ঐ পাত্রে রেখে দিলেন আর তখনই পানি আঙ্গুলির ফাঁক দিয়ে উপচে পড়তে লাগল। ঐ পানি দিয়ে উপস্থিত সকলেই অজু করে নিলেন। কাতাদা রা. বলেন, আমি আনাস রা.-কে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনার লোক সংখ্যা কত ছিল? তিনি বললেন, আমরা তিনশ অথবা তিনশ এর কাছাকাছি ছিলাম।
