হাদীস নং ৩২৭৭
সুলাইমান ইবনে হারব রহ……….আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসারদের বললেন, তোমাদের মধ্যে (এই মজলিশে) অপর কেউ আছে কি? তারা বললেন, না অন্য কেউ নেই। তবে আমাদের একজন ভাগিনা আছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কোন গোষ্ঠীর ভাগ্নে সে গোষ্ঠীর অন্তর্ভূক্ত বলে গণ্য হবে।
হাদীস নং ৩২৭৮
ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ……….আয়েশা রা. বর্ণনা করেন, মিনায় অবস্থানের দিনগুলোতে আবু বকর রা. আমার গৃহে প্রবেশ করলেন। তখন তাঁর নিকট দুটি বালিকা ছিল। তারা দফ বাজিয়ে এবং নেচে নেচে গান করছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন চাদর দিয়ে মুখ ঢেকে শুয়ে ছিলেন। আবু বকর রা. এদেরকে ধমকালেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন মুখ থেকে চাদর সরিয়ে বললেন, হে আবু বকর এদেরকে গাইতে দাও। কেননা, আজ ঈদের দিন ও মিনার দিনগুলির অন্তর্ভূক্ত। আয়েশা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে আড়াল করে দাঁড়িয়ে ছিলেন আর আমি (তাঁর পিছনে থেকে) হাবশীদের খেলা উপভোগ করছিলাম। মসজিদের নিকটে তারা যুদ্ধাস্ত্র নিয়ে খেলা করছিল। এমন সময় উমর রা. এসে তাদেরকে ধমকালেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে উমর তাদেরকে বানূ আরফিদাকে নিরাপদে ছেড়ে দাও।
হাদীস নং ৩২৭৯
উসমান ইবনে আবু শায়বা রহ………..আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হাসসান রা. কবিতার ছন্দে মুশরিকদের নিন্দা করতে অনুমতি চাইলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার বংশকে কিভাবে তুমি পৃথক করবে? হাসসান রা. বললেন, আমি তাদের মধ্য থেকে এমনভাবে আপনাকে আলাদা করে নিব যেমনভাবে আটার খামির থেকে চুলকে পৃথক করে নেয়া হয়। উরওয়া রহ. বলেন, আমি হাসসান রা.-কে আয়েশা রা. এর সম্মুখে তিরস্কার করতে উদ্যত হলে, তিনি আমাকে বললেন, তাকে গালি দিও না। সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে কবিতার মাধ্যমে শত্রু দের বাক্যঘাত প্রতিহত করত। আবুল হায়ছম বলেন, نفحت الدابة (বলা হয়) যখন পশু তার ক্ষুর দ্বারা আঘাত করে আর نفحه بالسيف (বলা হয়) যখন দূর থেকে আঘাত করা হয়।
হাদীস নং ৩২৮০
ইবরাহীম ইবনে মুনযির রহ…………যুবাইর ইবনে মুতঈম রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমার পাঁচটি (প্রসিদ্ধ) নাম রয়েছে, আমি মুহাম্মদ, আমি আহমদ, আমি আল-মাহী (নিশ্চিহ্নকারী) আমার দ্বারা আল্লাহ কুফর ও শিরককে নিশ্চিহ্ন করে দিবেন। আমি আল-হাশির (সমবেতকারী কিয়ামতের ভয়াবহ দিবসে) আমার চারপাশে মানব জাতিকে একত্রিত করা হবে। আমি আল-আক্বিব (সর্বশেষ আগমনকারী আমার পর অন্য কোন নবীর আগমন হবে না)।
হাদীস নং ৩২৮১
আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আশ্চর্যান্বিত হওনা? (তোমরা কি দেখছনা) আমার প্রতি আরোপিত কুরাইশদের নিন্দা ও অভিশাপকে আল্লাহ তা’আলা কি চমৎকারভাবে দূরীভূত করেছেন? তারা আমাকে নিন্দিত মনে করে গালি দিচ্ছে, অভিশাপ করছে অথচ আমি মুহাম্মদ-চির প্রসংশিত। (কাজেই তাদের গাল-মন্দ আমার উপর পতিত হয় না)।
হাদীস নং ৩২৮২
মুহাম্মদ ইবনে সিনান রহ……….জাবির রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমার ও অন্যান্য নবীগণের অবস্থা এমন, যেন কেউ একটি ভবন নির্মাণ করল আর একটি ইটের স্থান শূন্য রেখে নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করে গৃহটিকে সুন্দর সুসজ্জিত করে নিল। জনগণ (উহার সৌন্দর্য দেখে) মুগ্ধ হল এবং তারা বলাবলি করতে লাগল, যদি একটি ইটের স্থানটুকু খালি রাখা না হত (তবে ভবনটি কতাইনা সুন্দর হত)।
হাদীস নং ৩২৮৩
কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ………..আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি এবং পূর্ববর্তী নবীগণের অবস্থা এরূপ, এক ব্যক্তি যেন একটি ভবন নির্মাণ করল; ইহাকে সুশোভিত ও সুসজ্জিত করল, কিন্তু এক কোনায় একটি ইটের জায়গা খালি রয়ে গেল। অতঃপর লোকজন ইহার চারপাশে ঘুরে বিস্ময়ের সহিত বলতে লাগল ঐ শূন্যস্থানের ইটটি লাগনো হল না কেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমিই সে ইট। আর আমিই সর্বশেষ নবী।
হাদীস নং ৩২৮৪
আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……….আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত যে, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওফাত হয় তখন তাঁর বয়স হয়েছিল তেষট্টি বছর। ইবনে শিহাব বলেন, সাঈদ ইবনে মুসায়্যাব এভাবেই আমার নিকট বর্ণনা করেছেন।
হাদীস নং ৩২৮৫
হাফস ইবনে উমর রহ………..আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন বাজারে গিয়েছিলেন। তখন এক ব্যক্তি হে আবুল কাসিম! বলে ডাক দিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেদিকে ফিরে তাকালেন। (এবং বুঝতে পারলেন, সে অন্য কাউকে ডাকছে)। তখন তিনি বললেন, তোমরা আমার আসল নাম (অন্যের জন্য) রাখতে পার, কিন্তু আমার উপনাম কারো জন্য রেখ না।
