It seems possible, therefore, that probably the lokayata doctrines had their beginnings in the preceding Sumerian civilization in the then prevailing customs of adorning the dead and the doctrine of bodily survival after death.
অতএব, মনে হয়, পূর্ববর্তী স্থমেরীয় সভ্যতায় মৃতদেহকে বিভূষিত করার যে প্রথা এবং মৃত্যুত্তীর্ণ দৈহিক সত্তায় যে বিশ্বাস—তারই মধ্যে লোকায়ত মতবাদের উৎস।
সিদ্ধান্তটি যে অত্যন্ত চমকপ্রদ এ-বিষয়ে সন্দেহ নেই : দেশের সমস্ত ঐতিহ্য অগ্রাহ্য করে একেবারে সুমেরীয় সভ্যতার সৎকার-ব্যবস্থার মধ্যে অধ্যাপক সুরেন্দ্রনাথ দাসগুপ্ত লোকায়তিক ধ্যানধারণার বীজ অনুসন্ধান করছেন। ঠিক কোন ধরনের তথ্যের উপর নির্ভর করে তিনি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে চাইছেন?
অধ্যাপক মুরেন্দ্রনাথ দাসগুপ্ত এই সিদ্ধান্তের সমর্থনে মাত্র একটি নজির পেশ করেছেন,—ছান্দোগ্য-উপনিষদের প্রজাপতি ও ইন্দ্র-বিরোচন সংবাদ।
যে-হেতু শুধু এই নজিরটির উপর নির্ভর করে অধ্যাপক সুরেন্দ্রনাথ দাসগুপ্ত এতোবড়ো একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছুতে চেয়েছেন সেইহেতু আমরা ছান্দোগ্য-উপনিষদের ওই উপাখ্যানটি সম্পূর্ণভাবে উদ্ধৃত করবো :
প্রজাপতি এক সময়ে বলিয়াছিলেন—‘যে আত্মা পাপরহিত, জরারহিত, মৃত্যুরহিত, শোকরহিত, অশনেচ্ছারহিত, পিপাসারহিত, যিনি সত্যকাম ও সত্যসঙ্কল্প, তাঁহাকেই অন্বেষণ করিতে হইবে, তাঁহাকেই বিশেষরূপে জানিতে হইবে। যিনি তাহাকে অনুসন্ধান করিয়া অবগত হন, তিনি সমুদয় লোক ও সমুদয় কামনা লাভ করেন।। ৮।৭।১।।
দেব ও অসুরগণ উভয়েই লোকপরম্পরায় এই উপদেশের কথা শুনিয়াছিলেন। তাঁহারা বলিলেন, ‘যে আত্মাকে অনুসন্ধান করিলে সর্বলোক ও সর্বকাম্যবস্তু লাভ করা যায়, আমরা সেই আত্মাকে অনুসন্ধান করিব। (এই উদ্দেশ্যে) দেবগণের মধ্যে ইন্দ্র এবং অসুরগণের মধ্যে বিরোচন (প্রজাপতির) অভিমুখে গমন করিলেন। তাঁহারা পরস্পরকে না জানাইয়া সমিৎপাণি হইয়া প্রজাপতির সমীপে উপস্থিত হইলেন।। ৮।৭।২।।
তাঁহারা দুইজন ৩২ বৎসর ব্রহ্মচর্য আচরণ করিয়া বাস করিলেন। তদন্তর প্রজাপতি তাঁহাদিগকে জিজ্ঞাসা করিলেন, ‘কী ইচ্ছা করিয়া তোমরা বাস করিলেন? তাঁহারা বলিলেন, “ভগবানের বাক্য বলিয়াই বিদিত যে—যে আত্মা পাপরহিত, জরারহিত, শোকরহিত, অশনেচ্ছারহিত, যিনি সত্যকাম ও সত্যসঙ্কল্প —তাঁহাকেই অন্বেষণ করিতে হইবে, তাঁহাকেই বিশেষরূপে জানিতে হইবে। যিনি এই আত্মাকে অনুসন্ধান করিয়া জানেন, তিনি সর্বলোক ও সমুদয় কাম্যবস্তু লাভ করেন। সেই আত্মাকেই জানিতে ইচ্ছা করিয়া আমরা দুইজনে বাস করিয়াছি’।। ৮।৭।৩।।
প্রজাপতি সেই দুইজনকে বলিলেন—‘চক্ষুতে এই যে পুরুষ দৃষ্ট হয় ইনিই আত্মা’। তিনি আরও বলিলেন—‘উনিই অমৃত অভয় এবং ইনিই ব্রহ্ম’। তাঁহারা জিজ্ঞাসা করিলেন—’হে ভগবন্! এই যে পুরুষ জলে দৃষ্ট হয়, আর এই যে পুরুষ দর্পণে দৃষ্ট হয়, ইহা কে?’ প্রজাপতি বলিলেন– ‘এই সমুদয়েই আত্মা পরিদৃষ্ট হন’ ॥ ৮।৭।৪ ॥
প্রজাপতি বলিলেন–‘জলপূর্ণ পাত্রে আপনাকে (দেখ), দেখিয়া আত্মার বিষয় যাহা বুঝিবে না, তাহা আমাকে বলিও।’ তাঁহারা জলপূৰ্ণ পাত্রে আপনাদিগকে দেখিলেন। (অনন্তর) প্রজাপতি তাঁহাদিগকে জিজ্ঞাসা করিলেন—‘কী দেখিলে?’ তাঁহারা বলিলেন—‘হে ভগবন! আমরা সমগ্র আত্মা—লোম ও নখ পর্যন্ত ইহার প্রতিরূপ দৰ্শন করিলাম’ ॥ ৮।৮।১ ॥
প্রজাপতি তাঁহাদিগকে বলিলেন—‘সুন্দর অলঙ্কারে ভূষিত হইয়া, বসন পরিধান করিয়া, পরিষ্কৃত হইয়া জলপূর্ণ পাত্রে দর্শন কর। তাঁহারা সুন্দর অলঙ্কারে ভূষিত হইয়া সুবসন পরিধান করিয়া এবং পরিষ্কৃত হইয়া জলপুর্ণ পাত্রে দর্শন করিলেন। প্রজাপতি তাঁহাদিগকে জিজ্ঞাসা করিলেন—‘কী দেখিলে? ॥ ৮।৮।২।।
তাঁহারা বলিলেন—‘হে ভগবন! এই আমরা যেমন সুন্দর অলঙ্কারে ও সুবসনে বিভূষিত এবং পরিষ্কৃত, হে ভগবন! তেমনি জলের মধ্যে এই দুইজন সুন্দর অলঙ্কারে ও সুবসনে বিভূষিত এবং পরিষ্কৃত’। প্রজাপতি বলিলেন—‘ইনিই আত্মা; ইনিই অমৃত ও অভয় ও ইনিই ব্রহ্ম’। অনন্তর দুইজন শান্ত হৃদয় হইয়া প্রতিগমন করিলেন।। ৮।৮।৩।।
তাঁহাদিগকে (চলিয়া যাইতে) দেখিয়া প্রজাপতি মনে মনে বলিলেন—(ইঁহারা) আত্মাকে উপলব্ধি না করিয়াই, আত্মাকে অবগত না হইয়াই চলিয়া গেল। ইহাদিগের মধ্যে যে ইহাকেই উপনিষৎ (অর্থাৎ প্রকৃত জ্ঞান) বলিয়া গ্রহণ করিবে—দেবতাই হউক বা অসুরই হউক—সে বিনাশপ্রাপ্ত হইবে’।
বিরোচন শান্ত হৃদয়ে অসুরগণের নিকট গমন করিলেন এবং তাহাদিগকে এই শিক্ষা দিলেন—‘এই পৃথিবীতে দেহেরই পূজা করিবে এবং দেহেরই পরিচর্যা করিবে। দেহকে মহীয়ান করিলে এবং দেহের পরিচর্যা করিলেই ইহলোক ও পরলোক—এই উভয় লোকই লাভ করা যায়’।।৮।৮।৪।।
উপনিষদের উপাখ্যানটি অবশ্য এইখানেই শেষ নয়। এর পর বলা হয়েছে, যদিও অসুরদের প্রতিনিধি বিরোচন ওইভাবে দেহকেই আত্মা বলে জেনে সন্তুষ্ট হয়েছিলেন তবুও দেবতাদের প্রতিনিধি ইন্দ্র এর পর প্রজাপতির কাছে প্রত্যাবর্তন করলেন এবং দেহাত্মবোধের ভ্রম উত্তীর্ণ হয়ে তিনি ক্রমশ সচ্চিদানন্দ আত্মাকে উপলব্ধি করবার দিকে অগ্রসর হন। উপাখ্যানটির এই শেষাংশের উপর অধ্যাপক সুরেন্দ্রনাথ দাসগুপ্তের সিদ্ধান্ত নির্ভরশীল নয়। আমরা যতোটুকু উদ্ধৃত করেছি তারই উপর নির্ভর করে তিনি লোকায়তের উৎস-প্রসঙ্গে ওই অত্যাশ্চর্য সিদ্ধান্তে উপনীত হচ্ছেন : লোকায়ত ধ্যানধারণা খাঁটি স্বদেশী মত নয়—খুব সম্ভব সুমেরীয় সভ্যতা থেকেই তার আমদানি হয়েছিলো।
