• আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • গোপনীয়তা নীতি
সোমবার, জুন 8, 2026
  • Login
BnBoi.Com
  • বাংলাদেশী লেখক
    • অতুলচন্দ্র গুপ্ত
    • অভিজিৎ রায়
    • আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    • আনিসুল হক
    • আবু ইসহাক
    • আবু রুশদ
    • আবুল আসাদ
    • আবুল খায়ের মুসলেহউদ্দিন
    • আবুল বাশার
    • আরজ আলী মাতুব্বর
    • আল মাহমুদ
    • আসাদ চৌধুরী
    • আহমদ ছফা
    • আহমদ শরীফ
    • ইমদাদুল হক মিলন
    • উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    • কাসেম বিন আবুবাকার
    • জসীম উদ্দীন
    • তসলিমা নাসরিন
    • দাউদ হায়দার
    • দীনেশচন্দ্র সেন
    • নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    • নিমাই ভট্টাচার্য
    • প্রফুল্ল রায়
    • প্রমথ চৌধুরী
    • ময়ূখ চৌধুরী
    • মহাদেব সাহা
    • মাহমুদুল হক
    • মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    • হুমায়ূন আহমেদ
  • ইন্ডিয়ান লেখক
    • অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়
    • অতুল সুর
    • অদ্রীশ বর্ধন
    • অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • অনীশ দেব
    • অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • অমিয়ভূষণ মজুমদার
    • আশাপূর্ণা দেবী
    • আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
    • ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    • কাজী নজরুল ইসলাম
    • ক্ষিতিমোহন সেন
    • তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    • তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়
    • দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    • নারায়ণ সান্যাল
    • নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    • নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    • পাঁচকড়ি দে
    • পূর্ণেন্দু পত্রী
    • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • বিমল মিত্র
    • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    • হেমেন্দ্রকুমার রায়
  • বিভাগসমূহ
    • আত্মজীবনী
    • ইতিহাস
    • উপন্যাস
    • কবিতা
    • কল্পকাহিনী
    • কাব্যগ্রন্থ
    • খেলাধুলার বই
    • গল্পের বই
    • গোয়েন্দা কাহিনী
    • ছোট গল্প
    • জীবনী
    • দর্শন
    • ধর্মীয় বই
    • নাটকের বই
    • প্রবন্ধ
    • বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী
    • বৈজ্ঞানিক বই
    • ভূতের গল্প
    • মুক্তিযুদ্ধের-বই
    • রহস্যময় গল্পের বই
    • রোমাঞ্চকর গল্প
    • রোম্যান্টিক গল্পের বই
    • শিক্ষামূলক বই
    • সমগ্র
  • সিরিজ বই
    • মিসির আলী সমগ্র
    • হিমু সিরিজ
No Result
View All Result
  • বাংলাদেশী লেখক
    • অতুলচন্দ্র গুপ্ত
    • অভিজিৎ রায়
    • আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    • আনিসুল হক
    • আবু ইসহাক
    • আবু রুশদ
    • আবুল আসাদ
    • আবুল খায়ের মুসলেহউদ্দিন
    • আবুল বাশার
    • আরজ আলী মাতুব্বর
    • আল মাহমুদ
    • আসাদ চৌধুরী
    • আহমদ ছফা
    • আহমদ শরীফ
    • ইমদাদুল হক মিলন
    • উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    • কাসেম বিন আবুবাকার
    • জসীম উদ্দীন
    • তসলিমা নাসরিন
    • দাউদ হায়দার
    • দীনেশচন্দ্র সেন
    • নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    • নিমাই ভট্টাচার্য
    • প্রফুল্ল রায়
    • প্রমথ চৌধুরী
    • ময়ূখ চৌধুরী
    • মহাদেব সাহা
    • মাহমুদুল হক
    • মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    • হুমায়ূন আহমেদ
  • ইন্ডিয়ান লেখক
    • অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়
    • অতুল সুর
    • অদ্রীশ বর্ধন
    • অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • অনীশ দেব
    • অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • অমিয়ভূষণ মজুমদার
    • আশাপূর্ণা দেবী
    • আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
    • ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    • কাজী নজরুল ইসলাম
    • ক্ষিতিমোহন সেন
    • তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    • তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়
    • দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    • নারায়ণ সান্যাল
    • নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    • নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    • পাঁচকড়ি দে
    • পূর্ণেন্দু পত্রী
    • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • বিমল মিত্র
    • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    • হেমেন্দ্রকুমার রায়
  • বিভাগসমূহ
    • আত্মজীবনী
    • ইতিহাস
    • উপন্যাস
    • কবিতা
    • কল্পকাহিনী
    • কাব্যগ্রন্থ
    • খেলাধুলার বই
    • গল্পের বই
    • গোয়েন্দা কাহিনী
    • ছোট গল্প
    • জীবনী
    • দর্শন
    • ধর্মীয় বই
    • নাটকের বই
    • প্রবন্ধ
    • বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী
    • বৈজ্ঞানিক বই
    • ভূতের গল্প
    • মুক্তিযুদ্ধের-বই
    • রহস্যময় গল্পের বই
    • রোমাঞ্চকর গল্প
    • রোম্যান্টিক গল্পের বই
    • শিক্ষামূলক বই
    • সমগ্র
  • সিরিজ বই
    • মিসির আলী সমগ্র
    • হিমু সিরিজ
No Result
View All Result
BnBoi.Com
No Result
View All Result

সাইমুম সিরিজ – আবুল আসাদ

সাইপ্রাসের দক্ষিণে ভূমধ্যসাগরের বুক চিরে এগিয়ে চলেছে আহমদ মুসার ফিশিং ট্রলার বোটটি।
আহমদ মুসা যাত্রা করেছে দক্ষিণ সাইপ্রাসের পাফোস বন্দর থেকে। বন্দরটি মূলত ফিশিং বন্দর। আহমদ মুসা আগের দিন সাইপ্রাসে এসে থেমেছিল লিমাসোল বন্দরে একজন ট্যুরিষ্টের পরিচয়ে। বৈরুত থেকে সে সাইপ্রাসের ভিসা নিয়েছিল আবু আমরকে দিয়ে দালালের মাধ্যমে। পাসপোর্টে তার হবি লেখা আছে ফিশিং ও ফরেষ্ট ট্যুরে। আহমদ মুসা লিমসোল থেকে কিছু খোঁজ-খবর নিয়ে গতকালই সড়ক পথে এসেছিল দক্ষিণ সাইপ্রাসের সর্বদক্ষিণ বন্দর শহর পাফোসে। এখানে এসে আরও খোঁজ খবর নিয়ে জেনেছিল, তোয়া উপকূল মাছ শিকারের জন্যে বিখ্যাত। সাইপ্রাস থেকেও জেলেরা মাছ শিকারে মাঝে মাঝে সেখানে যায়। অনুমতি নিয়ে ও রয়্যালটি দিয়ে সেখানে মাছ শিকার করা যায়। তবে কয়েকদিন হলো সেখানে মাছ শিকার ভীষণ কড়াকড়ির মধ্যে পড়েছে। সবাইকে মাছ শিকারের অনুমতি দেয়া হচ্ছে না। কথা বলে খুশি হলে তবেই এই অনুমতি মেলে। দ্বীপে ট্যুরিষ্টদের যাতায়াত নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। আইনসংগত ও অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যবসায় ও চাকরির প্রয়োজন ছাড়া সাইপ্রাসবাসিরাও সেখানে যেতে পারে না।
আহমদ মুসা ভালো করে খোঁজ-খবর নিয়ে একটা ফিশিং ট্রলার কোম্পানীতে যায়। নিজের পরিচয় দিয়ে বলে যে, সে একজন পর্যটক, ফিশিং তার হবি। তোয়া উপকূলে মাছ শিকার তার বহুদিনের ইচ্ছা। তাকে ভালো ট্রলার ও সহযোগিতার জন্যে জেলে দিয়ে সাহায্য করলে এর জন্যে উপযুক্ত অর্থ দিতে সে রাজি আছে। কোম্পানির মালিক বলে, এর জন্যে তো লাগবে অনেক অর্থ। অত্যাধুনিক ট্রলার যদি নিতে হয়, তাহলে প্রথম ফেরত যোগ্য সিকিউরিটি ডিপোজিট ৫ হাজার মার্কিন ডলার। আর প্রতি ঘণ্টায় ট্রলারের ভাড়া ১০০ ডলার করে। কমপক্ষে ৫ জন জেলে সাথে যাবে। তাদের প্রতিজনের প্রতি ছয় ঘণ্টার কর্মদিনের জন্যে লাগবে ১০০ ডলার করে। ফিশিং সরঞ্জামের ভাড়া লাগবে না। সেটা বোটের ভাড়ার মধ্যে শামিল।
খরচের হিসেব শুনে আহমদ মুসা মনে মনে বলেছিল, এর দ্বিগুণ, কিংবা কয়েকগুণ বেশি দাবি করলেও তোমরা পেতে। কিন্তু মুখে বলেছিল, ট্রলার ভাড়া ও জেলেদের পারিশ্রমিক যা আশা করেছিলাম, তার চেয়ে অনেক বেশি।
কোম্পানীর কর্তা বলেছিল, তাহলে স্যার ফিশিং আইডিয়া ছেড়ে দিন, সেটাই ভাল।
এটাই যদি আপনার শেষ কথা হয়, তাহলে আমাকে রাজি হতেই হবে। অনেক আশা করে আমি এসেছি। বলেছিল আহমদ মুসা।
ধন্যবাদ। সাংঘাতিক ফিশিং হবি তো আপনার! কিন্তু আরেকটি ব্যাপারে আপনাকে রাজি হতে হবে। সেটা হলো, তোয়া উপকূল এলাকায় বর্তমানে খুব কড়াকড়ি চলছে। আপনি যদি ফিশিং অনুমতি না পান কিংবা আপনার কোন বিপদ হয় তার জন্যে আমরা দায়ী থাকব না এবং আমরা ক্ষতিও স্বীকার করব না। দ্বিতীয়ত এক কর্মদিন অর্থাৎ ছয় ঘণ্টার ভাড়া ও পারিশ্রমিক আপনাকে সিকিউরিটি মানির সাথে অগ্রিম জমা দিতে হবে। বলেছিল কোম্পানীর কর্মকর্তা।
আপনাদের এ শর্তও আমি মেনে নিচ্ছি। তবে আমার যদি কোন বিপদ হয়, তবে সেটা আমার আত্মীয়-স্বজনকে আপনাদের জানাতে হবে। আমি নিকোশিয়ার একটা পোষ্ট বক্স নাম্বার দিয়ে যাবো। সেখানে জানালেই আমার আত্মীয়-স্বজনরা তা পেয়ে যাবে। কৃত্রিম বিনীত কণ্ঠে বলেছিল আহমদ মুসা।
এভাবে একটা আধুনিক ফিশিং ট্রলার বোট এবং ৫ জন জেলে নিয়ে যাত্রা করেছে আহমদ মুসা।
বিকেল চারটায় বোট নিয়ে পাফোস থেকে যাত্রা করেছে আহমদ মুসা। আহমদ মুসা বলেছে শেষ রাত এবং সকালেই সে মাছ ধরতে ভালবাসে। সে সন্ধ্যার মধ্যে তোয়া উপকূলে পৌছতে চায়।
পূর্ণ শক্তিতে এগিয়ে চলেছে আহমদ মুসার বোট উপকূলের দিকে।
বোটের পেছন দিকে বোটের চার ভাগের এক ভাগ জায়গায় আধুনিক কেবিন। কেবিনের মাথার উপর ফ্ল্যাগ ষ্ট্যান্ডে উড়ছে ফিশিং পতাকা।
আহমদ মুসা হাতঘড়ির দিকে তাকাল। সাড়ে ৫টা বাজে। নব্বই-একশ মাইলের মত এসেছে। আরও পঞ্চাশ-ষাট মাইল বাঁকি। তার মানে আরও এক ঘণ্টা লাগবে তোয়া উপকূলে পৌছতে। সন্ধ্যায় পৌছবে তারা তোয়া উপকূলে। এ রকম একটা সময়ই আহমদ মুসা চায়।
আহমদ মুসার পরিকল্পনা হলো, সাংঘাতিক অসুস্থ হওয়ার কথা বলে সে উপকূলে নেমে সকালে ফিরে আসার কথা বলবে। আর যদি সকালে ফিরতে না পারে, তাহলে ট্রলার যেন চলে যায়। একটা বেয়ারার চেক দিয়ে যাবে, যা ভাঙালে তাদের পাওনা পরিশোধ হয়ে যাবে।
আরও এক ঘণ্টা পার হলো।
তোয়া উপকূলে তারা এসে পৌছেছে। তোয়া দ্বীপের উত্তর উপকূলটা কালো দেয়ালের মত তাদের সামনে। তোয়া দ্বীপ থেকে কোন আলো তারা দেখতে পাচ্ছে না, কিন্তু উপকূলের পানিতে আলোর ছুটোছুটি দেখা যাচ্ছে। পাঁচজন জেলের যে সর্দার সে বলল, স্যার ছুটন্ত যে আলোগুলো দেখছেন, সেগুলো উপকূল গার্ডদের বোটের আলো। আমাদের বোটের আলো দেখলেই দেখবেন তারা ছুটে আসবে।
আমাদের বোটের আলো দেখে তারা বুঝবে কি করে যে, আমাদের এটা উপকূল গার্ডের বোট নয়। অন্ধকারে তো তারা আমাদের বোট দেখতে পাবে না। জিজ্ঞেস করল আহমদ মুসা।
স্যার, দেখুন ওদের ও আমাদের বোটের আলোর রংয়ে পার্থক্য আছে। দেখুন আমাদের বোটের আলোর রং সম্মোহনকারী হালকা নীলাভ। রাতে মাছ শিকারের জন্যে এই রং খুব কার্যকরী। সব বোটের আলোই এই রংয়ের। কিন্তু ওদের বোটের আলো দেখুন স্বচ্ছ সাদা। বলল জেলেদের সর্দার।
আহমদ মুসাদের বোট তখন ‘তোয়া’ উপকূলের আরও কাছে চলে এসেছে।
এই সময় জেলেদের সর্দার নিকোলাস নেলসন দ্রুতকণ্ঠে বলল, স্যার দেখুন, দু’টি বোট আমাদের দিকে ছুটে আসছে। তার কণ্ঠে উদ্বেগ।
আহমদ মুসাও দেখল দু’টি আলো তীর বেগে তাদের দিকে ছুটে আসছে। আহমদ মুসা বলল, আমি সাইপ্রাসের লোক নই দেখলে তারা আমাকে কি করবে বলে মনে কর?
স্যার, তারা কথা বলে ছেড়েও দিতে পারে, জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে উর্ধ্বতন অফিসারদের কাছে নিয়েও যেতে পারে। উর্ধ্বতন অফিসাররা ছেড়ে দিতে পারে। কিন্তু স্যার, সন্দেহ হলে তারা নির্ঘাত মেরে ফেলবে। স্যার, এখনকার ওরা মানুষের বাচ্চা নয়। গত সপ্তাহ দুই ধরে এই অবস্থা হয়েছে।’ বলল জেলেদের সর্দার নিকোলাস নেলসন।
আমাকে নিয়ে গেলে তোমরা কি করবে? আহমদ মুসার জিজ্ঞাসা।
নিয়ে যাবে তারা? আমরা বুঝতে পারছি না স্যার, আপনাকে নিয়ে গেলে আমরা কি করব। আপনিই বলুন।
আমি ভয় করছি না। আমাকে নিয়ে গেলেও তারা ছেড়ে দেবে। সন্দেহের কিছু পাবে না। নিয়ে যদি যায় তাহলে তোমরা অপেক্ষা না করে চলে যেও। আমি যাবার সময় একটা চেক দিয়ে যাব, সেটা পাফোসের ব্যাংকে ভাঙিয়ে পাওনা নিয়ে নিতে পারবে। বলল আহমদ মুসা।
আপনার কথা শুনে আমারই ভয় করছে স্যার। কিন্তু আপনাকে ভীত দেখছি না? বলল জেলেদের সর্দার।
‘ভয় পাব কেন? আমার কোনই অপরাধ নেই। মানুষ মানুষকে ভয় পাবে কেন?’ আহমদ মুসা বলল।
আপনি ঠিকই বলেছেন স্যার। কিন্তু ওরা তো মানুষ নয়। সামান্য সন্দেহ হলেও ওরা পাখির মত গুলী করে মানুষ মারে। ভয়টা আমার এ জন্যেই। আপনি খুব ভাল মানুষ…….।
কথা শেষ না করেই বলল, স্যার ওরা এসে গেছে।
ঠিক আছে, আসতে দাও। বলল আহমদ মুসা।
এর কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই দু’দিক থেকে দুই পেট্রল বোট এসে আহমদ মুসাদের বোটের দু’পাশে অবস্থান নিল। দু’পাশের দু’বোট থেকে দু’হুক দিয়ে আহমদ মুসাদের বোটকে ওদের বোটের সাথে আটকে দেয়া হলো।
দু’বোট থেকে দু’অফিসার আহমদ মুসাদের বোটে উঠে এল। তাদের সাথে উঠে এল আরও দু’জন প্রহরী। তাদের হাতে উদ্যত সাব-মেশিনগান, তা তাক করা বোটের লোকদের দিকে।
বোটে উঠেই একজন অফিসার বোটের সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলল, পরিচয়ের কাগজপত্র নিয়ে সার বেধে দাঁড়াও।
জেলেরাসহ আহমদ মুসা সার বেঁধে দাঁড়াল। জেলেদের সবার কাগজপত্র দেখে ওকে করে দিল। কিন্তু অফিসারটি আহমদ মুসার ফিসিং কন্ট্রাক্টের কাগজপত্র ও পাসপোর্ট দেখে বিস্ময়ের সাথে আহমদ মুসার দিকে তাকাল। বলল, জানেন না, ‘তোয়া উপকূলে পর্যটকদের আসা নিষিদ্ধ হয়েছে?
আমি পর্যটক হিসেবে আসিনি, আমি এসেছি এখানে ফিশিং-এর জন্যে। বলল আহমদ মুসা।
কিন্তু নিশ্চয় আপনি জেনেছেন, সাইপ্রাসের নাগরিক ছাড়া অন্য সবার জন্যে ফিশিং এখানে নিষিদ্ধ?
আমি সাইপ্রাসের নই বটে, কিন্তু যাদের নিয়ে আমি ফিশিং এ এসেছি, সবাই সাইপ্রাসের। বোট, ফিশিং সরঞ্জাম, জেলে সবাই সাইপ্রাসের। আহমদ মুসা বলল।
কিন্তু আপনি সাইপ্রাসের নন। অন্যদের ব্যাপারে প্রশ্ন নেই।
কথা শেষ করেই অফিসারটির দিকে চেয়ে বলল, এঁকে আমাদের বেজ ক্যাম্পে নিয়ে যাও। তাঁরা জিজ্ঞাসাবাদ করে দেখুক।
অফিসারটির কথা শেষ হতেই জেলেদের সর্দার নিকোলাস নেলসন বলল, স্যার, ওঁকে নিয়ে যাবেন না। আমরা ফিশিং করব না, আমরা ফিরে যাচ্ছি সাইপ্রাসে।
ওঁকে ছাড়ার ক্ষমতা আমাদের নেই। অবাঞ্জিত কেউ আমাদের জলসীমা ও উপকূলে ধরা পড়লে, তাকে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের সামনে নিয়ে যেতে হবে। তারা জিজ্ঞাসাবাদ করবেন, তাঁদের কাছে নামের তালিকা ও ফটোর এ্যালবাম আছে, সে সবের সাথে মিলিয়ে যা ইচ্ছে তারাই করবেন। থামল অফিসার।
থেমেই সে পুলিশ অফিসারকে উদ্দেশ্য করে বলল, ইলাম, এঁকে সার্চ করে তোমার বোটে তুলে নাও।
ইলাম নামের অফিসার এগিয়ে এল।
আহমদ মুসা নিজের থেকেই হাত তুলে দাঁড়াল।
অফিসারটি এসে আহমদ মুসার জ্যাকেট ও প্যান্টের সবগুলো পকেট সার্চ করল। কমর সার্চ করার সময় চামড়ার খাপে একটা ছুরি পেল সে।
ছুরিটি খুলে নিয়ে অন্য অফিসারটির উদ্দেশ্যে বলল, পকেটে মানিব্যাগ ছাড়া আর কিছু নেই স্যার।
ঠিক আছে তাকে বোটে তুলে নাও। বলল অফিসারটি।
আহমদ মুসা সার্চকারী অফিসারটিকে বলল, একটু সময় দিন।
বলে আহমদ মুসা পকেট থেকে মানিব্যাগ বের করে একটা চেক বের করে জেলেদের সর্দারের হাতে দিয়ে বলল, ব্যাংকে এটা ভাঙিয়ে আপনাদের ও মালিকের পাওনা নিয়ে নেবেন।
কথা শেষ করেই অফিসারটির সাথে যাবার জন্যে ঘুরে দাঁড়াতে যাচ্ছিল। জেলেদের সর্দার নেলসন বলল, স্যার আমরা কি অপেক্ষা করব না?
না অপেক্ষা করবে না। বলল আহমদ মুসা।
আপনি ফিরবেন কি করে? জিজ্ঞাসা নেলসনের।
যারা আমাকে নিয়ে যাচ্ছেন, তাদেরই দায়িত্ব হবে আমাকে আমার জায়গায় ফেরত পাঠানো। আহমদ মুসা বলল।
আহমদ মুসা বোটে উঠলে তারপর অফিসারটি বোটে উঠে এল।
সংগে সংগেই বোট ষ্টার্ট নিল।
বোটে অফিসারসহ ওরা পাঁচজন।
আহমদ মুসাকে বোটের সামনে রেখে বোটের মাঝখানে অফিসারসহ চারজন বসল। বোটের পেছনে একজন। বোটকে সেই ড্রাইভ করছে।
বোটের মাঝখানে অফিসার ছাড়া তিনজনের হাতেই ষ্টেনগান। নির্দেশ বা প্রয়োজন হলেই ষ্টেনগানগুলোর নল উঠে আসবে এবং গুলীর বৃষ্টি সৃষ্টি করবে।
বোট দ্রুত চলছে উপকূলের দিকে।
অফিসারটি এক সময় আহমদ মুসাকে লক্ষ্য করে বলল, তোমাকে খুব সাহসী ও বুদ্ধিমান মনে হচ্ছে। কিন্তু তুমি এভাবে ফাঁদে পড়লে কেন?
ফাঁদে কোথায়? জিজ্ঞাসাবাদ তো তোমরা করতেই পার। আহমদ মুসা বলল।
হাসল অফিসারটি। বলল, ফাঁদ নয় ফাঁসি কাষ্টের দিকে তুমি যাচ্ছ। দুঃখের সাথে বলছি, তোমার মত অবাঞ্চিত, অপরিচিত যারা তোয়া দ্বীপে পা রাখে, তারা আর ফিরে যায় না।
আহমদ মুসা ওদের চ্যালেঞ্জ করারই একটা পথ খুঁজছিল। সে সুযোগ পেয়ে বলল, কিন্তু তোমরা আমাকে বলেছ, তোমরা জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে আমাকে নিয়ে যাচ্ছ। এখন বলছ তোমাদের মতলব অন্যরকম। তাহলে তো আমি যাব না।
হেসে উঠল অফিসারটি। বলল, মনে হচ্ছে যাওয়া না যাওয়া তোমার হাতে?
দেখ, আমি এখনও তোমাদের বেজ ক্যাম্পে যাইনি। আমি এখনও মুক্ত।
তোমার সামনে তিনটি ষ্টেনগান আছে দেখতে পাচছ না? নির্দেশ দিলেই হা করে উঠবে তোমার দিকে, তোমাকে ঝাঁঝরা করে দেবে গুলীর বৃষ্টি।
আহমদ মুসা পা মুড়ে বসে ছিল। মুড়ানো তার ডান পা তার ডান ‘হিপ’-এর বাইরে বেরিয়ে ছিল। আহমদ মুসার ডান হাতটা তার ডান পায়ের টাকনুর উপর রাখা ছিল। আর তার পায়ের মোজার ভেতর গুজে রাখা এম-১৬ এর সর্বাধুনিক মিনি সংস্করণ ‘লিটল ক্যানল’ রিভলবারটির বাট আহমদ মুসার ডান হাত স্পর্শ করে আছে। আহমদ মুসার ঠোঁটে ফুটে উঠেছে এক টুকরো হাসি।
সে দুটো আঙুল দিয়ে নাইলনের মোজা ইতিমধ্যেই নামিয়ে দিয়েছে। এবার ‘লিটল ক্যানন’-এর বাঁটে হাত রেখে বলল, তোমরা কি করবে, আমাকে মেরে ফেলবে?
কেন, ক্ষতি কি? যে কাজটা ওরা একটু পরে করবে, সে কাজ আমরা এখন করলে ক্ষতি কি? বরং তারা খুশি হবে এই ভেবে যে, আমরা শেয়ানা হয়েছি।
কিন্তু মি. এ্যারন, শুধু গন্ডাখানেক ষ্টেনগান থাকলেই মানুষকে আটকানো যায় না।’
বলেই আহমদ মুসা রিভলবার সমেত ডান হাত বিদ্যুত বেগে সামনে এনে চারজনকে তাক করল। বলল, তোমরা ষ্টেনগান তোলার চেষ্টা করলে আর মি. এ্যারন তুমি পকেটে হাত দেয়ার চেষ্টা করলে এই ‘লিটল ক্যানন’ ব্রাশ ফায়ার করবে। তোমার হাতের ষ্টেনগান, হাতের রিভলবার বোটে রেখে পানিতে নেমে যাও, আমি তোমাদের মারতে চাই না।
একথা বলার সময় পেছনে ড্রাইভিং-এ বসা লোকটি তার পাশে রাখা ষ্টেনগান তুলতে যাচ্ছিল।
আহমদ মুসা এদের সাথে কথা বললেও তার চোখ পেছনের লোকটিকেও কভার করছিল।
কথা বলার মধ্যেই আহমদ মুসার ‘লিটল ক্যানন’ রিভলবারটির ট্রিগার সেকেন্ডের জন্যে চেপে বসল আর সামনে বসা চারজনের মধ্যে দু’জনের ফাঁক দিয়ে কয়েকটা বুলেট ছুটে গিয়ে নিখুঁতভাবে তার মাথায় আঘাত করল।
লোকটির দেহ উল্টে ঝপ করে পানিতে পড়ে গেল।
এরা চারজনই পলকের জন্যে পেছনে তাকিয়ে মরিয়া হয়ে তিনজন তাদের ষ্টেনগানের নল উপরে তুলেছিল। আর অফিসারটিও হাত দিয়েছিল পকেটে।
কিন্তু ঐ পর্যন্তই। আহমদ মুসার তর্জনি ট্রিগারের উপরেই ছিল। তা আবার চেপে বসল ট্রিগারে। আর আহমদ মুসার হাতটি রিভালবারটি ঘুরিয়ে নিল চারজনের ওপর দিয়ে।
মুহূর্তেই চারজনের দেহ ঝরে পড়ল বোটের ওপর।
আহমদ মুসা চারদিকে চেয়ে দেখল, আশেপাশে কোন পেট্রল বোটের আলো দেখা যাচ্ছে না। আর অটো সাইলেন্সারের ‘লিটল ক্যানন’ গুলী করার সময় সামান্য হিস হিস ছাড়া কোন শব্দ করে না।
আহমদ মুসা তার ‘লিটল ক্যানন’-এর নলটা মুছে নিয়ে সেটা আর সে পায়ের মোজায় গুজল না। কাঁধের মধ্যখানে ঘাড়ের নিচে জ্যাকেটের একটা গোপন পকেটে ঢুকিয়ে রাখল। তারপর লাশগুলো পানিতে ফেলে দিল। বোটের আলো নিভিয়ে দিয়ে সে গিয়ে পেছনের ড্রাইভিং সিটে বসল। বোটের ইঞ্জিন বন্ধ করে দিল। ফ্লাগ ষ্ট্যান্ডের সাথে বেঁধে রাখা ইমার্জেন্সি ফ্ল্যাগ খুলে ফেলল। তারপর ফ্ল্যাগ ষ্ট্যান্ড খুলে নিয়ে বৈঠা বেয়ে সে চলল উপকূলের দিকে।
অন্ধকারে গা ঢাকা দিয়ে নিঃশব্দে চলল বোটটি।
পৌনে এক ঘণ্টার মত বোট চালিয়ে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে আহমদ মুসা উপকূলের গাছপালার আড়ালে পৌছে গেল।
তীরের কোথায় কি আছে, কোথায় রাস্তা, কোথায় কোথায় ওদের বেজ ক্যাম্প আছে, এ সম্পর্কে আহমদ মুসার কোন কিছুই জানা নেই। তবে একটা বিষয়ে সে নিশ্চিত, তোয়া দ্বীপের তোয়া শহরটি এবং তোয়ার শাসনকেন্দ্র যেহেতু পূর্ব উপকূলের মাঝামাঝি স্থানে, তাই বোটটি সে উত্তর উপকূলের পূর্ব অংশের কোথাও নোঙর করে স্থলপথে ‘তোয়া’ শহরের দিকে এগোতে চায়। উপকূলের পশ্চিমাঞ্চল ও মধ্যভাগের দুই স্থানে আলো দেখতে পেল আহমদ মুসা। ওগুলো কি কোষ্টাল গার্ডদের বেজ ক্যাম্প? যাই হোক, তার গন্তব্য এটা নয়। তাকে আরও পূর্বে এগোতে হবে।
উপকূল ধরে আরও এগোলো আহমদ মুসা।
পূর্ব প্রান্তের দিকে অনেকটাই চলে এসেছে আহমদ মুসা।
ডান পাশে উপকূলে আরো এক গুচ্ছ আলোর রেখা দেখতে পেল আহমদ মুসা। আর পূর্বে এগোনো নয়, এরই আশেপাশে তাকে নামতে হবে। তার নিশ্চিত ধারণা, ওটা যদি ওদের বেজ ক্যাম্প হয়, তাহলে সে ক্যাম্পের সাথে তোয়া সিটির সংযোগ-রাস্তাও আছে। সেই রাস্তা আহমদ মুসার দরকার।
বোট ঘুরিয়ে নিয়ে উপকূলের আলোটাকে আহমদ মুসা বামে রেখে উপকূলের দিকে এগিয়ে চলল আহমদ মুসা।

১১

অস্ত্র-শস্ত্রসহ বোটটাকে সামলে রেখে আহমদ মুসা প্রায় পনের মিনিট ধরে জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে চলছে।
বোট থেকে নেমে দেড়শ’ গজের মত সোজা দক্ষিণে হেঁটে আহমদ মুসা পূর্ব দিকে টার্ন নিল। তার হিসেব হলো বেজ ক্যাম্প থেকে কোন রাস্তা তোয়া সিটির দিকে গেলে, তাকে অবশ্যই প্রথমে কিছুটা দক্ষিণে এগোতে হবে, তারপর রাস্তাটা পূর্ব-দক্ষিণ কৌণিক টার্ন নিতে পারে। এই হিসেব কষেই আহমদ মুসা অল্প কিছুটা দক্ষিণে এগিয়ে সোজা পূর্ব দিকে হাঁটতে শুরু করেছে। তার অনুমান অনুসারে শ’খানেক গজ এগোলেই বেজ ক্যাম্প থেকে দক্ষিণে যাওয়া রাস্তাটাকে ক্রস করবে। কিন্তু একশ’ দেড়শ’ গজ এগিয়েও আহমদ মুসা রাস্তার চিহ্নও পেল না। কোন অমনোযোগিতার কারণে হয়তো সে রাস্তাটা মার্ক করতে পারেনি, হয়তো সেটা কাঁচা রাস্তা হতে পারে। আহমদ মুসা আবার ফিরে দাঁড়াল। আবার হাঁটল একশ’ দেড়শ’ গজ। কিন্তু রাস্তার কোন চিহ্ন নেই।
আহমদ মুসা বেজ ক্যাম্পে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল।
একটা গাছে উঠে সে আলো দেখে জায়গাটা মার্কিং করে সেদিকে এগোলো। পৌছল সেখানে। কিন্তু বেজ ক্যাম্প কোথায়? ওটা তো একটা পর্যবেক্ষণ টাওয়ার। তার সাথে আছে একটা জ্বালানি ডিপো। দু’টিই সদ্য নির্মিত। আহমদ মুসা বুঝল ইসরাইলীরা তোয়া দ্বীপে নতুন আস্তানা গড়ার পর তারা এই নতুন পর্যবেক্ষণ টাওয়ার ও সাপ্লাইকেন্দ্র নির্মাণ করেছে। এই কারণে এখনও রাস্তা তৈরি হয়নি। আহমদ মুসা ভাবল, তাহলে ওদের বেজ ক্যাম্প কোথায়? পেছনে ফেলে আসা দু’টিই কিংবা তাদের একটি বেজ ক্যাম্প হতে পারে? অতীত ভেবে আর লাভ নেই, মনে মনে বলল আহমদ মুসা। পেছনে ফেরার পথ নেই। তাকে সামনেই এগোতে হবে। আহমদ মুসা দ্রুত আরেকটা গাছে উঠল। লক্ষ্য, তোয়া দ্বীপের পূর্ব উপকূলে তোয়া শহরের অবস্থানের একটা ধারণা নেয়া। শহরের বিদ্যুৎ বাতির যে ছটা আকাশে উঠে। তা দেখে এই অবস্থান স্থির করা যায়।
আহমদ মুসার চাওয়া সফল হলো। সে গাছ থেকে পূর্ব আকাশের মাঝামাঝি একটা জায়গায় আকাশে আলোর ছায়া দেখতে পেল। আহমদ মুসা অনুমান করল, গাছকে বিন্দু হিসেবে ধরে যদি সোজা পূর্বমুখী একটা সরল রেখা টানা যায়, তাহলে যে একটা সমকোণ তৈরি হয়, তারপর বেজ বিন্দু থেকে একটা রেখাকে যদি তোয়া নগরীর আলোক ছটার সাথে যুক্ত করা হয়, তাহলে বেজ বিন্দুতে ভূমি সংলগ্ন যে কোণের সৃষ্টি হয় তার পরিমাণ ৪০ ডিগ্রি অনুমান করল আহমদ মুসা। তার মানে তাকে এখান থেকে ৪০ ডিগ্রি সরল রেখা অণুসরণ করে চলতে হবে। হঠাৎ আকাশের দিকে চোখ তুলে তাকাতেই আহমদ মুসা দেখল, তার কল্পিত ৪০ ডিগ্রি রেখা বরাবর ঠিক উপরে আকাশে লুব্ধক তারা, আদম সুরতের পায়ের নিচে জ্বল জ্বল করছে। লুব্ধককে ঠিক না বরারবর রেখে এগিয়ে গেলে ‘তোয়া সিটি’ পেয়ে যাবে আহমদ মুসা। খুশি হলো আহমদ মুসা। মাটিতে নেমে ৪০ ডিগ্রি রেখার দিক ঠিক করা তার পক্ষে সহজ হতো না।
আলহামদুলিল্লাহ পড়ে আহমদ মুসা গাছ থেকে নামল এবং বিসমিল্লাহ বলে সে যাত্রা শুরু করল।
উপকূল অঞ্চলেই বনটা গভীর। আহমদ মুসা যতই এগোতে লাগল, তখন বনটা হালকা হয়ে এল। তবে ঝোপ-ঝাড় ও ভূমির উঁচু-নিচু অবস্থা বৃদ্ধি পেল। মাঝে মাঝে পাহাড়ও সামনে এসে দাঁড়াল। আহমদ মুসা পাহাড়গুলো এড়িয়ে উপত্যকার পথে ডাইরেকশন ঠিক রেখে চলতে লাগল।
একদম নীরব মনে হলো তোয়া দ্বীপটাকে। যতটা পথ এল একটা লোকালয়ও তার চোখে পড়েনি।
আটশ’ বর্গ মাইলের ছোট্ট দ্বীপ এই তোয়ার। লোক সংখ্যা ১০ হাজারের বেশি নয় শুনেছে। অধিবাসীদের প্রায় সবাই ইহুদি। পেশায় তারা জেলে। একটা বড় অংশ চোরাকারবারের সাথে জড়িত। দ্বীপটা ইসরাইলের তত্ত্বাবধানেই ছিল। এটা জানা গেছে, ইসরাইল সরকার ফিলিস্তিন থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর। এরপর তারা এই ‘তোয়া’ দ্বীপে এসে আসন গেড়েছে। নানা সূত্র থেকে জেনেছে প্রায় ৭ হাজার ইসরাইলী এখন পর্যন্ত এই দ্বীপে এদের মধ্যে রয়েছে সৈনিক, সরকারি আমলা, ব্যবসায়ীসহ প্রায় সবাই। ইসরাইল সরকার, সেনাবাহিনী, আমলা ও পুলিশের উর্ধ্বতন লোকরা, যারা পালাতে পেরেছে, তারা সবাই এখানে এসেছে। এদেরকে নিয়েই এখানে একটা অস্থায়ী সরকার, ইসরাইল সেনা ও পুলিশ বাহিনী ও আমলা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।
আহমদ মুসা আরও ঘণ্টা খানেক চলার পর হঠাৎ করেই একটা রাস্তা সে পেয়ে গেল।
রাস্তাটা পশ্চিম দিক থেকে এসেছে। কাঁচা সড়ক যাকে বলে, এ তাই।
খুশি হলো আহমদ মুসা।
রাস্তাটা যখন পূর্বদিকে এগিয়েছে, তখন ঘুরে-ফিরে রাস্তাটা তোয়া সিটিতে যাবে নিশ্চয়।
রাস্তা ধরে পূর্ব দিকে হাঁটতে লাগল আহমদ মুসা।
মিনিট পাঁচেক চলার পর একটা পাহাড় ঘুরে রাস্তাটি সমতল একটি বনজ উপত্যকায় প্রবেশ করল। তার সাথে রাস্তাটা ঘুরে গেল দক্ষিণ দিকে।
দু’দিকে গাছ-গাছড়ার সারি, মাঝখান দিয়ে এগিয়ে চলেছে রাস্তা।
দক্ষিণ দিকে বাঁক নিয়ে মিনিট দশেক চলার পর ডান দিকে একটা ফাঁকা এলাকা দেখতে পেল। প্রথম বারের মত ফসলের ক্ষেত তার নজরে পড়ল। ফসলের ক্ষেতের ওপর দিয়ে একটা ছোট পাহাড় নজরে পড়ল। পাহাড়ের গায়ে দেখা গেল ইতস্তত বিক্ষিপ্ত আলো। আর পাহাড়ের এ প্রান্তের গোড়ায় দেখতে পেল গুচ্ছাকার আলো। ওটা কি বাজার কিংবা রেষ্টুরেন্ট? যাই হোক, আহমদ মুসা সেখানে যাবে ঠিক করল। কি পরিচয় দেবে, কি কথা বলবে, অবস্থা বুঝে তার ব্যবস্থা করা যাবে।
বিশ-পঁচিশ গজ এগিয়ে আহমদ মুসা দেখল, সড়ক থেকে এক প্রস্ত রাস্তা ক্ষেত দু’পাশে রেখে পাহাড়ের দিকে চলে গেছে।
আহমদ মুসা সেই পথ ধরে গুচ্ছ আলো লক্ষ্য করে চলতে লাগল।
ঠিকই, আলোর গুচ্ছটা একটা রেষ্টুরেন্ট গেছে। আশেপাশে আরও কিছু দোকান-পাট আছে। সব মিলিয়ে জায়গাটা গ্রামীণ বাজারের মত।
আহমদ মুসা এগোলো রেষ্টুরেন্টের দিকে। ছয়-সাতজন লোক বসে আছে। মগে করে তারা কি খাচ্ছে।
আহমদ মুসা রেষ্টুরেন্টে প্রবেশ করলে সবাই একযোগে তার দিকে তাকাল, দু’জন বয় ও ক্যাশ কাউন্টারের লোকটিও।
আহমদ মুসা হিব্রু ভাষায় শুভেচ্ছা জানিয়ে ক্যাশ-কাউন্টারের সামনে দাঁড়িয়ে, তাকে উদ্দেশ্য করে বলল, আমি তোয়া শহরে যাচ্ছিলাম। পথে আমার গাড়ির ইঞ্জিন খারাপ হয়ে গেছে। আমি এ এলাকায় নতুন। তোয়া শহরে যাওয়ার কি ব্যবস্থা হতে পারে?
কাউন্টারের লোকটি আহমদ মুসার দিকে গভীর দৃষ্টিতে তাকাল। তবে তার দৃষ্টিতে সন্দেহ দেখলো না, বরং দেখতে পেল কিছুটা অস্বস্তি। বলল আঞ্চলিকটানের অশুদ্ধ হিন্দিতে, এ পথ দিয়ে কোন গাড়ি গেলে একটা ব্যবস্থা হতে পারে, তারা যদি রাজি হয়। অন্যথায় হাঁটা ছাড়া কোন পথ নেই। ঘোড়ায় টানা গাড়ি মাঝে মাঝে পাওয়া যায়, কিন্তু রাতে তা পাওয়া যাবে না।
আহমদ মুসা পাশের একটা টেবিলে বসতে বসতে বলল, কিন্তু খুব জরুরি, আমাকে রাতেই পৌছতে হবে। এখান থেকে তোয়া শহর কত দূর হবে?
ক্যাশ কাউন্টারের লোকটি কিছু বলার আগেই পাশের টেবিল থেকে একজন বলল, পাঁচ-ছয় কিলোমিটার হবে। তোয়া’র সরকারের কারও সাথে পরিচয় আছে?
নেই। আহমদ মুসা বলল।
তাহলে রাতে আপনি যেতে পারবেন না। খুব কড়াকড়ি ও ধর-পাকড় চলছে। বলল লোকটি।
আপনাদের কারও পরিচয় নেই। কারও নাম বলতে পারেন না। আহমদ মুসার জিজ্ঞাসা।
না, আমরা কাউকে চিনি না। ওরা সবাই নতুন। রাতে আমাদের যাওয়াও নিরাপদ নয়। শুনেছি, আমাদের আইডি কার্ড দেবে, কিন্তু এখনও দেয়নি।
আহমদ মুসা কিছু বলতে যাচ্ছিল। কিন্তু বাইরে গাড়ির শব্দে আহমদ মুসা সেদিকে ফিরে তাকাল। দেখল, একটা গাড়ি উন্মত্ত গতিতে এদিকে ছুটে এসে দাঁড়াল।
ঠিক এ সময় আরও দু’টি গাড়ি তীব্র গতিতে রেষ্টুরেন্টের দিকে ছুটে এল।
আগের গাড়ি থেকে একটি মেয়ে লাফ দিয়ে নেমেই ‘বাঁচাও’ বাঁচাও’ বলে চিৎকার করতে করতে রেষ্টুরেন্টের দিকে ছুটে এল।
পেছনের গাড়ি দু’টিও আগের গাড়ির পাশে এসে দাঁড়াল। দু’গাড়ি থেকে সাত আটজন লোক নামল এবং ছুটে এল রেষ্টুরেন্টের দিকে মেয়েটির পেছনে পেছনে।
মেয়েটি ছুটে এসে যে টেবিলে ছয় সাতজন লোক বসেছিল, তার পেছনে এসে দাঁড়াল। মেয়েটি তখনও চিৎকার করে বলছে, আমাকে বাঁচান আপনারা এ গুন্ডা লোকদের হাত থেকে।
মেয়েটি অনিন্দ সুন্দরী এক তরুণী। বয়স একুশ-বাইশ। একটি ফুলকে দলিত করলে যে অবস্থা হয়, ফুলের মত সুন্দর মেয়েটিরও সেই অবস্থা। মেয়েটির সার্টটি ছেঁড়া, চুল আলু-থালু।
মেয়েটির কথিত গুন্ডারা ছুটে এসে রেষ্টুরেন্টে প্রবেশ করল।
মেয়েটি তখন চিৎকার করে কেঁদে উঠেছে, বাঁচান আপনারা আমাকে।
গুন্ডারা রেষ্টুরেন্টে ঢুকে ধীরে ধীরে এগিয়ে আসল মেয়েটির দিকে। তাদের একজন চিৎকার করে বলল, আমাদের এ মেয়েটি হঠাৎ পাগলের মত আচরণ করছে। তোমরা কিছু মনে করো না। আমরা ওকে হাসপাতালে নিয়ে যাব।
মেয়েটিকে ধরার জন্যে এগোলো ওরা।
চিৎকার করে মেয়েটি বলল, ওদের কথা মিথ্যা। আমি ওদের চিনি না। ওরা আমার ক্ষতি করতে চায়। ওদের কথা আপনারা বিশ্বাস করবেন না। আমাকে বাঁচান আপনারা। কান্নায় ভেঙে পড়ল মেয়েটি।
রেষ্টুরেন্টে উপস্থিত লোকগুলো সবাই পাথরের মত হয়ে গেছে। কারও মুখে কোন কথা নেই। সবার চোখে-মুখেই অস্বস্তি ও ভয়।
মেয়েটিকে ওরা ধরেছে, নিয়ে আসছে চ্যাংদোলা করে। মেয়েটি চিৎকার করছে আর ফাঁদে আটকা মাছের মতো তড়পাচ্ছে।
আহমদ মুসা সবকিছু দেখছিল। তার বিন্দুমাত্রও সন্দেহ নেই যে, একটা সুন্দরী মেয়ে একাকি আসতে গিয়ে গুন্ডাদের হাতে পড়েছে। কোন রকমে সে প্রথম দফা গুন্ডাদের হাত থেকে পালিয়ে এসেছিল। তার ছেঁড়া জামা ও বিধ্বস্ত অবস্থাই তার প্রমাণ। হাত থেকে পালিয়ে আসা শিকারকে আবার তারা ধরতে এসেছে, ধরে নিয়ে যাচ্ছে।
আহমদ মুসার সমগ্র হৃদয়তন্ত্রীতে একটা অসহনীয় যন্ত্রণার সৃষ্টি হলো। ভুলে গেল সে তার নিজের কথা, ভুলে গেল রাতেই তাকে তোয়া শহরে পৌছতে হবে সে কথা। তার কাছে গোটা পৃথিবীর সমান বড় হয়ে উঠল অসহায় মেয়েটির আর্তচিৎকার আর তাকে বাঁচানোর জন্যে বুক ফাটা তার আকুল আবেদন।
আহমদ মুসা উঠে দাঁড়াল।
আহমদ মুসার পাশ দিয়ে তারা নিয়ে যাচ্ছিল মেয়েটিকে।
যে লোকটা মেয়েটির পায়ের দিকটা ধরেছিল তার বাম কানের নিচে ঘাড়টা লক্ষ্যে ডান হাতের কারাত চালাল আহমদ মুসা।
লোকটি আহমদ মুসার দিকে তাকানোরও সুযোগ পেল না। একবার টলে উঠে আছড়ে পড়ে গেল মাটিতে।
মেয়েটির পেছন দিকটা পড়ে গেল মেঝের ওপর। মাথার দিকটা যে ধরেছিল, সে ঘুরে দাঁড়াল দেখার জন্যে কি ঘটেছে। তারও বাম কানের পাশটা আহমদ মুসার সামনে এসে গেল।
লোকটি ঘুরে দাঁড়িয়ে কিছু বুঝার আগেই আহমদ মুসার ডান হাত আবার বজ্রের মত ছুটে গিয়ে দশ কেজি ওজনের কারাত চালাল বাম কানের নিচে নরম জায়গায়।
সেও মুখ তুলে দেখারও সুযোগ পেল না। সংজ্ঞা হারিয়ে লুটিয়ে পড়ল মাটিতে।
পেছনে আসছিল দু’জন লোক। তাদের একজনের হাতে উঠে এসেছে রিভলবার। রিভলবারের নল উঠে আসছে আহমদ মুসার লক্ষ্যে।
আহমদ মুসার কাছেই টেবিলে দু’টি গ্লাস ছিল। হাত ছিল তার কাছেই। চোখের পলকে গ্লাসটি নিয়ে বুলেটের গতিতে ছুঁড়ে মারল রিভলবারধারী লোকটির কপাল লক্ষ্যে।
নিখুঁত লক্ষ্য। গ্লাসটি গিয়ে বজ্রের মত আঘাত হানল লোকটির কপালে।
মুখ থেকে তার গগণ বিদারী ‘আ’ চিৎকার উঠল এবং তার দেহটা বেঁকে গেল পেছন দিকে।
তার শিথিল হাত থেকে রিভলবারটা পড়ে যাচ্ছিল। বাজপাখির মত আহমদ মুসা তা লুফে নিল।
পেছনের দ্বিতীয় লোকটির হাতেও রিভলবার। কিন্তু কপালে গ্লাসের ঘা খাওয়া লোকটি তার ওপর পড়ে গিয়েছিল। তাকে সামলাতে গিয়ে সে তার হাতের রিভলবার আহমদ মুসার লক্ষ্যে যথাসময়ে তুলতে ব্যর্থ হলো। সে তাড়াতাড়ি তার ডান হাতটাকে মুক্ত করার চেষ্টা করছিল। আহমদ মুসা এ সুযোগ গ্রহণ করলো। তাকে লক্ষ্য করে আহমদ মুসার রিভলবার আগেই উঠে এসেছে। শুধু তর্জনিটা চাপল ট্রিগারের ওপর। একটা বুলেট গিয়ে নিমেষে তার মাথা গুঁড়িয়ে দিল।
মেয়েটি আগেই উঠে দাঁড়িয়েছিল। ভয় ও আতংকে তখন সে কাঁপছে।
আপনি ভেতর দিকে সরে যান। ভয় নেই। আমি দেখছি। মেয়েটিকে লক্ষ্য করে বলল আহমদ মুসা।
কম্পমান মেয়েটি টলতে টলতে পেছনে সরে গেল।
মেয়েটির সাথে কথা বলার আগেই আহমদ মুসা রিভলবার তাক করেছিল সামনের তিনজনের লক্ষ্যে।
ওরা হতভম্ব হয়ে গিয়েছিল।
সম্ভবত ওদের কারও কাছেই রিভলবার ছিল না। আহমদ মুসার রিভলবার দেখে ওরা আহমদ মুসার দিকে এগোতে গিয়েও পিছিয়ে গেছে। দু’জনের সংজ্ঞাহীন দশা, ফাটা কপাল নিয়ে একজনের বেহাল অবস্থা এবং গুলিবিদ্ধ হয়ে আরেকজন সাথীর নির্মম মৃত্যু তারা চোখের সামনেই দেখছে।
আহমদ মুসা ওদের লক্ষ্যে বলল, দেখ অনর্থক কোন মানুষকে হত্যা করা আমি পছন্দ করি না। তোমরা যদি না মরতে চাও। আমার নির্দেশ পালন কর।
তারপর আহমদ মুসা তাকাল মেয়েটির দিকে। বলল, আপনি ওদের কাছ থেকে কিছু দড়ি যোগাড় করুন।
দড়ি যোগাড় হয়ে গেলে সেই দড়ি ওদের তিনজনের দিকে ছুঁড়ে দিয়ে বলল, তুমি ওদের দু’জনকে পিছমোড়া করে বাঁধ।
লোকটি নির্দেশ পালন করল। পিছমোড়া করে ওদের দু’জনের হাত-পা বাঁধল।
ওদের বাঁধা হয়ে গেলে সংজ্ঞাহীন দু’জন ও আহত একজনকেও বাঁধতে বলল।
লোকটি বিনা বাক্য ব্যয়ে আহমদ মুসার নির্দেশ পালন করল।
বাঁধা হয়ে গেলে আহমদ মুসা নির্দেশ দিল, মৃত একজনসহ যাদের বেঁধেছ, তাদের এক এক করে পাহাড়ের গোড়ায় নিয়ে রাখ।
রেষ্টুরেন্টে যারা বসেছিল, ভীত-সন্ত্রস্ত তারা সকলেই এক এক করে রেষ্টুরেন্ট থেকে ভেগেছে। শুধু বসে আছে ক্যাশ-কাউন্টারের লোকটি এবং ওয়েটার বয় দু’জন। উদ্বেগ-আতংকে তারা কুকড়ে গেছে।
মেয়েটির মুখে এখন আগের সেই উদ্বেগ-আতংক নেই। তার চোখে এখন রাজ্যের বিস্ময়। আহমদ মুসার কাজ তার কাছে স্বপ্ন বলে মনে হচ্ছে। সাত জন সশস্ত্র লোককে যেখানে যেমন দরকার সেখানে আঘাত হেনে কুপোকাত করে ফেলল। তাদের অস্ত্র তাদের ওপর প্রয়োগ করল। তাদেরকেই আবার শ্রমিকের মত খাটাচ্ছে তাদের নিজেদের বাঁধার জন্যে। বাঁধা লোকগুলোকে পাহাড়ের গোড়ায় নিয়ে কি করতে চায় লোকটি।
আহমদ মুসা নির্দেশ দিয়ে মেয়েটির দিকে তাকাল। পড়ে থাকা দ্বিতীয় রিভলবারটির দিকে ইংগিত করে বলল, আপনি ঐ রিভলবারটি তুলে নিয়ে চেয়ারে বসুন, আমি পাহাড়ে গিয়ে দেখি যাতে সে পালিয়ে যেতে না পারে।
মেয়েটি সংগে সংগেই যন্ত্রের মত এগিয়ে এসে পড়ে থাকা রিভলবার তুলে নিয়ে একটা চেয়ারে বসল।
মেয়েটির উদ্দেশ্যে ‘ধন্যবাদ’ বলে আহমদ মুসা বাঁধা একজন লোককে কাঁধে তুলে নিয়ে পাহাড়ের গোড়ার দিকে অগ্রসর লোকটি পেছনে পেছনে চলল।
সবশেষে মৃত লোকটিকে পাহাড়ের গোড়ায় নিয়ে গেল লোকটি।
লোকটিকে নিয়ে আহমদ মুসা রেষ্টুরেন্টে ফিরে এল। বলল লোকটিকে, মেঝের রক্ত ধুয়ে মুছে দাও তুমি। তোমাদের কারণে রেষ্টুরেন্টের অনেক ক্ষতি হয়েছে। অনেক কাষ্টমার পয়সা না দিয়েই চলে গেছে।
ক্যাশ কাউন্টারের লোকটি উঠে দাঁড়িয়ে হাতজোড় করে বলল, ওটুকু ক্ষতি কিছুই নয়। আপনি মেয়েটিকে বাঁচিয়েছেন, এজন্যে দয়াময় জিহোবা আপনার মঙ্গল করুন। আর স্যার, আমরাই রক্ত পরিষ্কার করে ফেলব। মেয়েটির উদ্ধারে আমরা তো সাহায্য করতে পারিনি। ঐটুকু কাজ করতে পারলে আমাদের ভাল লাগবে।
আহমদ মুসা দোকানিকে ধন্যবাদ দিয়ে বলল, আপনারা খুব ভালো লোক।
গুন্ডাদের সেই অবশিষ্ট লোকটি আহমদ মুসার সামনেই দাঁড়িয়েছিল। তার হাতে দুই খন্ড দড়ি।
আহমদ মুসা তার হাত থেকে দড়ি নিয়ে বলল, শুয়ে পড়, তোমাকে তুমি বাঁধতে পারবে না, আমিই বাঁধব।
আহমদ মুসা লোকটিকে পিছমোড়া করে বেঁধে ফেলল।
রেষ্টুরেন্টের লোকরা তখন মেঝের রক্ত পরিষ্কার করতে লেগে গেছে।
স্যার দু’কাপ কফি দেব আপনাদের? ক্যাশ কাউন্টারের লোকটি বিনীত কণ্ঠে বলল।
ধন্যবাদ। আমার কোন কিছু খাওয়ার মুড নেই। কিন্তু অবাঞ্চিত কাজ করতে হলো। ম্যাডামকে কফি দিতে পার। আহমদ মুসা বলল।
সংগে সংগেই মেয়েটি বলল, ধন্যবাদ। আমিও এ সময় কোন কিছু খাব না।
এখানে থানা কত দূর? ক্যাশ কাউন্টারের লোকটিকে জিজ্ঞেস করল আহমদ মুসা।
স্যার নতুন একটি পুলিশ ষ্টেশন হয়েছে কয়েকদিন আগে। সেটা এখান থেকে মাইল দুই, মানে এ জায়গা ও তোয়া সিটির মধ্যবর্তী স্থানে পুলিশ ষ্টেশনটি। বলল ক্যাশ কাউন্টারের লোকটি।
ঠিক আছে, তাহলে তোয়া যাওয়ার সময় আপনি থানায় একটা ডায়েরি করবেন, ওরা এসে লাশ ও বন্দীদের নিয়ে যাবে। মেয়েটিকে লক্ষ্য করে বলল আহমদ মুসা।
কথা শেষ করে একটা দম নিয়েই আবার বলল, আমিও তোয়া সিটিতে যাব, আপনি লিফট দিলে খুশি হবো। বলল আহমদ মুসা মেয়েটিকে।
মেয়েটি বেদনা জড়িত বিস্ময়ের সাথে আহমদ মুসার দিকে তাকাল, আপনি এভাবে কথা বলে আমাকে লজ্জা দিচ্ছেন। আপনি শুধু ওদের হাত থেকে আমাকে বাঁচাননি, মুক্তই করেননি, আমাকে ওদের হাত থেকে আপনি জয় করে নিয়েছেন। এখন তো আপনি আমাকে কমান্ড করার কথা এবং আমাকে তা অবশ্যই শুনতে হবে।
আমি যেটা করেছি, আমি বিপদে পড়লে আপনিও সেটাই করতেন। আমি বিশেষ কিছু করিনি। বলল আহমদ মুসা।
আমি কিছু বলব না এর উত্তরে। আপনি দেখছি, যেমন কাজে বড়, তেমনি বিনয়েও বড়। যাক, আমার গাড়ি আছে সত্যি, আপনি সাথে না থাকলে আমি তোয়া যেতে পারব না। আমার মনে হচ্ছে, গোটা রাস্তা জুড়েই গুন্ডারা ওঁৎপেতে বসে আছে। বলল মেয়েটি।
আহমদ মুসা ধন্যবাদ দিতে যাচ্ছিল।
গাড়ির শব্দ ও হর্নে সে থেমে গেল। দু’টি গাড়ি এসে দাঁড়াল রেষ্টুরেন্টের সামনে পাহাড়ের গোড়ায়।
পুলিশের গাড়ি।
সামনের জীপ থেকে একজন অফিসার লাফ দিয়ে নামল। পেছনের গাড়িটা একটা পিকআপ। সে গাড়ি থেকে ছয় সাতজন পুলিশ নামল।
অফিসারসহ পুলিশরা এসে ঘরে ঢুকল। মেয়েটিকে দেখেই অফিসার চিৎকার করে বলল, থ্যাংক জিহোবা, মিস নিনা নাদিয়া আপনি এখানে? ওখানে লাশ ও বাঁধা লোকগুলো কিসের জন্য? ওরা কারা? স্যারের টেলিফোন পেয়েই আমরা বেরিয়েছি। যাচ্ছিলাম যে ঠিকানা আপনি দিয়েছিলেন সেদিকে। এখানে এতগুলো গাড়ি দেখে উঠে এলাম। এক নিশ্বাসে কথাগুলো গড় গড় করে বলে গেল অফিসারটি।
মেয়েটি অফিসারকে আগেই স্যালুট দিয়েছিল। এখন অফিসারকে ধন্যবাদ দিয়ে আহমদ মুসাকে উদ্দেশ্য করে পুলিশ অফিসারের পরিচয় দিয়ে বলল, ইনি পুলিশ সুপার কোহেন কার্লম্যান। প্রথমে যখন গুন্ডাদের হাতে পড়ি, তখন অফিসে মোবাইল করতে পেরেছিলাম। পরে ধস্তাধস্তি করে পালিয়ে আসার সময় মোবাইল ও রিভলবার দুই-ই হারাই। আমার সেই টেলিফোন পেয়েই অফিস ওদের পাঠিয়েছে।
ইনি কে মিস নাদিয়া? বলল পুলিশ সুপার কোহেন কার্লম্যান।
ইনি আমাকে গুন্ডাদের হাত থেকে বাঁচিয়েছেন। আমি গুন্ডাদের হাত থেকে পালিয়ে এখানে এসে আশ্রয় নিয়েছিলাম। আমাকে ফলো করে এখানে এসে ওরা আবার আমাকে ধরেছিল। আমাকে নিয়ে যাচ্ছিল ওরা। ইনি আমাকে উদ্ধার করেছেন। ওদের তিনজন সংজ্ঞাহীন, একজন নিহত এবং তিনজন আত্মসমর্পণ করেছে। থামল মিস নিনা নাদিয়া।
ও ওরাই তাহলে পাহাড়ের গোড়ায় বাঁধা অবস্থায় পড়ে আছে?
জি হ্যাঁ। বলল নিনা নাদিয়া।
শুনেই পুলিশ অফিসার কোহেন কার্লম্যান একজন পুলিশ সিপাইকে উদ্দেশ্য করে বলল, তোমরা কয়েকজন যাও, পাহাড়ের গোড়ায় পড়ে থাকা লোকদের পিকআপে তোল।
বলে সে আহমদ মুসার দিকে তাকাল এবং ধন্যবাদ দিল।
কিন্তু আহমদ মুসার দিকে তাকিয়েই তার চোখ যেন আটকে গেল। সে দু’ধাপ এগিয়ে আহমদ মুসার সামনে এসে দাঁড়াল। কপাল কুঁচকে গেছে পুলিশ অফিসারটির। তার চোখ দু’টো তীক্ষ্ণ হয়ে উঠেছে। বলল সে আহমদ মুসার চোখের দিকে তাকিয়ে, আপনাকে পরিচিত মনে হচ্ছে। হ্যাঁ, আপনার ফটো আমি দেখেছি তেলআবিবে আমাদের ভিআইপি ডসিয়ারে। আপনার পাসপোর্ঠ, কাগজপত্র দেখি।
বলে হাত পাতল পুলিশ অফিসার।
আহমদ মুসা জ্যাকেটের ভেতরে পকেট থেকে তার পাসপোর্ট, তার ট্যুরিষ্ট ও ফিসিং ডকুমেন্ট বের করে পুলিশ অফিসারের হাতে দিল।
পুলিশ পাসপোর্টে আহমদ মুসার নাম ‘হাবিব গনজালেস’ দেখে তাকাল তার দিকে। বলল, আপনি খৃষ্টান?
আহমদ মুসা সরাসরি উত্তর না দিয়ে বলল, সন্দেহ আছে কি?
সন্দেহ অবশ্য নেই। কিন্তু আমার মন বলছে, ডসিয়ারের সেই ছবির নামের যেন কোথায় ফাঁক আছে। যাক, আপনি তোয়া দ্বীপে অপরিচিত এবং আইন ভংগ করে আপনি তোয়া দ্বীপে এসেছেন। সুতরাং আপনি সন্দেহজনক ব্যক্তি। আমার সাথে আপনাকে তোয়া শহরে যেতে হবে।
তার মানে আপনি তাকে গ্রেফতার করছেন। কিন্তু আমি বলেছি অফিসার, উনি আমার জীবন বাঁচিয়েছেন এবং আপনি যা বলছেন, সে অনুসারেও বড় কোন অপরাধ করেননি। শুধুমাত্র অপরিচিত বলে সন্দেহভাজন বলেই তাঁকে গ্রেফতার করা ঠিক হবে না। আমার অনুরোধ, তাকে আপনি গ্রেফতার করবেন না।
মিস নিনা নাদিয়া, আপনি ও আপনার বিভাগ আমার চেয়ে এটা ভালো জানেন যে, দ্বীপে বলতে গেলে এখন সামরিক শাসন চলছে। আমরা সবাই জরুরি আইনের অধীন। অপরিচিত লোকের ব্যাপারে এটা সিদ্ধান্ত, যেখানে যে নামে যে পরিচয়েই অপরিচিত লোক পাওয়া যাক, তাকে জয়েন্ট ইন্টেলিজেন্স সেলে পাঠাতে হবে। তার ব্যাপারে আমাদের কোন সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার নেই। সুতরাং আমি আপনার অনুরোধ রাখতে পারছি না। জয়েন্ট সেলে তো আপনার লোকজনই থাকবে, আপনি বরং কিছু বলার থাকলে সেখানে বলবেন। আমাকে দয়া করে বিপদে ফেলবেন না। থামল পুলিশ অফিসার।
বিষন্ন হয়ে গেল নিনা নাদিয়ার মুখ। তাকাল সে আহমদ মুসার দিকে। আহমদ মুসার মুখে দেখল সে উজ্জল হাসি। আচ্ছা অদ্ভুত মানুষ তো! তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার করা হচ্ছে, তবু তার মধ্যে কোন চিন্তা নেই, উদ্বেগ নেই! আসলে সে জানে না আজ তোয়ায় ইসরাইলীরা কাউকে সন্দেহভাজন ভাবার অর্থ কি! এর অর্থ হলো, অপরিচিত ঐ লোকটা নিরপেক্ষ প্রমাণ হলেও চলবে না, সে যদি সবদিক থেকে ইসরাইলের বন্ধু না হয়, তাহলে তার মৃত্যু অবধারিত। এই বিষয়টা জানলে সে হাসতে পারতো না। কিন্তু আমি তো জানি না, আমি এখন কি করব, কি বলব!
মিস নিনা নাদিয়ার বিব্রত-বিষণ্ণ অবস্থা দেখে আহমদ মুসা বলল, ম্যাডাম আপনি ভাববেন না। আমি তো তোয়া শহরে যেতে চেয়েছিলাম। যাওয়া তো হচ্ছে। বন্দী অবস্থায় যাচ্ছি এই আর কি!
মিস নিনা নাদিয়া আহমদ মুসার দিকে ফ্যাল ফ্যাল দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল। কিছুই বলতে পারল না। তার চোখ দু’টি অশ্রুতে ছলছল হয়ে উঠেছে বলে মনে হলো।
আহমদ মুসা তাকালো পুলিশ অফিসারের দিকে। বলল, হাতকড়ি লাগাতে চান লাগান। আমার আপত্তি নেই।
‘স্যরি’ বলে আহমদ মুসার হাতে হাতকড়ি পরানোর দিকে কান না দিয়ে বলল, আপনি ক্রিমিনাল নন, সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার করছি। সন্দেহভাজনদের হাতকড়ি পরানো হয় না।
বলে উঠে দাঁড়াল পুলিশ অফিসার। আহমদ মুসাকে নিয়ে হাঁটতে শুরু করল বাইরে বেরোনোর জন্যে।
মিস নিনা নাদিয়া বিহবলের ন্যায় ঠায় দাঁড়িয়ে ছিল। পুলিশ তখন বেরিয়ে গেছে। নিনা নাদিয়া তখনও দাঁড়িয়ে।
লাশ কাউন্টারের লোকটা এসে নিনা নাদিয়ার কাছে দাঁড়াল। তার চোখ-মুখও বেদনার্ত। বলল সে, লোকটাকে ধরেই নিয়ে গেল! লোকটা আসলেই খুব ভালো। দেখলেন না কেমন সে ভয়-উদ্বেগহীন। পাপি লোক এমন হয় না।
দুঃখটা এজন্যেই বেশি হচ্ছে যে, তার জন্যে কিছু করতে পারলাম না। বলল নিনা নাদিয়া।
আপনিও কি পুলিশের লোক। পুলিশ অফিসারের কথা শুনে তাই মনে হলো। বলল লোকটি।
হ্যাঁ, তবে আমি গোয়েন্দা বিভাগের লোক, একজন গোয়েন্দা অফিসার। নিনা নাদিয়া বলল।
আমরা তো শুনেছি, গোয়েন্দারা বেশি ক্ষমতাশালী। তাহলে আপনার কথা সে শুনল না কেন?
এটা ক্ষমতা বেশি-কমের ব্যাপার নয়। এটা আইনি সিদ্ধান্তের ব্যাপার। পুলিশ আইন অনুসারেই কাজ করেছে। তবে চিন্তা করবেন না আমার কাজ আমি করব।
বলে নিনা নাদিয়া ক্যাশ কাউন্টারের লোকটিকে ধন্যবাদ দিয়ে রেষ্টুরেন্ট থেকে বেরিয়ে আসার জন্যে পা বাড়াল।

১২

ঘুম ভেঙে গেল আহমদ মুসার।
ধাতব একটা ক্ষীণ শব্দ কানে আসছে।
ক্ষীণ হলেও এই শব্দেই তার ঘুম ভেঙে গেছে, বুঝল আহমদ মুসা।
ঘুম ভেঙে গেলেও চোখ খোলেনি।
বন্দী সেলে তখন তীব্র আলো। চোখ ধাঁধিয়ে যাওয়ার মত আলো। এরকম আলোর মধ্যে চোখ বন্ধ করে রাখলেই সুবিধা। তাছাড়া শব্দটার গতি কি হয় সেটাও সে আঁচ করতে চায়। সে বুঝতে পারছে, শব্দটা তার সেলের দরজা থেকে। তার মানে দরজায় কেউ আছে। চোখ খুললেই সে জেনে যাবে, আমি জেগে আছি। শত্রু বা লোকটির টার্গেট সম্পর্কে আরও একটু না জেনে সে তার অবস্থা তাকে জানাতে চায় না।
হ্যাঁ, ওটা দরজা থেকে আসাই শব্দ।
কে হতে পারে ওখানে?
পুলিশ কর্তৃপক্ষের কেউ? কিন্তু ওরা আসবে কেন? তোয়া সিটি পুলিশের প্রধানসহ কয়েকজন অফিসার একবার তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গেছে। আহমদ মুসাকে তারা গুরুতর সন্দেহ করেছে। তার পাসপোর্ট ও কাগজপত্রকে তারা বানানো বলে মনে করেছে। তারা পরিষ্কার মন্তব্য করেছে, আমার চেহারা ও কথাবার্তার সাথে পাসপোর্ট ও কাগজপত্রের চরিত্রের মিল নেই। পুলিশ প্রধান ও গোয়েন্দা প্রধানগণ গুরুত্বপূর্ণ মিটিং-এ ব্যস্ত ছিল তারা আসতে পারেননি। তাই চূড়ান্ত জিজ্ঞাসাবাদ ও সিদ্ধান্তের ব্যাপারটা ঝুলে আছে। আসছে সকালে তার চূড়ান্ত জিজ্ঞাসাবাদ হবে। আহমদ মুসাও সেই সময়কে মুক্তি ও কাজ শুরুর মুহূর্ত হিসেবে ঠিক করেছে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় সরে পড়ার চিন্তা সে করেছিল। কিন্তু সেলের গেটে চারটি তালা এবং একটু দূরে চারজন পুলিশ পাহারা থাকায় সে চেষ্টা আপাতত সে ত্যাগ করেছে। ভোর রাতে সে একবার উদ্যোগ নেবে, ভেবে রেখেছে। কিন্তু এর মধ্যে আবার দরজায় কে এলো?
নতুন শব্দ পেল আহমদ মুসা। সেলের দরজার হুক খোলার শব্দ।
হুক খুলে গেল দরজার।
দরজা খোলারও মোটা একটা ধাতব শব্দ হলো।
নিশ্চয় লোকটা আসছে।
রুদ্ধ নিঃশ্বাসে অপেক্ষা করছে আহমদ মুসা। আগে থেকেই ঘাড়ের পেছনে জ্যাকেটের গোপন পকেটে রিভলবার ঢোকানো আছে।
‘মি. গনজালেস, মি. গনজালেস’ একটা চাপা কন্ঠের ডাক তার কানে এল। ডাকটা নারী কণ্ঠের। নিনা নাদিয়া কি?
চোখ খুলল আহমদ মুসা।
হ্যাঁ, নিনা নাদিয়াই তার দিকে ঝুঁকে পড়ে বসে আছে।
আহমদ মুসা উঠে বসল।
নিনা নাদিয়া দাঁড়িয়ে গেল। বলল, তাড়াতাড়ি আসুন। বেরোতে হবে তাড়াতাড়ি।
বলে নিনা নাদিয়া সেলের বাইরে যাওয়ার পথ ধরল।
তার সাথে আহমদ মুসাও সেলের বাইরে বেরিয়ে এল। দেখল সে, চারজন পুলিশ টেবিলে মাথা রেখে ঘুমুচ্ছে।
আহমদ মুসাকে পুলিশের দিকে তাকানো দেখে নিনা নাদিয়া হেসে বলল, ওদের মদে ঘুমের ওষুধ মেশানোর ব্যবস্থা করেছিলাম।
তারা পুলিশের টেবিল অতিক্রম করে ঘর থেকে বেরোনোর করিডোরের কাছাকাছি এসে পৌছেছে, এ সময় অনেকগুলো বুটের শব্দ খুব কাছ থেকে তাদের কানে এল।
দু’জন তাকাল পরষ্পরের দিকে।
আহমদ মুসা নিনা নাদিয়াকে ইংগিত করল আড়ালে সরে যাওয়ার জন্যে। সংগে সংগেই নিনা নাদিয়া পাশের দরজা দিয়ে একটা ঘরে ঢুকে গেল।
আর কিছু ভাবনা-চিন্তা করার আগেই পাঁচজন পুলিশ এসে দরজায় দাঁড়াল। তাদের হাতে ষ্টেনগান। একজন অফিসারের হাতে একটা রিভলবার।
আহমদ মুসা তাদের দেখেই মুহূর্তে ঘাড়ের পেছনে জ্যাকেটের গোপন পকেট থেকে রিভলবার বের করে তাদের দিকে তাক করে বলল, তোমরা হাতের অস্ত্র ফেলে না দিলে গুলী করব।
ওরা আহমদ মুসাকে গুলী করার মুডে ছিল না। এরকম বোধ হয নির্দেশ ছিল না। যেহেতু তারা সংখ্যায় বেশি, তাই বোধ হয় তারা মনে করেছিল, তাদের দেখেই বন্দী আত্মসমর্পণ করবে। যে লোক বন্দী হয়ে আসতে সামান্য আপত্তিও করেনি, তার কাছ থেকে এটাই আশা করা যায়। এই ধারণা থেকে পুলিশ অফিসারসহ পুলিশরা বন্দীকে দেখেই তাকে গান-পয়েন্টে আনেনি। বন্দী নিরস্ত্র হওয়াও পুলিশদের অপ্রস্তুতির কারণ ছিল।
আহমদ মুসার রিভলবার এই সুযোগ গ্রহণ করেছে।
কিন্তু আহমদ মুসার কথা ও তার উদ্যত রিভলবারের নলের প্রতি তেমন গুরুত্ব না দিয়ে আহমদ মুসা লক্ষ্যে ষ্টেনগান ও রিভলবারের নল দ্রুত তুলে নিচ্ছিল। বন্দী একটা রিভলবার দিয়ে পাঁচজন পুলিশকে গুলী করতে সাহস পাবে, তা তারা মনেই করেনি।
আহমদ মুসা যা বলেছিল তাই করল।
তার ‘ব্ল্যাক ক্যানন’ পুলিশ অফিসারসহ সব পুলিশের ওপর দিয়ে ঘুরে এল।
মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধান। পাঁচ পুলিশের লাশ পড়ে গেল করিডোরের ওপর।
মিস নিনা নাদিয়া বেরিয়ে………….।
কথা শেষ করতে হলো না আহমদ মুসাকে। বেরিয়ে আসছিল নিনা নাদিয়া। সব কিছুই সে দেখেছে। মুহূর্তের জন্যে মুখটা বিষণ্ণও হয়ে উঠেছিল।
তবু বেরিয়ে এসেই বলল সে আহমদ মুসাকে লক্ষ্য করে, আপনি দেখছি অসাধ্যও সাধন করতে পারেন মি. গনজালেস। সাহস, ক্ষীপ্রতা, কৌশল, লক্ষ্যভেদ সব দিক থেকেই আপনি দেখছি অদ্বিতীয়!
এসব কথার দিকে কান না দিয়ে আহমদ মুসা বলল, এখন কি করতে হবে বলুন।
আসুন। ওরা জানতে পেরেছে, সামনে দিয়ে আর বের হওয়া যাবে না। পেছন দিক দিয়ে বের হওয়ার গোপন পথ আছে, আসুন। বলল নিনা নাদিয়া।
বলে নিনা নাদিয়া দৌড়াতে শুরু করল। পেছনে আহমদ মুসা।
গভীর রাত, বিভিন্ন পয়েন্টে প্রহরী আছে। তাদের মধ্যে চাঞ্চল্য কিংবা বাড়তি সতর্কতা দেখল না। বন্দী পলায়নের খবর তারা পায়নি। তাহলে ওরা পাঁচজন জানতে পারল কি করে? পর মুহূর্তেই মনে পড়ল, ওরা বন্দীখানার নিয়ন্ত্রণ কক্ষের বাড়তি প্রহরী। সম্ভবত বন্দীসেলগুলোর দরজার সাথে এলার্ম সিষ্টেম রয়েছে বন্দীখানার কন্ট্রোল কক্ষে। আহমদ মুসার সেলের দরজা খোলার এলার্ম পেয়েই তারা ছুটে এসেছিল সেলে।
গোপন পথ দিয়ে বের হওয়ার পথে আর কোন বাধা পেল না আহমদ মুসারা। পাহারার পয়েন্টগুলো এড়িয়ে পেছনের গোপন দরজাটায় পৌছে গেল আহমদ মুসারা।
দরজাটা ডিজিটাল লকে আটকানো।
দরজার সামনে পৌছে নিনা নাদিয়া তাকাল আহমদ মুসার দিকে। বলল, এই লকই শেষ সমস্যা। এর সমাধান আমার কাছে নেই। ডিজিটাল লক ডিকোড করে খোলা না গেলে লকটা গুলী করে ভেঙে দিলেও দরজা খুলবে না।
গোপন পথের শেষ এই দরজাটা প্রায় দেড় ইঞ্চি পুরু ষ্টিলের। দরজা ভাঙার কোন প্রশ্নই ওঠে না। মিস নিনা নাদিয়া, দরজা খোলার ব্যাপারটা আমার ওপর ছেড়ে দিন। বলল আহমদ মুসা।
ডিজিটাল লকের সামনে গিয়ে দাঁড়াল আহমদ মুসা তারপর বলল, ওপেনার কোর্ডটা থ্রি ডিজিটের।
থ্রি ডিজিটের? কেমন করে জানলেন থ্রি ডিজিটের। কেন নয় ‘ফোর’ বা ‘ফাইভ’ ডিজিটের? বলল নিনা নাদিয়া। তার কণ্ঠে অপার বিস্ময়।
লকটা যে ডিজাইনের, যে সাইজের, তাতে এর ওপেনার কোড থ্রি ডিজিটের বেশি হওয়ার কোনই স্কোপ নেই। এই লকের নির্মাতা কোম্পানীর বিভিন্ন কোড-ডিজিটের লকগুলো একেবারেই ভিন্ন ভিন্ন সাইজের। আহমদ মুসা বলল।
এ সাংঘাতিক একটা ইনফরমেশন। এটা জানা ছিল না। ধন্যবাদ আপনাকে। বলল নিনা নাদিয়া।
আহমদ মুসা ততক্ষণে ডিজিটাল লক নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।
নিনা নাদিয়া তার পাশে গিয়ে দাঁড়াল।
আহমদ মুসা একবার তার দিকে তাকিয়ে বলল, তিন অক্ষরের সবচেয়ে প্রিয় শব্দ এখন ইসরাইলীদের কি মিস নিনা নাদিয়া?
নাদিয়া একটু চিন্তা করল। তারপর বলল, ‘তোরাহ।’
‘হ্যাঁ, হিব্রু ভাষায় ‘তোরাহ’ তিন বর্ণে লেখা হয়। তবে সব ইহুদিদের এটা প্রিয় শব্দ, শুধু ইসরাইলীদের নয়। ইসরাইলীদের আলাদা কোন প্রিয় শব্দ কি আছে?
তেমন কোন শব্দ আমি দেখছি না। একটু চিন্তা করে বলল নিনা নাদিয়া।
আমার মনে হচ্ছে সে শব্দটা ‘তোয়া।’
‘তোয়া’ লিখতে ইংরেজিতে তিনটা বর্ণ লাগে। আর ডিজিটাল লকটা ইংরেজি বর্ণের। সুতরাং ওপেনার কোর্ডটা ইংরেজি বর্ণেই হবে। আমার মনে হয় ওপেনার কোর্ডটা ‘তোয়া হতে পারে।
বলেই আহমদ মুসা ডিজিটাল লকের ‘কি’ গুলোর উপর আঙুল চালাতে লাগল।
‘নিনা নাদিয়া’র চোখ বিস্ময়ে ছানাবড়া হয়ে গেছে। তোয়া এখন সব ইসরাইলীর মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু, সেহেতু ‘তোয়া’ এখন তাদের কাছে প্রিয় নামও। কিন্তু আমার তো এটা মনে পড়েনি। বাইরের একজন খৃষ্টান গনজালেসের এটা মনে হলো কেমন করে? আসলে কে এই ‘হাবিব গনজালেস’? তার নামের সাথে কিন্তু তার সাহস, শক্তি, বুদ্ধিমত্তা কিছুরই মিল নেই। কে তাহলে এই হাবিব গনজালেস?
নিনা নাদিয়ার এই চিন্তার মধ্যেই আহমদ মুসা বলে ওঠল, মিস নিনা নাদিয়া, আমরা সফল। খুলে গেছে দরজা। আসুন।
বলে আহমদ মুসা দরজা খুলে বের হয়ে গেল।
আহমদ মুসার কথায় নিনা নাদিয়ার চিন্তা সূত্র ছিন্ন হয়ে গেল। এরপরও মাথা থেকে তার প্রশ্নগুলো গেল না।
সে নীরবে আহমদ মুসাকে অনুসরণ করে দরজা দিয়ে বের হয়ে গেল।
নিনা বের হয়ে এলে আহমদ মুসা দরজাটা টেনে বন্ধ করে দিল। সংগে সংগেই ‘ক্লিক’ করে দরজার লকটাও বন্ধ হয়ে গেল।
ভালো হলো লকটা তার আগের জায়গায় ফিরে গেল। কিছু বুঝতে পারবে না, আমরা এই দরজা দিয়ে পালিয়েছি। আহমদ মুসা বলল।
কথা শেষ করেই আহমদ মুসা নিনা নাদিয়ার দিকে ঘুরে দাঁড়াল। বলল, আমার সীমাহীন কৃতজ্ঞতা আপনার প্রতি, এ কথা বলে আপনাকে ছোট করব না। কিন্তু আরো একটা ফেভার আমি আপনার কাছে চাই।
বলুন। আপনার কাছে আমার ঋণ শোধ হওয়ার নয়। বলল নিনা নাদিয়া গম্ভীর কণ্ঠে।
আপনি এভাবে কথা বলছেন। কথা তাহলে আমার বলা হলো না। আহমদ মুসা বলল।
নিনা নাদিয়া মুখে হাসি ফুটিয়ে বলল, ঋণ, পরিশোধ এসব কথা বাদ। বলুন আপনার কথা।
আহমদ মুসার মুখটা গম্ভীর হয়ে ওঠল। বলল, মূল্যবান ভিআইপি বন্দীদের কোথায় রাখা হয়?
নিনা নাদিয়া বিস্মিত দৃষ্টিতে আহমদ মুসার দিকে তাকাল। একটু ভাবল। বলল, এমন কোন বন্দী তোয়াতে নেই। কিন্তু এ প্রশ্ন করছেন কেন?
মিস নাদিয়া, আমি দু’জন বন্দীকে খুঁজতে এসেছি। আপনার সাহায্য আমি চাই। আহমদ মুসা বলল।
কোন দুই বন্দী?
এমিলিয়া এবং বায়তুল আকসা মসজিদের ইমাম আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমানকে। আহমদ মুসা বলল।
বিস্ময়ে-বিস্ফোরিত হয়ে উঠেছে নিনা নাদিয়ার দু’চোখ। তাহলে গনজালেস নামের এই লোক ফিলিস্তিন থেকে এসেছে! এর নাম তাহলে গনজালেস অবশ্যই নয়। তাহলে কে? এসব ভাবনার মধ্যেই সে বলল, আমি যেহেতু আগেই ঠিক করেছি, আপনাকে সাহায্য করব, তাই আমি দুই বন্দীর তথ্য দিয়ে আপনাকে সাহায্য করবো। কিন্তু তার আগে বলুন, আপনি কে? আপনার নামের সাথে আপনার এই পরিচয় মেলে না, এটা আমি আগেই বুঝেছি। তাহলে আপনি কে?
আপনার ধারণা ঠিক। আমি হাবিব গনজালেস নই। নামের দিক দিয়ে আমি বড় কোন পদ, পরিচয়ের মালিক নই। আমি ফিলিস্তিন সরকারেরও কেউ নই। বলতে পারেন একজন ফ্রি ল্যান্সার সেবক আমি। ধর্মের পরিচয়ে আমি মুসলমান। আমি মানুষকে সাহায্য করি। নিজের নামটা গোপন রাখতে গিয়ে আহমদ মুসাকে এভাবে অনেক কথা বলতে হলো। নিজের মুসলিম পরিচয় ও এমিলিয়াদের উদ্ধার করতে এসেছে, একথা বললেও নিজের নাম তাকে বলতে চাইলো না কারণ, আহমদ মুসা জানে নিনা নাদিয়া ইসরাইলীদের একজন গোয়েন্দা অফিসার। তারা আহমদ মুসার প্রতিই এলার্জিক বেশি। আহমদ মুসার নাম শুনলে সাহায্য পাওয়া ভন্ডুল হয়ে যেতে পারে।
‘আপনি তাদের খোঁজ করতে এসেছেন। খোঁজ দিচ্ছি, তাঁদেরকে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী প্রাসাদের সিকিউরিটি জোনে বন্দী করে রাখা হয়েছে। কিন্তু খোঁজ নিয়ে আপনি কি করবেন?’
প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর কি একই প্রাসাদ? আহমদ মুসার জিজ্ঞাসা।
হ্যাঁ, একই প্রাসাদে ওরা থাকেন। নিনা নাদিয়া বলল।
সিকিউরিটি জোনটা কোন দিকে?
‘প্রাসাদের রেসিডেন্সিয়াল ব্লকে থাকেন প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী। তার চারধার ঘিরেই সিকিউরিটি জোন। এই এলাকা সার্বÿণিক ও সর্বোচ্চ পাহারার অধীন, যাতে রেসিডেন্সিয়াল ব্লক নিরাপদ থাকে। বলল নিনা নাদিয়া।
ধন্যবাদ। এই সেক্রেটারিয়েটের প্রধান গেটের বিপরীত দিকের বড় গেটটাই তো প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের গেট, তাই না? জিজ্ঞাসা আহমদ মুসার।
‘প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের লোকেশন সম্পর্কে নিশ্চিত হতে চাইছেন কেন? আপনি কি তাদের উদ্ধারেরও চিন্তা করছেন? আমার একটা পরামর্শ, খোঁজ নেয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকুন। ঐ দুই বন্দীর সাথে ইসরাইলীদের ভাগ্যের সবটা জড়িত। যেখানে ভাগ্যের প্রশ্ন, সেখানে মানুষ মরিয়া হয়। বলল নিনা নাদিয়া।
উত্তরে আহমদ মুসা বলতে চাইল, এমিলিয়া ও খতিব আব্দুল্লাহ আব্দুর রহমানের উদ্ধারের সাথে গোটা ফিলিস্তিনি আবেগ জড়িত, তাদের মুক্তি ছাড়া অন্য কিছু ভাবার অবকাশ নেই। কিন্তু এ কথা না বলে আহমদ মুসা বলল, ধন্যবাদ আপনাকে একটা সত্য স্মরণ করিয়ে দেয়ার জন্যে।
‘ধন্যবাদ আপনাকেও।’ বলে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বলল, এখন রাত আড়াইটা। কোথায় যাবেন এখন আপনি?
ঠিক নেই। আমি যে কাজে তোয়া আসতে চেয়েছিলাম, সে কাজ তো হয়নি। বলল আহমদ মুসা।
বিমর্ষতা নামল নিনা নাদিয়ার চেহারায়। বলল, বুঝেছি। ইশ্বর আপনাকে হেফাজত করুন। আমি চলি।
বলে নিনা নাদিয়া হাত বাড়িয়ে দিল হ্যান্ড শেকের জন্যে।
আহমদ মুসা হ্যান্ড শেক না করে হেসে বলল, ‘মুসলিম পরিচয় দেয়ার পর আর পারছি না হ্যান্ড শেক করতে। ধন্যবাদ আপনাকে মিস নাদিয়া। আল্লাহ আপনার মঙ্গল করুন। আমিও চলি।
আহমদ মুসা ও নিনা নাদিয়া বিপরীত দিকে হাঁটতে শুরু করল।
কয়েক ধাপ এগিয়ে নিনা নাদিয়া পেছন ফিরে আহমদ মুসার দিকে তাকাল। আহমদ মুসাকে দ্বিধাহীনভাবে সামনে এগোতে দেখল। কিন্তু নিনা নাদিয়ার মুখে প্রবল দ্বিধা-দ্বন্দের ছাপ। অন্তরে তার ঝড় বইছে। তার বুঝতে বাকি নেই গনজালেস পরিচয়ের লোকটা তোয়ায় এসেছে এমিলিয়াদের উদ্ধারের জন্যেই। কিন্তু এটা হতে পারে কি করে? এমিলিয়ারাই ইসরাইলীদের ভাগ্যের ট্রাম কার্ড এটা হাতছাড়া হলে তাদের ভাগ্যও যে শেষ হয়ে যাবে।
চোখ-মুখের দ্বন্দ্ব-বিমর্ষতা আরও বাড়ল নিনা নাদিয়ার।

Page 52 of 165
Prev1...515253...165Next
Previous Post

পরী – আলাউদ্দিন আল আজাদ

Next Post

বিচিত চিন্তা – সাহিত্য চিন্তা – আহমদ শরীফ

Next Post

বিচিত চিন্তা – সাহিত্য চিন্তা - আহমদ শরীফ

বিচিত চিন্তা - সংস্কৃতি চিন্তা - আহমদ শরীফ

মন্তব্য করুন জবাব বাতিল

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সাম্প্রতিক প্রকাশনাসমূহ

  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৫: ভূমিকম্প – শামসুদ্দীন নওয়াব
  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৮: বিভীষিকার প্রহর – রকিব হাসান
  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৭: বড়দিনের ছুটি – রকিব হাসান
  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৭: আলাস্কা অভিযান – রকিব হাসান
  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৭: আমিই কিশোর – রকিব হাসান

বিভাগসমূহ

  • আত্মজীবনী
  • ইতিহাস
  • উপন্যাস
  • কবিতা
  • কাব্যগ্রন্থ
  • গল্পের বই
  • গোয়েন্দা কাহিনী
  • ছোট গল্প
  • জীবনী
  • দর্শন
  • ধর্মীয় বই
  • নাটকের বই
  • প্রবন্ধ
  • বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী
  • বৈজ্ঞানিক বই
  • ভূতের গল্প
  • রহস্যময় গল্পের বই
  • রোমাঞ্চকর গল্প
  • রোম্যান্টিক গল্পের বই
  • শিক্ষামূলক বই
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • গোপনীয়তা নীতি

© 2023 BnBoi - All Right Reserved

No Result
View All Result
  • বাংলাদেশী লেখক
    • অতুলচন্দ্র গুপ্ত
    • অভিজিৎ রায়
    • আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    • আনিসুল হক
    • আবু ইসহাক
    • আবু রুশদ
    • আবুল আসাদ
    • আবুল খায়ের মুসলেহউদ্দিন
    • আবুল বাশার
    • আরজ আলী মাতুব্বর
    • আল মাহমুদ
    • আসাদ চৌধুরী
    • আহমদ ছফা
    • আহমদ শরীফ
    • ইমদাদুল হক মিলন
    • উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    • কাসেম বিন আবুবাকার
    • জসীম উদ্দীন
    • তসলিমা নাসরিন
    • দাউদ হায়দার
    • দীনেশচন্দ্র সেন
    • নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    • নিমাই ভট্টাচার্য
    • প্রফুল্ল রায়
    • প্রমথ চৌধুরী
    • ময়ূখ চৌধুরী
    • মহাদেব সাহা
    • মাহমুদুল হক
    • মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    • হুমায়ূন আহমেদ
  • ইন্ডিয়ান লেখক
    • অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়
    • অতুল সুর
    • অদ্রীশ বর্ধন
    • অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • অনীশ দেব
    • অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • অমিয়ভূষণ মজুমদার
    • আশাপূর্ণা দেবী
    • আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
    • ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    • কাজী নজরুল ইসলাম
    • ক্ষিতিমোহন সেন
    • তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    • তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়
    • দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    • নারায়ণ সান্যাল
    • নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    • নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    • পাঁচকড়ি দে
    • পূর্ণেন্দু পত্রী
    • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • বিমল মিত্র
    • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    • হেমেন্দ্রকুমার রায়
  • বিভাগসমূহ
    • আত্মজীবনী
    • ইতিহাস
    • উপন্যাস
    • কবিতা
    • কল্পকাহিনী
    • কাব্যগ্রন্থ
    • খেলাধুলার বই
    • গল্পের বই
    • গোয়েন্দা কাহিনী
    • ছোট গল্প
    • জীবনী
    • দর্শন
    • ধর্মীয় বই
    • নাটকের বই
    • প্রবন্ধ
    • বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী
    • বৈজ্ঞানিক বই
    • ভূতের গল্প
    • মুক্তিযুদ্ধের-বই
    • রহস্যময় গল্পের বই
    • রোমাঞ্চকর গল্প
    • রোম্যান্টিক গল্পের বই
    • শিক্ষামূলক বই
    • সমগ্র
  • সিরিজ বই
    • মিসির আলী সমগ্র
    • হিমু সিরিজ

© 2023 BnBoi - All Right Reserved

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In