Whether the Asura living in Chota-Nagpur are the offspring of these opponents of the Aryans or are connected with the Asura builders of those ancient embankments still found in the Mirzapur district, is, ofcourse, an open question; yet there seems to be nothing to exculde such suppositions(৬০৬).
বলাই বাহুল্য, এই দুটি মতবাদের কোন্টি স্বীকারযোগ্য, সে-আলোচনার এখানে প্রয়োজন নেই। আমাদের যুক্তির পক্ষে যেটুকু কথা এখানে প্রাসঙ্গিক তা হলো, অসুরদের সনাক্তিকরণ সংক্রান্ত যে-প্রকল্পের ভিত্তিতে অধ্যাপক সুরেন্দ্রনাথ দাসগুপ্ত লোকায়ত-দর্শনের সুমেরীয় উৎস অনুসন্ধান করছেন তার সঙ্গে এই দুটি মতবাদের একটিরও সঙ্গতি নেই এবং তিনি এই দুটি মতবাদের একটিকেও খণ্ডন করে আত্মপক্ষ-প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেননি।
দ্বিতীয়ত, সুমেরীয় সভ্যতার সৎকার-পদ্ধতির কথা। যদি এমন হতে যে, প্রাচীন পৃথিবীতে একমাত্র সুমেরীয়াতেই ওই জাতীয় সৎকার পদ্ধতির পরিচয় পাওয়া গিয়েছে তাহলে ছান্দোগ্য-বর্ণিত সৎকার-পদ্ধতির দিক থেকে ভারতীয় সাহিত্যের ওই দেহাত্মবাদীদের সুমেরবাসী বলে সনাক্ত করবার কিছুটা অবকাশ থাকতো। কিন্তু এখানেও ঐতিহাসিক তথ্য অত্যন্ত নির্মমভাবে অধ্যাপক সুরেন্দ্রনাথ দাসগুপ্তের বিরুদ্ধে যায়। কেননা, এমন কি প্রাচীন সুমেরীয় সভ্যতাতেও শুধুমাত্র এইভাবে মৃতের সৎকার হতো না—মৃতদেহকে কবর দেওয়া ছাড়াও দগ্ধ করবার প্রথা অত্যন্ত ব্যাপকভাবেই প্রচলিত ছিলো(৬০৭) তাছাড়া, বসন-ভূষণ-খাদ্য ইত্যাদির সম্ভার সহযোগে কবর দেবার প্রথাটা প্রাচীন সুমেরীয় সভ্যতা ছাড়া—বস্তুত সুমেরীয় সভ্যতার বাইরেই–অনেক ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিলো(৬০৮)। এ-বিষয়ে প্রাচীন মিশর প্রভৃতির সুবিখ্যাত নজির উল্লেখ না করেও ভারতবর্ষীয় তথ্যেরই উল্লেখ করা যায় : মোহেনজোদারো-হরপ্পায়(৬০৯) তার নজির পাওয়া গিয়েছে, কোনো কোনো বিদ্বান অনুমান করেছেন বৈদিক সাহিত্যের প্রাচীনতর অংশে(৬১০) এই জাতীয় সৎকার পদ্ধতিরই ইঙ্গিত পাওয়া যায় এবং আধুনিক যুগেও ভারতবর্ষের নানান ট্রাইবের(৬১১) মধ্যে এই জাতীয় সৎকার প্রণালীর দৃষ্টান্ত সত্যিই দুর্লভ নয়।। সৎকার-প্রণালী নিয়ে আলোচনা অবশ্যই স্বতন্ত্র। কিন্তু এ-বিষয়ে কোনো রকম সন্দেহেরই অবকাশ নেই যে, অধ্যাপক সুরেন্দ্রনাথ দাসগুপ্ত যখন শুধুমাত্র এই সৎকার-প্রণালীর নজির দেখিয়েই লোকায়তিক ধ্যানধারণার উৎস হিসেবে প্রাচীন সুমেরীয় সভ্যতার উল্লেখ করতে চাইছেন তখন তাঁর মন্তব্য তুচ্ছ ও ভঙ্গুর প্রমাণাশ্রয়ী হয়েছে।
তাছাড়া, শুধুমাত্র সংকার-পদ্ধতি থেকেও দেহাত্মবাদে বিশ্বাস অনুমান করা যে সত্যিই সঙ্গত নয় তা অধ্যাপক সুরেন্দ্রনাথ দাসগুপ্ত নিজেই অনুভব করেছেন। কেননা তিনি বলছেন, ছান্দোগ্য-বর্ণিত দেহাত্মবাদীদের সঙ্গে উত্তর যুগের লোকায়তিকদের মস্ত তফাত হলো, ওই দেহাত্মবাদীরা পরলোক মানতেন, কিন্তু লোকায়তিকর তা মানতেন না। অবশ্যই এই প্রভেদকে তিনি ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পরিণাম হিসেবে ব্যাখ্যা করবার একটা চেষ্টা করেছেন, কিন্তু সে-বিষয়ে কোনো রকম তথ্য দেখাবার চেষ্টা করেননি। তার কারণ কি এই যে, উক্ত পরিণামের কথাটা অধ্যাপকের কল্পনামাত্র বলেই তার মতো স্বনামধন্য বিদ্বানের পক্ষেও এ-বিষয়ে কোনো তথ্য সংগ্ৰহ করা সম্ভবপর হয়নি?
আসল কথা হলো, লোকায়তিক ধ্যানধারণার উৎস সন্ধানে ছান্দোগ্যের ওই কাহিনীটিই আমাদের কাছে একমাত্র সম্বল নয়। এ ছাড়াও আমাদের কাছে বহু তথ্য রয়েছে। তথ্যগুলি খণ্ড ও বিক্ষিপ্ত; এবং অসামান্য পাণ্ডিত্যের অধিকারী বলে অধ্যাপক সুরেন্দ্রনাথ দাসগুপ্তই বোধহয় সবচেয়ে দক্ষভারে এগুলিকে সংকলিত করেছেন। কিন্তু এই খণ্ড ও বিক্ষিপ্ত তথ্যগুলি থেকে লোকায়তর একটা সামগ্রিক রূপ পুনর্গঠন করবার চেষ্টার বদলে তিনি প্রধানতই ছান্দোগ্য-উপনিষদের ওই উপাখ্যানটির উপর নির্ভর করে যে-সিদ্ধান্তে উপনীত হবার চেষ্টা করলেন তা স্বভাবতই কাল্পনিক হয়ে রইলো। :
আমরা একটু পরেই দেখতে পাবে, দেহতত্ত্বের ব্যাখ্যা খোঁজবার আশায় শুধুমাত্র কোনো সৎকার-পদ্ধতির বিশ্লেষণের মধ্যে আবদ্ধ থাকবার প্রয়োজন নেই। কেননা, তন্ত্র সহজিয়া প্রভৃতি সম্প্রদায়গুলির মধ্যে দেহতত্বের সুবিস্তৃত আলোচনা পাওয়া যায়। শুধু তাই নয়। আমরা আরো দেখাবার চেষ্টা করবো যে, কৃষিভিত্তিক জাদু-অনুষ্ঠানের মতোই এই দেহতত্ত্বমূলক বিশ্বাসের উৎস খুঁজে পাওয়া যায়। কিন্তু তার আগে লোকায়তর উৎস প্রসঙ্গে আর একটি প্রচলিত মতবাদের আলোচনা প্রয়োজন।
—————–
৫৯৬. S. N. Dasgupta HIP 3:533.
৫৯৭. গুণরত্ব : তর্করহস্যদীপিকা ৩০০ ।
৫৯৮. S. N. Dasgupta PA দ্রষ্টব্য।
৫৯০. শ্লোক ৮২।
৬০০. S. N. Dasgupta HIP 3:529.
৬০১. Ibid 3:528-9.
৬০২. বিশ্বকোষ (দ্বিতীয় সংস্করণ) ৩:৩১৮।
৬০৩. ঐ।
৬০৪. SBE 12:54, 59, 64, 110sq., 113sq., 125sq., 144sq., 150, 153-8, 171, 198εq., 265sq., 297, 310sq. , 26.14, 30-2, 74sq., 93, 98sq, 105sq., 115, 131, 142, 147, 175sq., 240, 249, 252, 279, 291, 301, ইত্যাদি, ইত্যাদি।
৬০৫. ছান্দোগ্য উপনিষদ ১, ২, ১ ।
৬০৬. ERE 2:157.
৬০৭. ERE 4:444.
৬০৮. ERE 4:411–510.
৬০৯. J. Marshall 1:79ff.
৬১০. ERE 4:476,
৬১১. 5RE 4:479-84.
৩৬. ডক্টর দক্ষিণারঞ্জন শাস্ত্রী : লোকায়তর উৎস-প্রসঙ্গে
ডক্টর দক্ষিণারঞ্জন শাস্ত্রী মহাশয় ভারতীয় বস্তুবাদের ইতিহাসকে চারটি পর্যায়ে বিভক্ত করতে চেয়েছেন। তার মতে, এই চারটি পর্যায়ের নাম হলো, বাৰ্হস্পত্য, লোকায়ত, চাৰ্বাক ও নাস্তিক। এই পর্যায়-বিভাগ যে কতোখানি তথ্য-সন্মত, এখানে সে-আলোচনা আমরা তুলতে চাই না; পাদটীকায়(৬১৩) আমরা দেখাবার চেষ্টা করবো শাস্ত্রী মহাশয়ের পর্যায়-বিভাগটি বহুলাংশেই কাল্পনিক। তবুও—এবং আমাদের যুক্তির বর্তমান পর্যায়ে এই কথাটিই বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক,—মুখের বিষয় ডক্টর দক্ষিণারঞ্জন শাস্ত্রী, ভারতীয় বস্তুবাদের ইতিহাস আলোচনায় মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী রচিত লোকায়ত নামের ক্ষুদ্র কিন্তু মূল্য পুস্তিকাটিকে উপেক্ষা করেননি। বস্তুত, মহামহোপাধ্যায় লোকায়তিকদের সম্বন্ধে যে অভিনব তথ্যগুলি সংগ্ৰহ করেছিলেন এবং যেগুলির ভিত্তিতে তিনি লোকায়তিকদের সঙ্গে সহজিয়া, কাপালিক প্রভৃতি সম্প্রদায়ের অভেদ প্রদর্শন করলেন সেগুলিকে ডক্টর দক্ষিণারঞ্জন শাস্ত্রী মহাশয় উপযুক্ত গুরুত্ব দিয়েছেন। মহামহোপাধ্যায় বলেছিলেন, সহজিয়া প্রভৃতি এই সম্প্রদায়গুলি অধঃপাতে-যাওয়া বৌদ্ধধর্মের পরিণাম মাত্র। এ-মতবাদ কতোখানি স্বীকারযোগ্য তার আলোচনায় আমরা একটু পরে প্রত্যাবর্তন করবো। আপাতত আমাদের দ্রষ্টব্য হলো, ডক্টর দক্ষিণারঞ্জন শাস্ত্রী মহাশয় কীভাবে মহামহোপাধ্যায়ের এই মতবাদটির উপরই আশ্রয় গ্রহণ করে ভারতীয় বস্তুবাদের ওই তথাকথিত ‘চতুর্থ’ পর্যায়টির ব্যাখ্যা করতে চাইছেন(৬১৪) :
