They (Sahajias) believe that deha or the material human boày is all that should be cared for and their religious practices are connected with the union of men and women.
তাহলে ওই সম্প্রদায়গুলির সঙ্গে লোকায়তিকদের সাদৃশ শুধু এইটুকুই নয় যে, বেদপন্থীরা উভয় সম্প্রদায়কেই ঘৃণার চোখে দেখেছেন। ডক্টর দক্ষিণারঞ্জন শাস্ত্রীকেও স্বীকার করতে হচ্ছে যে, মৌলিক তত্ত্বের দিক থেকেও লোকায়তিকদের সঙ্গে কাপালিক, সহজিয়া প্রভৃতি সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য রয়েছে।
আমাদের যুক্তি অনুসারে কৃষিকেন্দ্রিক জাদু-অনুষ্ঠানের মধ্যেই এ-জাতীয় ধ্যানধারণার উৎস। কিন্তু কৃষিবিদ্যার প্রাথমিক পর্যায় পার হয়ে উত্তর পর্যায়ে পৌঁছবার পরও ওই প্রাথমিক পর্যায়ের ধ্যানধারণার স্মারক উত্তরকালের ধর্মবিশ্বাস ও আচরণের মধ্যে টিকে থাকতে পারে। এবং এই কারণেই আমাদের দেশের শুধু তান্ত্রিক সাহিত্যেই নয়, মন্দির-ভাস্কর্য ইত্যাদির ক্ষেত্রেও বামাচার বা কামাচারের অজস্র স্মারক চোখে পড়ে। কিন্তু ডক্টর দক্ষিণারঞ্জন শাস্ত্রী কৃষিকেন্দ্রিক জাদু-অনুষ্ঠানের দিক থেকে এ-জাতীয় ধ্যানধারণার আদি-তাৎপর্য অনুসন্ধান করেননি। ফলে, উত্তরযুগে বামাচারী চেতনার ব্যাপক প্রভাব ব্যাখ্যা করবার আশায় তিনি আরো একটি কৃত্রিম প্রকল্প উপস্থাপিত করছেন : লোকায়তর প্রভাবে ভারতীয় ইতিহাসের একটা যুগে ভোগবাহুল্যের প্রবাহে দেশ প্রায় ভেসে গিয়েছিলো(৬১৬) :
The Lokayatikas were a creed of joy, all sunny. Through their influence, at that period of Indian history, the temple and the court, poetry and art, delighted in sensuousness. Eroticism prevailed all over the country. The Brahmin and the Chandala, the king and the beggar, took part with equal enthusiasm in Madanotsava, in which Madana or Kama was worshipped…… As a reaction against this practice of sexual romance, Vaisnavism made its appearance and the Madanotsava festival was replaced by Dolotsava.
অর্থাৎ (সারমর্ম), লোকায়তিকেরা ছিলো আনন্দবাহুল্যের প্রচারক। তাদের প্রভাবে, ভারতীয় ইতিহাসের সেই যুগটিতে মন্দির, রাজদরবার, শিল্প, সাহিত্য সর্বত্রই ভোগবাহুল্য দেখা দিলো। সারা দেশ ভেসে গেলো কামাচারে। ব্ৰাহ্মণ আর চণ্ডাল, রাজা আর ভিখিরি, সকলেই সমান উৎসাহে মদনোৎসবে অংশ গ্রহণ করতে শুরু করলো। এই মদনোৎসবে, মদন বা কাম-এর পুজো হতো।…
এই যৌন আচরণের প্রতিক্রিয়া হিসেবেই আবির্ভাব হলো বৈষ্ণবধর্মের এবং মদনোৎসবের স্থানে এলো দৌলোৎসব।
ভারতীয় ইতিহাসের এটা যে ঠিক কোন যুগের কথা হচ্ছে সে-প্রশ্নের উত্তর দেওয়া ডক্টর শাস্ত্রী অপ্রয়োজন বা হয়তো অস্বস্তিকর মনে করেছেন; তার কারণ লোকায়ত্তর প্রভাবে রাজা থেকে ভিখিরি পর্যন্ত মেতে ওঠবার ওরকম একটা যুগের কথা আসলে কাল্পনিক, ঐতিহাসিক নয়। আপাতত না হয় সে-প্রশ্ন ছেড়েই দেওয়া গেলো। বর্তমানে শুধু মদনোৎসবের কথাই তোলা যাক : গুণরত্নের রচনাতেও লোকায়তিকদের সঙ্গে এই জাতীয় এক উৎসবের যোগাযোগ সূচিত হয়েছে : বর্ষে বর্ষে কস্মিন্নপি দিবসে, ইত্যাদি। কিন্তু প্রশ্ন হলো, মদনোৎসবটি ঠিক কী? ডক্টর শাস্ত্রীর রচনা থেকে এমন কি এ-ধারণাও জন্মাতে পারে যে, আমাদের দেশে লোকায়তিকদের প্রভাবেই এই উৎসব প্রবর্তিত হয়েছিলো, ষে-রকম তিনি কল্পনা করছেন যে, একটা যুগে রাজসভা থেকে পর্ণকুটীর পর্যন্ত লোকায়তিকদের প্রভাবে ভেসে গিয়েছিলো!! কিন্তু এ-ধারণা যে কতোখানি কৃত্রিম তা বিস্তৃতভাবে আলোচনা করবারও প্রয়োজন নেই।
আসল কথা হলো, মদনোৎসবের সঙ্গে লোকায়তিকদের সম্পর্কের ইঙ্গিত দিয়েও ডক্টর দক্ষিণারঞ্জন শাস্ত্রী এই উৎসবটির তাৎপর্য-বিশ্লেষণে বিশেষ কোনো উৎসাহের পরিচয় দেননি। তার বদলে তিনি দীনেশচন্দ্র সেন মহাশয়ের(৬১৭) রচনা থেকে মদনোৎসবের একটি কবিত্বময় ও মনোরম,–কিন্তু একান্তভাবেই আধুনিক কল্পনার পরিণাম-বিশেষ,–বর্ণনার উপর নির্ভর করতে চেয়েছেন : “ফুল আর ফাগ, গান আর নাচ, দোলা আর খেলা—এই সব মিলে একটা হাল্কা আমোদের আবহাওয়া সৃষ্টি করে; সে-আবহাওয়ায় যৌন-নীতি সম্পর্কিত কঠোর নিয়মগুলি শিথিল হয় এবং পুরুষ ও নারী অবাধে মেলামেশা করে।” মদনোৎসবের সংস্কৃত সংস্করণ দোলোৎসবকে হয়তো এই রকম কবিত্ব করে বর্ণনা করা যেতে পারে; কিন্তু মদনোৎসবকে নয়। মদনোৎসবের আদি-ভাৎপর্য অন্বেষণের চেষ্টাটা অন্য রকম হওয়া উচিত।
সে-চেষ্টার পরিচয় পাওয়া যায় ডক্টর উইলিয়াম কুক্-এর(৬১৮) রচনায়। লোকায়তিকদের সঙ্গে যদি এ-জাতীয় উৎসবের কোনো সম্পর্ক সত্যিই স্বীকার করতে হয় তাহলে ডক্টর কুক্-এর গবেষণা অনুসরণ করলে লোকায়তর উৎসের উপরও আলোকপাত হতে পারে।
উইলিয়াম ক্রুক্ প্রশ্ন তুলছেন, ভারতবর্ষের পিছিয়ে-পড়ে-থাকা মানুষদের মধ্যে ওই মদনোৎসব বা হোলির অঙ্গ হিসেবে যে-সব জটিল অনুষ্ঠানাদির পরিচয় পাওয়া যায় সেগুলির বর্ণনা সংগ্রহ করে এ-উৎসবের কোনো সামগ্রিক ব্যাখ্যা দেওয়া সম্ভব কি না? তিনি এই উদ্দেশ্বে যে-তথ্য সংগ্রহ করলেন সেগুলির প্রতি লক্ষ্য রাখলে দেখা যায়, এ-উৎসব অত্যন্ত জটিল এবং এর মধ্যে নানা রকমের অনুষ্ঠান রয়েছে; গাছ পোড়ানো, আগুন জ্বালানে, আগুনের উপর হাঁটা, গাছ পোঁতা, জল ঢালা ইত্যাদি এবং অবশ্যই কামাচারও। অনুষ্ঠানেরর এই বিভিন্ন দিকগুলিকে বিশ্লেষণ করে এবং দেশ-বিদেশের সমতুল্য অনুষ্ঠানের সঙ্গে তুলনা করে, ডক্টর উইলিয়াম ক্রুক দেখাচ্ছেন, আগাগোড়াই এ-উৎসবের উদ্দেশ্য হলো প্রাকৃতির উর্বরতা বাড়ানো। উপসংহারে তিনি বলেছেন(৬১৯),
