-১০০০?
-হাঁ কে আপনি?
-০১১, মাহমুদ! আপনি?
-আবদুল্লাহ আমিন।
মেসেজ রেকোর্ড করুন, বলে মাহমুদ মিঃ চেচিনের ডাইরীতে প্রাপ্ত সমস্ত চিঠিটা সাইমুমের বিশেষ কোডে পাঠিয়ে দিল।
কপালের ঘাম মুছে মাহমুদ উঠে দাঁড়াল। রায়হানের দিকে চেয়ে হেসে বলল মাহমুদ বিস্মিত হয়েছো রায়হান? ভুলে যাচ্ছে কেন, আবদুল্লাহ বিন ওবাই এর জন্মতো যুগে যুগে হবে। বলে মাহমুদ বের হয়ে এল ট্রান্সমিশন রুম থেকে।
তখন রাত ৩টা ৪৫ মিঃ। মাহমুদ তার ঘরে ফিরে গিয়ে টেবিলে বসল, মিঃ চেচিনের ডাইরীটা আবার মেলে ধরল চোখের সমনে। গভীর রাতের নিঝুম প্রহর। মাহমুদ হাত ঘড়ি থেকে ক্ষীণ কম্পন জাগছে বাতাসে -টিক, টিক, টিক -বয়ে চলেছে সময়।
৮
রাত তিনটা পয়ঁতাল্লিশ মিনিটা। তেলআবির থেকে মাহমুদের পাঠান মেসেজের প্রতি চোখ বুলিয়ে থেকে বিদ্যুৎ স্প্রিংএর মত উঠে দাঁড়াল আহমদ মুসা।
মনে হল কি এক তীব্র বেদনায় তার সারা মুখমন্ডল নীল হয়ে গেছে। কিন্তু ধীরে ধীরে সে ভাব তার কেটে গেল আর চোখ দু’টি জ্বলে উঠল। মুখমন্ডল হয়ে উঠল শক্ত। কয়েকবার অস্থিরভাবে পায়চারি করল সে। তারপর দেয়ালে টাঙ্গানো জর্দানের মানচিত্রের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের উপর তার দৃষ্টি স্থির হয়ে দাঁড়াল। জেবেল আল শামছ -সংযুক্ত জনফ্রন্টের হেড কোয়ার্টার। ওরা আজ এক মিটিং এ এসেছে। ভালো হল পাওয়া যাবে এক সঙ্গে। কিন্তু জর্জ বাহাশ নেই। গেছে উত্তর ভিয়েতনাম সফরে। ওর জন্য দন্ড তোলা রইল।
আহমদ মুসা চেয়ারে গিয়ে বসল। বাম পাশের এক সুইচে মৃদু চাপ দিল। কিছুক্ষণ পরে পাশের কক্ষ থেকে আহমদ মুসার সেক্রেটারী আলি বিন সাকের এসে হাজির হল। আহমদ মুসা বলল, জাফর যুবায়ের ও ইউসুফকে তৈরী হতে বলো। জীপ রেডি আছে কিনা দেখো। এহসান সাবরিকে এখনি আমার কাছে আসতে সংবাদ দাও।
সাইমুমের এ্যাকসন স্কোয়াডের আম্মানস্থ অধিনায়ক এহসান সাবরি আহম্মদ মুসার কক্ষে প্রবেশ করল। আহম্মদ মুসা দাঁড়িয়ে ছিল। এহসান সাবরিকে বসতে বলে সেও চেয়ারে গিয়ে বসল। আহমদ মুসা এহসানকে জনফ্রন্টের ষড়যন্ত্রের কথা জানিয়ে বলল, আমি জেবেল আল শামছ এ যাচ্ছি। পাঁচ মিনিটের মধ্যে ১০০ জন মুজাহিদ নিয়ে তুমি এস। তুমি ৫০ জন মুজাহিদ নিয়ে বাব উল মাশরেক নিয়ে জেবেল যাবে এবং তালাবের নেতৃত্বে অন্য ৫০ জনকে বাব-উল-শেমাল দিয়ে প্রবেশ করতে বলবে। বলে আহমদ মুসা উঠে দাঁড়াল। এহসানও উঠল। এহসান সাবরি বের হয়ে যেতেই আলি বিন শাকের ঘরে ঢুকলো। বলল, সব রেডি জনাব।
আহমদ মুসা কোন কথা না বলে আলির হাতে একটি চিঠি দিয়ে বলল, ‘মেসেজটি জেবেলে আমাদের হেড কোয়ার্টারে ইবনে সাদের কাছে এখনি পৌছে দিবে। বাদশাহ আবুল হিশামের (জর্দানের বাদশাহ) কাছে এ মেসেজ পাঠানো হয়েছে। অন্যান্য সকল আরব রাষ্ট্র প্রধানের কছে এ মেসেজ অবিলম্বে পৌঁছাতে হবে। ইবনে সাদ হেড কোয়ার্টারে প্রধান রেডিও বার্তা প্রেরক।
জাফর, যুবায়ের ও ইউসুফ অপেক্ষা করছিল। আহমদ মসা গাড়ীতে উঠতেই গাড়ী ছেড়ে দিল। সাইমুমের নাইট অপারেশনের কালো রংয়ের বিশেষ ইউনিফর্ম তাদের পরিধানে। দু’টি করে রিভলভার ছাড়া অন্যকোন অস্ত্র নেই তাদের কাছে।
আম্মান থেকে যে মহা সড়ক উত্তর দিকে গেছে,সেই সড়ক দিয়ে তীর বেগে ছুটে চলেছে আহমদ মুসার গাড়ী। রাতের নিস্তব্ধ প্রহর। জমাট অন্ধকার চারিদিকে। চাঁদ নেই তারার মেলা বসেছে আকাশে।
আহমদ মুসা ভাবছে, সাবধান হবার সুযোগ না দিয়েই ওদের কছে পৌছতে হবে। তাই যথা সম্ভব রক্তপাত ও সংঘর্ষ এড়াতে হবে। প্রহরীদেরকে নিঃশঙ্ক করার জন্যই মুসা নিরস্ত্র অবস্থায় এসেছে।
আম্মান থেকে ৭০ মাইল দূরে জেবেল আল শামছের পূর্ব দিকের প্রবেশ মুখ বাব -উল -মাশরেকের সন্নিকটবর্তী হল মুসার গাড়ী। গাড়ীর হেড লাইটের আলো বাব -উল -মাশরেকে গিয়ে পড়েছে। ষ্টেনগান উচিয়ে প্রহরীরা দাঁড়িয়ে আছে দেখা যাচ্ছে। দ্বিধাহীন গতিতে আহমদ মুসার গাড়ী গিয়ে ওদের সামনে থামল। গাড়ী থামাতেই ওরা দাঁড়াল চারিদিক থেকে। গাড়ী থেকে ওরা চারজনই নামল। আহমদ মুসাকে দেখে জনফ্রন্টের প্রহরীরা পিছিয়ে দাঁড়াল কয়েক পা। উচিয়ে ধরা ষ্টেনগান নেমে পড়ল তাদের। ঘটনার আকস্মিকতায় ওরা যেন বিহবল। আহমদ মুসা বলল, বাজাজ ডেকেছে, জরুরী কাজ আছে ।
আবদুর রহমান বাজাজ সংযুক্ত জনফ্রন্টের সেক্রেটারী জেনারেল। প্রহরীরা পরস্পর মুখ চাওয়া চাওয়ি করল, তারপর পথ ছেড়ে দুই পাশে সরে দাঁড়াল তারা। আহমদ মুসার গাড়ী এগিয়ে চলল। পথে আরও দু’জায়গায় দাঁড়াতে হল, কিন্তু কোন অসুবিধা হল না তাদের। প্রহরীরা কোনই সন্দেহ করতে পারেনি। আহমদ মুসা ভাবল জনফ্রন্টের ঊর্ধ্বতন কর্তা ব্যক্তিদের ষড়যন্ত্রের বিষয় বোধ হয় এ বেচারাদের পুরোপুরি অবহিত করা হয়নি। হয়তো বা আদৌ জানান হয়নি। তাছাড়া কর্তা ব্যক্তিদের রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের বিষয়টি সম্পূর্ণ বুঝে উঠা এ সরল মুসলিম যুবকদের পক্ষে খুব সহজনয়। সুতরাং বিষয়টির প্রয়োজনীয় গুরুত্ব সম্পর্কে তারা কিছুটা অবচেতন থাকবে – সেটাই স্বাভাবিক। সর্বোপরি মুক্তিফ্রন্টের সকল অঙ্গ দল, এমন কি আরব রাষ্ট্রগুলোর উপর সাইমুমের আহমদ মুসার প্রভাবের বিষয় তারা অবহিত আছে।
