The term ‘gana’ signified the form of Government. Samgha on the other hand signified the State.
অর্থাৎ, গণ বলতে বুঝিয়েছিলো সরকারের রূপ; অপরপক্ষে সঙ্ঘ বলতে বুঝিয়েছিলো রাষ্ট্র।
এবং, সঙ্ঘ বা গণ বলতে ট্রাইব বোঝবার বিরুদ্ধে তিনি যুক্তি দিচ্ছেন(১২২) :
Panini, we have seen, equates ‘Gana’ with ‘Samgha’. No one would say that the word ‘samgha’ can in any way be connected with tribe there. Again, new ‘ganas’ were founded. Would that mean that ‘new’ tribe were founded? Such a meaning would hardly deserve consideration.
অর্থাৎ, আমরা দেখেছি, পাণিনি গণ এবং সঙ্ঘকে এক করেছেন। সেখানে সঙ্ঘ যে ট্রাইব-এর সঙ্গে কোনোভাবে সংযুক্ত, এ-কথা কেউই বলবেন না। তাছাড়া নতুন গণ প্রতিষ্ঠিত হতো। তার মানে কি এই হবে যে, নতুন ট্রাইব প্রতিষ্ঠিত হতো? এ-ধরনের মতবাদ আলোচনার যোগ্যই নয়।
কিন্তু কেন? বরং রাষ্ট্রের বেলায় শাসক-শাসিতের মধ্যে প্রভেদ আছে বলেই এবং গণ বা সঙ্ঘ একান্তভাবে সমুহার্থক বলেই, গণ বলতে রাষ্ট্র মনে করা কষ্টকল্পনার পরিচায়ক। অপরপক্ষে, নতুন গণ প্রতিষ্ঠিত হবার কথা এতোটুকুও অসম্ভব নয়(১২৩)। বস্তুত, গণ প্রসঙ্গে অধ্যাপক জয়সওয়ালই আরো যে-সব তথ্য সংগ্রহ করেছেন তা থেকে গণকে ট্রাইব মনে করাই খুব স্বাভাবিক হয়। যেমন, বৌদ্ধ-পুঁথি(১২৪) থেকে তিনি গণ-বন্ধন বলে শব্দ তুলছেন, জৈন-পুঁথি(১২৫) থেকে সচিত-সমূহ বলে আর একটি কথা তুলছেন। প্রথম শব্দটির অর্থ ‘group-bond’ এবং দ্বিতীয়টির অর্থ ‘group-consciousness’ হওয়াই সবচেয়ে স্বাভাবিক। এবং রাষ্ট্র-ব্যবস্থার বর্ণনায় এ-জাতীয় বিশেষণ প্রাসঙ্গিক না হওয়াই সম্ভবপর।
প্রাচীন ব্যাকরণ-সাহিত্যেই এই জাতীয় মানবগোষ্ঠীর যে-সব নাম পাওয়া যায় তা থেকেও ট্রাইব অর্থই অনুমান করা স্বাভাবিক মনে হয়। কয়েকটি নামের নমুনে(১২৬) : লৌহিত-ধ্বজাঃ, লৌহধ্বজাঃ, কৌঞ্জায়ন্যঃ, ব্রাধ্নায়ন্যঃ, কৌণ্ডীবৃষঃ, বার্কেণ্য, ঔলপয়ঃ (ভোঁদড় থেকে), ক্রোষ্টুকীয়ঃ (শিয়াল থেকে), শিবি, ইত্যাদি।
এই নামগুলির উৎসে টোটেম-বিশ্বাস অনুমান করা কষ্টকর নয় এবং তার তাৎপর্য আর যাই হোক রাষ্ট্র হতে পারে না। অবশ্যই, তর্ক করে বলা যেতে পারে, রাষ্ট্র-ব্যবস্থা গড়ে ওঠবার পরও টোটেমিক নাম টিকে থাকা সম্ভব। কিন্তু সুখের বিষয়, ব্যাকরণ-সাহিত্যে উল্লেখিত এই নামগুলির বেলায় সে-তর্কের অবকাশ সত্যিই নেই। কেননা, প্রাচীন সাহিত্যে শুধু এই নামগুলিই টিকে নেই,–ওই নামের মানবগোষ্ঠীর বর্ণনাও পাওয়া যায়। এবং সে-বর্ণনার মধ্যে প্রাগ-রাষ্ট্র ট্রাইব-সমাজের ছবিই স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।
এই বর্ণনা পাবার জন্যে ব্যাকরণ-সাহিত্য থেকে মহাভারতের দিকে এগোনো দরকার।
—————————-
১০৬. P. V. Kane HD 2:66.
১০৭. Ibid 2:67.
১০৮. পাণিনি ৫.২.২১ ও ৫.২.৫২।
১০৯. P. V. Kane op. cit. 2:67.
১১০. প্রভাখ্যটীকা ৩০৭।
১১১. A. A. Macdonnel SED—‘Gana’.
১১২. H. H. Wilson SED—‘Gana’
১১৩. M. Monier-Williams SED 343.
১১৪. J. F. Fleet in JRAS-1915, 138.
১১৫. Ibid.
১১৬. cf. G. Thomson SAGS 97.
১১৭. JRAS 1914:413-4, 745-7; 1915:138-40, 533-5, 802-4.
১১৮. K. P. Jayaswal HP 1:29 cf. F. W. Thomas JRAS-1915, 534. R. G. Bhandarkar in IA-1912, 161 cf. J. F. Fleet JRAS 1914 : 745f. cf. R. G. Bhandarkar VS 104.
১১৯. K. P. Jayaswal HP 1:27-8.
১২০. Ibid 1:28.
১২১. Ibid 1:28.
১২২. Ibid 1:29.
১২৩. H. L. Morgan AS 105.
১২৪. Jataka 1:422 cf. K. P. Jayaswal op. cit. 1:30.
১২৫. K. P. Jayaswal op. cit. 1:31-2.
১২৬. Ibid 1:35.
১২. গণ মানে কী? মহাভারতের বর্ণনা
একরকম সঙ্ঘের বিশেষণ হিসেবে পাণিনি ‘আয়ুধজীবী’ শব্দ ব্যবহার করছেন। এ-শব্দের তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা একটু পরেই তোলা যাবে। এই প্রসঙ্গেই পাণিনি(১২৭) খবর দিচ্ছেন যে, উক্ত সঙ্ঘগুলি বাহীক দেশস্থিত। এই বাহীক দেশস্থিত সঙ্ঘের বর্ণনা মহাভারতে বিস্তারিতভাবেই পাওয়া যায়। মহাভারতের বর্ণনায় এই মানুষগুলি সম্বন্ধে যে তীব্র ঘৃণার মনোভাব ফুটে উঠেছে তার কারণ নিয়ে আলোচনা অবশ্যই স্বতন্ত্র। আপাতত আমাদের প্রশ্ন হলো, এই বর্ণনার মধ্যে সাধারণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ছবি পাওয়া যায় না, আদিম সমাজের কোনো এক পর্যায়ের ছবি পাওয়া যায়? কালিপ্রসন্ন সিংহের(১২৮) তর্জমা থেকে এই বর্ণনা উদ্ধৃত করা যাক। কর্ণ বলছেন,
হে মদ্ররাজ! আমি ধৃতরাষ্ট্র সমীপে ব্রাহ্মণ মুখে যাহা শ্রবণ করিয়াছি, তুমি অবহিত হইয়া তাহা শ্রবণ কর। ব্রাহ্মণগণ ধৃতরাষ্ট্রমন্দিরে বিবিধ বিচিত্র দেশ ও পূর্বতন ভূপতিগণের বৃত্তান্ত কহিতেন। তথায় একদা এক বৃদ্ধ ব্রাহ্মণ বাহীক ও মদ্রদেশোদ্ভব ব্যক্তিদিগকে নিন্দা করত কহিতে লাগিলেন, হে রাজন্! যাহারা হিমালয়, গঙ্গ, সরস্বতী, যমুনা ও কুরুক্ষেত্রের বহির্ভাগে এবং যাহারা সিন্ধুনদী ও তাহার পাঁচ শাখা হইতে দূর প্রদেশে অবস্থিত, সেই সমস্ত ধর্মবর্জিত অশুচি বাহীকগণকে পরিত্যাগ করা কর্তব্য।…আমি নিতান্ত নিগূড় কার্যানুরোধ বশতঃ বাহীকগণের সহিত বাস করিয়াছিলাম। তন্নিবন্ধন তাহাদের ব্যবহার বিদিত হইয়াছে।…তথায় আচারভ্রষ্ট ব্যক্তিরা গৌড়ীসুরা পান এবং লণ্ডনের সহিত ভৃষ্ট যব, অপুপ ও গোমাংস ভোজন করিয়া থাকে। কামিনীগণ মত্ত, বিবস্ত্র ও মাল্যচন্দন রহিত হইয়া নগরের গৃহ-প্রাচীর সমীপে নৃত্য এবং গর্দভ ও উষ্ট্রের ন্যায় চিৎকার করিয়া অশ্লীল সঙ্গীত করিয়া থাকে। তাহারা স্বপরপুরুষ বিবেক-বিহীন হইয়া স্বেচ্ছাক্রমে বিহার করত উচ্চৈস্বরে পুরুষগণের প্রতি আহ্লাদজনক বাক্য প্রয়োগ করে। একদা একজন বাহীক কুরুজাঙ্গলে অবস্থান পূর্বক অপ্রফুল্ল মনে করিয়াছিল, আহা! সেই সূক্ষ্মকম্বলবাসিনী গৌরী আমাকে স্মরণ করিয়া শয়ন করতেছে। হায়! আমি কতদিনে রম্যা, শতদ্রু ও ইরাবতী উর্ত্তীর্ণ হইয়া স্বদেশে গমনপূর্বক সেই কম্বলাজীর্ণসংবীত স্থূল ললাটাস্থিসম্পন্ন গৌরীগণের মনঃশিলার ন্যায় উজ্জ্বল অপাঙ্গদেশ, ললাট, কপাল ও চিকুরে অঞ্জনচিহ্ন এবং গর্দভ, উষ্ট্র ও অশ্বতরের শব্দতুল্য মৃদঙ্গ, আনক, শঙ্খ ও মর্দলের নিস্বন সহকারে কেলিপ্রসঙ্গ অবলোকন করিব। হায়! কত দিনে শমী, পীলু ও করবীরের অরণ্যে চক্রসমবেত অপুপ ও শক্তুপিণ্ড ভোজন করত সুখী হইব…
Page 72 of 238
