• আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • গোপনীয়তা নীতি
মঙ্গলবার, জুন 23, 2026
  • Login
BnBoi.Com
  • বাংলাদেশী লেখক
    • অতুলচন্দ্র গুপ্ত
    • অভিজিৎ রায়
    • আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    • আনিসুল হক
    • আবু ইসহাক
    • আবু রুশদ
    • আবুল আসাদ
    • আবুল খায়ের মুসলেহউদ্দিন
    • আবুল বাশার
    • আরজ আলী মাতুব্বর
    • আল মাহমুদ
    • আসাদ চৌধুরী
    • আহমদ ছফা
    • আহমদ শরীফ
    • ইমদাদুল হক মিলন
    • উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    • কাসেম বিন আবুবাকার
    • জসীম উদ্দীন
    • তসলিমা নাসরিন
    • দাউদ হায়দার
    • দীনেশচন্দ্র সেন
    • নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    • নিমাই ভট্টাচার্য
    • প্রফুল্ল রায়
    • প্রমথ চৌধুরী
    • ময়ূখ চৌধুরী
    • মহাদেব সাহা
    • মাহমুদুল হক
    • মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    • হুমায়ূন আহমেদ
  • ইন্ডিয়ান লেখক
    • অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়
    • অতুল সুর
    • অদ্রীশ বর্ধন
    • অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • অনীশ দেব
    • অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • অমিয়ভূষণ মজুমদার
    • আশাপূর্ণা দেবী
    • আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
    • ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    • কাজী নজরুল ইসলাম
    • ক্ষিতিমোহন সেন
    • তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    • তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়
    • দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    • নারায়ণ সান্যাল
    • নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    • নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    • পাঁচকড়ি দে
    • পূর্ণেন্দু পত্রী
    • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • বিমল মিত্র
    • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    • হেমেন্দ্রকুমার রায়
  • বিভাগসমূহ
    • আত্মজীবনী
    • ইতিহাস
    • উপন্যাস
    • কবিতা
    • কল্পকাহিনী
    • কাব্যগ্রন্থ
    • খেলাধুলার বই
    • গল্পের বই
    • গোয়েন্দা কাহিনী
    • ছোট গল্প
    • জীবনী
    • দর্শন
    • ধর্মীয় বই
    • নাটকের বই
    • প্রবন্ধ
    • বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী
    • বৈজ্ঞানিক বই
    • ভূতের গল্প
    • মুক্তিযুদ্ধের-বই
    • রহস্যময় গল্পের বই
    • রোমাঞ্চকর গল্প
    • রোম্যান্টিক গল্পের বই
    • শিক্ষামূলক বই
    • সমগ্র
  • সিরিজ বই
    • মিসির আলী সমগ্র
    • হিমু সিরিজ
No Result
View All Result
  • বাংলাদেশী লেখক
    • অতুলচন্দ্র গুপ্ত
    • অভিজিৎ রায়
    • আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    • আনিসুল হক
    • আবু ইসহাক
    • আবু রুশদ
    • আবুল আসাদ
    • আবুল খায়ের মুসলেহউদ্দিন
    • আবুল বাশার
    • আরজ আলী মাতুব্বর
    • আল মাহমুদ
    • আসাদ চৌধুরী
    • আহমদ ছফা
    • আহমদ শরীফ
    • ইমদাদুল হক মিলন
    • উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    • কাসেম বিন আবুবাকার
    • জসীম উদ্দীন
    • তসলিমা নাসরিন
    • দাউদ হায়দার
    • দীনেশচন্দ্র সেন
    • নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    • নিমাই ভট্টাচার্য
    • প্রফুল্ল রায়
    • প্রমথ চৌধুরী
    • ময়ূখ চৌধুরী
    • মহাদেব সাহা
    • মাহমুদুল হক
    • মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    • হুমায়ূন আহমেদ
  • ইন্ডিয়ান লেখক
    • অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়
    • অতুল সুর
    • অদ্রীশ বর্ধন
    • অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • অনীশ দেব
    • অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • অমিয়ভূষণ মজুমদার
    • আশাপূর্ণা দেবী
    • আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
    • ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    • কাজী নজরুল ইসলাম
    • ক্ষিতিমোহন সেন
    • তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    • তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়
    • দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    • নারায়ণ সান্যাল
    • নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    • নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    • পাঁচকড়ি দে
    • পূর্ণেন্দু পত্রী
    • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • বিমল মিত্র
    • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    • হেমেন্দ্রকুমার রায়
  • বিভাগসমূহ
    • আত্মজীবনী
    • ইতিহাস
    • উপন্যাস
    • কবিতা
    • কল্পকাহিনী
    • কাব্যগ্রন্থ
    • খেলাধুলার বই
    • গল্পের বই
    • গোয়েন্দা কাহিনী
    • ছোট গল্প
    • জীবনী
    • দর্শন
    • ধর্মীয় বই
    • নাটকের বই
    • প্রবন্ধ
    • বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী
    • বৈজ্ঞানিক বই
    • ভূতের গল্প
    • মুক্তিযুদ্ধের-বই
    • রহস্যময় গল্পের বই
    • রোমাঞ্চকর গল্প
    • রোম্যান্টিক গল্পের বই
    • শিক্ষামূলক বই
    • সমগ্র
  • সিরিজ বই
    • মিসির আলী সমগ্র
    • হিমু সিরিজ
No Result
View All Result
BnBoi.Com
No Result
View All Result

সাইমুম সিরিজ – আবুল আসাদ

ডাক্তার ড্রেসিং চেঞ্জ করে হাত পরিষ্কার করে এসে তোয়ালেতে হাত মুছতে মুছতে বলল, ইয়ংম্যান তোমার আর ড্রেসিং লাগবে না। তুমি ভাল হয়ে গেছ। যা সময় লাগার কথা, তার অনেক আগেই তোমার ঘাগুলো শুকিয়ে গেল। মানসিক শক্তি রোগ সারায়, কারণ এ শক্তি ঈশ্বরের কাছ থেকে আসে।
সালেহ বাহমন শুয়ে ছিল। ডাক্তারের কথা সে মনোযোগ দিয়ে শুনছিল। ডাক্তারটি খুব সরল, খবুই ভাল মানুষ। খুবই ভাবপ্রবণ। ডাক্তার না হয়ে দার্শনিক হলেই ভাল হতো।
ডাক্তার থামলে সালেহ বাহমন বলল, ডাক্তার তুমি ঈশ্বরে বিশ্বাস করো?
ডাক্তার চোখ কপালে তুলে বলল, করব না মানে আমি তো কান্ডজ্ঞানহীন নই।
–কিন্তু বস্তুবাদী সমাজ ঈশ্বর বিশ্বাসীদেরই তো কান্ডজ্ঞানহীন বলে।
–বলে বলেই তো সমাজের আজ এই দূর্গতি। তুমি বেলগ্রেড থেকে প্যারিস পর্যন্ত হেঁটে যাও, দেখবে রাস্তার দু’ধারে শত শত গীর্জা আজ পরিত্যক্ত। উপাসকের অভাবে সেগুলো বিরান হয়ে গেছে। কিন্তু গীর্জাকে পরিত্যাগ করে মানুষ কি পেয়েছে? কিছুই নয়, পরিবারে অশান্তি, সমাজে হানাহানি বহুগুণ বেড়েছে। ঈশ্বর প্রেম ছাড়া শান্তির,ভালোবাসার সমাজ গড়ে উঠতে পারে না।
–এ সমাজ আবার কি করে ভাল হবে ডাক্তার,হানাহানির পথ থেকে সরে আসার উপায় কি?
–আবার যিশুর রাজ্য ফিরিয়ে আনতে হবে।
–ডাক্তার সেটা কি যিশুর রাজ্য হবে,না যাজকদের রাজ্য হবে,যেমন একবার ছিল?
ডাক্তার সঙ্গে সঙ্গে কোন উত্তর দিল না। ডাক্তার তার দিকে বিস্ময়ভরা চোখে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। অনেকক্ষণ পর বলল,ইয়ংম্যান,তুমি সাংঘাতিক প্রশ্ন করেছ। এ প্রশ্ন আমাকেও পীড়া দেয়,যার উত্তর আমার কাছে নেই। উত্তর সন্ধানে যখনই সামনে আগাই,দেখি মনগড়া যাজকতন্ত্র সামনে এসে যাচ্ছে। তোমার কাছে কোন সলিউশন আছে ইয়ংম্যান?
–বাইবেলে কোন সলিউশন নেই।
–নেই? আমি বাইবেলের সব জানিনা। সত্যি নেই?
–নেই। পারিবারিক,সামাজিক,রাজনৈতিক,অর্থনৈতিক ব্যবস্থা মানুষের কেমন হবে,যুদ্ধ-সন্ধি কিভাবে চলবে,বিচার-লেনদেন কিভাবে পরিচালনা করা হবে সে ব্যাপারে বাইবেল নিরব।
–তাহলে ধর্মরাজ্য কি হবে? ওরা কি করতে চায় তাহলে?
–কারা?
–জাননা,মহান ধর্মসম্রাট সার্লেম্যান-এর একমাত্র বংশধর কনস্টানটাইন সে ধর্মরাজ্য পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।
–কনস্টানটাইনের নাম শুনে চমকে উঠল সালেহ বাহমন। মিলেশ বাহিনীর নেতা কনস্টানটাইন।
–দুর্ভাগ্য ডাক্তার, আমি জানিনা তাকে।
–জানবে কি করে গীর্জায় তো যাওনা। রোববারে গীর্জায় গীর্জায় ইনি বক্তৃতা দেন।
–সালেহ বাহমনের কৌতুহল বাড়ল। সে এতদিন ভাবত কনস্টানটাইন একজন সেক্যুলার ও সন্ত্রাসবাদী জাতীয় নেতা। সে গীর্জাগুলোও সফর করে ফিরছে।
–কি বলেন তিনি ডাক্তার? বলল সালেহ বাহমন।
–ইউরোপে সার্লেম্যানের সেই ধর্মসম্রাজ্য ফিরিয়ে আনার কথা বলেন। তবে একটা কথা তিনি সাংঘাতিক বলেন।
–কি কথা?
–সাংঘাতিক কথাটা হলো, মুসলমানরা নাকি সাপের মত গোটা ইউরোপ গিলে ফেলার ষড়যন্ত্র করছে। খৃষ্টানদের উদাসিনতার সুযোগে ওরা অঢেল পেট্রোডলার দিয়ে শত শত গীর্জা ইতিমধ্যেই কিনে ফেলেছে। এভাবে চললে সবগুলো গীর্জাই মসজিদে পরিণত হবে।
একটু থামল ডাক্তার। তারপর বলল, এর পরের কথা আরও সাংঘাতিক।
–কি সেটা? বলল, সালেহ বাহমন।
–সেটা হলো,স্পেনে যিশুর সন্তানরা যেমন করে মুসলমানদের এক এক করে নির্মূল করেছে, এখানেও তাই করতে হবে।
–একথা তুমি ভাল মনে কর ডাক্তার? এতো হানাহানির কথা। তুমি কনষ্টানটাইনের কথা বিশ্বাস কর?
ডাক্তার জিভ কেটে বলল, ধর্মরাজ সার্লেম্যানের সন্তান কি মিথ্যা বলতে পারেন?
–তুমি এদেশে এবং ইউরোপে মুসলমানদের দেখেছ, তারা কি অশান্তিপ্রিয়?
–তারা তো সংখ্যালঘু, খুবই শান্তি প্রিয়। তবে গীর্জা মসজিদ হয়েছে তা বেশ কিছু আমি দেখেছি। বিক্রি হয়ে যাওয়া গীর্জা কি ক্লাব রেস্তোঁরা হয়নি?
–হ্যাঁ, হয়েছে হাজার হাজার।
–তাহলে বিক্রি হওয়া গীর্জা কি মসজিদ হতে পারেনা?
–ঠিক বলেছ, হতে পারে।
–তাহলে কনষ্টানটাইন কি মিথ্যা প্রচার করছেনা?
–তা আমি বলতে পারবো না, সে ধর্মপুত্র। আমার কিছু বলা ঠিক হবে না।
–কিন্তু এই ভাবেই কি একদিন যাজকতন্ত্র কায়েম হয়েছিল না,যা ধর্মের অপূরণীয় ক্ষতি করেছে?
ডাক্তার হাসল। বলল,তুমি অনেক জান ইয়ংম্যান। তুমি একদিন কনষ্টানটাইনের সাথে কথা বলনা!
বলে ডাক্তার তার মেডিকেল কিট নিয়ে উঠে দাঁড়াল। বেরিয়ে গেল ডাক্তার।
ডাক্তার বেরিয়ে যেতেই খাবার নিয়ে ঘরে ঢুকল নাদিয়া নূর।
খাবার টেবিলে রেখে বলল,ডাক্তারের সাথে এভাবে কথা বলা আপনার ঠিক হয়নি। ডাক্তার একটু চালাক হলে আপনি ধরা পড়ে যেতেন।
নাদিয়ার পরনে সাদা ঢিলা জামা। একদম পা পর্যন্ত নেমে এসেছে। মাথায় জড়ানো সাদা বড় রুমাল। কপালও ঢাকা পড়েছে রুমালে।
চোখ নিচু করে কথা বলছিল নাদিয়া।
নাদিয়াকে ঢুকতে দেখেই চোখ নামিয়ে নিয়েছিল সালেহ বাহমন।
আহত অবস্থায় সেদিনের রাতের ঘটনার পর নাদিয়া সামনে আসলেই বাহমন খুবই অস্বস্তি বোধ করে। সেদিন সালেহ বাহমন যখন টলে পড়ে যাচ্ছিল, তখন নাদিয়া তাকে জড়িয়ে ধরে যে চিৎকার করেছিল তা এখনও তার চোখে ভাসে।
নাদিয়াও সাধারণতঃ তার সামনে আসেনা। কিন্তু বাড়ীতে লোক নেই। আব্বা ওমর বিগোভিক সারাদিন প্রায় বাইরে থাকে, তখন সালেহ বাহমনের দেখা-শুনা বাধ্য হয়ে নাদিয়াকেই করতে হয়।
নাদিয়া থামলে সালেহ বাহমন বলল, ঠিক বলেছেন, বেশীই একটু বলে ফেলেছি। কি করব মিথ্যার জবাব না দিয়ে তো পারা যায় না।
নাদিয়া আর কি বলবে ভেবে পাচ্ছিল না,চলে যাবে কিনা তাও বুঝতে পারছিল না। নাদিয়া অবাক হয় এমন জড়তা,সংকোচ তার তো কোন দিনই ছিল না। এ ঘরে পা দিলেই এক অশরীরি আবেশ যেন তাকে ঘিরে ধরে। মনে পড়ল সেদিনের ডেসপিনার বলা কথা। অস্বস্তিটা তার আরও বাড়ল।
চলে যাবে কি যাবেনা যখন ভাবছিল নাদিয়া,তখন সালেহ বাহমন বললেন,আপনি সেদিন ষ্টিফেন পরিবারের যে ছেলেটির নিখোঁজ হওয়ার কথা বললেন, তার কি কোন ফটো আমাকে দিতে পারেন।
নাদিয়া সালেহ বাহমনের আপনি সম্বোধনে খুবই বিব্রত বোধ করে। আজ আর সে ধরে রাখতে পারলো না। বলল,‘আপনি’না বললে কি হয়না,অন্ততঃ বয়সে ছোট তো আমি।
সালেহ বাহমন মাথা নিচু করেই বসেছিল। মুহূর্তকাল কোন উত্তর দিলনা নাদিয়ার কথায়। পরে ধীরে ধীরে বলল,ঠিক আছে নাদিয়া।
ঐ ফটো আমাকে দেবে।
–যদি পারি।
–কিন্তু ফটো না পেলে খোঁজ করা মুস্কিল হবে।
–আমি চেষ্টা করবো।
এই সময় ঘরে প্রবেশ করল ওমর বিগোভিক।
এ সময় ওমর বিগোভিক কোন সময়েই বাড়ি ফেরেন না।
নাদিয়া বিস্ময়ের দৃষ্টিতে তার পিতার দিকে তাকাল।
ওমর বিগোভিক সোফায় গা এলিয়ে দিয়ে বলল, আজ মিলেশ বাহিনীর একজন আমার লন্ড্রী হাউসে এসেছিল।
নাদিয়া এবং সালেহ বাহমন দু’জনেই চমকে উঠে ওমর বিগোভিকের দিকে তাকাল।
একটু দম নিয়ে সে বলল, ভয় করোনা ওরা আমাকে চিনেনি। সম্ভবত: সেদিন রাতে শোনা আমার নাম, চেহারা কিছুই তারা মনে রাখেনি। এবং নৌকায় আমার লন্ড্রী হাউসের নেমপ্লেট নিশ্চয় তাদের চোখে পড়েনি।
–তাহলে কেন এসেছিল? বলল, নাদিয়া।
–এসেছিল একটা অর্ডার নিয়ে। এর আগেও অর্ডার নিয়ে এসেছে, কিন্তু তখন পরিচয় জানতে পারিনি। আজ গল্পে গল্পে অনেক কথা বলেছে, পরিচয়ও জানতে পেরেছি।
–কিছু জানতে পেরেছ তাহলে?
–হ্যাঁ, সেজন্যেই এলাম। এ কথা সালেহ বাহমনকে না বলে থাকতে পারলাম না। ওমর বিগোভিকের কথা শোনার জন্যে উদগ্রীব হয়ে উঠল নাদিয়া এবং সালেহ বাহমন দু’জনেই।
ওমর বিগোভিক গম্ভীর হয়ে উঠল। বলল, লোকটি গল্পে গল্পে যে কথা বলল, তার সারাংশ হলো, ষ্টিফেন পরিবারের হাসান সেনজিক আর্মেনীয়ার হোয়াইট ওলফের হাতে বন্দী ছিল। ৫০ হাজার ডলারের বিনিময়ে হোয়াইট ওলফ তাকে মিলেশ বাহিনীর হাতে তুলে দেবে, এটা ঠিক হয়ে গিয়েছিল। এই সময়ই হোয়াইট ওলফের বিপর্যয় ঘটে। আহমদ মুসার নতুন নেতৃত্বে ককেশাস ক্রিসেন্ট হোয়াইট ওলফের সব ঘাটি একদিনেই বিধ্বস্ত করে দেয়। হোয়াইট ওলফের লোকরা হয় মারা পড়ে, নয় বন্দী হয়। হাসান সেনজিক যে ঘাটিতে বন্দী ছিল সে ঘাটিও বিধ্বস্ত হয়, কিন্তু হাসান সেনজিক মারা পড়েনি। মিলেশ বাহিনী মনে করছে ককেশাস ক্রিসেন্ট তাকে উদ্ধার করেছে। এই সম্ভবনাটিই মিলেশ বাহিনীর জন্যে উদ্বেগজনক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ককেশাস ক্রিসেন্ট হাসান সেনজিককে সাহায্য করলে তাকে হাতে পাওয়া অসুবিধা হবে।
গা থেকে কোট খুলে ফেলার জন্যে ওমর বিগোভিক কথা বন্ধ করেছিল।
ওমর বিগোভিক কোট খুলে নাদিয়ার হাতে দিয়ে এসে আবার বসল।
ওমর বিগোভিক কথা শুরু করার আগেই সালেহ বাহমন মুখ খুলল। বলল, মাফ করবেন, কথায় বাধা দিলাম। আমি জানতে চাচ্ছি, আপনি যে আহমদ মুসার কথা বললেন, সে কোন আহমদ মুসা?
–তুমি কোন আহমদ মুসাকে জান? বলল, ওমর বিগোভিক।
–জানি এক আহমদ মুসার কথা। তিনি ফিলিস্তিন, মিন্দানাও এবং মুসলিম মধ্য এশিয়ার ইসলামী বিপ্লবের নায়ক।
–হ্যাঁ বৎস, ইনিই তিনি।
–তিনি ককেশাসে এসেছিলেন?
–এসেছিলেন এবং আসার পর হোয়াইট ওলফের এ বিপর্যয় ঘটে।
–আলহামদুলিল্লাহ। খুশীতে উজ্জ্বল হয়ে উঠল সালেহ বাহমনের মুখ।
–কে এই আহমদ মুসা আব্বা? আমি তো শুনিনি তার কথা? বলল,নাদিয়া।
–তিনি আল্লাহর এক রহমত। এক অকুতোভয়, অসীম সাহসী, এবং অসাধারণ ধী সম্পন্ন এক বিপ্লবী যুবক। মুসলিম জাতির যেখানেই বিপদ,সেখানেই ছুটে যান তিনি,থামল ওমর বিগোভিক।
সংগে সংগেই কথা বলে উঠল সালেহ বাহমন। বলল,নাদিয়া তোমার বান্ধবী ডেসপিনাকে বলতে পার, হাসান সেনজিককে আল্লাহ এমন এক স্থানে পৌছেছেন,যার চেয়ে নিরাপদ স্থান আমার মনে হয় এ দুনিয়াতে আর নাই।
বলে একটু থেমেই ওমর বিগোভিককে লক্ষ্য করে বলল, চাচাজান আমি আর শুয়ে থাকতে পারব না। আপনি যে খবর শুনিয়েছেন তাতে আমার মন ছুটে বেড়াতে চাচ্ছে। কেন জানি আমার মন বলছে, আহমদ মুসা বালকানে আসবেন।
–আব্বা,ওর আজ নতুন ড্রেসিং হয়েছে। এ ড্রেসিং খোলা পর্যন্ত ওর রেষ্ট নেওয়া দরকার। সালেহ বাহমনের কথা শেষ হতেই বলে উঠল নাদিয়া।
‘আমার কথা তো শেষ হয়নি, তোমরা অন্য কথায় গেছ’ বলে ওমর বিগোভিক আবার তার কথা শুরু করল, ‘আনন্দের কথার মাঝে বিপদের কথাও আছে। আমি মিলেশ বাহিনীর লোককে প্রশ্ন করে ছিলাম, তোমরা কি তাহলে হাসান সেনজিকের আসা ছেড়ে দিলে?
উত্তরে সে তীব্রভাবে মাথা ঝাকিয়ে বলেছিল, না,না,না। আমরা জানি হাসান সেনজিক যেখানেই থাক,যার কাছেই থাক তার মুমূর্ষ মা’কে সে একবার দেখতে আসবেই। সীমান্ত এবং সর্বত্র তার ফটো আমরা ছড়িয়ে দিয়ে রেখেছি। আমাদের চোখকে ফাঁকি দিয়ে সে বলকানে প্রবেশ করতে পারবে না। প্রবেশ করলেও তার মা’র সাথে দেখা করার চেষ্টা করলেই সে ধরা পড়ে যাবে। সিদ্ধান্ত হয়েছে,হাসান সেনজিকের মা’সহ ষ্টিফেন পরিবারের সবগুলো বাড়ী এবং লোকদের উপর চব্বিশ ঘন্টা নজর রাখা হবে। থামল ওমর বিগোভিক।
ওমর বিগোভিকের শেষের কথাগুলো শুনে নাদিয়ার মুখ ছোট হয়ে গেল। সালেহ বাহমন বলল, হাসান সেনজিকের উপর মিলেশ বাহিনীর এত রাগ কেন?
–হাসান সেনজিক মিলেশ বাহিনীকে কাঁচকলা দেখিয়ে এতদিন বেঁচে আছে এটাই তার অপরাধ। তাদের মাথায় ভীষণ জেদ চেপেছে। আর তাছাড়া ষ্টিফেন পরিবারের প্রত্যক্ষ ও পিওর রক্ত যে একমাত্র যুবকের দেহে আছে,সে হলো হাসান সেনজিক। সুতারাং তাকে হত্যা করা তাদের চাই-ই।
–আব্বা ষ্টিফেন পরিবারকে সাবধান করা দরকার? এসব কথা কি আমি ডেসপিনাকে বলব? বলল নাদিয়া।
–অবশ্যই বলতে হবে মা। এই বিপদে ওদের যদি সাহায্য করা যেত! বলল ওমর বিগোভিক।
–চাচাজান আজই এখান থেকে বেরুতে চাই। মুসলিম যুবকদের নিয়ে গড়ে তোলা সংগঠন হোয়াইট ক্রিসেন্টের বেলগ্রেড ইউনিটের প্রধান হিসাবে আমার অনেক কাজ করার আছে।
–তা আমি বুঝেছি সালেহ বাহমন,কিন্তু…………..
ওমর বিগোভিক সায় দিতে ইতঃস্তত করতে লাগলেন।
–না আব্বা,ঘাগুলো পুরো শুকাবার আগে বেরুলে ওর ক্ষতি হবে। ওর যাওয়া হবে না। শক্ত কণ্ঠে প্রতিবাদ করল নাদিয়া।
কথা শেষ করেই নাদিয়া দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।
ওমর বিগোভিক মেয়ের দিকে একবার চাইল। তার ঠোঁটে এক টুকরো স্নেহের হাসি।
তারপর সালেহ বাহমনের দিকে ফিরে ওমর বিগোভিক বলল,নাদিয়া ঠিকই বলেছে,ঘাগুলো না সারলে তোমার বেরুনো ঠিক হবে না। তোমার বাড়ীর লোকেরা তো আসছেই,কোন কথা,কোন কাজ থাকলে তাদের মাধ্যমে করতে পার,আমাকেও বলতে পার।
তাকে নিয়ে নাদিয়ার জেদে সালেহ বাহমন লজ্জায় মরে যাচ্ছিল। ওমর বিগোভিক কি কিছু বুঝেননি? অবশ্যই বুঝেছেন। নাদিয়ার উপর রাগ হলো সালেহ বাহমনের কিন্তু এ রাগের মধ্যে অভূতপূর্ব এক তৃপ্তি আছে অনুভব করল সালেহ বাহমন। সে খুবই অস্বস্তি বোধ করতে লাগল ওমর বিগোভিকের সামনে।
সালেহ বাহমন ওমর বিগোভিকের কথার কোন জবাব দেয়নি।
ওমর বিগোভিক উঠে দাঁড়াল। বলল,তোমার অনেক সময় নিয়েছি। খাবার পড়ে আছে,খেয়ে নাও।
বলে ওমর বিগোভিক ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।
সালেহ বাহমন উঠে খাবারের টেবিলের দিকে চলল।

৪

তিরানা বন্দরে বিমানটা ল্যান্ড করল ঠিক বেলা সাড়ে এগারটায়।
তিরানা আলবেনিয়ার রাজধানী। বহু বছর আলবেনিয়া কম্যুনিষ্ট শাসনের লৌহ শাসনে বন্দী ছিল। সেই বাঁধন এখন নেই,কিন্তু তার রেশ এখনও যায়নি। পুরানো একটা অভ্যাস থেকে নতুন অভ্যাসে রূপান্তর রাতারাতি হয়না।
বিমান থেকে আহমদ মুসা চোখ ভরে দেখল তিরানা শহরকে। হাসান সেনজিকও দেখছিল। তার কাছেও সব নতুন।
–কেমন লাগছে হাসান সেনজিক? জিজ্ঞেস করল আহমদ মুসা।
–ভাল লাগছে,অনিশ্চয়তার একটা রোমাঞ্চ আছে। বলল হাসান সেনজিক।
–ভয় করছে না?
–না মুসা ভাই,আপনার সাথে দেখা হবার পর ভয় যেন কোথায় চলে গেছে।
আহমদ মুসা হাসান সেনজিকের পিঠ চাপড়ে বলল,সাবাস হাসান সেনজিক। সাহস না হারালে কোন অনিশ্চয়তাই অনিশ্চয়তা নয়,কোন বিপদই বিপদ নয়।
টারমাকে প্রবেশ করল বিমান।
বিমানের সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে আহমদ মুসা ভাবল,যতটা অনিশ্চয়তা নিয়ে সে তিরানায় নামছে,ততটা অনিশ্চয়তার মুখোমুখি কখনও সে আর হয়নি। যে দেশে তারা নামছে তার কিছুই চেনা নেই,কেউ চেনা নয়।
চেকিং এর ঝামেলা শেষ করে বেরিয়ে এসে যখন ওয়েটিং লাউঞ্জে বসল তখন বেলা সাড়ে এগারটা।
আহমদ মুসা ও হাসান সেনজিক কেউই লক্ষ্য করেনি তারা যখন চেকিং এরিয়া থেকে লাউঞ্জে বেরিয়ে আসছিল,তখন গেটের পাশে দাঁড়ানো দু’জন লোক হাসান সেনজিকের দিকে নজর পড়তেই চমকে উঠেছিল।
লোক দু’টির শক্ত-সমর্থ চেহারা ও পেটানো স্বাস্থ্য,গায়ে টি শার্ট,চোখে সানগ্লাস। আলবেনীয়।
আহমদ মুসারা লাউঞ্জে এসে বসলে তারা দূরে ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে তাদের উপর চোখ রাখল। এক সময় দু’জনকে পরামর্শ করতে দেখা গেল,তারপর একজন বেরিয়ে গেল। অন্যজন তাদের উপর নজর রাখল।
আহমদ মুসা ও হাসান সেনজিক আলোচনা করছিল তাদের এখনকার গন্তব্য নিয়ে। আহমদ মুসা বলল, প্রথমে একটা হোটেলে উঠা যাক। তারপর ঠিক করা যাবে আমরা কিভাবে এগুবো।
লাউঞ্জের এক পাশে একটা বুক ষ্টল দেখে আহমদ মুসা খুশী হয়ে উঠল। ওখানে তো ট্যুরিষ্ট গাইড ও ম্যাপও পাওয়া যেতে পারে।
আহমদ মুসা উঠে দাঁড়াল। বলল, উঠ হাসান সেনজিক,আমরা ঐ বুক ষ্টলটা হয়ে বেরিয়ে যাব।
দূরে দাঁড়ানো লোকটিও নড়ে উঠল।
আহমদ মুসারা বই কিনে যখন লাউঞ্জ থেকে বাইরে বেরিয়ে এল, লোকটিও পিছে পিছে লেগে থাকল। সে এবার আগের চেয়ে অনেক ঘনিষ্ঠ হয়েছে।
লাউঞ্জ থেকে বেরুলেই একটা প্রশস্ত ফুটপাত। ফুটপাতের পরেই দীর্ঘ-প্রশস্ত গাড়ি বারান্দা। কিন্তু ভাড়া গাড়ি পেতে হলে গাড়ি বারান্দার পূর্ব-দিকে বিশাল পার্কিং এ নেমে যেতে হ্য়।
আহমদ মুসারা ফুটপাতে বেরুতেই গাড়ি বারান্দায় একজন লোক এগিয়ে এল এবং বলল,স্যার গাড়ি লাগবে?
লোকটা ড্রাইভার গোছেরই । আধা ইংরেজী আধা আলবেনীয় ভাষায় কথা বলল সে। তার মিশ্র ভাষা শুনে আহমদ মুসার হাসিই পেল।
তার দিকে চাইল আহমদ মুসা।
আহমদ মুসা ট্যুরিষ্ট গাইড থেকে তিরানার কয়েকটা হোটেলের নাম জেনে নিয়েছিল।
কঠোর কম্যুনিষ্ট শাসনের অধীন আলবেনিয়া দীর্ঘ দিন রুদ্ধদ্বার নীতি অনুসরণের ফলে বাইরের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোন সুযোগ-সুবিধাটা এখানে গড়ে উঠতে পারেনি। পাঁচতারা তিনতারা স্টাইলের কোন পশ্চিমা হোটেল তিরানায় নেই।
গাইডে প্রথম শ্রেণীর হোটেলগুলোর একটির নাম ‘এল-ফজর’, তিরানার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে খুব দূরেও নয়, আবার কাছেও নয়। এ রকম একটা লোকেশনই আহমদ মুসার পছন্দ। তাছাড়া হোটেলটির নামটাও তাকে আকর্ষণ করেছে। সে বিস্মিত হলো,চার-পাঁচ দশকের কঠোর কম্যুনিষ্ট দলনেও আরবী শব্দ,আরবী নাম এখনও টিকে আছে আলবেনিয়ায়? আবার ভাবল, থাকবেনা কেন মুসলমানরা আলবেনিয়ায় বিপুলভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ,শাসকরা কম্যুনিষ্ট হলেও তাদের পরিচয় মুসলমানই ছিল। ইসলামী কালচারকে তারা চাইলেও সম্পূর্ণ উচ্ছেদ করতে পারেনি। হৃদয়ের গভীর থেকে যার উৎসরণ তাকে গলা টিপে মারা যায় না।
–এল-ফজর হোটেল এখান থেকে কতদূর? ড্রাইভার লোকটাকে জিজ্ঞেস করল আহমদ মুসা।
–এই চার-পাঁচ মাইলের বেশী নয় স্যার। দশ মিনিটেই পৌছে যাব স্যার।
কিছু না বলে আহমদ মুসা হাটতে শুরু করল কার পার্কের দিকে। ড্রাইভার লোকটিও সাথে সাথে চলল।
যে লোকটি আহমদ মুসাদের অনুসরণ করছিল। সে এই সময় তার পাশ কাটিয়ে দ্রুত কার পার্কের দিকে চলে গেল। তার ঠোঁটে এক টুকরো বাঁকা হাসি।
কার পার্কে তখন গোটা তিনেক ট্যাক্সি দাঁড়িয়ে আছে। বিমান তো বেশ আগে ল্যান্ড করেছে, যাত্রীরা চলে গেছে।
কার পার্কের মাঝখানে একটা ট্যাক্সি দাঁড়িয়ে আছে। অন্য দু’টো দু’পাশে বেশ খানিকটা দূরে দাঁড়িয়ে।
সাথের ড্রাইভার লোকটি মাঝের ট্যাক্সির এক পাশে গিয়ে দাঁড়াল। গাড়ির অন্য পাশে আহমদ মুসাদের উপর চোখ রাখা সেই দু’জন লোকও দাঁড়িয়ে আছে। তারা ড্রাইভারের সাথে আহমদ মুসার কথা শুনছে।
আহমদ মুসা মনে করল, ওরাও দু’টো গাড়ির ড্রাইভার। সম্ভবতঃ দর কষাকষি তারা শুনতে এসেছে। সুযোগ পেলে তারা নিজেদের গাড়ির দিকে টানবে। এয়ারপোর্টে এরকমটাই ঘটে অনেক জায়গায়।
গাড়ির কাছে পৌঁছে আহমদ মুসা জিজ্ঞেস করল, ৫ মাইল রাস্তা কত ভাড়া চাও, তোমাদের রেট কি?
–স্যার রেট তো দশ ডলার, এখন শেষ সময় আপনি দয়া করে যা দেন। বলে ড্রাইভার ট্যাক্সির চারটা দরজা খুলে তোয়ালে দিয়ে সিটগুলো ঝাড়া মোছা করে নিয়ে বলল, স্যারদের কি দেরী হবে, কিছু কাজ আছে আর?
–না, ড্রাইভার। বলে আহমদ মুসা হাসান সেনজিককে গাড়িতে উঠতে বলল।
হাসান সেনজিক খোলা দরজা দিয়ে পেছনের সিটে উঠে বসল।
ড্রাইভার তখন তার সিটে বসে ষ্টিয়ারিং হুইল মুছছিল তোয়ালে দিয়ে।
আহমদ মুসা স্যুটকেসটি হাতে নিয়ে বলছিল, ড্রাইভার স্যুটকেসটি…
আহমদ মুসা কথা শেষ করতে পারল না,বিদ্যুতবেগেই যেন ঘটনাটা ঘটল।
ট্যাক্সির ওপাশে দাঁড়ানো লোক দু’জন চোখের পলকে খোলা দরজা দিয়ে একজন সামনের সিটে অন্যজন পেছনের সিটে উঠে বসেছে। সংগে সংগেই গাড়ির দরজাগুলো বন্ধ হয়ে গেল, গাড়ি লাফিয়ে স্টার্ট দিয়ে তীর বেগে ছুটে চলল সামনে।
হাসান সেনজিকের পাশের দরজা খোলাই ছিল। কি ঘটেছে আহমদ মুসা যখন বুঝল, তখন সে দরজা ধরতে চেষ্টা করল কিন্তু পারলনা। হাত ফসকে বেরিয়ে গেল।
হাসান সেনজিকের চিৎকার শুনতে পেল আহমদ মুসা। কার পার্ক পার হবার আগেই হাসান সেনজিকের পাশের দরজাটাও বন্ধ হয়ে গেল।
গাড়িটার দিকে তাকিয়ে আহমদ মুসা কয়েক মুহূর্ত অভিভূতের মত দাঁড়িয়ে রইল।
তার সমস্ত মুখটি বেদনা ও বিষাদে ভরে গেছে।
সম্বিত ফিরে পেয়ে আহমদ মুসা পাশের ট্যাক্সির দিকে তাকাল। দেখল, ট্যাক্সির ড্রাইভিং সিট থেকে একজন তরুণী বেরিয়ে এল। তার পরনে ফুল প্যান্ট,গায়ে টি সার্ট।
আহমদ মুসা তার দিকে এগিয়ে বলল, আমাকে সাহায্য করুন, আমার সাথীকে ঐ গাড়িতে কিডন্যাপ করা হয়েছে। আমি ফলো করতে চাই। তরুণীও ঘটনাটা দেখছিল। সে আপত্তি করল না। বলল, আসুন।
বলে সে পেছনের দরজা খুলে ধরল।
আহমদ মুসা বলল, আপনি অনুমতি দিলে আমি ড্রাইভিং এ বসতে চাই। তরুণীটি মুহূর্তের জন্য চোখ তুলে আহমদ মুসার দিকে তাকাল।
আহমদ মুসার শান্ত দৃষ্টি এবং পবিত্র-সরল চেহারার দিকে একবার নজর ফেলেই একটু হেসে তরুণীটি ড্রাইভিং এর পাশের সিটে গিয়ে বসল।
আহমদ মুসা গাড়ি স্টার্ট দিতে দিতে বলল, কত পরিমাণ স্পিডে অসুবিধা হবে না?
–নতুন গাড়ি। ফুল স্পিডেও অসুবিধা নেই যদি…………… হেসে কথা শেষ না করেই থামল।
–ঠিক আছে, গাড়ির ও আমাদের নিরাপত্তা প্রথম শর্ত।
তীর বেগে আহমদ মুসার গাড়ি কারপার্ক থেকে বেরিয়ে রাস্তায় নেমে এল। গাড়ির নাম্বার
আহমদ মুসার চোখে তখনও জ্বল জ্বল করছেঃ ৮৩১১।
গাড়ি রাস্তায় বেরুতেই তরুণীটি বলল, সামনে দু’টো রাস্তা, একটা শহরে গেছে, অন্যটা উত্তরে দূরের ছোট্ট শহর ভেরার দিকে এগিয়েছে।
–ভেরা নয়, শহরের দিকে আমরা যাব। বলল আহমদ মুসা।
–তাহলে ডাইনে মোড় নিন।
মোড়ের উপর গাড়ি তখন এসে পড়েছে।
গাড়ি ডান দিকে টার্ন নিয়ে ছুটে চলল শহরের দিকে।
–শহর পর্যন্ত সাইড কোন রাস্তা নেই আর। বলল তরুণীটি।
তীরের ফলার মত এগিয়ে চলছে গাড়ি। গাড়ির বেগ ১২০ কিলোমিটারে,যা এই রাস্তায় জন্য অস্বাভাবিক। কিন্তু তরুণীটি সপ্রশংস দৃষ্টিতে চেয়ে থাকল,অদ্ভুত দক্ষ হাত,অদ্ভুত পরিমিতি বোধ। একটার পর একটা গাড়ি ওভারটেক করছে,কিন্তু তা অপরূপ সুন্দরভাবে। গাড়ি চালনাও যে একটা শিল্প তরুণীটি আজ তা প্রথম অনুভব করল।
তাকাল তরুণীটি আহমদ মুসার দিকে। শান্ত মুখ। চোখ দু’টি পাথরের মত সামনে চেয়ে আছে।
হঠাৎ আহমদ মুসার চোখ দু’টি খুশীতে উজ্জ্বল হয়ে উঠল।
তরুণীটি সামনের দিকে চেয়ে দেখল একটি ট্যাক্সি। বলল, ওটাই কি সেই ট্যাক্সি?
–জি হ্যাঁ।
গাড়ি দু’টির মাধ্যে ব্যবধান দ্রুত কমছে।
আর দু’মিনিট তাহলেই সে গাড়িটাকে ধরে ফেলবে।
হঠাৎ আহমদ মুসার মুখে অন্ধকার নেমে এল। সামনেই জ্বলজ্বল করছে লাল ট্র্যাফিক সিগন্যাল। শহরের মুখে রাস্তায় একটা ক্রসিং। লাল সিগন্যাল থামিয়ে-দিয়েছে এ রস্তার গাড়ি। কিন্তু ঐ গাড়িটি অল্পের জন্য বেরিয়ে যেতে পেরেছে।
আহমদ মুসার গাড়ি এসে থেমে গেল সিগন্যালের সামনে।
হাতাশভাবে আহমদ মুসা তার মাথা ছেড়ে দিল ষ্টেয়ারিং হুইলের উপর। হৃদয়ে কাঁটার মত বিধতে লাগল একটা কথা, নিরীহ, সরল তরুণ হাসান সেনজিক ওদের হাতেই পড়ে গেল।
তরুণীটিও ভীষণ দুঃখিত হয়েছিল।
আহমদ মুসার দিকে চেয়ে ধীরে ধীরে বলল, দুঃখিত আমি,লোকটি কে আপনার? কোত্থেকে আপনারা আসছেন?
আহমদ মুসা ধীরে ধীরে মুখ তুলে তাকিয়েই বলল,আমার এক হতভাগা বন্ধু।
আবার নীল সিগন্যাল জ্বলে উঠল।
আহমদ মুসার গাড়িটাকে একপাশে সরিয়ে নিয়ে দাঁড় করিয়ে বলল, আর ফলো করে আমরা পারবো না। শহরের শত পথে আমরা ওদের খুঁজে পাব না।
একটু থেমে আহমদ মুসা বলল,আপনি তো এখন এয়ারপোর্টে ফিরে যাবেন।
হ্যাঁ, সেখানেই আমার ভাইয়া আছেন। একটা কাজে তিনি সেখানে গেছেন।
কেন জিজ্ঞেস করছেন?
–আমাকে তিরানা সিটি কারপোরেশন অফিসে যেতে হবে।
কেন?
ওই গাড়িটা কার তা সন্ধান নিতে হবে।
তরুণীটি আহমদ মুসার বুদ্ধি দেখে আবাক হলো। ওখান থেকে ঠিকানা সংগ্রহ করে যে একজন গাড়ি মালিককে খুঁজে বের করা যায় একথা কোন দিন সে ভাবেওনি।
–আপনি কখনও তিরানায় এসেছেন? কেউ পরিচিত আপনার এখানে?
–তিরানায় এই প্রথম আসা। কেউ আমার পরিচিত নেই এখানে।
–তাহলে সিটি কারপোরেশন অফিসে তাড়াতাড়ি কাজ উদ্ধার আপনার কঠিন হবে।
কেন?
কম্যুনিজম গেছে,কিন্তু কমিউনিষ্ট আমলাতন্ত্র এখনও যায়নি।
তরুণীটি একটু থেমেই আবার বলল, আপনি এখনি যেতে চান?
–জি, এখনকার প্রতিটি সেকেন্ড আমার কাছে একটা বছরের চেয়েও মূল্যবান।
–পুলিশকে বললে হয় না?
হাসল আহমদ মুসা। বলল,আপনাদের পুলিশের কথা জানিনা। তবে যে অভিজ্ঞতা আছে সেটা হলো, পুলিশের শরণাপন্ন হওয়ার অর্থ হলো বিষয়টাকে কোল্ড স্টোরেজে পাঠানো। আজ যে কাজ চাই,তা দশদিন বা দশমাস পরে পেতেও পারি।
তরুনীটিও হাসল। বলল,আমাদের পুলিশের অবস্থাও এই রকম,বিশেষ করে বেসরকারী অভিযোগের তদন্তে তারা গা করতেই চায় না।
–শহরের একটা মানচিত্র আমার কাছে আছে আমি খুঁজে নেব। আমি এখানেই নেমে যেতে চাই। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
তরুনীটি গম্ভীর হলো। বলল,আপনি এ শহরে নতুন,আপনি বিদেশী,আপনি বিপদগ্রস্থ। চলুন আপনাকে সিটি কর্পোরেশনের অফিসে নিয়ে যাব। আপনি এ সিটে আসুন।
–আপনার ভাই তো বিপদে পড়বেন। তিনি তো চিন্তা করবেন।
–বিপদে পড়বেন না, খুব চিন্তাও করবেন না। তাঁর বোন সম্পর্কে তার এ আস্থা আছে যে,আমি কোন জরুরী কাজ ছাড়া সেখান থেকে আসিনি। আর সিটি কর্পোরেশনে আমার এক আত্মীয় আছেন। আপনার কাজটা তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে।
‘ধন্যবাদ’ বলে আহমদ মুসা গাড়ি থেকে বেড়িয়ে এল। তরুনীটিও বেড়িয়ে এল। সিট বদল করল তারা।
–গাড়ি স্টার্ট দিতে দিতে তরুনীটি বলল, আপনার যে ড্রাইভ দেখলাম,সে ড্রাইভের কথা আমি কল্পনাও করিনি। আমি কোন রকমে কাজ চালাতে পারি।
আহমদ মুসা হাসল। বলল, সিটি কর্পোরেশন এখান থেকে কতদূর?
‘চার মাইলের বেশী হবে না।’ বলল তরুনীটি।
আহমদ মুসা উত্তরে আর কিছু বলল না। চার দিকটায় সে চোখ বুলাতে লাগল। সেই সাথে তার মাথায় চিন্তার জট। একটা অনিশ্চতের পথে সে পা বাড়িয়েছে,পারবেন কি লক্ষ্যে পৌছতে? পারতেই যে হবে তাকে।
তরুনীটি ভাবছিল আহমদ মুসার কথা। এ ধরনের একটা ভয়ানক বিপদে সাধারণ যে কেউ মুশড়ে পড়ার কথা, প্রথমেই তার পুলিশের স্মরণাপন্ন হবার কথা। কিন্তু তা না করে যে নিজেই পাল্টা আক্রমনের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেয়,সে তো সাধারণ নার্ভ,সাধারণ বুদ্ধি কিংবা সাধারণ শক্তির কেউ নয়।
তরুনীটি চাইল আহমদ মুসার দিকে। শান্ত, নিরুদ্বিগ্ন দৃষ্টিতে সামনে তাকিয়ে আছে সে।
তরুনীটি ভাবল,এমন সরল পবিত্র মুখচ্ছবি যার সে যেই হোক আবাঞ্ছিত কেউ হতে পারে না।
সিটি কর্পোরেশন অফিসে ওরা পৌঁছল।
এডমিনিস্ট্রেটিভ সেকশনের গেট রুমে আহমদ মুসাকে বসিয়ে তরুনীটি সেক্রেটারীর কক্ষে চলে গেল। সিটি কর্পোরেশনের সেক্রেটারী তরুনীটির চাচা।
আধা ঘন্টা পর ফিরে এল তরুনীটি। তার মুখে হাসি।
সে এসে সোফায় আহমদ মুসার পাশে বসতে বসতে বলল,নাম পাওয়া গেছে। ট্যাক্সিটি পারসোনাল।
তারপর ঠিকানা লেখা চিরকুটটি আহমদ মুসার হাতে তুলে দিতে দিতে বলল, কিন্তু সমস্যা হলো চাচার কাছে শুনলাম ঠিকানার লোকটা সাংঘাতিক। সে ক্রিমিন্যাল অথচ তার গায়ে হাত দেয়া যায় না। খুন করে পাখি শিকারের মত,কিন্তু তাকে পাকড়াও করার কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। দেশের সীমান্ত পেরিয়েও তার নাম।
–ধন্যবাদ,আমি তাই আশা করছিলাম। মুখে হাসি আহমদ মুসার।
বিস্মিত চোখে তরুনীটি বলল,আপনার মুখে হাসি,আমি মনে করেছিলাম চিন্তিত হয়ে পড়বেন আপনি।
–হাসছি কারণ, ঠিক ঠিকানাটা আমরা পেয়ে গেছি। এ ঠিকানাটা যদি কোন ভাল লোকের হতো, তাহলে চিন্তায় পড়তাম ঠিক ঠিকানা আমরা পাইনি।
বিস্ময়, বিমুগ্ধ দৃষ্টিতে তরুনীটি তাকাল আহমদ মুসার দিকে। বলল, আপনি অসাধারণ, এমন চিন্তা আমার আসেইনি।
দু’জনেই বেরিয়ে এল সিটি কর্পোরেশনের অফিস থেকে।
লনে এসে দাঁড়াল আহমদ মুসা। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখল বেলা ১টা।
তিরানার ম্যাপের দিকে চোখ বুলিয়ে আহমদ মুসা বলল, ঠিকানার এই ‘জগু রোডটি’ কোথায়?
জগু রোড মানে আহমদ বেগ জগু রোড। বলল তরুণীটি।
তরুণীটি ম্যাপে রোডটি দেখিয়ে দিল। বলল, এটা তিরানা নগরীর পুরানো এলাকা। ১৯১২ সালে আলবেনিয়া স্বাধীন হলে ১৯২৮ সালে আহমদ বেগ জগু শাসন ব্যবস্থাকে রাজতন্ত্রে পরিণত করেন। তাঁরই নামানুসারে এই রাস্তার নামকরণ করা হয়। সে সময় নগরীর সিটি কর্পোরেশনের অফিস এই রাস্তার উপরেই ছিল।
জগু রোডে পৌছার পর পথগুলোর দিকে একবার নজর বুলিয়ে আহমদ মুসা বলল, অনেক কষ্ট দিয়েছি তোমাকে বোন।
‘বোন’ সম্বোধন শুনে তরুণীটি অনেক্ষণ তাকিয়ে থকল আহমদ মুসার দিকে। তারপর বলল, আপনি কোথাও যেতে চান?
–হ্যাঁ এই ঠিকানায় যাব।
–আপনি একা ঐ ঠিকানায়?
–আমাকে যেতে হবে বোন।
অত্যন্ত দৃঢ় কন্ঠস্বর আহমদ মুসার। তরুণীটি মুহুর্তের জন্যে আহমদ মুসার চোখের দিকে তাকিয়ে বলল, এখনি যেতে চান?
–হাঁ বোন,ঐ ক্রিমিনালদের আমি কোন সুযোগ দিতে চাই না।
–কিন্তু তার আগে আপনার খেয়ে নিতে হবে,বেলা ১টা বাজে। চিন্তা করবেন না। আমি আপনাকে ঐ ঠিকানায় পৌছে দেব।
–তুমি? না না,তোমার বাড়ি যাওয়ার দরকার। বাড়িতে সবাই…..
তরুণীটি বাধা দিয়ে হেসে বলল, আমি ভাইয়ের সাথে টেলিফোনে আলাপ করেছি। ভাইয়াও আসছেন, এখনি এসে পড়বেন।
সিটি কর্পোরেশনের পাশেই একটা হোটেল।
হোটেলের দিকে যেতে যেতে তরুণীটি বলল,আমার খুব আনন্দ লাগছে,রহস্য,এ্যডভেঞ্চার আমার খুব ভাল লাগে। আমার ভাইয়ারও। আমার ভাইয়া তিরানা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক,কিন্তু খেলা-ধূলা-সমাজসেবা নিয়েই বেশী মেতে থাকেন।
খাওয়া শেষে হোটেল থেকে বেড়িয়ে আহমদ মুসা বলল,বোন আমি নামাজ পড়তে চাই,কোথায় পড়তে পারি?
কথাটা শুনে চমকে উঠে তরুণীটি আহমদ মুসার দিকে তাকাল। তার চোখে বিস্ময়। বলল আপনি মুসলমান?
–হাঁ বোন মুসলমানদের সাথে তোমার পরিচয় আছে?
তরুণীটি কোন জবাব দিল না। একটা বিষন্নতা,একটা বিব্রতকর ভাব তার মুখে ফুটে উঠল।
প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে বলল,নামাজ ঐ পার্কে পড়া যাবে?
সিটি কর্পোরেশন ও হোটেলের সামনেটা জুড়ে একটা সুন্দর পার্ক।
সেদিকে তাকিয়ে আহমদ মুসা বলল,হ্যাঁ অসুবিধা হবে না।
হোটেলে অজু করে নিয়েছিল।
নামাজ পড়ার জন্যে পার্কে চলে গেল আহমদ মুসা। পেছনে পেছনে চলল তরুণীটিও।
কেবলামুখী হয়ে ঘাসের উপর নামাজে দাঁড়াল আহমদ মুসা।
পাশেই দাঁড়িয়েছিল তরুণীটি।
অপরূপ এক তন্ময়তার সাথে নামাজ পড়ছিল আহমদ মুসা। তার হাত বেঁধে নামাজে দাঁড়িয়ে থাকা, রুকু করা,সিজদা দেখে মনে হচ্ছিল এক মহা শক্তির সামনে ভয় ভক্তিতে আপ্লুত একজন মানুষ। যেন গোটা জগৎকেই সে ভুলে গেছে,মহাশক্তিমান প্রভু ছাড়া তার সামনে আর কাউকেই সে দেখছে না।
তরুণীটি চোখ ভরে পলকহীন দৃষ্টিতে দেখছিল এই অপরূপ দৃশ্য। তার মুখে বিস্ময়ের সাথে একটা আনন্দের ষ্ফুরণও আছে।
এই সময় একটি যুবক এসে তার পাশে দাঁড়ালো।
তরুণীটি মুখ ঘুরিয়ে ধীর কন্ঠে বলল,ভাইয়া তুমি এসেছ?
যুবকটির দৃষ্টি তখন নামাজরত আহমদ মুসার দিকে। বলল,এ কি সেই?
–হ্যাঁ ভাইয়া।
–উনি মুসলমান?
–তাই তো দেখছি।
যুবকটিও দেখতে লাগল নামাজ।
এক সময় আহমদ মুসার দিকে চোখ রেখেই বলল,আমাদের মুসলিম বোর্ড অফিসের মসজিদে নামাজ দেখেছি। কিন্তু এত সুন্দর নামাজ তো দেখিনি?
–ভাইয়া এর সব কিছুই আমি সুন্দর দেখছি,অসাধারণ দেখছি। বুদ্ধি,সাহস,দক্ষতার অপরূপ সমাবেশ তার মধ্যে। এখন দেখছি,ধর্মভীরুতাতেও সে সবাইকে ছাড়িয়ে।
–কে ইনি?
–আমি জানি না,জিজ্ঞেস করিনি। যিনিই হোন অসাধারণ কেউ।
নামাজ শেষে আহমদ মুসা মুনাজাত করল।
মুনাজাতের সময় তার চোখে-মুখে অপুর্ব এক আবেগ। এক সময় তার চোখ থেকে নেমে এল দু’ফোটা অশ্রু। তরুণীটি অভিভূতা। ঐ অশ্রু যেন তার চোখকেও ভারি করে তুলল। হৃদয়ের গভীরতম প্রদেশে একটা তোলপাড় উঠল তার।
যুবকটি দৃষ্টি বিস্ময়-বিমুগ্ধ।
আহমদ মুসা নামাজ শেষ করে উঠে দাঁড়াল।
ঘুরে দাঁড়াল সে আসার জন্য।
তরুণী এবং তার সাথে যুবকটিও আহমদ মুসার দিকে এগুলো।
কাছাকাছি পৌছে তরুণীটি তার ভাইয়ের দিকে ইংগিত করে বলল,আমার ভাইয়া,মোস্তফা মারলিকা ক্রিয়া।
–মোস্তফা ক্রিয়া? মানে তোমরা মুসলমান? বিস্ময়ে-আনন্দে চোখ কপালে তুলে বলল আহমদ মুসা।
কথা শেষ করেই যুবকটিকে জড়িয়ে ধরল আহমদ মুসা।
মোস্তফা মারলিকা ক্রিয়াকে ছেড়ে আহমদ মুসা তরুণীটিকে বলল,বোন তুমি তো বলনি,তোমরা মুসলমান? তোমার নাম কি বোন?
–সালমা সারাকায়া।
–বলনি কেন যে তোমরা মুসলমান?
সালমা গম্ভীর হলো। বলল,যখন বলব ভেবেছি,তখন লজ্জাবোধ হয়েছে বলতে।
–কেন?
–এক নামের চিহ্ন ছাড়া,মুসলমানিত্বের আর কোন চিহ্নই অবশিষ্ট নেই আমাদের।
একটু থেমে ঢোক গিলে নিয়ে আবার শুরু করল,নামাজের নাম শুনেছি,আজ প্রথম দেখলাম নামাজ।
আহমদ মুসাও গম্ভীর হলো। বলল,এর জন্যে তোমরা দায়ী নও বোন। নামের যে চিহ্নটুকু সেটা কম কি! কি পরিমাণ খুশী হয়েছি তোমাকে বুঝাতে পারবো না।
–আপনার দেশ কোথায়? প্রশ্ন করল মোস্তফা ক্রিয়া।
–আমি আসছি আর্মেনিয়া থেকে। আমার দেশ কোনটি,এ প্রশ্ন আমার জন্যে খুব কঠিন মোস্তফা।
যে লোকটি কিডন্যাপ হয়েছে সে লোকটি কে? প্রশ্ন করল সালমা সারাকায়া।
–ওর নাম হাসান সেনজিক।
–ওকি যুগোশ্লাভ? কথাটা বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞাসা করল মোস্তফা ক্রিয়া।
–হা,যুগোশ্লাভ।
–ওকে কিডন্যাপ করল কে? কেন? প্রশ্ন করল সালমা সারাকায়া।
–সে এক বিরাট কাহিনী,এক কথায় বলা যাবে না। তাহলে এস একটু বসি এখানে।
বলে আহমদ মুসা বসে পড়ল।
গাছের ছায়ায় সবুজ ঘাসে ঢাকা জায়গাটা ছিল মনোরম। মোস্তফা এবং সালমা তার সামনে বসে পড়লো।
‘হাসান সেনজিক এক হতভাগ্য পরিবারের এক হতভাগ্য সন্তান’ বলে আহমদ মুসা হাসান সেনজিকের কাহিনী শুরু করল। আহমদ মুসা বলল,কি করে হাসান সেনজিককে আর্মেনিয়ায় হোয়াইট ওলফের বন্দীখানায় খুঁজে পেল। তারপর বলল যুগোশ্লাভিয়ার স্টিফেন পরিবারের দুর্ভাগ্যের মর্মান্তিক কাহিনী এবং কি করে হাসান সেনজিক পালিয়ে মানুষ হয়েছে,কি করে মুমূর্ষ মা’কে দেখতে আসার পথে বন্দী হয়,কি করে মিলেশ বাহিনী তাকে ধরার জন্যে হন্যে হয়ে ঘুরছে।
থামল আহমদ মুসা।
আহমদ মুসা থামলেও মোস্তফা এবং সালমা কেউ কোন কথ বলল না। তারা যেন নির্বাক হয়ে গেছে। সালমা সারাকায়া এবং মোস্তফা ক্রিয়া দু’জনের চোখে মুখে গভীর বেদনার ছাপ।
অনেক্ষণ পর ধীরে ধীরে মুখ তুলল মোস্তফা ক্রিয়া। বলল,আমাদের পাশে যুগোশ্লাভিয়ায় মুসলমানদের উপর এই ভয়াবহ জুলুম চলছে,অথচ আমরা তার কিছুই জানি না।
–ভাইয়া,এ জুলুম আমাদের দেশেও চলছে,আমরা কি তা জানি? না আমরা তার খোঁজ রাখি? বলল সালমা সারাকায়া।
আহমদ মুসা কিছু বলার জন্য মুখ খুলেছিল,কিন্তু তার আগেই আবার শুরু করল সালমা সারকায়া। বলল,আমি খবরে পড়েছি,আমার মনে আছে। কোরআন ছাপার জন্য এক ছাপাখানা বাজেয়াপ্ত হয়েছিল, ছাপাখানা মালিকের হয়েছিল কারাদন্ড।
–আলবেনিয়া শাসনতান্ত্রিকভাবে নিরীশ্বরবাদী দেশ, এখানে ধর্ম অবলুপ্ত ঘোষিত। সুতরাং এখানে তো এসব ঘটবেই। কিন্তু মুসলমান নামের লোকদের এইভাবে হত্যার মাধ্যমে নির্মূল করার সুসংবদ্ধ কর্মসূচীর কথা আলবেনিয়ায় ছিল বা আছে বলে আমার জানা নেই। বলল মোস্তফা ক্রিয়া।
–ভাইয়া, আলবেনিয়ার প্রায় সবাই মুসলমান বলেই এমনটা ঘটতে পারেনি সম্ভবত। থামল সালমা সারাকায়া।
থেমেই সালমা সারাকায়া আহমদ মুসার দিকে চেয়ে বলল, হাসান সেনজিককে মিলেশ বাহিনীই কি কিডন্যাপ করেছে বলে আপনি বিশ্বাস করেন?
–আমার অনুমান সত্য হলে মিলেশ বাহিনী নয়, তার পক্ষে কেউ কিডন্যাপ করেছে।
একটু থেমে আহমদ মুসা বলল, এ কারণেই আমি তাড়াতাড়ি ওখানে পৌঁছতে চাই যাতে মিলেশ বাহিনীর হাতে পড়ার আগেই হাসান সেনজিককে উদ্ধার করা যায়।
–কিন্তু জেমস জেংগার ঐ আস্তানা বড় ভয়ংকর জায়গা। পুলিশের সাহায্য না নিয়ে ওখানে যাওয়া কি ঠিক হবে? বলল মোস্তফা ক্রিয়া।
–পুলিশকে বললে হয়ত বিপরীত হতে পারে।
ব্যাপারটা ছোট নয়, আন্তঃদেশ ষড়যন্ত্রের একটা অংশ। এ ব্যাপারে জেমস জেংগা পুলিশের সাথে যোগাযোগ রাখতে পারে।
আহমদ মুসার কথা শুনে স্তম্ভিত হয়ে গেল মোস্তফা ক্রিয়া এবং সালমা সারাকায়া দু’জনেই। মোস্তফা ক্রিয়া বলল, ঠিক বলেছেন, জেমস জেংগার এ ইতিহাস আছে। বহু ঘটনায় সে স্বার্থের ভাগাভাগি করেছে পুলিশের সাথে।
–কিন্তু এ অনুমানটা কি করে করলেন মুসা ভাই, আপনি তো এদেশের কিছুই জানেন না? বলল সালমা।
–এ কিছু নয় সালমা। জেমস জেংগা সম্পর্কে তোমার কাছে যে কয়টা কথা শুনেছি, তাতেই তার সম্পর্কে আমার একটা ধারণা হয়ে গেছে।
কথা শেষ করে আহমদ মুসা উঠতে উঠতে বলল, এবার যেতে হয়।
মোস্তফা ক্রিয়া এবং সালমা সারাকায়াও উঠে দাড়াল।
আহমদ মুসা মোস্তফা ক্রিয়ার দিকে চেয়ে বলল, আপনি আর কিছু জানেন জেমস জেংগা সম্পর্কে?
–প্রাচীর ঘেরা বিশাল এলাকা নিয়ে তার বাড়ি। ঘেরা এলাকার মাঝখানে তার তিনতলা প্রাসাদ। বাড়ির সামনে দক্ষিণ দিকে একটা বড় পুকুর। তার নিজস্ব বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা আছে। সে পেশাদার ক্রিমিনাল, কিন্তু উপরের পরিচয়ে সে রাজনীতিক, সরকারের সহযোগী।
–সে কখনও জেল খেটেছে, কিংবা আহত হয়েছে কোনদিন?
–না। সবাই জানে সে বড় বড় ক্রাইমের সাথে জড়িত, কিন্তু কোন ক্রাইম তার ধরা পড়েনি। গভীর পানির রাঘব বোয়াল সে।
–ধন্যবাদ মোস্তফা, আর দরকার নেই। হেসে বলল আহমদ মুসা।
–আপনি এখন যাবেন সেখানে?
–হাঁ, এখনই।
–আমরাও যাব।
–না মোস্তফা, এরকম একটা জায়গায় আমি তোমাদের নিতে পারি না।
–একা আমরা আপনাকে ছাড়বো না।
আহমদ মুসা একটু চিন্তা করল। তারপর বলল, সঙ্গে নিতে পারি একটা শর্তে। সেটা হল আমি যা বলব তোমাদের তা মানতে হবে।
দু’জনে বলে উঠল, আমরা মানব।
তারা পার্ক থেকে বেরিয়ে এল।
গাড়িতে উঠে আহমদ মুসা সুটকেস খুলে কালো রংয়ের ছোট্ট ল্যাসার বীম পিস্তলটা তার ডানপায়ের মোজায় গুজে রাখল। তার সাদা পিস্তলটাও সে নিল। আরও কয়েকটা প্রয়োজনীয় জিনিস সে পকেটে পুরল।
সামনের সিট দু’টোতে বসেছিল ওরা দুই ভাই বোন। কিছু দেখতে পেলনা তারা।
ড্রাইভিং সিটে মোস্তফা ক্রিয়া।
জনাকীর্ণ রাজপথ দিয়ে মাঝারী গতিতে চলছিল গাড়ি।
গাড়ির সিটে হেলান দিয়ে চোখ বুজল আহমদ মুসা। হাতের সময়টুকু সে নিজেকে বিশ্রামের কোলে সঁপে দিতে চায়।
সালমা সারাকায়া একবার পেছন ফিরে দেখল চোখবন্ধ আহমদ মুসা গাড়ির সিটে নিজেকে এলিয়ে দিয়েছে। শান্ত মুখচ্ছবিতে দুঃশ্চিন্তা ও উদ্বেগের সামান্য চিহ্নও নেই। সালমা ভাবল, নার্ভ কত শক্ত হলে সংঘাতের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মানুষ এমন নিশ্চিন্ত থাকতে পারে। তার বুকতো এখনই তোলপাড় করতে শুরু করছে।
গাড়ি এসে পড়ল জগু রোডে।
জগু রোডের মাঝামাঝি জায়গায় জেমস জেংগার বাড়ী।
ঠিক মেইন রোডের উপর বাড়ী নয়। মেইন রোড থেকে পূর্ব দিকে একটু ভেতরে।
জেমস জেংগার যেখানে বাড়ী তার ঠিক বিপরীতে অর্থাৎ পশ্চিম পার্শে জগু রোডের উপর তিরানা সিটি কর্পোরেশনের পুরানো অফিস। এখন এটা পুরানা এলাকার শাখা কর্পোরেশন হিসাবে ব্যবহার হয়।
মোস্তফা ক্রিয়ার গাড়ি করপোরেশন অফিসের সামনে এনে দাঁড় করিয়ে বলল, আমরা এসে গেছি মুসা ভাই।
তারপর মোস্তফা ক্রিয়া পূর্ব দিকে ইংগিত করে বলল, ঐ যে বড় লোহার গেট দেখা যায় ওটাই জেংগার বাড়ী।
আহমদ মুসা ওদিকে তাকাল।
মেইন রোড থেকে একটা প্রশস্ত রাস্তা বেরিয়ে গেটে গিয়ে ঠেকেছে। গেটের দু’পাশ দিয়ে উঁচু প্রাচীর উত্তর ও দক্ষিণে এগিয়ে গেছে। গেটের দু’পাশ ফাঁকা। আর প্রাচীরের পাশ দিয়ে বিলম্বিত খালি জায়গা। তবে মেইন রোড থেকে ঢুকতেই দু’পাশে বড় বড় দু’টো বিল্ডিং। সেগুলোতে বড় বড় তালা ঝুলছে। সম্ভবত ব্যাংক কিংবা কোন কোম্পানীর গোডাউন হবে।
এলাকাটা বলা যায় নির্জন।
আহমদ মুসা বেরুবার জন্য তৈরী হল।
তৈরী হয়ে বলল, মোস্তফা তুমি পারলে তোমার গাড়ির নাম্বার কিছু পরিবর্তন করে নাও। কিছু মনে করোনা আমি তোমাকে তুমি বলেছি।
মোস্তফা ক্রিয়া বলল, না মুসা ভাই, আমি খুশি হয়েছি, এতক্ষনে মনে হচ্ছে আমি আপনার ছোট ভাই হলাম।
আহমদ মুসা আবার বলল, তোমরা এখানে আধা ঘন্টার বেশী দেরী করবে না। আমি যদি আধা ঘন্টার মধ্যে না ফিরি তোমরা চলে যাবে।
সালমা সারাকায়া কোন কথা বলছে না। তার মুখ বিষন্ন, সেখানে উদ্বেগও। আহমদ মুসার শেষ কথায় তার চোখ দু’টি ছল ছল করে উঠল।
একটা আবেগ এসে মোস্তফাকেও ঘিরে ফেলেছে। আহমদ মুসার কথার পর সেও কথা বলতে পারল না।
সালমা সারাকায়া এবং মোস্তফা ক্রিয়া দু’জনে আহমদ মুসার দিকে তাকিয়ে ছিল।
আহমদ মুসা হাসল। তাদের সান্তনা দিয়ে বলল, তোমরা ভেবনা, আমার সাথে দ্বিতীয় একজন আছেন, তিনি সর্বশক্তিমান আল্লাহ।
বলে আহমদ মুসা গাড়ি থেকে বেরিয়ে জগু রোড অতিক্রম করে গেটের দিকে এগিয়ে চলল। আহমদ মুসার শান্ত মুখ, ঠোঁটে সুখী মনের এক টুকরো অস্পষ্ট হাসি।
সালমা সারাকায়া এবং মোস্তফা ক্রিয়া সম্মোহিতের মত সেদিকে তাকিয়ে আছে। তাদের হৃদয়ে বেদনা ও বিস্ময়ের যুগপত আলোড়ন।
তারা দেখল, আহমদ মুসা গেটের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।
বড় গেটের পাশে ছোট আর একটি গেট। লোকদের আসা যাওয়ার জন্য। তার পাশেই গেট ম্যানের ঘর।
তারা দেখতে পেল, আহমদ মুসা গেটের সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই গেটম্যানের কক্ষের জানালা দিয়ে একটা মাথাকে উঁকি দিতে দেখা গেল।
তার কিছুক্ষন পরেই ছোট গেটটি খুলে গেল। গেট দিয়ে একজন লোক বেরিয়ে এল। তার হাতের পিস্তল আহমদ মুসার দিকে তাক করা। তার সাথে আহমদ মুসা ঢুকে গেল ভেতরে।
ছোট গেটটি বন্ধ হয়ে গেল।
ভয় ও আতংকে সালমা ও মোস্তফা ক্রিয়া যেন কাঠ হয়ে গেছে। সালমা সারাকায়ার চোখের কোণায় জমে ওঠা অশ্রু যেন উত্তাপে শুকিয়ে গেছে।
তাদের কারো মুখে কোন কথা নেই।
মোস্তফা ক্রিয়া তার হাত ঘড়ির দিকে তাকাল, বেলা ২টা ২৫ মিনিট।

Page 124 of 165
Prev1...123124125...165Next
Previous Post

পরী – আলাউদ্দিন আল আজাদ

Next Post

বিচিত চিন্তা – সাহিত্য চিন্তা – আহমদ শরীফ

Next Post

বিচিত চিন্তা – সাহিত্য চিন্তা - আহমদ শরীফ

বিচিত চিন্তা - সংস্কৃতি চিন্তা - আহমদ শরীফ

মন্তব্য করুন জবাব বাতিল

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সাম্প্রতিক প্রকাশনাসমূহ

  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৫: ভূমিকম্প – শামসুদ্দীন নওয়াব
  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৮: বিভীষিকার প্রহর – রকিব হাসান
  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৭: বড়দিনের ছুটি – রকিব হাসান
  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৭: আলাস্কা অভিযান – রকিব হাসান
  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৭: আমিই কিশোর – রকিব হাসান

বিভাগসমূহ

  • আত্মজীবনী
  • ইতিহাস
  • উপন্যাস
  • কবিতা
  • কাব্যগ্রন্থ
  • গল্পের বই
  • গোয়েন্দা কাহিনী
  • ছোট গল্প
  • জীবনী
  • দর্শন
  • ধর্মীয় বই
  • নাটকের বই
  • প্রবন্ধ
  • বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী
  • বৈজ্ঞানিক বই
  • ভূতের গল্প
  • রহস্যময় গল্পের বই
  • রোমাঞ্চকর গল্প
  • রোম্যান্টিক গল্পের বই
  • শিক্ষামূলক বই
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • গোপনীয়তা নীতি

© 2023 BnBoi - All Right Reserved

No Result
View All Result
  • বাংলাদেশী লেখক
    • অতুলচন্দ্র গুপ্ত
    • অভিজিৎ রায়
    • আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    • আনিসুল হক
    • আবু ইসহাক
    • আবু রুশদ
    • আবুল আসাদ
    • আবুল খায়ের মুসলেহউদ্দিন
    • আবুল বাশার
    • আরজ আলী মাতুব্বর
    • আল মাহমুদ
    • আসাদ চৌধুরী
    • আহমদ ছফা
    • আহমদ শরীফ
    • ইমদাদুল হক মিলন
    • উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    • কাসেম বিন আবুবাকার
    • জসীম উদ্দীন
    • তসলিমা নাসরিন
    • দাউদ হায়দার
    • দীনেশচন্দ্র সেন
    • নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    • নিমাই ভট্টাচার্য
    • প্রফুল্ল রায়
    • প্রমথ চৌধুরী
    • ময়ূখ চৌধুরী
    • মহাদেব সাহা
    • মাহমুদুল হক
    • মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    • হুমায়ূন আহমেদ
  • ইন্ডিয়ান লেখক
    • অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়
    • অতুল সুর
    • অদ্রীশ বর্ধন
    • অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • অনীশ দেব
    • অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • অমিয়ভূষণ মজুমদার
    • আশাপূর্ণা দেবী
    • আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
    • ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    • কাজী নজরুল ইসলাম
    • ক্ষিতিমোহন সেন
    • তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    • তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়
    • দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    • নারায়ণ সান্যাল
    • নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    • নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    • পাঁচকড়ি দে
    • পূর্ণেন্দু পত্রী
    • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • বিমল মিত্র
    • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    • হেমেন্দ্রকুমার রায়
  • বিভাগসমূহ
    • আত্মজীবনী
    • ইতিহাস
    • উপন্যাস
    • কবিতা
    • কল্পকাহিনী
    • কাব্যগ্রন্থ
    • খেলাধুলার বই
    • গল্পের বই
    • গোয়েন্দা কাহিনী
    • ছোট গল্প
    • জীবনী
    • দর্শন
    • ধর্মীয় বই
    • নাটকের বই
    • প্রবন্ধ
    • বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী
    • বৈজ্ঞানিক বই
    • ভূতের গল্প
    • মুক্তিযুদ্ধের-বই
    • রহস্যময় গল্পের বই
    • রোমাঞ্চকর গল্প
    • রোম্যান্টিক গল্পের বই
    • শিক্ষামূলক বই
    • সমগ্র
  • সিরিজ বই
    • মিসির আলী সমগ্র
    • হিমু সিরিজ

© 2023 BnBoi - All Right Reserved

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In