অবশ্যই যজুর্বেদ এবং ব্রাহ্মণগ্রন্থগুলিতে যে-ভাবে যজ্ঞকে জটিল ও পল্লবিত অবস্থায় দেখতে পাই আফ্রিকার ট্রাইবদের যজ্ঞ নিশ্চয়ই সে-রূপ ধারণ করেনি। কিন্তু ঋগ্বেদেও যজ্ঞের এ-জাতীয় জটিল পরিণতি দেখা যায় না—যদিও উত্তরকালে বৈদিক যজ্ঞ ওই রকম জটিল অনুষ্ঠানে পরিণত হবার পর তার মধ্যে ঋগ্বেদের মন্ত্রগুলিরই বিনিয়োগ-ব্যবস্থা হয়েছিলো।
বৈদিক আর্যদের কাছে স্বর্গের এক দেবতার নাম বরুণ এবং অধ্যাপক রথ(১২) অনুমান করছেন, আদিপর্বে এই বরুণই ছিলেন বৈদিক দেবলোকের মধ্যে প্রধান; কালক্রমে তাঁর গৌরব ইন্দ্রের গৌরবের নিচে চাপা পড়েছিলো। আফ্রিকার দিনকরা তাদের এই বরুণেরই নাম দেয় দেনগ্ডিৎ (Dengdit)।
They worship a high god, Dengdit, lit. ‘Great Rain’, sometimes called Nyalich and a host of ancestral spirits called yok. The Nyalich is the locative of a word meaning ‘above’, and, literally translated, signifies in the above’.(১৩)
এবং নিকদের বিশ্বাস অনুসারে তিনিই দ্যাবা-পৃথিবীকে পরস্পর থেকে পৃথক ও বিচ্ছিন্ন করেছিলেন। ঋগ্বেদে বরুণ সম্বন্ধেও ঠিক সেই কথা।
দ্যাবাপৃথিবী বরুণস্ত ধর্মণ বিষ্কভিতে অজরে ভূরিরেতলা।
অর্থাৎ,
ত,দ্যৌ ও পৃথিবী বরুণের ধর্মদ্বারা এবং প্রভূত বলের দ্বারা চিরকাল পৃথক হইয়া আছে॥ ঋগ্বেদ : ৬.৭০.১ ॥
বীর ত্বস্য মহিনা জনূংষি বি যস্তস্তম্ভ রোদসী চিদুর্বী।
অর্থাৎ,
—ইহার (বরুণের) জন্ম মহান এবং ধীর, ইনি পৃথিবী ও স্বৰ্গকে নিজ নিজ স্থানে স্থাপিত করিয়াছিলেন। ঋগ্বেদ : ৭.।৮৬.১ ॥
য: স্কম্ভেন বি রোদসী আজো ন দ্যামধারয়ৎ।
অর্থাৎ, —যিনি (বরুণ), অন্তরীক্ষে যেমন আদিত্য দ্যৌকে ধারণ করেন, সেইরূপ দ্যৌ ও পৃথিবীকে পৃথকরূপে ধারণ করিয়াছিলেন। ঋগ্বেদ : ৮.৪১.১০ ॥
এইখানে বলে রাখা যায় যে, বৈদিক দেবতাদেরও কিন্তু আফ্রিকার ট্রাইবদের দেবতাদের মতোই আধুনিক আধ্যাত্মিক অর্থে পরিপূর্ণ দেবত্বপ্রাপ্তি হয়নি। দিন্কদের বরুণদেব দেনগ্ডিং সম্বন্ধে বলা হয়েছে,
among the Niel Dinkas he appears as a less remote being who at one time ruled his tribe in human guise.(১৫)
ঋগ্বেদেও দেখি ইন্দ্রের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে,
এভির্নৃভির্নৃতমো অস্য শাকৈ রায়ো বিভক্তা সংভরশ্চ বস্বঃ॥
অর্থাৎ, —সামর্থ্যের সহিত যিনি (ইন্দ্র) এই নরদিগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ নর, তিনি ধনের বিভাগকর্তা এবং ধনের পরিবর্ধক। ঋগ্বেদ : ৪.১৭.১১ ৷
ঋগ্বেদে (৬.৩৬.১) ইন্দ্রকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে, “তুমি প্রকৃতই অন্ন”। এর সঙ্গে নবাভিষিক্ত রাজার প্রতি নাইজেরিয়ার জুকুনদের দৃষ্টিভঙ্গি তুলনা করা যায় : they bow down before him and cry : “Our rains, our crops, our health, our wealth.” “(১৬)
বরুণের সঙ্গে বৈদিক মানুষদের সম্পর্কট যে সখার মতোই সে-বিষয়ে অধ্যাপক ম্যাক্ডোন্যাল(১৭) ইতিপূর্বেই আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন,
Varuna is on a footing of friendship with his worshipper, who communes with him in his celestial abode and sometimes sees him with the mental eye.
এখানে ওই worshipper শব্দ কতোখানি প্রাসঙ্গিক সে-প্রশ্ন অবশ্যই অবাস্তর নয়, কেননা, অনেক সময় বৈদিক দেবতারা যেন মানুষদেরই একজন। অগ্নিকে বলা হচ্ছে “নৃবৎসখা সভাবান” (ঋগ্বেদ : ৪.২.৫)—অর্থাৎ, মানুষদের মতোই আমাদের সখা এবং সভায় স্থিত। অতএব, ঋগ্বেদে শুধুমাত্র বরুণের সঙ্গেই বৈদিক মানুষদের এ-রকম সখার সম্বন্ধ নয়। অর্যমা সম্বন্ধে অধ্যাপক ম্যাক্ডোন্যাল(১৮) বলছেন, “In less than a dozen passages the word has only the appellative senses of ‘comrade’ and ‘groomsman’ এবং অর্যময় কথার অর্থ হলো relating to a comrade. ইন্দ্র ও অগ্নির প্রতিও একই সখাভাব ব্যক্ত হতে দেখা যায়।
ইন্দ্রকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে,
যোগেযোগে তবস্তরং বাজেবাজে হবামহে সখায় ইন্দ্ৰমূৰ্তয়ে॥
অর্থাৎ, —প্রত্যেক কর্মের প্রারম্ভে ইন্দ্রের মূৰ্তিযুক্ত সখাকে আমরা আহ্বান করি, প্রত্যেক যজ্ঞে॥ ঋগ্বেদ : ১.৩০.৭॥
অগ্নির উদ্দেশে বলা হয়েছে,
আ হি ষ্মা সুনবে পিতাপির্যজত্যাপয়ে সখা সখ্যে বরেণ্যঃ ॥
অর্থাৎ —হে (অগ্নি) তুমি শ্রেষ্ঠ; পিতা পুত্রের প্রতি, বন্ধু বন্ধুর প্রতি এবং সখা সখার প্রতি যেরূপ আচরণ করে, তুমি আমাদিগের প্রতি সেইরূপ অভীষ্ট দান কর। ঋগ্বেদ : ১.২৬.৩॥
কিন্তু আফ্রিকার দিন্করা কি বৈদিক মানুষদের মতো এরকম কবিতা রচনা করে? করে। তাদের রচনা প্রসঙ্গে অধ্যাপক সেলিগ্মানের(১৯) মন্তব্য অত্যন্ত মূল্যবান, বৈদিক সাহিত্যের—বিশেষত ঋগ্বেদের–উপর তা আলোকপাত করতে পারে :
The Southern Dinka (to whom the following specially refers) do not appear to use set forms of prayer, but seem to ask in ordinary simple sentences that their immediate want may be granted. They also have a number of hymns which are sung when an ox is slaughtered to avert drought or sickness; but as Mr. Shaw informed the writer, men sang them when doing light work, and lately during a severe thunderstorm every one joined in lustily to appease the elements. They also burst into one of those songs when bidding farewell to the Sirder who visited them recently. The following songs collected and translated by Mr. Shaw were composed by the tiet Wal of Bang village, who asserts that his spirit is Deng, that is Dengdit….
