• আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • গোপনীয়তা নীতি
শুক্রবার, জুন 26, 2026
  • Login
BnBoi.Com
  • বাংলাদেশী লেখক
    • অতুলচন্দ্র গুপ্ত
    • অভিজিৎ রায়
    • আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    • আনিসুল হক
    • আবু ইসহাক
    • আবু রুশদ
    • আবুল আসাদ
    • আবুল খায়ের মুসলেহউদ্দিন
    • আবুল বাশার
    • আরজ আলী মাতুব্বর
    • আল মাহমুদ
    • আসাদ চৌধুরী
    • আহমদ ছফা
    • আহমদ শরীফ
    • ইমদাদুল হক মিলন
    • উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    • কাসেম বিন আবুবাকার
    • জসীম উদ্দীন
    • তসলিমা নাসরিন
    • দাউদ হায়দার
    • দীনেশচন্দ্র সেন
    • নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    • নিমাই ভট্টাচার্য
    • প্রফুল্ল রায়
    • প্রমথ চৌধুরী
    • ময়ূখ চৌধুরী
    • মহাদেব সাহা
    • মাহমুদুল হক
    • মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    • হুমায়ূন আহমেদ
  • ইন্ডিয়ান লেখক
    • অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়
    • অতুল সুর
    • অদ্রীশ বর্ধন
    • অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • অনীশ দেব
    • অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • অমিয়ভূষণ মজুমদার
    • আশাপূর্ণা দেবী
    • আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
    • ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    • কাজী নজরুল ইসলাম
    • ক্ষিতিমোহন সেন
    • তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    • তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়
    • দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    • নারায়ণ সান্যাল
    • নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    • নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    • পাঁচকড়ি দে
    • পূর্ণেন্দু পত্রী
    • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • বিমল মিত্র
    • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    • হেমেন্দ্রকুমার রায়
  • বিভাগসমূহ
    • আত্মজীবনী
    • ইতিহাস
    • উপন্যাস
    • কবিতা
    • কল্পকাহিনী
    • কাব্যগ্রন্থ
    • খেলাধুলার বই
    • গল্পের বই
    • গোয়েন্দা কাহিনী
    • ছোট গল্প
    • জীবনী
    • দর্শন
    • ধর্মীয় বই
    • নাটকের বই
    • প্রবন্ধ
    • বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী
    • বৈজ্ঞানিক বই
    • ভূতের গল্প
    • মুক্তিযুদ্ধের-বই
    • রহস্যময় গল্পের বই
    • রোমাঞ্চকর গল্প
    • রোম্যান্টিক গল্পের বই
    • শিক্ষামূলক বই
    • সমগ্র
  • সিরিজ বই
    • মিসির আলী সমগ্র
    • হিমু সিরিজ
No Result
View All Result
  • বাংলাদেশী লেখক
    • অতুলচন্দ্র গুপ্ত
    • অভিজিৎ রায়
    • আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    • আনিসুল হক
    • আবু ইসহাক
    • আবু রুশদ
    • আবুল আসাদ
    • আবুল খায়ের মুসলেহউদ্দিন
    • আবুল বাশার
    • আরজ আলী মাতুব্বর
    • আল মাহমুদ
    • আসাদ চৌধুরী
    • আহমদ ছফা
    • আহমদ শরীফ
    • ইমদাদুল হক মিলন
    • উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    • কাসেম বিন আবুবাকার
    • জসীম উদ্দীন
    • তসলিমা নাসরিন
    • দাউদ হায়দার
    • দীনেশচন্দ্র সেন
    • নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    • নিমাই ভট্টাচার্য
    • প্রফুল্ল রায়
    • প্রমথ চৌধুরী
    • ময়ূখ চৌধুরী
    • মহাদেব সাহা
    • মাহমুদুল হক
    • মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    • হুমায়ূন আহমেদ
  • ইন্ডিয়ান লেখক
    • অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়
    • অতুল সুর
    • অদ্রীশ বর্ধন
    • অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • অনীশ দেব
    • অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • অমিয়ভূষণ মজুমদার
    • আশাপূর্ণা দেবী
    • আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
    • ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    • কাজী নজরুল ইসলাম
    • ক্ষিতিমোহন সেন
    • তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    • তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়
    • দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    • নারায়ণ সান্যাল
    • নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    • নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    • পাঁচকড়ি দে
    • পূর্ণেন্দু পত্রী
    • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • বিমল মিত্র
    • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    • হেমেন্দ্রকুমার রায়
  • বিভাগসমূহ
    • আত্মজীবনী
    • ইতিহাস
    • উপন্যাস
    • কবিতা
    • কল্পকাহিনী
    • কাব্যগ্রন্থ
    • খেলাধুলার বই
    • গল্পের বই
    • গোয়েন্দা কাহিনী
    • ছোট গল্প
    • জীবনী
    • দর্শন
    • ধর্মীয় বই
    • নাটকের বই
    • প্রবন্ধ
    • বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী
    • বৈজ্ঞানিক বই
    • ভূতের গল্প
    • মুক্তিযুদ্ধের-বই
    • রহস্যময় গল্পের বই
    • রোমাঞ্চকর গল্প
    • রোম্যান্টিক গল্পের বই
    • শিক্ষামূলক বই
    • সমগ্র
  • সিরিজ বই
    • মিসির আলী সমগ্র
    • হিমু সিরিজ
No Result
View All Result
BnBoi.Com
No Result
View All Result

সাইমুম সিরিজ – আবুল আসাদ

ঠিক বেলা ১টায় বেলগ্রেড বিমান বন্দর থেকে যুগোশ্লাভ এয়ার ওয়েজের একটা বিমান আকাশে উড়ল।
নিচে গ্যাংগুয়েতে দাঁড়িয়ে আছে হাসান সেনজিক, সালেহ বাহমন, মাজুভ, জাকুব, নাতাশা, ডেসপিনা এবং নাদিয়া।
তাদের সকলের চোখ পাখা মেলে উড়ে উঠা প্লেনের দিকে। তাদের কারোরই চোখ শুকনো নেই। অশ্রু গড়াচ্ছে সবার চোখ থেকেই। প্লেনটা যতই দুরে সরে যাচ্ছে, হৃদয়ের কোথায় যেন টানটা তাদের তীব্রতর হচ্ছে।
ওদিকে প্লেনের সিটে বসা আহমদ মুসার সামনে স্পেনের মানচিত্র। আর চোখে ভাসছে কর্ডোভা, গ্রানাডা, টলেডো প্রভৃতি বিধ্বস্ত নগরীর দৃশ্য আর গোয়াদেল কুইভার নদীর সেতুতে দাঁড়ানো সেই বৃদ্ধের অশ্রু ধোয়া মুখ।

 ১২. কর্ডোভার অশ্রু

মাদ্রিদ বিমান বন্দরের মাটিতে পা রাখতেই গোটা শরীরে একটা শিহরণ খেলে গেল আহমদ মুসার। সে শিহরণের মধ্যে একটা গৌরবও আছে, কিন্তু বেদনার ভাবটাই মুখ্য। সাতশ’ এগারো খৃষ্টাব্দে তারিক বিন যিয়াদ এমনি করেই স্পেনের এক প্রান্ত জাবলুত তারিকে পা রেখেছিলেন। তার সেদিনের অনুভূতি ছিল বিজেতার, এই আইবেরীয়া উপদ্বীপের মানুষকে মুক্ত করার এবং তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোতে নিয়ে আসার আনন্দও ছিল তার অন্তরে। কিন্তু আজ স্পেনের মাটির স্পর্শ থেকে সৃষ্ট শিহরণ আহমদ মুসার হৃদয়টাকে যেন বেদনায় মুষড়ে দিল! দূরে সরে যাওয়া, পর হয়ে যাওয়া আত্মীয়ের মুখোমুখি হওয়ার মতোই যেন ব্যাপারটা। আহমদ মুসার মনে হলো স্পেনের মাটিই যেন তাকে বিস্ময়ের সাথে চোখ তুলে দেখছে! তার চোখেও যেন অতীতের বেদনার এক অনুরণন। অনাকাঙ্ক্ষিত দখলের অধীন কেউ যেমন হঠাৎ দেখা পাওয়া মুক্ত আপনজনের প্রতি বিস্ময় আর বেদনার আকুতি নিয়ে তাকায় এ যেন ঠিক তেমনি! আহমদ মুসার মনে হলো, স্পেনের বোবা এই দৃষ্টিতে এক সাগর কথা যেন উপচে পড়ছে। যেন বলছে, অযোগ্য, অপদার্থ তোমরা পালিয়ে গেছ আমাকে অন্ধকারে নিমজ্জিত করে, আজ অমন বেদনা নিয়ে তাকচ্ছ কেন?
স্পেনের মাটিতে পা রেখে আবেগে, আবেশে আহমদ মুসা হঠাৎ করে চলার শক্তি হারিয়ে ফেলেছিল। তার চোখের দৃষ্টিটা ঝাপসা হয়ে উঠেছিল। কিন্তু পেছনে তখন যাত্রীর স্রোত। কে একজন পেছন থেকে তার পায়ে হোঁচট খেয়ে ‘স্যরি’ বলে উঠল। সম্বিত ফিরে পেল আহমদ মুসা। হাঁটতে শুরু করল। কিন্তু পায়ে যেন জোর পাচ্ছে না সে। হঠাৎ কেমন এক অবসাদ এসে তাকে ঘিরে ধরেছে! স্পেনের বেদনাময় অতীত যেন সবটাই এসে তার মাথায় চেপে বসেছে। দেহের প্রতিটি রক্ত কণিকায় তা ছড়িয়ে দিয়েছে অবসাদজনক এক যন্ত্রণা।
আহমদ মুসা লাগেজের অপেক্ষায় বসে ছিল। বসে বসে সে মাদ্রিদের ট্যুরিষ্ট গাইডের ওপর নজর বুলাচ্ছিল।
পাশের চেয়ারে একজন তরুনী এসে বসল। স্প্যানিশ। পরনে প্যান্ট, গায়ে শার্ট। চেহারায় নরম লাবণ্য। কিন্তু চোখে মুখে ভাব-ভংগিতে বুদ্ধি ও শক্তি যেন ঠিকরে পড়ছে!
তরুণীটি বলল, ‘মাফ করবেন, আপনি কি অধূমপায়ী?’
তরুণীটি হাতে সিগারেটের একটি প্যাকেট ও একটি লাইটার।
‘হ্যাঁ, অধূমপায়ী।’ ট্যুরিষ্ট গাইড থেকে মুখ তুলে বলল আহমদ মুসা। ‘তবে আপনি ধুমপান করতে পারেন।’
‘থ্যাংক ইউ।’ সিগারেটের প্যাকেট ও লাইটার পকেটে রাখতে রাখতে বলল মেয়েটি।
‘বললাম তো আমার অসুবিধা নেই।’
মেয়েটির দিকে পরিপূর্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে মুখে সামান্য হাসি টেনে বলল আহমদ মুসা।
‘থ্যাংক ইউ।‘ সংক্ষিপ্ত উত্তর মেয়েটির।
আহমদ মুসা আবার মনোযোগ দিল ট্যুরিষ্ট গাইডের দিকে। কিছুক্ষণ পর গাইডটি উল্টে পাল্টে বন্ধ করল। তারপর তরুণীর দিকে মুখ ঘুরিয়ে একটু দ্বিধা করে বলল, ‘মাফ করবেন, মাদ্রিদে কি মুসলিম হোটেল আছে?’
মেয়েটি চোখ তুলে মুহুর্তকাল আহমদ মুসার দিকে চেয়ে রইল। তার চোখে কৌতুহল। বলল সে, ‘আপনি নিশ্চয় মুসলমান?’
‘হ্যাঁ।’ বলল আহমদ মুসা।
‘নিশ্চয় স্পেনেও নতুন?’
‘হ্যাঁ।’
‘কিন্তু তবু স্পেনের কথা তো আপনার জানার কথা?’
‘তা ঠিক, কিছু জানি কিন্তু সব জানি না।’
‘স্পেনে মুসলিম পরিচয় নিয়ে কোন হোটেলে ওঠা সম্ভব নয়, এটা তো সবার জানা কথা।’
‘দুঃখিত, আমি এতটা জানি না।’
‘আপনার দেশ কোথায়?’
দ্বিধায় পড়ল আহমদ মুসা। কোনটাকে তার দেশ বলবে? সে তো যাযাবর। বিভিন্ন দেশ থেকে পাসপোর্ট নিয়েছে। অবশেষে বলল, ‘আমি যুগোশস্নাভিয়া থেকে আসছি।’
মেয়েটির মুখে ছোট্ট একটা হাসি ফুটে উঠল। বলল, ‘যুগোশস্নাভিয়া থেকে স্পেন তো বেশি দূরে নয়?’
‘আমার মাতৃভুমি আরো দূরে, মধ্যএশিয়া।’
’বুঝলাম।’
লাগেজ আসতে শুরু করেছে।
‘মাফ করবেন।’ বলে আহমদ মুসা উঠে দাঁড়াল।
মেয়েটির প্রশ্নের হাত থেকে বাঁচল। মেয়েটির প্রশ্নের হাত থেকে বাঁচতে পেরে খুশিই হলো আহমদ মুসা। কি করি, সংঘাতকালীন যুগোশস্নাভিয়া কেন গিয়েছিলাম, স্পেনে কেন এসেছি? এমন সব প্রশ্নেও সে করতে পারত।
আহমদ মুসা লাউঞ্জ থেকে কারপার্কে বেরিয়ে এসেছে। সে এক ড্রাইভারের সাথে কথা বলছে। আহমদ মুসা আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কসমৃদ্ধ শেরাটন হোটেলে ওঠাই ঠিক করেছে। এসব হোটেলে হালাল খাদ্যের ব্যাস্থা থাকে।
এই সময় তার বাম পাশেই ধস্তাধস্তির শব্দ পেয়ে চমকে উঠে সেদিকে ফিরে তাকাল আহমদ মুসা। সে দেখল, সেই তরুনীকে দু’পাশ থেকে দু’জন জাপটে ধরেছে। মেয়েটি ছাড়া পাওয়ার চেষ্টা করছে। নিজেকে ছাড়াতে পারলও সে। দু’পাশের দু’জন লোক মাটিতে গড়াগড়ি যাচ্ছে। ভালো কংফু জানে মেয়েটি। কিন্তু মেয়েটি সোজা হয়ে দাঁড়াতে না দাঁড়াতেই সামনে থেকে একজন ঝাঁপিয়ে পড়ল তার ওপর। মেয়েটি অদ্ভুত ক্ষিপ্রতার সাথে ডান হাঁটুটি একটু মুড়ে, একটু নিচু হয়ে, তীব্র বেগে ডান হাতটি লোকটির তলপেটে ছুঁড়ে দিল। লোকটি কোন শব্দ না করেই জ্ঞান হারিয়ে সটান মাটিতে পড়ে গেল।
পাশে ভুমিতে গড়াগড়ি যাওয়া লোক দু’টি তখন উঠে দাঁড়িয়েছে। তারা পিস্তল বের করেছে। দু’দিক থেকে দু’জন মেয়েটির পাঁজরে পিস্তল চেপে ধরে ঠেলে নিয়ে পাশের একটি মাইক্রোবাসে তুলল। গাড়ি থেকে একজন নেমে জ্ঞান হারিয়ে পড়ে থাকা লোকটিকে দ্রুত তুলে নিয়ে গেল।
ভোজবাজির মতোই দ্রুত ঘটে গেল ঘটনা!
মেয়েটিকে হাইজ্যাক করে মাইক্রোবাসটি কারপার্ক থেকে বেরোবার জন্যে ছুটল সামনের দিকে।
আশেপাশের সবার মতো আহমদ মুসাও কিংকর্তব্যবিমূঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে।
মাইক্রোবাসটি চলতে শুরু করলে মেয়েটি ‘বাঁচাও’ বাঁচাও’ বলে চিৎকার করে উঠল। সম্বিত ফিরে পেল আহমদ মুসা।
ভাবল সে, স্পেনে নতুন, কিন্তু তাই বলে এমন একটা হাইজ্যাকের প্রতিবাদ সে করবে না! একটা অসহায় মেয়ের সাহায্যের আবেদনে সে সাড়া দেবে না!
‘না, তা হয় না।’ স্বগত উক্তি করল আহমদ মুসা। ‘অন্যায়ের প্রতিরোধ, ন্যায়ের আদেশ দেবার জন্যেই তো মুসলমান জাতির উত্থান।’
আহমদ মুসা চাইল সামনেই দাঁড়িয়ে থাকা ট্যাক্সি ড্রাইভারের দিকে। দ্রুত বলল, ‘মাইক্রোবাসটিকে ফলো করবে, যাবে?’
ট্যাক্সি ড্রাইভারটি ছেলে বয়সের। সেও ঘটনাটা দেখেছে। তার চোখে মুখেও উত্তেজনা। মুহুর্তকাল ভেবে নিয়ে বলল, ‘ঝুঁকির ব্যাপার স্যার। ঠিক আছে যাব।’
‘আমি গাড়ি চালাতে চাইলে তোমার আপত্তি আছে?’ গাড়ির কাছে যেতে যেতে বলল আহমদ মুসা
‘না, নেই।’ একটু ভেবে নিয়ে বলল ড্রাইভার।
আহমদ মুসা গিয়ে ড্রাইভিং সিটে বসল। ড্রাইভার বসর পাশের সিটাতে। ট্যাক্সি ষ্টার্ট নিতে যাচ্ছে, এম সময় গাড়ির খোলা জানালা দিয়ে একটা পিস্তলের নল এসে আহমদ মুসার মাথা বরাবর স্থির হয়ে দাঁড়াল।
আহমদ মুসা মাথা ঘুরিয়ে পিস্তলধারীর দিকে তাকাল। একজন ষন্ডামার্কা লোক। ডান হাতে পিস্তল বাগিয়ে ঠান্ডা চোখে তাকিয়ে আছে। আহমদ মুসা ওর দিকে তাকাতেই লোকটি বাম হাতে গাড়ির দরজা খুলে হুকুম দিল, ‘বেরিয়ে এসো।’
আহমদ মুসা দ্রুত নির্দেশ পালন করল। তার চিন্তা ফাঁকা জায়গা পেলে কিছু একটা সুযোগ হয়তো আসতে পারে।
বাইরে এসে দাঁড়াতেই পিস্তল নাচিয়ে লোকটি বলল, ‘মনে হচ্ছে তুমি বিদেশি, মরার জন্য পাখা উঠল কেন?’
বলেই কোন কথা বলার সুযোগ না দিয়ে একটু উচ্ছ স্বরে বলে উঠল, ‘ব্লেদা এদিকে আয়, মালটাকে বেঁধে গাড়িতে তোল। যাবার সময় একটা গার্বেজে ফেলে দিয়ে যাব।’
আহমদ মুসা দেখল ওপাশের একটা প্রাইভেট কার থেকে একজন লোক বেরিয়ে এলো সরু প্লাষ্টিকের কর্ড হাতে নিয়ে।
ব্লেদা নামের লোকটি কাছে এগিয়ে আসতেই পিস্তরওয়ালা পিস্তলের নলটি নামিয়ে একটু সরে দাঁড়াচ্ছিল।
আহমদ মুসা সুযোগ নষ্ট করল না। বিদ্যুৎ গতিতে সে দ’পা এগিয়ে বাম হাত দিয়ে পিস্তলওয়ালার হাত মুচড়ে ধওে ডান হাত দিয়ে পিস্তল কেড়ে নিয়েই লোকটির কানের নিচটায় ঘাড়ে পিস্তল দিয়ে প্রচন্ড এক আঘাত করল।
লোকটি কিছু বুঝে ওঠার আগেই জ্ঞান হারিয়ে লুটিয়ে পড়ল মাটিতে। আহমদ মুসা ঘুরতে গিয়েই দেখল, গাড়ি থেকে নেমে আসা হাতে কর্ডওয়ালা লোকটি তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে। সরে দাঁড়ানোর সময় ছিল না। আবার গুলীও করতে মন চাইল না তার। শুরুতেই খুনোখুনিতে জড়িয়ে পড়ে বিপদ বাড়াতে চায় না সে।
আহমদ মুসা বসে পড়ায় লোকটি ভারসাম্য হারিয়ে আহমদ মুসার মাথার ওপর দিয়ে মাটিতে আছড়ে পড়ল।
দ্রুত উঠে দাঁড়াল আহমদ মুসা।
উপুড় হয়ে পড়ে যাওয়া লোকটির মুখ ভীষণভাবে ঠোকা খেয়েছে লনের নগ্ন একটা পাথরের সাথে। ঠোঁট কেটে গলগল করে রক্ত বেরুচ্ছে।
নেকড়ের মতো হিংস্র দৃষ্টি নিয়ে লোকটি উঠে দাঁড়াচ্ছিল।
আহমদ মুসা তার দিকে পিস্তল তাক করে কঠোর কন্ঠে বলল, ‘মাথা গুঁড়ো করে দেব, যেমন পড়ে আছ ঠিক তেমনি পড়ে থাক।’
বলে আহমদ মুসা দ্রুত পেছন হতে বাম হাতে ব্যাটি তুলে নিয়ে কর্ড হাতে লোকটি যে প্রাইভেট কার থেকে বেরিয়ে এসেছিল সেই গাড়িতে গিয়ে উঠল। তারপর দ্রুত গাড়ি চালিয়ে বেরিয়ে এলো কারপার্ক থেকে। একবার পেছন ফিরে দেখল, মাটিতে পড়ে থাকা লোকটি উঠে ছুটে যাচ্ছে সংজ্ঞাহীন লোকটার দিকে। আহমদ মুসা বুঝল, লোকটি তার সাথী জ্ঞান না ফিরিয়ে তার পিছু নিতে আসবে না।
বিমান বন্দর থেকে বেরিয়ে আসা তীরের মতো সোজা রোড ধরে ঝড়ো বেগে এগিয়ে চলছিল আহমদ মুসার গাড়ি।
পকেট থেকে মাদ্রিদের ট্যুরিষ্ট গাইড বের করে বাম হাতে রেখেছে, ডান হাতে তার ষ্টিয়ারিং হুইল।
আহমদ মুসা দেখল, বিমান বন্দর থেকে বেরিয়ে আসা রোডটি বড় একটা হাইওয়েতে পড়েছে। হাইওয়েটি পশ্চিমে মাদ্রিদ শহরে প্রবেশ করেছে। আর হাইওয়ে ধরে পূর্বদিকে এগোলে প্রথম যে ছোট্ট শহরটি পাওয়া যায় তার নাম টারজন ডে আরগোজ। আহমদ মুসা নিশ্চিত হলো মেয়েটিকে নিয়ে হাইজ্যাকররা মাদ্রিদেই যাচ্ছে। এর আর একটি বড় কারণ হলো, এরা চুনোপুঁটি হাইজ্যাকার নয়। যারা একটা মাইক্রোবাস, একটা প্রাইভেট কার নিয়ে হাইজ্যাক করতে যায়, যারা বিমান বন্দরের কারপার্কে গিয়ে হাইজ্যাক করতে সাহস করে, পেছন থেকে একটা পাহারায় রেখে আসার মতো আঁটঘাট বেঁধে যারা কাজ করার বুদ্ধি রাখে, তারা ছোটখাট হাইজ্যাকার নয়। রাজধানীতেই তাদের মানায়। সুতরাং মাদ্রিদের রাস্তা ধরে এগোবারই সিদ্ধান্ত গ্রহন করল আহমদ মুসা।
মাদ্রিদগামী বিমান বন্দর রোডটি বেশ প্রশস্ত। গাড়ি-ঘোড়াও বেশ কম। আহমদ মুসা গাড়ির বেগ বাড়িয়ে দিল। গাড়ির গতি যখন ১৪০ কিলোমিটার উঠল তখনও মনে হলো গাড়ির গতি আরও বাড়ানো যায়। খুশি হলো আহমদ মুসা। গাড়িটি নতুন আমেরিকান গাড়ি। বেশ মজবুত।
হাইজ্যাককারীর মাইকোবাসটি সাদা। তার নাম্বার এখনও জ্বলজ্বল করছে আহমদ মুসা সামনে। আহমদ মুসার দৃষ্টি সামনে প্রসারিত। একের পর এক গাড়িকে পাশ কাটিয়ে এগিয়ে চলছে আহমদ মুসার গাড়ি।
দশ মিনিট চলার পর আহমদ মুসা সাদা মাইক্রোবাসটিকে দেখতে পেল। উজ্জ্বল হয়ে উঠল আহমদ মুসার মুখ। তাহলে হাইজ্যাকররা খুব বেশি এগোতে পারেনি! পেছনে পাহারা দেবার লোক আছে যেহেতু এবং সম্ভবত তাদের পিছু নেবে কেউ এমন আশংকা করে না বলেই তারা নিশ্চিত মনে মাঝারি চালে গাড়ি চালাচ্ছে।
আরও মিনিট খানেকের মধ্যে আহমদ মুসার গাড়ি মাইক্রোবাসটির একশ’ গজের মধ্যে পৌছালো।
মাইক্রোবাসটির গতি হঠাৎ স্লো হয়ে গেল। সংগে সংগে আহমদ মুসাও তার গাড়ির গতি স্লো করে দিল। এই সময় মাইক্রোবাসটিতে কয়েকবার হর্ন বেজে উঠল। তারপরই আবার দ্রুত চলতে শুরু করল মাইক্রোবাসটি।
চককে উঠল আহমদ মুসা! মাইক্রোবাসটি কি তাকে সন্দেহ করল? মাইক্রোবাসটির শক্তিশালী রিয়ারভিউ মিররে ১০০ গজ পেছনের তার এই গাড়ি অবশ্যই ধরা পড়ার কথা। পেছনে নিজেদের গাড়ি দেখেই কি তাহলে গতি ওভাবে স্লো করে দিয়েছিল? মাইক্রোবাসটির সামনে তো কোন গাড়ি ছিল না, তাহলে হঠাৎ হর্ন বাজিয়েছিল কেন? ওটা কি ওদরে কোন সংকেত ছিল? সংকেতের জবাব না পেয়ে কি তারা ধরে নিয়েছে তাদের গাড়ি শক্র পক্ষের হাতে পড়েছে?
আহমদ মুসা নিশ্চিত হলো, সে ওদের অনুসরণ করছে এটা ওদের কাছে ধরা পড়ে গেছে। ওরা এখন পালাচ্ছে।
আহমদ মুসাও তার গাড়ির গতি বাড়িয়ে দিল। প্রায় ১০০ গজের মতো পেছনে থেকেই আহমদ মুসার গাড়ি মাইক্রোবাসটিকে অনুসরণ করে চলল।
মিনিট পাঁচেক চলার পর মাইক্রোবাসটি হাইওয়ে থেকে নেমে অপেক্ষাকৃত একটা ছোট রাস্তা ধরে ধরে দক্ষিণ দিকে ছুটতে লাগল।
রাস্তাটি আরও নির্জন। গাড়ির চলাচল খুব কম। যতই সামনে এগোতে লাগল গাড়ির চলাচলের সংখ্যা মনে হলো আরও কমে যাচ্ছে। এলাকাটি মাদ্রিদের উপকন্ঠ, কিন্তু রেসিডেন্সিয়াল কিংবা শিল্প এলাকা নয়। মাঝে মাঝে টিলা, আর মধ্যে বড় বড় কৃষি ক্ষেত। দু’পাশে ক্ষেত রেখে মাঝের রাস্তা ধরে এগিয়ে চলেছে গাড়ি।
জলপাই গাছে ঢাকা একটা ছোট্ট টিলার মুখে হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়ল মাইক্রোবাসটি।
আহমদ মুসা দাঁড়াবে কি না ভাবল। ভাবতে ভাবতেই প্রায় মাইক্রোবাসটির কাছাকাছি পৌছে গেল সে।
মাইক্রোবাসটি থেমেছে, কিন্তু কেউ গাড়ি থেকে বের হয়টি।
মাইক্রোবাসটির গড় দশের পেছনে থাকতেই আহমদ মুসা গাড়ির ব্রেক কষল।
ব্রেক কষতে গিয়ে রিয়ার ভিউতে চোখ পড়তেই ভুত দেখার মতো চমকে উঠল আহমদ মুসা! পেছনে থেকে একটা জীপ গাড়ি তার প্রায় ঘাড়ের ওপর এস পড়েছে। মাইক্রোবাসটির ওপর নজর থাকায় এতক্ষণ সে পেছনে খেয়ালই করেনি। নিজের বোকামিটাও এখন তার কাছে ধরা পড়ে গেল। শত্রু পিছু নিয়েছে একথা জানার পর সামনের মাইক্রোবাস যে অয়্যারলেসে তার বিপদের কথা নিজের লোকদের জানাতে পারে, তারা পেছন থেকে আহমদ মুসার ওপর যে চড়াও হতে পারে, আহমদ মুসাকে এ ধরনের ট্র্যাপে ফেলার জন্যেই যে এমন নির্জন, ফাঁকা জায়গায় নিয়ে আসছে, এসব কথা আহমদ মুসার আগেই আঁচ করা উচিত ছিল।
পেছনের জীপটি থামতেই চারজন চারটি পিস্তল হাতে জীপ থেকে লাফিয়ে পড়ল। ওদিকে সামনের জীপ থেকেও দু’জন নেমে এসেছে। ওদেও হাতেও পিস্তল।
আহমদ মুসার খালি হাত। জুতার খোলে ছোট একটি ছুরি আছে, একটা ল্যাসার কাটার আছে। ওগুলো দিয়ে এখানে লড়াই করা যাবে না। আর লোকগুলোকে নিছক হাইজ্যাকার মনে হচ্ছে না। ওদের ঠান্ডা মাথা, ঠান্ডা চোখ দেখে মনে হচ্ছে ওরা দক্ষ প্রফেশনাল। অয়্যারলেস ব্যবহারের যোগ্যতা যাদের আছে, তাদেরকে ছোট করে দেখার কোন অবকাশ নেই।
আহমদ মুসা শান্ত, নিরীহ মানুষের মতো গাড়ি থেকে নেমে মাইকোবাসের দিকে চলল। তার পেছনে চারজন পিস্তরধারী।
আহমদ মুসা মাইক্রোবাসের দরজার কাছে দাঁড়ানো দীর্ঘকায় লোকটির মুখোমুখি হয়ে মুখে একটু হাসি টেনে শান্ত কন্ঠে বলল, ‘একজন নিরস্ত্র লোকের জন্যে এত আয়োজন?’
মাইক্রোবাসের খোলা দরজা দিয়ে দেখা যাচ্ছে, মেয়েটি হাত, পা, মুখ বাঁধা অবস্থায় সিটে বসে আছে। সে আহমদ মুসার দিকে তাকিয়ে বিস্মিত হয়েছে। হয়তো সে ভাবতে পারেনি, বিমান বন্দরে দেখা হওয়া সেই বিদেশি তার উদ্ধারের জন্যে ছুটে আসতে পারে!
আহমদ মুসা দাঁড়ালে পিস্তলধারীরা এসে তাকে ঘিরে ফেলল।
‘তুমি কে, তুমি কি চাও?’ আহমদ মুসার প্রশ্নের জবাব না দিয়ে দীর্ঘকায় লোকটি পাল্টা প্রশ্ন করল।
‘আমি একজন বিদেশি। আমার চোখের সামনে থেকে একটি মেয়েকে হাইজ্যাক করা হলো, আমি তাকে উদ্ধার করতে এসেছি।’ বলল আহমদ মুসা
‘আমাদের গাড়ি কোথায় পেলে? আমাদের দু’জন লোককে কি করেছ?’
‘ওদের ওখানে রেখে গাড়ি নিয়ে চলে এসেছি।’
‘কী সুন্দর কথা! যেন তারা গাড়ি ওর হাতে তুলে দিয়েছে। ওস্তাদ, লোকটা মনে হচ্ছে ধাড়ি শয়তান!’ পেছন থেকে বলল একজন পিস্তলওয়ালা।
‘ঠিক আছে, সব শয়তানকেই আমরা ঠিক করতে জানি। একে বেঁধে গাড়িতে তোল। আর দু’জন বিমান বন্দরে চলে যাও। খোঁজ নাও ওদের।’ বলে দীর্ঘকায় লোকটি মাইক্রোবাসের সামনের সিটে গিয়ে উঠল। আহমদ মুসাকে বাঁধতে বাঁধতে একজন বলল, ‘ব্যাটা! আরেকজনকে উদ্ধার করতে এসেছিলি, একন তোকে উদ্ধার করে কে?’
ওর কথার ঢংয়ে আহমদ মুসার মুখ ফুটে হাসি বেরুল। সে আরও ভাবল, এই মুহুর্তে এর হাতের পিস্তলটি কেড়ে নিয়ে কয়েকজনকে শেষ করতে পারে, নিজে পালিয়েও যেতে পারে, কিন্তু মেয়েটির তো উদ্ধার হবে না।
আহমদ মুসার হাসি দেখে সম্ভবত লোকটির আত্মসম্মানে ঘা লেগেছিল। সে আহমদ মুসার হাত বাঁধা শেষ করে তার নাকের ওপর প্রবল ঘুষি চালিয়ে বলল, ‘আমাদের বুঝি পছন্দ হচ্ছে না, চল দেখিয়ে দেব।’
আহমদ মুসার নাক ফেটে গল গল করে রক্ত বেরিয়ে এলো। কিন্তু আহমদ মুসা মুখে হাসি টেনেই বলল, ‘আমার ভুল হয়েছে, যারা দুর্বল নারীদের হাইজ্যাক করে তাদের বীর ভাবা উচিত।’
পিস্তল উঁচিয়ে আর একজন পিস্তলধারী এগিয়ে এলো। বলল, ‘ব্যাটা ব্ল্যাক ডগ, তোর কাছে আমাদের নীতি শিখতে হবে না।’
বলে ধাক্কা দিয়ে আহমদ মুসাকে মাইক্রোবাসে উঠিয়ে দিল।
মেয়েটির পাশেই জায়গা হলো আহমদ মুসার।
মেয়েটির মুখ বিস্ময় ও বেদনায় ছেয়ে আছে। সবচেয়ে তাকে বিস্মিত করেছে, আহমদ মুসার ভয়হীন, নিরুদ্বিগ্ন মুখ ও সহজ হাসি। এ সময় তো ভয় ও উৎকন্ঠায় মুষড়ে পড়ার কথা! ঘুষি খেয়ে তার নাক ফেটে গেল, রক্তে ভেসে গেছে, এরপরও কত সহজ ও নির্ভয়ে কথা বলছে সে! সাধারন নার্ভ নিয়ে এটা সম্ভব নয়।
মাইক্রোবাসটি চলতে শুরু করেছে।
আহমদ মুসার পাশে দরজার কাছে একজন পিস্তলধারী বসেছে। আর দু’জন পিস্তলধারী পেছনের সিটে।
প্রান্তরের রাস্তা ধরে মাইক্রোবাস পশ্চিম দিকে এগোচ্ছে। আহমদ মুসা বুঝল, তারা মাদ্রিদে যাচ্ছে।
সামনের সিট থেকে দীর্ঘকায় লোকটি মাথা ঘুরিয়ে আহমদ মুসাকে লক্ষ্য করে বলল, ‘বিদেশি, মরবার জন্যে তোমর পাখা উঠেছিল বুঝি?’
‘মানুষ পিপীলিকা নয়।’ বলল আহমদ মুসা।
‘তাহলে তোমার পাখা বাঁচার জন্যে উঠেছে, না?’
‘একজনের বিপদে সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছি।’
‘আমরা একজন মানুষ হাইজ্যাক করেছি, তুমিও তো একটা গাড়ি হাইজ্যাক করেছ।’
নাক থেকে আসা রক্ত বার বার মুখে এসে পড়ছিল। বাঁধা হাত দিয়েই বার বার মুছতে হচ্ছে। বাঁধা হাত দু’টি তুলে ঠোঁটের ওপর নেমে আসা রক্ত আরেকবার মুছে আহমদ মুসা বলল, ‘আমি করেছি সেটা অপরাধ নয়, আপনাদের কৃত অপরাধেরই একটা ফল।’
‘বাহ্, চমৎকার যুক্তি।’
থামল লোকটি। একটু থেমেই আবার মুখ খুলল, ‘হাইজ্যাক করব না কেন? এমন অপরূপা তুমি কয়জন দেখেছ, তুমিই বলো।’
লোকটির মুখে চটুল হাসি।
‘এ জঘন্য কথার আমি কোন জবাব দেব না।’
‘জঘন্য বলছ, তুমি ফেরেস্তা নাকি? দেখব, ঠিক আছে।’
’আমি মানুষ, তবে প্রত্যেক মানুষের অধিকারকে আমি শ্রদ্ধা করি।’
‘আমার অধিকারকেও?’
’অবশ্যই।’
‘মেয়েটিকে আমার ভালো লেগেছে, ওকে হাইজ্যাক করা আমার অধিকার।’ তার মুখে আবার চটুল হাসি।
‘আমার ভালো লাগছে বলেই কাউকে আমি খুন করতে পারি না।’
লোকটি উত্তর দিল না। অল্পক্ষণ চুপ করে থাকল। তারপর বলল, ওরা ঠিকই বলেছে, তুমি সাংঘাতিক ঘড়েল লোক। এমন বিপদে এমন ঠান্ডা মাথা কাউকে তো আমি দেখিনি। কিন্তু জেনে রেখো, তোমার চেয়েও লাখো গুণ বড় ঘড়েলের হাতে পড়েছ। জান আমরা কে?’ লোকটির কথায় ক্রোধ ফুটে উঠেছে।
‘আগে জানতাম না। এখন মনে হয় বুঝতে পারছি।’
‘কি বুঝতে পেরেছ?’ লোকটি চমকে উঠে মুখ ফেরাল।
আহমদ মুসা নিজেকে সামলে নিল। ওরা যে ক্লু-ক্ল্যাক্স-ক্লানের লোক সে পরিস্কার বুঝতে পেরেছে। পাশের লোকটির পিস্তলের বাঁটে সাদা রংয়ের ছোবল-উদ্যত সাপের মাথা আঁকা। এটা ক্লু-ক্ল্যাক্স-ক্ল্যানের মনোগ্রাম। কিন্তু তাদের পরিচয় যে আহমদ মুসা জানতে পেরেছে, এ কথা এত তাড়াতাড়ি প্রকাশ করা ঠিক মনে করল না। সে চুপ করে রইল, লোকটির প্রশ্নের কোন জবাব দিল না।
‘কি বুঝতে পেরেছ, বল?’ লোকটি পিস্তল নাচিয়ে ধমকে উঠল।
তবু আহমদ মুসা দ্বিধা করল, কোন মিথ্যা কথা বলতে তার বিবেকে বাঁধল।
লোকটি এবার আহমদ মুসার মাথা বরাবর পিস্তল তাক করে বলল, ‘দেখ, প্রশ্নের জবাব না দিলে এখনি মাথা উড়িয়ে দেব।’
পাশের মেয়েটির মুখ পাংশু হয়ে উঠল। সে আর্ত কন্ঠে বলল, ‘বলুন, ওরা সব করতে পারে।’
আহমদ মুসা মেয়েটির দিকে একবার তাকিয়ে হেসে উঠে বলল, ‘ক্লু-ক্ল্যাক্স-ক্ল্যান’ এর লোকেরা তাদের পরিচয়ের ব্যাপারে এত স্পর্শকাতর তাতো জানতাম না।’
‘আমরা ক্লু-ক্ল্যাক্স-ক্ল্যান,’ কে তোকে বলল।
‘বলার তো দরকার নেই, এই যে পিস্তলের বাঁটে সাপের মাথায় মনোগ্রাম দেখেই বুঝতে পেরেছি।’
লোকটির মুখ কিছুক্ষণ বিস্ময়ে হাঁ হয়ে থাকল। তারপর বলল, ‘এটা যে ক্লু-ক্ল্যাক্স-ক্ল্যান এর মনোগ্রাম তা তুমি জানলে কেমন করে?’
আহমদ মুসা কথা সাজিয়েই রেখেছিল। বলল, ‘দেখুন, আমি লেখাপড়া জানি। দুনিয়ার ইতিহাস আমি ঘাঁটাঘাঁটি করি বলে বিভিন্ন খোঁজ-খবর রাখা আমার নেশা। ক্লু-ক্ল্যাক্স-ক্ল্যান বিয়ষটা খুব গোপন কিছু নয়।’
লোকটি তৎক্ষনাৎ কোন কথা বলল না।
অনেকক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, ‘বিদেশি, তুমি অনেক বিষয় জান। কিন্তু এটা জান না, পরিচয় জানার পর ক্লু-ক্ল্যাক্স-ক্ল্যানের হাত থেকে ছাড়া পাওয়া তোমার জন্যে এখন কঠিন হয়ে গেল?’
‘কেন?’
‘কেন? আমরা তোমাকে ভালো মানুষ ঠাওরে ছেড়ে দিই আর তুমি বাইরে গিয়ে এখন বলে দাও, বাসক গেরিলা প্রধানের বোন আমাদের হাতে বন্দী, তা হয় না।’
মেয়েটি বাসক গেরিলাপ্রধানের বোন শুনে আহমদ মুসা সবিস্ময়ে মেয়েটির দিকে চোখ ফেরাল। মেয়েটিও তখন তাকিয়েছে। চোখাচেখি হলো। এই পরিচয় শুনে মেয়েটির প্রতি মমতা ও সহানুভুতি যেন আরও বেড়ে গেল আহমদ মুসার!

Page 138 of 165
Prev1...137138139...165Next
Previous Post

পরী – আলাউদ্দিন আল আজাদ

Next Post

বিচিত চিন্তা – সাহিত্য চিন্তা – আহমদ শরীফ

Next Post

বিচিত চিন্তা – সাহিত্য চিন্তা - আহমদ শরীফ

বিচিত চিন্তা - সংস্কৃতি চিন্তা - আহমদ শরীফ

মন্তব্য করুন জবাব বাতিল

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সাম্প্রতিক প্রকাশনাসমূহ

  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৫: ভূমিকম্প – শামসুদ্দীন নওয়াব
  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৮: বিভীষিকার প্রহর – রকিব হাসান
  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৭: বড়দিনের ছুটি – রকিব হাসান
  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৭: আলাস্কা অভিযান – রকিব হাসান
  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৭: আমিই কিশোর – রকিব হাসান

বিভাগসমূহ

  • আত্মজীবনী
  • ইতিহাস
  • উপন্যাস
  • কবিতা
  • কাব্যগ্রন্থ
  • গল্পের বই
  • গোয়েন্দা কাহিনী
  • ছোট গল্প
  • জীবনী
  • দর্শন
  • ধর্মীয় বই
  • নাটকের বই
  • প্রবন্ধ
  • বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী
  • বৈজ্ঞানিক বই
  • ভূতের গল্প
  • রহস্যময় গল্পের বই
  • রোমাঞ্চকর গল্প
  • রোম্যান্টিক গল্পের বই
  • শিক্ষামূলক বই
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • গোপনীয়তা নীতি

© 2023 BnBoi - All Right Reserved

No Result
View All Result
  • বাংলাদেশী লেখক
    • অতুলচন্দ্র গুপ্ত
    • অভিজিৎ রায়
    • আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    • আনিসুল হক
    • আবু ইসহাক
    • আবু রুশদ
    • আবুল আসাদ
    • আবুল খায়ের মুসলেহউদ্দিন
    • আবুল বাশার
    • আরজ আলী মাতুব্বর
    • আল মাহমুদ
    • আসাদ চৌধুরী
    • আহমদ ছফা
    • আহমদ শরীফ
    • ইমদাদুল হক মিলন
    • উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    • কাসেম বিন আবুবাকার
    • জসীম উদ্দীন
    • তসলিমা নাসরিন
    • দাউদ হায়দার
    • দীনেশচন্দ্র সেন
    • নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    • নিমাই ভট্টাচার্য
    • প্রফুল্ল রায়
    • প্রমথ চৌধুরী
    • ময়ূখ চৌধুরী
    • মহাদেব সাহা
    • মাহমুদুল হক
    • মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    • হুমায়ূন আহমেদ
  • ইন্ডিয়ান লেখক
    • অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়
    • অতুল সুর
    • অদ্রীশ বর্ধন
    • অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • অনীশ দেব
    • অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • অমিয়ভূষণ মজুমদার
    • আশাপূর্ণা দেবী
    • আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
    • ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    • কাজী নজরুল ইসলাম
    • ক্ষিতিমোহন সেন
    • তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    • তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়
    • দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    • নারায়ণ সান্যাল
    • নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    • নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    • পাঁচকড়ি দে
    • পূর্ণেন্দু পত্রী
    • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • বিমল মিত্র
    • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    • হেমেন্দ্রকুমার রায়
  • বিভাগসমূহ
    • আত্মজীবনী
    • ইতিহাস
    • উপন্যাস
    • কবিতা
    • কল্পকাহিনী
    • কাব্যগ্রন্থ
    • খেলাধুলার বই
    • গল্পের বই
    • গোয়েন্দা কাহিনী
    • ছোট গল্প
    • জীবনী
    • দর্শন
    • ধর্মীয় বই
    • নাটকের বই
    • প্রবন্ধ
    • বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী
    • বৈজ্ঞানিক বই
    • ভূতের গল্প
    • মুক্তিযুদ্ধের-বই
    • রহস্যময় গল্পের বই
    • রোমাঞ্চকর গল্প
    • রোম্যান্টিক গল্পের বই
    • শিক্ষামূলক বই
    • সমগ্র
  • সিরিজ বই
    • মিসির আলী সমগ্র
    • হিমু সিরিজ

© 2023 BnBoi - All Right Reserved

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In