হাদীস নং ৩২৮৬
মুহাম্মদ ইবনে কাসীর রহ………..জাবির রা. সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বললেন, আমার আসল নামে অন্যের নাম রাখতে পার, কিন্তু আমার উপনাম অন্যের জন্য রেখ না।
হাদীস নং ৩২৮৭
আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ………….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবুল কাসিম (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, আমার নামে নামকরণ করতে পার, কিন্তু আমার কুনিয়্যাতে (উপনাম) তোমাদের নাম রেখ না।
হাদীস নং ৩২৮৮
ইসহাক ইবনে ইবরাহীম রহ……….জুআইদ ইবনে আবদুর রাহমান রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি সাইব ইবনে ইয়াযীদকে চুরানব্বই বছর বয়সে সুস্থ-সবল ও সুঠাম দেহের অধিকারী দেখেছি। তিনি বললেন, তুমি অবশ্যই অবগত আছ যে, আমি এখনও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দু’আর বরকতেই চক্ষু ও কর্ণ দ্বারা উপকৃত হচ্ছি। আমার খালা একদিন আমাকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরবারে গেলেন এবং বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমার ভাগিনাটি পীড়িত ও রোগাক্রান্ত। আপনি তার জন্য আল্লাহর দরবারে দু’আ করুন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার জন্য দু’আ করলেন।
হাদীস নং ৩২৮৯
মুহাম্মদ ইবনে উবাইদুল্লাহ রহ…………জুআইদ রহ. বলেন, আমি সাইব ইবনে ইয়াযীদকে বলতে শুনেছি যে, আমার খালা একদিন আমাকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরবারে গেলেন এবং বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমার ভাগিনাটি পীড়িত ও রোগাক্রান্ত। (আপনি তার জন্য আল্লাহর দরবারে দু’আ করুন) তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার মাথায় হাত বুলালেন এবং আমার জন্য বরকতের দু’আ করলেন। তিনি ওযু করলেন, তাঁর ওযুর অবশিষ্ট পানি আমি পান করলাম। এরপর আমি তাঁর পিছন দিকে গিয়ে দাঁড়ালাম তাঁর কাঁধের মধ্যবর্তী স্থানে ‘মোহরে নবুওয়্যাত’ দেখলাম যা কবুতরের ডিমের ন্যায় অথবা বাসর ঘরের পর্দার বুতামের মত। ইবনে উবাইদুল্লাহ বলেন, الحجلة অর্থ সাদা চিহ্ন, যা ঘোড়ার কপালের সাদা অংশ এর অর্থ থেকে গৃহিত। আর ইবরাহীম ইবনে হামযা বলেন, কবুতরের ডিমের মত। আবু আবদুল্লাহ বুখারী রহ. বলেন, বিশুদ্ধ হল زاء এর পূর্বে را হবে অর্থাৎ رز ।
হাদীস নং ৩২৯০
আবু আসিম রহ…………উকবা ইবনে হারিস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন আবু বকর রা. বাদ আসর এর সালাতান্তে বের হয়ে চলতে লাগলেন। (পথিমধ্যে) হাসান রা.-কে ছেলেদের সাথে খেলা করতে দেখলেন। তখন তিনি তাকে কাঁধে তুলে নিলেন এবং বললেন, আমার পিতা কুরবান হউন। এ-ত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাদৃশ্য আলীর সাদৃশ্য নয়। তখন আলী রা. হাসতে ছিলেন।
হাদীস নং ৩২৯১
আহমদ ইবনে ইউনুস রহ………..আবু জুহায়ফা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখেছি। আর হাসান (ইবনে আলী) রা. তাঁরই সাদৃশ্য।
হাদীস নং ৩২৯২
আমর ইবনে আলী রহ……….আবু জুহায়ফা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখেছি। আর হাসান ইবনে আলী তাঁরই সাদৃশ্য। (রাবী বলেন) আমি আবু জুহায়ফাকে ভিতর যৎসামান্য সাদা চুলও ছিল। তিনি তেরটি সবল উটনী আমাদিগকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন, কিন্তু আমাদের হস্তগত হওয়ার পূর্বেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওফাত হয়ে যায়।
হাদীস নং ৩২৯৩
আবদুল্লাহ ইবনে রাজা রহ………..আবু জুহায়ফা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখেছি তাঁর নীচের ঠোঁটের নিম্নভাগের দাঁড়িতে সামান্য সাদা চুল দেখেছি।
হাদীস নং ৩২৯৪
ইসাম ইবনে খালিদ রহ…………হারীয ইবনে উসমান রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনে বুসরকে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখেছেন যে, তিনি বৃদ্ধ ছিলেন? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাচ্চা দাঁড়িতে কয়েকটি চুল সাদা ছিল।
হাদীস নং ৩২৯৫
ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ……….রাবীআ ইবনে আবদুর রাহমান রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনে মালিক রা.-কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর (দৈহিক গঠন) বর্ণনা দিতে শুনেছি। তিনি বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের মধ্যে মাঝারি গড়নের ছিলেন–বেমানান লম্বাও ছিলেন না বা বেঁটেও ছিলেন না। তাঁর শরীরের রং গোলাপী ধরনের ছিল, ধবধবে সাদাও নয় কিংবা তামাটে বর্ণেও নয়। মাথার চুল কুঁকড়ানোও ছিল না আবার সম্পূর্ণ সোজাও ছিল না। চল্লিশ বছর বয়সে তাঁর উপর ওহী নাযিল হওয়া আরম্ভ হয়। প্রথম দশ বছর মক্কায় অবস্থানকালে ওহী নাযিল হতে থাকে। এরপর দশ বছর মদীনায় অতিবাহিত করেন। অতঃপর তাঁর ওফাত হয় তখন তার মাথা ও দাঁড়িতে কুড়িটি সাদা চুলও ছিল না। রাবীআ রহ. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একটি চুল দেখেছি উহা লাল রং-এর ছিল । তখন আমি জিজ্ঞাসা করলাম, বলা হল যে অধিক সুগন্ধী লাগানোর কারণে উহার রং লাল হয়েছিল।
