———————————
২২৬ P. V. Kane HD 2:19 “The number of works dealing with the origin and characteristics of the caste system in India is legion.”
২২৭ P. V. Kane op. cit. 2:19ff. দ্রষ্টব্য।
২২৮ R. Fick SONIBT 1-2. cf T. W. R. Rhys Davids BI preface.
২২৯ T. W. Rhys Davids BI and R. Fick SONIBT.
২৩০ Fick op. cit. 10.
২৩১ Ibid.
২৩২ Ibid.
২৩৩ Ibid.
২৩৪ Ibid. 4-7.
২৩৫ Ibid. 2-3.
২৩৬ কিন্তু ট্রাইব ও কাস্ট-এর মধ্যে সাদৃশ্য কোথায় এবং প্রভেদই বা কী সে-বিষয়ে আলোচনা তাঁরা তোলেন না।
২৩৭ R. V. Russel and Hirala TCCPI 2:29, 39, 80.
২৩৮ H. L. Morgan AS 86.
২৩৯ Ibid. 124ff.
২৪০ G. Thomson AA ch. 2.
২৪১ Ibid.
২৪২ H. L. Morgan AS 84-5, 73.
২৪৩ ERE 3:232.
২৪৪ অবশ্যই মহামহোপাধ্যায় পি. ভি. কানে (HD 2:24) এই পঞ্চায়েতকে জাতি-ব্যবস্থার অপরিহার্য লক্ষণ মনে করেননি; তার কারণ বোধ হয় এই যে, তিনি প্রধানতই ব্যবস্থাটির স্মৃতিশাস্ত্র-বর্ণিত রূপের প্রতিই দৃষ্টি আবদ্ধ রেখেছেন। E. Senart (Cl 66-73) পঞ্চায়েতকে জাতি-ব্যবস্থার অপরিহার্য লক্ষণ মনে করেন।
২৪৫ ERE 3:233. অন্যান্য লেখকও caste-এর আলোচনা-প্রসঙ্গে বিনা-দ্বিধায় tribe শব্দ ব্যবহার করে থাকেন।
২৪৬ R. Fick in ERE 6:353-88; P. V. Kane HD 2:479-501.
২৪৭ বিশ্বকোষ ৫:৫০০।
২৪৮ ঐ।
২৪৯ স্মৃতিশাস্ত্র-বর্ণিত জাতি-ব্যবস্থা প্রসঙ্গে রিস্-ডেভিড্স্ বা ফিক্-এর মন্তব্য স্বভাবতই স্মৃতিশাস্ত্র-বর্ণিত গোত্র-ব্যবস্থা প্রসঙ্গেও প্রযোজ্য।
২৫০ বিশ্বকোষ ৫:৫০০।
২৫১ পাণিনি ৪.১.১৬২।
২৫২ প্রভাখ্য-টীকা।
২৫৩ বিশ্বকোষ ৫:৫০৩।
২৫৪ বিশ্বকোষ ৫:৫০৩-৪। ক্ষিতিমোহন সেন-এর জাতিভেদ এবং M. Monier-Williams SED দ্রষ্টব্য।
২৫৫ যথা মাহিলীদের মধ্যে (ক্ষিতিমোহন সেন : জাতিভেদ ১০২) একটি গোত্রের নাম হস্তোয়ার—সংস্কৃত তর্জমায় আমরা তাকেই বলবো কাশ্যপ। বস্তুত, এই কাছিমের নাম থেকেই ক্লানের নামকরণ করবার দৃষ্টান্ত অ-ভারতীয় আদিবাসীদের মধ্যেও দুর্লভ নয়—H. L. Morgan AS দ্রষ্টব্য।
২৫৬ বিশ্বকোষ ৫:৫০৩-৪।
২৫৭ রাসেল প্রমুখের রচনা দ্রষ্টব্য। cf. ERE 3:233 “castes are divided not only into sub-castes or endogamous groups, within whose limits marriage must take place, but also into exogamous sections—septs, gotras or class—the members of which are regarded as so closely related that they ar not allowed to intermarry.”
২৫৮ R. Fick SONIBT ch. 12.
২৫৯ এই প্রসঙ্গে ফিক্-উদ্ধৃত দশব্রাহ্মণ-জাতক (SONIBT 217ff) বিশেষ চিত্তাকর্ষক। cf. ERE 3:231. “In most parts the dom is a scavenger and basket-maker, but in Kashmir he is a cultibatorm in Kumaon a stone-mason, in Assam a fisherman and in the Orissa states a hewer and splitter wood.”
২৬০ ERE 8:238.
২৬১ G. Thomson AA 44.
২৬২ Ibid. 45.
২৬৩ T. W. Rhys Davids BI 38f.
২৬৪ E. Senart CI cf. Ibbotson PC.
২৬৫ যদিও বিদ্বান-বিশেষ এই প্রথারই ভূয়সি প্রশংসা করছেন। যথা : S. Low VI 262-3; Abbe Dubois—see Kane HD 2:20.
২৬৬ K. Marx FRBRI.
২১. লোকন্যায়মূলক ও স্মৃতিমূলক আইন – ট্রাইব্যাল-সমাজের অসম্পূর্ণ বিলোপ
সাবেকি ভারতীয়-সমাজের দুটি প্রধান বৈশিষ্ট্য—গ্রাম-সমবায় ও জাতিভেদ-প্রথা—নিয়ে কিছুটা আলোচনা তুলতে হলো। বলাই বাহুল্য, আমাদের এই আলোচনা উভয়-সমস্যার কোনোটিরই পূর্ণাঙ্গ সমাধান হবার মতো কোনো বড়ো দাবি করে না। কেননা, দুটি সমস্যাই অত্যন্ত জটিল—এ-নিয়ে বহু গবেষণা হয়েছে এবং আরো বহু গবেষণা হওয়ার অবকাশ ও আবশ্যকতা আছে। তবুও আমাদের মূক যুক্তির দিক থেকে এই প্রসঙ্গগুলির অবতারণা করবার প্রয়োজন ছিলো। তার কারণ, যে-প্রকল্প বা হাইপোথেসিসের উপর নির্ভর করে আমরা লোকায়ত ধ্যানধারণাকে বোঝবার চেষ্টা করছি সেই প্রকল্পটির পক্ষে কিছুটা নজির না দেখালে প্রকল্পটির গুরুত্ব স্বীকৃত হবে না। আমাদের ওই প্রকল্প বা হাইপথেসিস্ হলো ট্রাইব্যাল-সমাজের অসমাপ্ত বিলোপ—এই প্রকল্পের দৃষ্টান্ত হিসাবেই আমরা গ্রাম-সমবায় ও জাতিভেদ-প্রথার উল্লেখ করেছি। কিন্তু এগুলির কথা উল্লেখ করতে গিয়ে আময়াদের আলোচনা অনেকখানিই বিক্ষিপ্ত হয়েছে। তাই এইখানে আমাদের যুক্তির মূল সূত্রটির পুনরুল্লেখ বাঞ্ছনীয় হবে।
ট্রাইব্যাল-সমাজের অসমাপ্ত বিলোপ সংক্রান্ত ওই প্রকল্পটি আমাদের কাছে লোকায়তিক ধ্যানধারণার আলোচনায় এতোখানি গুরুত্বপূর্ণ কেন মনে হয়েছে?
লোকায়ত-দর্শনের মূল সমস্যা হিসেবে আমরা শুরুতেই কয়েকটি কথার উল্লেখ করেছি।
প্রথমত, মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী দেখাচ্ছেন, লোকায়তিক বলতে শুধুমাত্র প্রাচীনকালের কোনো একটি নির্দিষ্ট মতবাদকেই সনাক্ত করবার চেষ্টাটা ভুল হবে। কেননা, এমন কি আজকের দিনেও লোকায়তিক ধ্যানধারণা আমাদের দেশ থেকে সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত হয়নি, মরে যায়নি। লিখিত পুঁথিপত্রগুলিতে লোকায়তিকদের বিদ্রুপ করবার উৎসাহে তাঁদের বিপক্ষেরা যে-সব টুকরো-টাকরা খবর লিপিবদ্ধ করে গিয়েছেন লোকায়তিক চেতনাকে বোঝবার আশায় সেইগুলিকেই একমাত্র সম্বল মনে না করে আমরা যদি দেশের বাস্তব পরিস্থিতির দিকে চেয়ে দেখতে রাজি হয়,—যদি বিশেষ করে আমরা লক্ষ্য করি দেশের পিছিয়ে-পড়া অঞ্চল ও সমাজের নিচুস্তরের মানুষগুলির দিকে,—তাহলে আমরা স্পষ্টই দেখতে পাবো যে বৈষ্ণব, সহজিয়া প্রভৃতি বিবিধ নামের আড়ালে ওই লোকায়তিক ধ্যানধারণাগুলি আজো আমাদের দেশে সত্যিই বেঁচে রয়েছে।
দ্বিতীয়ত, মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীই আমাদের দেখালেন, লোকায়ত বলতে সংকীর্ণ অর্থে শুধুমাত্র মাধবাচার্য বর্ণিত অনুমান-বিরোধী বস্তুবাদী সম্প্রদায়টির কথা বুঝলে চলবে না। লোকায়ত-কে বুঝতে হবে অনেক ব্যাপক অর্থে। কেননা, এই লোকায়তিক চেতনারই আর একটি মৌলিক দিক হলো বামাচার বা কামাচার। পুরোনো পুঁথিপত্রেই এ-কথার নজির পাওয়া যায়; সহজিয়া প্রভৃতি নামান্তরের আড়ালে ওই লোকায়তিক চেতনাই আজো আমাদের দেশে যে-ভাবে টিকে রয়েছে তাকে পরীক্ষা করলেও একই বিষয়ের দিকে দৃষ্টি পড়ে। অবশ্যই, আধুনিক রুচিত দিক থেকে এই বামাচার সম্বন্ধে—এবং ব্যাপক অর্থে তান্ত্রিক ধ্যানধারণাগুলি সম্বন্ধে—আমাদের মনে স্বভাবতই তীব্র ঘৃণা ও বিদ্বেষের ভাব জাগে; এগুলিকে বীভৎস কামবিকার ছাড়া আর কিছুই মনে হয় না। বস্তুত, তান্ত্রিক সাহিত্যের লিখিত পুঁথিপত্রগুলির মধ্যে বামাচারের যে-পরিচয় পাওয়া যায় সেগুলি বিকৃত মনোভাবের অত্যন্ত প্রকট নিদর্শন। কিন্তু লোকায়তিক মতবাদকে ঠিকমতো বুঝতে হলে যেহেতু ওই বামাচারের কথা আলোচনা না-করলেই নয় সেইহেতু আমরা সে-বিষয়েও অনুসন্ধান শুরু করতে বাধ্য হয়েছিলাম। এবং এই অনুসন্ধান আমাদের সামনে একটি বিস্ময়কর ঘটনা প্রকাশ করলো : উত্তরকালে বৈদিক ঐতিহ্য ও বামাচারী ঐতিহ্যের মধ্যে বিরোধ যতো প্রকটই হোক না কেন, ওই বৈদিক সাহিত্যের মধ্যেই এমন অনেক স্মারক টিকে রয়েছে যা বামাচারের নিদর্শন ছাড়া আর কিছুই নয়। তাই এমন কথা সন্দেহ করা অস্বাভাবিক হয়নি যে, উত্তরকালে বামাচারী চেতনা আমাদের রুচির কাছে যতোই অর্থহীন ও বীভৎস মনে হোক না কেন, এমনটা হওয়া অসম্ভব নয় যে, মানব-অগ্রগতির কোনো এক প্রাকৃত পর্যায়ের পটভূমিতে এ-জাতীয় চেতনা স্বাভাবিকভাবেই স্ফূর্ত হয়েছিলো—বৈদিক ঐতিহ্যের বাহকেরা সেই পর্যায়কে পেরিয়ে এসেছিলেন এবং অতএব এই বামাচারকে ঘৃণা করতে শিখেছিলেন; কিন্তু যে-কোনো কারণেই হোক না কেন দেশের পিছিয়ে-পড়ে থাকা মানুষগুলি আটকে থেকেছিলো সেই পর্যায়েরই কাছাকাছি। অর্থাত, উত্তরযুগে বৈদিক ঐতিহ্যের বাহকরা যে-ধ্যানধারণগুলিকে অমন ঘৃণার চোখে দেখতে চেয়েছিলেন সেগুলিকেই এককালে তাঁদের পূর্বপুরুষেরা, অর্থাত বৈদিক ঐতিহ্যের প্রবর্তকেরা, মনে করেছিলেন সত্যগর্ভ ও জ্ঞানগর্ভ।
ফলে, লোকায়তিক ধ্যানধারণার আলোচনা-প্রসঙ্গেই আমরা মানুষের অগ্রগতি-পথের ওই প্রাকৃত পর্যায়টির কথা অনুসন্ধান করতে বাধ্য হলাম। প্রশ্ন উঠলো, ওই পর্যায়টির সংবাদ কেমন করে পাওয়া সম্ভব?
