Pulinda-Kulinda/ Mekala-Utkala (with the group Udra-Pundra-Munda), Kosala-Tosala, Anga-Vanga, Kalinga-Tilinga form the links of a long chain which extends from the eastern confines of Kashmir up to the centre of the peninsula. The Skeleton of the “ethnical system” is constituted by the hights of the central plateau; it participates in the life of all the great rivers of India except the Indus in the west and Kaveri in the south. Each of these groups forms a binary whole, each of these binary resites is united with another member of the system. In each ethnic pair the twin bears the same name, differentiated only by the initial K and T; K and P : zero and V, or M or P. This process of formation is foreign to Indo-European; it is foreign to Dravidian; it is on the contrary characteristic of the vast family of languages which are called Austro-Asiatic, and which cover in India the group of the Munda languages, often called also Kolarian.
“আর্যমঞ্জুশ্ৰীমূলকল্প” (অষ্টম শতক) নামক গ্রন্থে এই ভাষাগত বৈশিষ্ট্য সম্বন্ধে একটি মন্তব্য আছে এবং সম্ভবত প্রচলনস্থান সম্বন্ধেও একটু ইঙ্গিত আছে। তাহা এই প্রসঙ্গে উদ্ধার করা যাইতে পারে। এই গ্রন্থের কামরাঙ্গা ফলের উৎপত্তিস্থান ছিল কর্মরঙ্গাখাদ্বীপে (-যুয়ানচোয়াঙের কামলঙ্ক, চীনা গ্রন্থের লংকীয়া, লংকীয়া-সু), নাড়িকের দ্বীপে (নারিকেল দ্বীপ), বারুসকদ্বীপে (বর্তমান, বারোস), নগ্নদ্বীপ (বর্তমান, নিকোবর) বলিদ্বীপে এবং যবদ্বীপে। এইসব দ্বীপের ভাষা, ‘র’-কার-বহুল, অস্ফুট, অব্যক্ত (অস্পষ্ট বা দুর্বোধ্য?) এবং নিষ্ঠুর (কর্কশ, রূঢ়)।
কর্মরঙ্গাখাদ্বীপেযু নাড়িকের সমুদ্ভবে।
দ্বীপে বারুসকে চৈব নগ্ন বলি সমুদ্ভবে।।
যবদ্বীপে বা সত্ত্বেষু তদন্যদ্বীপসমুদ্ভবা।
বাচ রকারবহুলা তু বাচা অস্ফুটাং গতা।।
অব্যক্তা নিষ্ঠুরা চৈব সক্রোধপ্রেতযোনীষু।
যে বৈশিষ্ট্যের কথা “মঞ্জুশ্ৰীমূলকল্পে”র লেখক উল্লেখ করিয়াছিলেন, আর্যভাষার দৃষ্টিভঙ্গী হইতে অস্ট্রিক গোষ্ঠীর ভাষা সম্বন্ধে তাহা বলা কিছু অযৌক্তিক নয়। অস্ট্রিক ভাষায় ল’ ও ‘র’র বাহুল্য সত্যই লক্ষ করিবার মতো। এই অসুর ভাষাভাষী লোকদেরই ঋগ্বেদে অসুর বলিয়া অভিহিত করা হইয়াছে বলিয়া মনে করিলে অন্যায় হয় না।
“আর্যমঞ্জুশ্ৰীমূলকল্প” গ্রন্থের আর একটি সাক্ষ্য এই প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য। গ্রন্থকারের মতে বঙ্গ, সমতট, হরিকেল, গৌড় ও পুণ্ডের লোকেরা অর্থাৎ পূর্ব ও পশ্চিম, দক্ষিণ ও উত্তর বঙ্গের লোকেরা অসুর ভাষাভাষী : “অসুরানাং ভবেৎ বাচা গৌড়পুণ্ড্রোদ্ভবা সদা”। কোল-মুণ্ডা গোষ্ঠীর অন্যতম প্রধান বুলির নাম এখনও অসুর বুলি; কাজেই এই বুলিই একসময় গৌড়ে-পুণ্ডে বহুলপ্রচলিত ছিল, এ অনুমান সহজেই করা চলে। মধ্য-ভারতের পূর্বখণ্ডে যে সব লোকেরা অসুর বুলিতে কথা বলিত তাহারা আদি-অষ্ট্রেলীয় পরিবারের লোক, সে সম্বন্ধে সন্দেহ বোধ হয় নাই। গৌড়-পুণ্ডের আদিমতম স্তরেও এই আদি-অষ্ট্রেলীয়দের বিস্তৃতি ছিল, এ কথাও নরতত্ত্ববিশ্লেষণ হইতে আগেই জানা গিয়াছে। ভাষার সাক্ষ্য হইতেও তাহা অনেকটা পরিষ্কার হইল। “মঞ্জুশ্রীমূলকল্পে”র গ্রন্থকার তাহা পরিষ্কার করিয়াই বলিলেন। আসামেও যে প্রাচীনতর কালে এই অসুর-ভাষাভাষী লোকের বিস্তৃতি ছিল, তাহা অনুমানেরও একটু কারণ আছে। কামরূপের বর্মণ রাজবংশের আদিপুরুষ সকলেই অসুর বলিয়া পরিচিত; অন্তত, সপ্তম শতকের রাজারা তাঁহাদের পূর্বপুরুষদের অসুর বলিয়াই জানিতেন এবং মহিরাঙ্গ অসুর, দানবাসুর, হটকাসুর, সম্বরাসুর, রত্নাসুর, নরকাসুর প্রভৃতি পূর্বপুরুষদের বংশধর বলিয়াই নিজেদের পরিচয় দিয়াছেন। ইহারা অসুর ভাষাভাষী ছিলেন বলিয়াই কি ইহাদের নামে তাহার চিহ্ন থাকিয়া গিয়াছে।
আর-একটি প্রাচীনতর সাক্ষ্য উদ্ধৃত করিয়াই এই অস্ট্রিক আদি অষ্ট্রেলীয় প্রসঙ্গ শেষ করিব। জৈনদের “আচারাঙ্গসূত্র” গ্রন্থে উল্লেখ আছে, মহাবীর (খ্ৰীষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতক) যখন পথহীন লাঢ় (রাঢ়দেশ), বজ্জভূমি ও সুব্ভভূমিতে (মোটামুটি, দক্ষিণ-রাঢ়) প্রচারোদেশে ঘুরিয়া বেড়াইতেছিলেন, তখন এইসব দেশের অধিবাসীরা তাহাকে আক্রমণ করিয়াছিল। কতকগুলি কুকুরও সঙ্গে সঙ্গে তাঁহাকে কামড়াইতে আরম্ভ করে, কিন্তু কেহই এই কুকুরগুলিকে তাড়াইয়া দিতে অগ্রসর হয় নাই। বরং লোকেরা সেই জৈন ভিক্ষুকে আঘাত করিতে আরম্ভ করে এবং ছু ছু (খুক্খু) বলিয়া চীৎকার করিয়া তাহাকে কামড়াইবার জন্য কুকুরগুলিকে লেলাইয়া দেয়। বাঙলাদেশে এখনও লোকে কুকুর ডাকিবার সময় চু চু বা তু তু বলে। অস্ট্রিক ভাষাগোষ্ঠীতে কুকুরের প্রতিশব্দ হইতেছে ছক্ (খ্মের), ছ্যুকে (কোন্ টু), ‘ছো’ (প্রাচীন খ্মের), ‘ছো’ (আনাম, সেদাং, কাসেং), ‘অছো’ (তারেং), ‘ছু’ (সেমাং), ‘ছুও’, ‘ছু-ও’ (সাকেই)। এই তথ্য হইতে বাগচী মহাশয় মনে করেন যে, বাংলা চু চু বা তু তু মূলত অস্ট্রিক প্রতিশব্দ হইতেই গৃহীত এবং চু চু বা তু তু বলিতে কুকুরার্থক বাঙলা দেশজ শব্দ; ওটা শুধু ধ্বন্যাত্মক ডাক মাত্র নয়, চু চু বা তু তু বলিতে কুকুরই বুঝায়। এ অনুমান সত্য হইলে রাঢ়ে-সুহ্মে খ্ৰীষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে অস্ট্রিক গোষ্ঠীর ভাষা প্রচলিত ছিল, তাহাও স্বীকার করিতে হয়। আর, ছিল যে তাহার অন্য প্রমাণ, এই দুই ভূখন্ডে এখনও অস্ট্রিকভাষাভাষী পরিবারভুক্ত অনেক সাঁওতাল ও কোলদের বাস দেখিতে পাওয়া যায়।
