• আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • গোপনীয়তা নীতি
মঙ্গলবার, জুন 16, 2026
  • Login
BnBoi.Com
  • বাংলাদেশী লেখক
    • অতুলচন্দ্র গুপ্ত
    • অভিজিৎ রায়
    • আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    • আনিসুল হক
    • আবু ইসহাক
    • আবু রুশদ
    • আবুল আসাদ
    • আবুল খায়ের মুসলেহউদ্দিন
    • আবুল বাশার
    • আরজ আলী মাতুব্বর
    • আল মাহমুদ
    • আসাদ চৌধুরী
    • আহমদ ছফা
    • আহমদ শরীফ
    • ইমদাদুল হক মিলন
    • উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    • কাসেম বিন আবুবাকার
    • জসীম উদ্দীন
    • তসলিমা নাসরিন
    • দাউদ হায়দার
    • দীনেশচন্দ্র সেন
    • নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    • নিমাই ভট্টাচার্য
    • প্রফুল্ল রায়
    • প্রমথ চৌধুরী
    • ময়ূখ চৌধুরী
    • মহাদেব সাহা
    • মাহমুদুল হক
    • মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    • হুমায়ূন আহমেদ
  • ইন্ডিয়ান লেখক
    • অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়
    • অতুল সুর
    • অদ্রীশ বর্ধন
    • অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • অনীশ দেব
    • অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • অমিয়ভূষণ মজুমদার
    • আশাপূর্ণা দেবী
    • আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
    • ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    • কাজী নজরুল ইসলাম
    • ক্ষিতিমোহন সেন
    • তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    • তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়
    • দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    • নারায়ণ সান্যাল
    • নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    • নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    • পাঁচকড়ি দে
    • পূর্ণেন্দু পত্রী
    • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • বিমল মিত্র
    • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    • হেমেন্দ্রকুমার রায়
  • বিভাগসমূহ
    • আত্মজীবনী
    • ইতিহাস
    • উপন্যাস
    • কবিতা
    • কল্পকাহিনী
    • কাব্যগ্রন্থ
    • খেলাধুলার বই
    • গল্পের বই
    • গোয়েন্দা কাহিনী
    • ছোট গল্প
    • জীবনী
    • দর্শন
    • ধর্মীয় বই
    • নাটকের বই
    • প্রবন্ধ
    • বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী
    • বৈজ্ঞানিক বই
    • ভূতের গল্প
    • মুক্তিযুদ্ধের-বই
    • রহস্যময় গল্পের বই
    • রোমাঞ্চকর গল্প
    • রোম্যান্টিক গল্পের বই
    • শিক্ষামূলক বই
    • সমগ্র
  • সিরিজ বই
    • মিসির আলী সমগ্র
    • হিমু সিরিজ
No Result
View All Result
  • বাংলাদেশী লেখক
    • অতুলচন্দ্র গুপ্ত
    • অভিজিৎ রায়
    • আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    • আনিসুল হক
    • আবু ইসহাক
    • আবু রুশদ
    • আবুল আসাদ
    • আবুল খায়ের মুসলেহউদ্দিন
    • আবুল বাশার
    • আরজ আলী মাতুব্বর
    • আল মাহমুদ
    • আসাদ চৌধুরী
    • আহমদ ছফা
    • আহমদ শরীফ
    • ইমদাদুল হক মিলন
    • উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    • কাসেম বিন আবুবাকার
    • জসীম উদ্দীন
    • তসলিমা নাসরিন
    • দাউদ হায়দার
    • দীনেশচন্দ্র সেন
    • নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    • নিমাই ভট্টাচার্য
    • প্রফুল্ল রায়
    • প্রমথ চৌধুরী
    • ময়ূখ চৌধুরী
    • মহাদেব সাহা
    • মাহমুদুল হক
    • মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    • হুমায়ূন আহমেদ
  • ইন্ডিয়ান লেখক
    • অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়
    • অতুল সুর
    • অদ্রীশ বর্ধন
    • অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • অনীশ দেব
    • অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • অমিয়ভূষণ মজুমদার
    • আশাপূর্ণা দেবী
    • আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
    • ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    • কাজী নজরুল ইসলাম
    • ক্ষিতিমোহন সেন
    • তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    • তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়
    • দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    • নারায়ণ সান্যাল
    • নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    • নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    • পাঁচকড়ি দে
    • পূর্ণেন্দু পত্রী
    • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • বিমল মিত্র
    • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    • হেমেন্দ্রকুমার রায়
  • বিভাগসমূহ
    • আত্মজীবনী
    • ইতিহাস
    • উপন্যাস
    • কবিতা
    • কল্পকাহিনী
    • কাব্যগ্রন্থ
    • খেলাধুলার বই
    • গল্পের বই
    • গোয়েন্দা কাহিনী
    • ছোট গল্প
    • জীবনী
    • দর্শন
    • ধর্মীয় বই
    • নাটকের বই
    • প্রবন্ধ
    • বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী
    • বৈজ্ঞানিক বই
    • ভূতের গল্প
    • মুক্তিযুদ্ধের-বই
    • রহস্যময় গল্পের বই
    • রোমাঞ্চকর গল্প
    • রোম্যান্টিক গল্পের বই
    • শিক্ষামূলক বই
    • সমগ্র
  • সিরিজ বই
    • মিসির আলী সমগ্র
    • হিমু সিরিজ
No Result
View All Result
BnBoi.Com
No Result
View All Result

সাইমুম সিরিজ – আবুল আসাদ

ছোট তারিমের সেই উপত্যকা থেকে সোজা দেড় মাইল উত্তরে পাহাড় ঘেরা একটা সবুজ উপত্যকা। এর একপাশ দিয়ে ছোট্ট একটা ঝরণা প্রবাহিত। উপত্যকার উত্তর পাশে পাহাড়ের একটা বড় গুহা ঘিরে বড় একটা পাথরের বাড়ি। পাহাড়ের পাদদেশে ছড়ানো আরো কয়েকটি তাবু। পাহাড়ের ঐ বড় গুহা বাড়িতে বাস করেন হুই নেতা শেখ ওয়াং চিং চাই।
শেখ ওয়াং চিং চাই চীনের বিখ্যাত হুই নেতা মা পেন চাই এর বংশধর। মা পেন চাই জাপান বিরোধী সংগ্রামের জন্যে চীনের ইতিহাসে বিখ্যাত হয়ে আছেন। জাপান বাহিনী যখন চীন আক্রমণ করে, যখন তাদের আগ্রাসী থাবা কানশু-শামসি পর্যন্ত বিস্তৃত হলো। হুই মুসলমানরা রুখে দাঁড়াল তাদের বিরুদ্ধে। মা পেন চাই এর নেতৃত্বে হুই বাহিনী এতটাই সাহসী ও সফল ভুমিকা পালন করে যে এই বাহিনী কে ইস্পাত বাহিনী নামে আখ্যায়িত করা হয়েছিল।
আজকের চীনের কানশু প্রদেশের দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে চীং নদীর উপকুলবর্তী পিং লিয়াং ছিল হুই মুসলমানদের সবচেয়ে ঘন বসতি অঞ্চলের একটি। এখানে বাস ছিল মা পেন চাইদের। মা পেন চাই এর বড় ছেলে শেখ চি হো এন তখন হুই মুসলমানদের নেতা এবং তাদের ইমাম। এই সময় মাও এর নেতৃত্বে কম্যুনিষ্ট বাহিনীর কালো থাবা এ অঞ্চলের উপর এসে পড়ে। সংগ্রামী হুই মুসলমানরা তাদেরকে বুঝতে ভুল করে। প্রথমে তাদেরকে বন্ধু এবং নিজেদের ভাগ্যোন্নয়নের সহায়ক হিসেবে গ্রহণ করে। মাও এর প্রচারকরা প্রথমে এ কথাই বলেছিল, চীনের রাজতান্ত্রিক আধিপত্যবাদী আগ্রাসন থেকে তারা চিরতরে মুক্তি পাবে। কিন্তু চারিদিকে থাবা পাকাপোক্ত করার পর মাওবাদিরা স্বরূপে আত্মপ্রকাশ করল। সংগ্রামী হুইরা তাদের আধিপত্য মেনে নিল না। ইমাম চি হো এন এর নেতৃত্বে তারা কম্যুনিষ্টদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াল। কিন্তু তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। কম্যুনিষ্টদের হাত তখন অনেক মজবুত। তবু সংগ্রাম চালাল অনেক দিন ধরে। হুইরা উৎখাত হলো ভিটেমাটি থেকে। পাহাড়ে আত্মগোপন করে তারা চি হো এন এর নেতৃত্বে সংগ্রাম চালিয়ে গেল। অবশেষে সোভিয়েতের মদদপুষ্ট মাও বাহিনীর দ্বারা কানশুর পাহাড় এলাকা থেকেও তারা বিতাড়িত হলো। অনেকে নিরুপায় হয়ে আত্মসমর্পন করল। কিন্তু চি হো এন এর নেতৃত্বে সংগ্রামরত হুই মুসলমানদের একটি দল সংগ্রামের পতাকা উড্ডীন রেখে কানশু থেকে পালিয়ে এল। প্রথমে তারা আশ্রয় নিল উরুমচিতে। সেখান থেকে কাশগড়ে। এখনও তারা কাশগড়ে আত্মগোপন করে আছে। ছোট তারিম নদীর উত্তরে এ ঘাটিটি তারা তৈরী করেছে ট্রেনিং কেন্দ্র হিসেবে। আজকের হুই নেতা শেখ ওয়াং চিং চাই ঐ শেখ চি হো এন এর বড় ছেলে।
পাহাড়ের সেই পাথুরে বাড়িটির সম্মুখ ভাগে একটি বড় কক্ষ। দরবার কক্ষ এটা। একই সাথে মসজিদও। মেহরাবের সামনে একটা জায়নামাজে বসে আছেন শেখ ওয়াং চিং চাই। তার সামনে বসে হাসান তারিক এবং আব্দুল্লায়েভ। শেখ ওয়াং চিং চাই এর ডানে-বামে এবং ঘরের চারদিক ঘিরে বসে আছে সেই যুবক আহমদ ইয়াং সহ হুইদের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি। হাসান তারিক কথা বলছিল। ঘরের সবাই গোগ্রাসে তা যেন গিলছিল । যুবক আহমদ ইয়াং এর চোখ আনন্দোজ্জ্বল হয়ে উঠছিল, কখনও হয়ে পড়ছিল বেদনায় নিষ্প্রভ।
কথা শেষ করল হাসান তারিক।
সবাই নিরব। অশ্রু ঝরছিল বৃদ্ধ শেখ ওয়াং চিং চাই এর চোখ থেকে। অনেকক্ষণ পর সে মুখ তুলল। মাথা থেকে নেমে আসা রুমালের প্রান্ত দিয়ে দু’চোখ একটু মুছে প্রথমে হাসান তারিক তারপর আব্দুল্লায়েভ এর হাতে চুমো দিয়ে বৃদ্ধ বলল, বাবা আল্লাহর শোকর যে তোমাদের এমনভাবে কাছে পাবার সৌভাগ্য আল্লাহ আমাদের দিয়েছেন ।
তারপর সে মুখ তুলে ঘরের সকলকে উদ্দেশ্য করে বলল, ভাইসব আমাদের যে ক’জন ভাই মারা গেছেন তাদের জন্যে আমরা বেদনা বোধ করছি, কিন্তু তার চেয়েও হাজার গুন বেশী বেদনাদায়ক হলো, ফিলিস্তিনের যে বিপ্লবের জন্যে আমরা গৌরব করি, মিন্দানওয়ে যে বিপ্লব আমাদের অহংকার, কয়েকদিন আগে সংঘঠিত মধ্য এশিয়ার যে বিপ্লব আমাদের কাছে প্রাণের চেয়ে প্রিয়, সেই বিপ্লবের নেতা আহমদ মুসাকে আমাদের পাশ দিয়ে ওরা ধরে নিয়ে গেছে। আমরা যদি জানতে পারতাম এবং আরও অনেক প্রাণের বিনিময়ে হলেও যদি ওঁকে উদ্ধার করতে পারতাম।
বৃদ্ধ একটু থামল। তারপর আহমদ ইয়াংকে উদ্দেশ্য করে বলল, তুমি কাশগড়ে এখনি ওয়ারলেস করে দাও। বলে দাও কাশগড় পৌছার আগেই যেন ওরা জেনারেল বোরিসকে পাকড়াও এবং আহমদ মুসাকে উদ্ধারের চেষ্টা করে।
আহমদ ইয়াং শেখ ওয়াং চিং চাই এর বড় ছেলে এবং এখানকার অপারেশন কমান্ডার।
নির্দেশ পাওয়ার পর আহমদ ইয়াং বেরিয়ে গেল।
বৃদ্ধ শেখ ওয়াং চিং চাই আবার আত্মস্থ হয়েছে। কোন ভাবনার গভীরে যেন ডুবে গেছে সে। কিছুক্ষণ পর মুখ তুলল। হাসান তারিকের দিকে চেয়ে বলল, তোমাদের কাছে পেয়ে বুক ভরা বেদনা যেন ঠেলে বেরিয়ে আসতে চাইছে।
একটু থামল, একটু ঢোক গিলল শেখ ওয়াং চিং চাই। তারপর শুরু করল আবার, তোমরা ফিলিস্তিন, ফিলিপাইন এবং সোভিয়েত মধ্য এশিয়ায় মুসলমানদের যে দূর্দশা দেখেছ, যা জেনেছ, চীনের দুখী মুসললমানরা তার চেয়ে ভাল ব্যবহার পায়নি। আমার শৈশব কৈশোর কেটেছে কানশুর পিয়াংলিয়াংএ। আমি দেখেছি কম্যুনিস্টরা কেমন করে বন্ধু হিসেবে প্রবেশ করে আমাদের সর্বনাশ করেছে। একে একে ওরা আমাদের সব কিছু ছিনিয়ে নিয়েছিল, কিন্তু ওরা যেদিন আল্লাহর ঘর মসজিদে হাত দিল সেদিন আমরা বরদাশত করতে পারিনি। কিন্তু বাবা, আমরা জীবন দিয়েছি, সব হারিয়েছি, তারপরও আমরা মসজিদ বাঁচাতে পারিনি। শুনেছি, চিং নদীর তীরে আমাদের সুন্দর মসজিদটিকে ওরা নৃত্যশালা বানিয়েছে। এক ইঞ্চি পুরু ইমামের সুন্দর জায়নামাজটিকে নৃত্যশালার দরজায় রেখে ওতে ওরা পা মুছছে। এখন শুনছি আজকের চীনের নতুন সরকার ক্ষতিপূরণ হিসেবে এ মসজিদের বদলে আরেকটা মসজিদ করে দিতে চাইছে। কিন্তু গরু মেরে জুতা দান ক্ষতিপূরণ নয়।
এই সময় আহমদ ইয়াং ঘরে প্রবেশ করল। শেখ ওয়াং কে উদ্দেশ্য করে বলল, জনাব আমি কাশগড়ে কথা বলেছি ওরা এখনি বেরুচ্ছে।
-জনাব আমরাও এখনি কাশগড় যাত্রা করতে চাই, আপনি অনুমতি দিন। আহমদ ইয়াং কথা শেষ করার সাথে সাথেই বলে উঠল হাসান তারিক।
-নিশ্চয় যাবে, সময় এখন অত্যন্ত মুল্যবান। বলল বৃদ্ধ শেখ ওয়াং। একটু থামল, কি যেন চিন্তা করল। তারপর বলল, আমাদের ছেলে একটু ভুল করে ছিল, যার কারণে ঐ পাঁচজনকে জীবন দিতে হয়েছে প্রায়শ্চিত্য করার জন্যে। উইঘুরের মুসলিম চিত্রাভিনেত্রী ‘মেইলিগুলি’কে ওরা কিডন্যাপ করে এখানে নিয়ে আসছিল। ‘মেইলিগুলি’ শুটিং এর জন্যে এসেছিল কাশগড়। ছেলেদের যুক্তি ছিল, একটি ভালো ঘরের ভা্লো মুসলিম মেয়ে নিয়ে সর্বব্যাপী নির্লজ্জ চর্চা অসহ্য, তাকে এবং মুসলিম সমাজকে এ থেকে রক্ষা করা দরকার।
একটা ঢোক গিলে বৃদ্ধ শেখ আবার বলল, এ বিষয়টা তোমাদের এ জন্যেই জানালাম যে, জিনিসটা শুরু থেকেই আমাকে পীড়া দিচ্ছে। মনে হচ্ছে ভাল কাজ হয়নি, এ জন্যেই আল্লাহ বোধ হয় শাস্তি দিলেন আমাদের।
থামল বৃদ্ধ শেখ ওয়াং। তারপর আহমদ ইয়াং এর দিকে চেয়ে বলল, মেহমানদের খাবার ব্যবস্থা কর।
আহমদ ইয়াং বেরিয়ে গেলে শেখ ওয়াং চিং চাই হাসান তারিককে বলল, খেয়ে আধা ঘন্টার মধ্যেই তোমরা যাত্রা করতে পারবে। তোমাদের সাথে যাবে আহমদ ইয়াং।
বলে বৃদ্ধ তার বিশ্রাম কক্ষের দিকে এগিয়ে যেতে যেতে বলল, তোমরা খেয়ে নাও, আমি আসছি।

৩

জেনারেল বোরিস কোন শত্রু কিংবা সন্দেহজনক কিছু পেছনে রেখে যেতে চায় না। এই নীতির ভিত্তিতেই সে হত্যা করেছে ছোট তারিম নদীর তীরে ঐ পাঁচজন হুই যুবককে। সেই সাথে সে উদ্ধার করেছে সুন্দরী অভিনেত্রী মেইলিগুলিকে। মেইলিগুলিকে ঐ যুবকরা ধরে নিয়া যাচ্ছিল। তারা নিহত হলে মেইলিগুলি সাহায্যের আবেদন জানায় এবং তাকে কাশগড় পৌছে দিতে জেনারেল বোরিসকে অনুরোধ করে। জেনারেল বোরিস বিষয়টা নিয়ে চিন্তা করার পর তাকে কাফেলায় শামিল করে নেয়।
মেইলিগুলির গোটা দেহটা কাল কাপড়ে আবৃত ছিল। হুই যুবকরা তাকে কিডন্যাপ করার পর তার দেহে এই বোরখা পরিয়ে দিয়েছিল। মেইলিগুলি এখন ওটা খুলে ফেলল। কা্লো বোরখার আবরন চলে গেলে বেরিয়ে এল লাল রং এর পশ্চিমা ষ্টাইলের স্কার্ট পরা তার দেহ। অপরূপ তার দেহ সুষমা।
আহমদ মুসা সেদিক থেকে চোখ সরিয়ে নিল। তাকে বেঁধে ঘোড়ার পিঠে আগের মত করেই শুইয়ে রাখা হয়েছিল।
পাঁচজন হুই যুবক হত্যার ঐ ঘটনা ঘটার পর জেনারেল বোরিসের কাফেলা কোন প্রকার বিশ্রাম না নিয়ে দ্রুতবেগে এগিয়ে চলল কাশগড়ের দিকে। সে ভয় করেছিল হুইরা এই হত্যার প্রতিশোধ নিতে চেষ্টা করতে পারে।
মেইলিগুলি এবং জেনারেল বোরিসের ঘোড়া প্রায় পাশাপাশি চলছিল। তাদের সামনে কিছু আগে আহমদ মুসার ঘোড়া। ঘোড়ার জিনের সাথে বেঁধে রাখা তার দেহ দেখা যাচ্ছে, কিন্তু মুখ দেখা যাচ্ছেনা। পাহাড়ী পথে ঘোড়ার চলা ও উঠা নামায় দেহটা তার অবিরাম ঝাঁকুনি খাচ্ছে।
আহমদ মুসার নিষ্পাপ দীপ্তিমান মুখ প্রথমেই মেইলিগুলির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। আহমদ মুসার রক্তাক্ত পোষাকও তার দৃষ্টি এড়ায়নি। সে বুঝতে পেরেছে ঐ বন্দীর উপর অমানুষিক নির্যাতনও করা হয়েছে। কিন্তু সে বিস্মিত হয়েছে আহমদ মুসার চিন্তা শূন্য উদ্বেগহীন উজ্জ্বল প্রশান্ত-পবিত্র মুখ দেখে। মনে হচ্ছে কোন কিছুর প্রতিই যেন তার ভ্রুক্ষেপ নেই। বন্দীর চেহারা তো এমন হয়না। সুতরাং শুরু থেকেই আহমদ মুসার ব্যাপারে মেইলিগুলির মনে একটা কৌতুহলের সৃষ্টি হয়। কিন্তু কিছু জিজ্ঞেস করতে সে সাহস পায়নি। জেনারেল বোরিস তাকে আপনা থেকেই বলেছিল, বন্দী একজন ভয়ংকর লোক। মেইলিগুলি জেনারেল বোরিসের একথা বিশ্বাস করেনি। কারণ ভয়ংকর কোন লোকের চেহারা এমন হয় না। তবে সে মনে করেছে, সাধারন কোন মন ও অসাধারন কোন শক্তির অধিকারী না হলে এমন বিপদে কোন মানুষ এমন প্রশান্ত উজ্জ্বল থাকতে পারে না। এমন যে লোকটি সে কে? এই জিজ্ঞাসা মেইলিগুলির মনে তীব্রতর হয়ে উঠল।
আরেকটা জিনিস মেইলিগুলির নজর এড়ায়নি। সেটা হলো, একমাত্র বন্দী ছাড়া সবাই রুশ। বন্দীকে তার মতে তুর্কি বংশোদ্ভূত বলেই মনে হয়েছে। মুখের সুন্দর দাড়ি দেখে তার মনে বার বারই প্রশ্ন জেগেছে বন্দী কি মুসলমান?
জেনারেল বোরিসের কাফেলা অনেক্ষণ আগে অপেক্ষাকৃত সমতল ভূমিতে নেমে এসেছে। অর্থাৎ তারা কাশগড়ের নিকটবর্তী হয়েছে। সমভূমিতে নেমে আসার পর জেনারেল বোরিসকে খুবই গম্ভীর দেখাচ্ছে। মনে হচ্ছে কি যেন হিসেব করছে সে।
এক জায়গায় এসে জেনারেল বোরিস থমকে দাঁড়াল। থামিয়ে দিল কাফেলা। পকেট থেকে একটা কাগজ টেনে বের করল। কাগজটা কাশগড় এলাকার মানচিত্র।
যেখানে এসে কাফেলা দাঁড়িয়েছে, সেখান থেকে একটা বড় রাস্তা সোজা পূর্ব দিকে এগিয়ে গেছে। আরেকটা ছোট রাস্তা উত্তর দিকে বাঁক নিয়ে ছোট তারিমের তীর ধরে এগিয়ে গেছে। বড় রাস্তাটা কাশগড় যাওয়ার সোজা এবং সংক্ষিপ্ত পথ। আর ছোট রাস্তাটা তারিমের সাথে আঁকা বাঁকা পথে এগিয়ে অনেক পথ ঘুরে কাশগড়ের পাশ দিয়ে আরও পূর্বে তাকলামাকান মরুভূমির দিকে চলে গেছে।
জেনারেল বোরিস মানচিত্রটি পকেটে রেখে তার একজন সহকারী কর্ণেল কুনাকভকে বলল, তুমি চারজনকে নিয়ে এই সোজা পথে কাশগড় চলে যাও। যা বলেছি সেইভাবে ব্যবস্থা করে আমাকে খবর দাও। তারপর আমরা আসব।
মেইলিগুলি বলল, আমি কি এদের সাথে কাশগড় চলে যেতে পারি জেনারেল?
জেনারেল বোরিস একটু হেসে বলল, না আপনি আমাদের সাথে যাবেন।
কুনাকভ সহ তার চারজন সাথী চলে যাবার মিনিট পাঁচেক পর জেনারেল বোরিস তার অবশিষ্ট কাফেলাকে উত্তরের রাস্তা ধরে এগিয়ে চলার নির্দেশ দিল। এই নির্দেশে মেইলিগুলি বিস্মিত হলো, কর্ণেল কুনাকভকে দেয়া কথা মোতাবেক তো তার তরফ থেকে খবর না আসা পর্যন্ত এখানেই অপেক্ষা করার কথা। মেইলিগুলি এই বিস্ময় তার মনে চেপে রাখল। দেখল, জেনারেল বোরিসের মুখ অত্যন্ত গম্ভীর।
কাফেলা প্রায় এক ঘন্টা চলার পর এক জায়গায় এসে জেনারেল বোরিস ওয়্যারলেস কানে লাগিয়ে উত্তেজিত হয়ে পড়ল। সে ঘোড়া থেকে নামল এবং কাফেলাকে দাঁড়াতে বলে পাশের পাহাড়ের টিলায় উঠে গেল। চোখে দূরবীন লাগিয়ে চারদিকটা দেখল। প্রায় এক মাইল পূর্ব দিকে তারিম নদীর তীরে এই রাস্তার পাশে পুলিশ ষ্টেশনের একটা সাইনবোর্ড দেখে জেনারেল বোরিসের মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল।
সে নেমে এল পাহাড় থেকে। তারপর কাফেলায় ফিরে এসে মেইলিগুলিকে একপাশে ডেকে নিয়ে চুপি চুপি বলল, আমি যে দলকে কাশগড় পাঠিয়েছিলাম, পথে তাদের উপর হুইরা আক্রমন করেছিল। কিন্তু আপনাকে না দেখে তাদের ছেড়ে দিয়ে ওরা এদিকে এগিয়ে আসছে এবং কাশগড় থেকে হুইদের আরেকটা দলও এই পথে এদিকে আসছে।
একটু দম নিল জেনারেল বোরিস, তারপর বলল, এখন আমাদের করণীয় হল, সামনেই একটা পুলিশ ষ্টেশন আছে। আমরা আপনাকে সেখানে নিয়ে যাচ্ছি। আপনি সেখানে গিয়ে বলবেন, হুইরা আপনাকে কিডন্যাপ করে পাহাড়ের ঘাটিতে নিয়ে যাচ্ছিল। আমরা ব্যবসায়ী, আসার পথে আমরা আপনাকে উদ্ধার করেছি। উদ্ধার করতে গিয়ে এই লোক (আহমদ মুসা) আহত হয়েছে। এখন হুইরা আবার আপনাকে ধরতে আসছে। আপনি পুলিশের সাহায্য চান। এরপর যা বলার আমিই বলল।
মেইলিগুলি বিস্ময়ের সাথে লক্ষ্য করল, কথাগুলো বলার সময় জেনারেল বোরিসকে খুবই উত্তেজিত ও উদ্বিগ্ন দেখাচ্ছে। যে ধরনের ঘটনা এবং যে অবস্থা তাতে এতটা উদ্বেগ বোধ করার কিছু নেই। মেইলিগুলির মনে প্রশ্ন জাগল, তাহলে এর বাইরেও কি কিছু আছে? বন্দী লোকটা কে? এই প্রশ্ন আবার তার মনে জাগল।
জেনারেল বোরিসের কথার জবাবে মেইলিগুলি বলল, ঠিক আছে, আমি বলল। এরপর জেনারেল বোরিস আহমদ মুসার ঘোড়ার সামনে গিয়ে দাঁড়াল। তার বাঁধন খুলে দিল। বাঁধন খুলে গেলে আহমদ মুসা উঠে বসল। জেনারেল বোরিসের নির্দেশে একটা বড় সাদা চাদর আনা হলো। সে সাদা চাদরটি জেনারেল বোরিস আহমদ মুসার হাতে তুলে দিয়ে বলল, গায়ে জড়িয়ে নিন।
একটু দম নিল যেন জেনারেল বোরিস । তারপর বলল, শুনুন, এই মেয়েকে কিডন্যাপকারী হুইদের সাথে সংঘর্ষে আপনি আহত হয়েছেন, এখন অসুস্থ আপনি। কেউ জিজ্ঞেস করলে এই কথাই বলবেন।
একটু থেকে হাতের রিভলভারটি নাচিয়ে নাচিয়ে বলল, মনে রাখবেন, যে মুহূর্তে কথার সামান্য অন্যথা দেখব, ছাতু করে দেব মাথা।
আহমদ মুসার মুখে একটা প্রশান্ত হাসি ফুটে উঠল। কোন উত্তর দিল না।
মেইলিগুলি বোরিসের পাশেই দাঁড়িয়েছিল। তার মনে হল বোরিসের হুমকি যেন পাথরের বুকে আছাড় খেয়ে ফিরে এল।
জেনারেল বোরিসের কাফেলা থানায় গিয়ে হাজির হলো।
থানাটি রাস্তা থেকে গজ পঞ্চাশেক দূরে একেবারে নদীর তীরে দাঁড়ানো। প্রথমেই একটা বড় গেট। গেট পেরুলে একটা লন, তারপর থানার প্রধান অফিস ঘর।
গেটে একজন পুলিশ দাঁড়ানো ছিল। মেইলিগুলি তাকে গিয়ে তার প্রয়োজনের কথা বলল। পুলিশ একবার মেইলিগুলির আগুন ঝরা অপরূপ সৌন্দর্যের দিকে তাকিয়ে গেট ছেড়ে দিল। মেইলিগুলি এবং জেনারেল বোরিস ভেতরে ঢুকে গেল। আহমদ মুসাকে নিয়ে অন্যারা গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকল।
থানার অফিসার ইনচার্জ একজন হীন গোত্রীয় চীনা। ধর্ম পরিচয়ে ওরা বৌদ্ধ। দু’একজন সেপাই ছাড়া থানার অধিকাংশ পুলিশই হীন গোষ্ঠীর। চীনের সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সময় অন্যান্য ক্ষেত্রের মত পুলিশ বিভাগ থেকে মুসলমানদের খেদানো হয়েছিল। বর্মমানে নতুন প্রশাসনের অধীনে তারা চাকুরী আবার কিছু কিছু ফিরে পেতে শুরু করেছে মাত্র।
মেইলিগুলি গিয়ে থানার অফিসার ইনচার্জকে তার কথা বলতে শুরু করল।
মেইলিগুলির নাম শুনেই পুলিশ অফিসার লাফিয়ে উঠল। পাশের ফাইল থেকে একটা ফটো বের করে এসে একবার ফটোর দিকে আর একবার মেইলিগুলির দিকে তাকিয়ে বলল, ঠিক মিলেছে, আপনার জন্যে হয়রান আমরা। কাশগড় রেষ্ট হাউজে আপনার মা ভীষণ উদ্বিগ্ন, তাকে আমরা জানিয়ে দিই আপনার কথা? খুশী হয়ে মেইলিগুলি মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল।
অফিসার ভেতরে আরেকটা রুমে চলে গেল। অল্পক্ষণ পর ফিরে এসে বলল, হেড কোয়ার্টারে জানিয়ে দিয়েছি। এখনি ওরা জানিয়ে দেবে আপনার মাকে।
-এখন শুনুন আমার কথা। বলল মেইলিগুলি।
-হ্যাঁ, হ্যাঁ, বলুন।
সব কথা শুনে অফিসার ইনচার্জ একগাল হেসে বলল, ও আপনি কোন চিন্তা করবেন না। ওরা থানার আশে-পাশে আসতে সাহস পাবে না।
তারপর জেনারেল বোরিসের দিকে হাত বাড়িয়ে বলল, ব্রেভম্যান, আপনাদের ধন্যবাদ। আমাদের বিরাট ঝামেলা থেকে বাঁচিয়েছেন।
জেনারেল বোরিসের মাথায় তখন অন্য চিন্তার ঝড়। সে ভাবছে, কাশগড়ে তাদের সংবাদ গেল কি করে? নিশ্চয় ছোট তারিমের ঐ এলাকয় হুই মুসলমানদের যে ঘাটি আছে সেখান থেকেই তাদের ব্যাপারে সব কথা কাশগড়ে তাদের লোকদের জানানো হয়েছে। আর তা অবশ্যই ওয়্যারলেসে। ওয়্যারলেসে তাদের জানানো সব কথার মধ্যে কি কি কথা আছে? সাইমুমের সাথে তাদের কি কোন সম্পর্ক আছে? যখন এসবের কিচুই জানা নেই, তখন সব কিছুই সন্দেহের ব্যাপার। সুতরাং কিছুতেই তার এদের নজরে পড়া চলবে না। আবার থানাতেও বেশীক্ষণ দেরী করা বিপজ্জনক। আহমদ মুসার ব্যাপারটাই শুধু নয়, আগ্নেয়াস্ত্রসহ যে সব লাগেজ আছে তা একবার চীনা পুলিশের নজরে পড়লে কোন দিনই এদের হাত থেকে ছাড়া পাওয়া যাবে না। এই সংকট থেকে উদ্ধার পাবার দুটোই পথ। প্রথমত মেইলিগুলিকে তার কাফেলা থেকে পৃথক করা, যাতে করে হুইদের নজরে পড়া থেকে এ কাফেলা বাঁচতে পারে। দ্বিতীয়ত কারো নজরে না পড়ে এইভাবে আহমদ মুসাকে কাশগড় পর্যন্ত পৌঁছানো। কাশগড়ে একবার পৌঁছাতে পারলে উরুমচি যাবার সব ব্যবস্থা এখানকার ‘ফ্র’ ইউনিট ঠিক করে রেখেছে।
জেনারেল বোরিস অফিসার ইনচার্জকে বলল, আমাদের প্রতি আপনার এ শুভেচ্ছার জন্যে ধন্যবাদ।
এক মুহূর্ত থেকে জেনারেল বোরিস বলল, মেইলিগুলির কাছে আপনি সবকিছু শুনেছেন। এখন আমার আবেদন হল, মেইলিগুলির দায়িত্ব আপনারা নিয়ে তাকে কাশগড়ে পাঠাবার ব্যবস্থা করুন। আর আমাদের জন্যে যেমন করে হোক একটা গাড়ির ব্যবস্থা করুন যাতে অসুস্থ লোকটিকে কাশগড় পর্যন্ত ভালোভাবে নিয়ে যেতে পারি। ঘোড়াগুলো আমাদের ক্লান্ত, এরা লাগেজও আর বইতে পারছে না।
থানা অফিসার একটু চিন্তা করে বলল, ঠিক আছে, অসুবিধা হবে না। একটা চার আসনের পিকআপ ভ্যান হলেই তো আপনার চলবে। আর মেইলিগুলিকে নিয়ে তো কাশগড় শুধু নয় উইঘুর ও গোটা সিংকিয়াং-এ মহা হৈ চৈ চলছে। ওঁকে এখনি একটা গাড়িতে কাশগড় পাঠিয়ে দিচ্ছি।
-আমরা এখনই যাত্রা করতে চাই।
-মেইলিগুলিকে এখনি পাঠাচ্ছি। পুলিশ সাথে থাকবে। এতে আপনাদেরও সুবিধা হবে।
-ধন্যবাদ। বলল জেনারেল বোরিস।
গাড়ির ব্যবস্থা হয়ে গেল। জেনারেল বোরিস ও তার লোকজন ঘোড়ার পিঠ থেকে লাগেজ খুলে পিকআপ ভ্যানে তোলার ব্যবস্থা করছে।
আহমদ মুসাকে প্রথমেই পিকআপ ভ্যান তোলা হয়েছে এবং দরজা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। জানালা দিয়ে আহমদ মুসাকে দেখা যাচ্ছে। জেনারেল বোরিসের একজন লোক সে জানালার পাশে ঘুর ঘুর করছে। বোঝাই যাচ্ছে সে আহমদ মুসার দিকে চোখ রেখেছে। তার একটা হাত পকেটে। অর্থাৎ প্রয়োজন হলে রিভলভার বের করতে এক মূহূর্ত দেরী করবে না।
মেইলিগুলির জীপ রেডি। একসাথে যাবার জন্যে সে দাঁড়িয়ে আছে। তার চোখ ঘুরে ঘুরে বারবার আহমদ মুসার দিকেই নিবন্ধ হচ্ছিল। কিন্তু একবারই শুধু তার সাথে চোখাচোখি হয়েছে। সেই যে চোখ নামিয়ে নিয়েছে আর সে মুখ তুলেনি তার দিকে। মেইলিগুলির মনে পড়ল, জেনারেল বোরিস যখন তার বাঁধন খুলে দিচ্ছিল এবং কথা বলছিল তখনও সে মেইলিগুলির দিকে একবারও ফিরে তাকায়নি। সে বিস্ময় মানল, কাছে পেয়েও মেইলিগুলির দিকে চোখ ফেলে না, তার দিকে গোগ্রাসে তাকিয়ে থাকে না, এমন মানুষ কি থাকতে পারে। সেই কৈশোর থেকে এমন একজন মানুষও তো সে পায়নি। হঠাৎ করে মনে পড়ল তাকে কিডন্যাপকারী যুবকদের কথা। তারা তাকে কিডন্যাপ করে দুই রাত লুকিয়ে রেখেছিল নির্জন স্থানে, তারপর একদিন মধ্য রাতে তাকে নিয়ে যাত্রা করেছিল তিয়েনশানে। কিন্তু তারা কেউ তার গা স্পর্শ করেনি, কোন প্রকার অশ্লীল আচরণও করেনি। ঐ যুবকদের আচরণও তার কাছে বিস্ময়কর। তবু তাদের চোরা চোখের দৃষ্টিতে মাঝে মাঝে সে তার প্রতি প্রশংসার পীড়ন অনুভব করেছে। কিন্তু এর চোখ তো তাকে কোন গণ্যের মধ্যেই আনছে না। কে এই অদ্ভুত বন্দী?
মেইলিগুলি ইতস্তত হাঁটতে হাঁটতে সেই পিকআপের জানালার সামনে গিয়ে দাঁড়াল। মেইলিগুলি সেখানে দাঁড়ালে জেনারেল বোরিসের লোকটি একপাশে সরে গিয়ে পায়চারি করতে লাগল।
মেইলিগুলি আহমদ মুসার প্রায় মুখোমুখি। দু’জনের মধ্যে ব্যবধান এক গজের চেয়ে বেশি হবে না। আহমদ মুসা একবার চোখ তুলেই আবার নামিয়ে নিয়েছে।
মেইলিগুলি জিজ্ঞেস করতে এসেছিল, কে এই বন্দী, কিন্তু হঠাৎ এ সময় তার মুখ দিয়ে বের হয়ে গেল, কিছু বলার আছে আপনার?
একেবারে ফিসফিসে স্বর ছিল মেইলিগুলির। প্রশ্নটা করেই সে ঘুরে দাঁড়িয়ে দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছিল লাগেজ টানাটানি কাজের দিকে। কিন্তু সে উৎকর্ণ ছিল আহমদ মুসার উত্তর শোনার জন্যে।
আহমদ মুসা তার এই প্রশ্নে কিছুটা বিস্মিত হলো এবং মেয়েটির এই সুন্দর অভিনয়ে মনে মনে হাসল। একটু ভেবে নিয়ে মেয়েটির ঐ প্রশ্নের জবাবে সে উইঘুর এলাকার আঞ্চলিক টানে বলল, শুকরিয়াহ বোন, আল্লাহ আপনার মঙ্গল করুন এবং জাতির কাজে লাগার শক্তি আপনাকে দিন।
কথা শেষ করে নিজের কথায় নিজেই চমকে উঠল আহমদ মুসা। বহুদিন-অনেক বছর পর সে নিজের মাতৃভাষায় কথা বলল। মাতৃভাষার এ ধ্বনি যেন মুহুর্তে তাকে অনেক পেছনের অতীতে টেনে নিয়ে গেল। মনে পড়ল শৈশব কৈশোর এবং যৌবনের প্রারম্ভ কালের অনেক ঘটনা, অনেক পুরানো চিত্র এবং তিয়েনশানের কোলে মুক্ত বাতাসের মত ছুটে বেড়ানোর মধুর অনেক স্মৃতি। যেভাবেই হোক, সেই তিয়েনশানের কোলে, সেই সিংকিয়াং-এ সে হাজির। একথা মনে হতেই কোত্থেকে যেন নতুন প্রাণের জোয়ার আসছে তার দেহে, প্রতি ধমনীতে।
আহমদ মুসার কথা শেষ হতে না হতেই জেনারেল বোরিস ছুটে এল এদিকে। এসে বলল, সব রেডি, উঠুন এবার গাড়িতে। এখন যাত্রা শুরু করলেও সন্ধ্যার আগে কিছুতেই আমরা কাশগড় পৌছাতে পারবো না।
মেইলিগুলি মনে মনে হাসল। বুঝল, বন্দীর সাথে কথা বলি এটা বোরিস চান না। এটা ঠেকানোর জন্যেই এখন গাড়িতে ওঠার তাড়াহুড়া। মেইলিগুলি মুখে বলল, ধন্যবাদ জেনারেল বোরিস, আমি প্রস্তুত।
মেইলিগুলি গাড়ির দিকে এগিয়ে গেল। গাড়িতে উঠে বসল সে। পেছনের সিটে বসল চারজন পুলিশ। হাতে তাদের স্টেনগান।
আগে চলল মেইলিগুলির জিপ। তার পেছনে জেনারেল বোরিসের পিকআপ। জেনারেল বোরিসদের ঘোড়াগুলো বাঁধা থাকল থানার গেটের বাইরে। ওগুলোর মালিকানা জেনারেল বোরিস থানা ইনচার্জকে দিয়ে গেল।
ছুটে চলেছে দু’টি গাড়ি কাশগড়ের পথে।
গাড়িতে বসে এখন এগিয়ে চলতে ভালো লাগছে মেইলিগুলির। মনে হচ্ছে, জীবনের এক দুঃস্বপ্নের ইতি ঘটিয়ে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে সে।
সুখের এই স্মৃতিচারণের সময় আবার তার সামনে এল সেই অদ্ভুত বন্দীর কথা। কি অদ্ভুত মানুষ সে। নিজের কথা সে কিছুই বলল না, যা বলা ছিল ঐ রকম নির্যাতনপিষ্ট বন্দীর জন্যে স্বাভাবিক। উপরি সে আমারই মঙ্গল কামনা করল। নিজের সম্পর্কে এমন নির্বিকার কোন কাউকে তো তার এর আগে নজরে পড়েনি। তার উপদেশের কথাও মনে পড়ল। জাতির কাজে লাগার জন্যে যে শক্তি চাই তা তিনি মেইলিগুলির জন্যে প্রার্থনা করেছেন কিন্তু যা তিনি চেয়েছেন তা তো আমি কোনদিন চাইনি। নিজেকে নিয়ে ভেবেছি, জাতিকে নিয়ে তো কোন দিন ভাবিনি। তার কথা কি এই ভাববারই আহবান! কে এই আহ্বানকারী অদ্ভুত, অসাধারণ এবং অজানা এই বন্দী?
আশ-পাশের ঝোপঝাড় এবং পাহাড়ের ছোটখাট টিলার মিছিল পেছনে ফেলে তীব্র গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে দু’টো গাড়ি। মাঝপথে একদল ঘোড়সওয়ারকে অতিক্রম করল গাড়ি দু’টি। মুখ বাড়িয়ে তাদের দেখে মেইলিগুলি বুঝল, হুইরা বোধ হয় তাদের সন্ধানেই বেরিয়েছিল।
সন্ধ্যার পর গাড়ি দু’টি কাশগড় শহরে প্রবেশ করল। শহরে প্রবেশ করার পর মেইলিগুলির গাড়ি এগিয়ে চলল সরকারী রেষ্ট হাউজের দিকে। আর জেনারেল বোরিসের গাড়ি মোড় নিল শহরের হান রেসিডেন্সিয়াল এরিয়ার দিকে। মুখ ফিরিয়ে মেইলিগুলি একবার জেনারেল বোরিসের গাড়ির দিকে চাইল, একটা বেদনা বোধ করল সে মনে। জেনারেল বোরিসের হাতে ঐ অদ্ভুত বন্দীর কী যে হবে! বন্দীর মুখ থেকে শোনা তার উইঘুর টোনের কথা মনে পড়ল। সেকি তাহলে সিংকিয়াং-এর লোক? হঠাৎ মেইলিগুলির মনে হল, সে কি তার জন্যে কিছু করতে পারতো না!
কথাটা যখন মনে পড়ল, তখন সে চোখ ফিরিয়ে দেখল জেনারেল বোরিসের গাড়িটির রেয়ার লাইটের ক্ষীণ চিহ্নটিও পেছনের কালো আঁধারে মিশে গেছে।

Page 90 of 165
Prev1...899091...165Next
Previous Post

পরী – আলাউদ্দিন আল আজাদ

Next Post

বিচিত চিন্তা – সাহিত্য চিন্তা – আহমদ শরীফ

Next Post

বিচিত চিন্তা – সাহিত্য চিন্তা - আহমদ শরীফ

বিচিত চিন্তা - সংস্কৃতি চিন্তা - আহমদ শরীফ

মন্তব্য করুন জবাব বাতিল

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সাম্প্রতিক প্রকাশনাসমূহ

  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৫: ভূমিকম্প – শামসুদ্দীন নওয়াব
  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৮: বিভীষিকার প্রহর – রকিব হাসান
  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৭: বড়দিনের ছুটি – রকিব হাসান
  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৭: আলাস্কা অভিযান – রকিব হাসান
  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৭: আমিই কিশোর – রকিব হাসান

বিভাগসমূহ

  • আত্মজীবনী
  • ইতিহাস
  • উপন্যাস
  • কবিতা
  • কাব্যগ্রন্থ
  • গল্পের বই
  • গোয়েন্দা কাহিনী
  • ছোট গল্প
  • জীবনী
  • দর্শন
  • ধর্মীয় বই
  • নাটকের বই
  • প্রবন্ধ
  • বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী
  • বৈজ্ঞানিক বই
  • ভূতের গল্প
  • রহস্যময় গল্পের বই
  • রোমাঞ্চকর গল্প
  • রোম্যান্টিক গল্পের বই
  • শিক্ষামূলক বই
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • গোপনীয়তা নীতি

© 2023 BnBoi - All Right Reserved

No Result
View All Result
  • বাংলাদেশী লেখক
    • অতুলচন্দ্র গুপ্ত
    • অভিজিৎ রায়
    • আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    • আনিসুল হক
    • আবু ইসহাক
    • আবু রুশদ
    • আবুল আসাদ
    • আবুল খায়ের মুসলেহউদ্দিন
    • আবুল বাশার
    • আরজ আলী মাতুব্বর
    • আল মাহমুদ
    • আসাদ চৌধুরী
    • আহমদ ছফা
    • আহমদ শরীফ
    • ইমদাদুল হক মিলন
    • উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    • কাসেম বিন আবুবাকার
    • জসীম উদ্দীন
    • তসলিমা নাসরিন
    • দাউদ হায়দার
    • দীনেশচন্দ্র সেন
    • নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    • নিমাই ভট্টাচার্য
    • প্রফুল্ল রায়
    • প্রমথ চৌধুরী
    • ময়ূখ চৌধুরী
    • মহাদেব সাহা
    • মাহমুদুল হক
    • মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    • হুমায়ূন আহমেদ
  • ইন্ডিয়ান লেখক
    • অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়
    • অতুল সুর
    • অদ্রীশ বর্ধন
    • অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • অনীশ দেব
    • অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • অমিয়ভূষণ মজুমদার
    • আশাপূর্ণা দেবী
    • আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
    • ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    • কাজী নজরুল ইসলাম
    • ক্ষিতিমোহন সেন
    • তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    • তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়
    • দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    • নারায়ণ সান্যাল
    • নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    • নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    • পাঁচকড়ি দে
    • পূর্ণেন্দু পত্রী
    • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • বিমল মিত্র
    • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    • হেমেন্দ্রকুমার রায়
  • বিভাগসমূহ
    • আত্মজীবনী
    • ইতিহাস
    • উপন্যাস
    • কবিতা
    • কল্পকাহিনী
    • কাব্যগ্রন্থ
    • খেলাধুলার বই
    • গল্পের বই
    • গোয়েন্দা কাহিনী
    • ছোট গল্প
    • জীবনী
    • দর্শন
    • ধর্মীয় বই
    • নাটকের বই
    • প্রবন্ধ
    • বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী
    • বৈজ্ঞানিক বই
    • ভূতের গল্প
    • মুক্তিযুদ্ধের-বই
    • রহস্যময় গল্পের বই
    • রোমাঞ্চকর গল্প
    • রোম্যান্টিক গল্পের বই
    • শিক্ষামূলক বই
    • সমগ্র
  • সিরিজ বই
    • মিসির আলী সমগ্র
    • হিমু সিরিজ

© 2023 BnBoi - All Right Reserved

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In