———————
৬৬৩. S. Dasgupta op. cit. 108, 165,220,226, 262-3 ইত্যাদি।
৬৬৪. পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায় : রচনাবলী ২:২৮৭ ৷
৬৬৫. ঐ ২:২৮৮।
৬৬৬. ঐ।
৬৬৭. ঐ ২:২৮৭।
৬৬৮. ঐ ২:২৮৮।
৬৬৯. ঐ ২:২৮৪-৫।
৬৭০. S. Dasgupta op. cit. 103-7.
৬৭১. মণীন্দ্রমোহন বসু : সহজিয়া সাহিত্য, ভূমিকা ॥y০ ।
৬৭২. ঐ ভূমিকা ॥০ ।
৬৭৩. M. Bose PCSCB 44.
৬৭৪. Ibid. 45. ‘
৬৭৫. মণীন্দ্রমোহন বসু : সহজিয়া সাহিত্য, ভূমিকা /• ।
৬৭৬. পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায় : রচনাবলী ২:২৯২ ।
৬৭৭. ঐ ২:৩০১।
৬৭৮. ঐ ২:২৯৪-৫।
৬৭৯. ঐ ২:৩০৫-৬।
৬৮০. ঐ ২:২৮৫-৬।
৬৮১. B. N. Seal PSAH 218.
৬৮২. অধ্যাপক জর্জ টমসনের সাম্প্রতিক রচনা এর ব্যতিক্রম FP ch. 1.
৬৮৩. শ্ৰীযুক্ত পাঁচকড়ি বন্ধ্যোপাধ্যায়ের রচনাই এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। রচনাবলী ২:২৫৫-৬ ইত্যাদি।
৬৮৪. B. N. Seal op, cit. 218ff.
৬৮৫. প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষ , প্রাচীন ভারতীয় সভ্যতার ইতিহাস ১০৭ ।
৬৮৬. ERE 4:140.
৬৮৭. Ibid.
৬৮৮. M. M. Bose PCSCB 45.
৬৮৯. ERE 4:140.
৬৯০. Ibid. 4:175.
৬৯১. Ibid. 4:126.
৬৯২. G. Thomson FP 90-1.
৬৯৩. Ibid. 154.
৪১. সাংখ্য-দর্শনের উৎস
অধ্যাপক জর্জ টমসনের উপরোদ্ধৃত বর্ণনা অত্যন্ত সহজেই আমাদের সাংখ্যদর্শনের কথা মনে করিয়ে দেয় না কি? সাংখ্য-কারিকার ভাষ্যে গৌড়পাদ(৬৯৪) বলছেন,
যথা স্বা-পুরুষসংযোগাং স্থতোংপত্তিস্তথা প্রধান-পুরুষসংযোগাৎসর্গস্তোংপত্তি।
—অর্থাৎ, যথা স্ত্রী ও পুরুষের সংযোগে সন্তানোৎপত্তি হয় সেইরূপ প্রধান-পুরুষের সংযোগে সৃষ্টির উৎপত্তি হয়।
অতএব, এইভাবে তন্ত্রের সৃষ্টিতত্ত্ব-প্রসঙ্গে অগ্রসর হয়ে আমরা স্বভাবতই সাংখ্য-দর্শনের সমস্যার সম্মুখীন হই। সাংখ্য-দর্শন এলো কোথা থেকে? সাংখ্য-দর্শনের উৎপত্তি কী?
সাংখ্যের উৎপত্তি-প্রসঙ্গে আধুনিক বিদ্বানেরা অনেক গবেষণা করেছেন এবং আমরা এ-বিষয়ে তাদের কাছ থেকে অনেক মূল্যবান তথ্য পেয়েছি। তাদের সিদ্ধান্তাদির আলোচনায় আমরা একটু পরেই প্রত্যাবর্তন করবে এবং আমরা দেখাবার চেষ্টা করবো, তাদের এই গবেষণা সত্ত্বেও সাংখ্যের উৎপত্তি-সংক্রান্ত সমস্যা আজো অনেকাংশেই অমীমাংসিত হয়ে রয়েছে। তার প্রধান কারণ, সাংখ্যের আলোচনায় আধুনিক গবেষকেরা তন্ত্রের সঙ্গে সাংখ্যের সম্পর্কের ইংগিতগুলিকে—এবং মৌলিক তত্ত্বের দিক থেকে তন্ত্রের সঙ্গে সাংখ্যের গভীর সাদৃশ্যকেও—প্রায় সম্পূর্ণভাবেই উপেক্ষা করে থাকেন। অথচ, এই উপেক্ষা বস্তুনিষ্ঠার পরিচায়ক নয়। আমরা দেখাবার চেষ্টা করবো, আধুনিক গবেষকেরা যদি সাংখ্যের সঙ্গে তন্ত্রের এই সম্পর্ক ও মৌলিক সাদৃশ্যের দিককে উপেক্ষা না করতেন, তাহলে সাংখ্যের উৎস-সংক্রান্ত সমস্যা আজ আর এ-ভাবে অমীমাংসিত থাকতো না—যে-মাতৃপ্রধান চেতনার মধ্যে তন্ত্রের উৎস খুঁজে পাওয়া যায় তার মধ্যেই সাংখ্যের উৎপত্তিও আবিষ্কার করা অসম্ভব নয়।
প্রথমত, আমরা এ-বিষয়ে কয়েকটি ঐতিহাসিক ইংগিতের উল্লেখ করবে। তারপর, তন্ত্র এবং সাংখ্যের মধ্যে মৌলিক তত্ত্বগত সাদৃশ্যের আলোচনা তোলা যাবে। এবং তারপর আমরা সাংখ্যের উৎস-প্রসঙ্গে আধুনিক গবেষকদের বিভিন্ন মতামতের পর্যালোচনার চেষ্টা করবো।
তন্ত্র-সাহিত্যের বর্ণনায় আধুনিক বিদ্বান লিখছেন :
বারাহতন্ত্রে লিখিত আছে—এতদ্ভিন্ন বৌদ্ধ ও কপিলোক্ত অনেক উপতন্ত্র আছে। জৈমিনি, বশিষ্ঠ, কপিল, নারদ, গর্গ, পুলস্ত, ভার্গব, সিদ্ধ যাজ্ঞবল্ক্য, ভৃগু, শুক্র, বৃহস্পতি প্রভৃতি মুনিগণ অনেক উপতন্ত্র রচনা করিয়াছেন। তাহাদের আর সংখ্যা করা যায় না(৬৯৫)।
উপতন্ত্র-রচক এই কপিল ঠিক কে—সে-প্রশ্নের উত্তর আমরা নিশ্চয়ই জানি না। বারাহতন্ত্রে লিখিত ওই কপিলোক্ত উপতন্ত্রই যে সাংখ্য-দর্শন,—এমনতরো কথা অনুমান করবার পক্ষে নিশ্চয়ই কোনো জোরালে যুক্তি নেই। কিন্তু এখানে কয়েকটি চিত্তাকর্ষক ইংগিতকে অগ্রাহ্য করাও যুক্তিযুক্ত হবে না। যেমন, আমরা ইতিপূর্বে বিস্তৃতভাবে আলোচনা করে দেখেছি যে, তান্ত্রিক ধ্যানধারণার প্রধানতম ক্ষেত্র বলতে বিশেষ করে বাংলা দেশই; এবং মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী(৬৯৬) সিদ্ধান্ত করছেন,
সাংখ্যমত কপিলের মত, চিরকাল প্রবাদ। কপিলের বাড়ি পুর্বাঞ্চলে, অর্থাৎ বঙ্গবগধচেরদিগের দেশে। গঙ্গাসাগর যাইতে কপিলাশ্রম আছে, কবতক্ষের ধারে কপিল মুনির গ্রাম। কপিলবাস্তুও কপিল মুনির বাস্তু। কারণ অশ্বঘোষ বলিতেছেন, গোতমঃ কপিলো নাম মুনিধর্মভূতাং বরং। তাহারই বাস্তুতে কপিলবাস্তু নগর। বাস্তবিকও কপিলকে কেহ ঋষি বলে না। তাঁহার নাম করিতে গেলেই বলে আদিবিদ্বান। বাল্মীকী যেমন আদিকবি, তিনিও তেমনি আদিবিদ্বান। শ্বেতাশ্বতরে তাহাকে “পরমর্ষি” বলা হইয়াছে, কিন্তু ভাব, ভাষা ও মত দেখিলে এখানিকে নিতান্ত অল্পদিনের পুস্তক বলিয়া বোধ হয়। …সাংখ্য ও যোগের যে সকল পুস্তক আছে সবগুলিই নূতন। …কিন্তু অশ্বঘোষের লেখা ও কৌটিল্যের উক্তি দেখিয়া সাংখ্য যে খুব প্রাচীন তাহা বেশ অনুভব হয়। সংহিতায় ও ব্রাহ্মণে আদিবিদ্বান কপিলের নামও নাই, গন্ধও নাই।…উপরের লেখা হইতে তিনটি কথা বুঝা যায় যে, সাংখ্যমত সকলের চেয়ে পুরাণ, উহা মানুষের করা এবং পুর্বদেশের মানুষের করা। উহা বৈদিক আৰ্য্যদের মত নহে, বঙ্গবগধ ও চেরজাতির কোন আদিবিদ্বানের মত।
