–বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
১৭৪. নতুন কিছু করাই তরুণের ধর্ম।
–জর্জ বার্নার্ড শ
১৭৫. আমি যৌবনের লাগি করিব তপস্যা ঘোর
কালে না করিবে ক্ষয় জীবন-বসন্ত মোর,
জীবনের অবসান যেদিন হোক হবে
যাবৎ জীবন মোর তাবৎ যৌবন রবে।
–মানকুমারী বসু
১৭৬. চোখ কতটুকুই দেখে, কান কতটুকুই শোনে, স্পর্শ কতটুকুই বোধ করে। কিন্তু মন এই আপন ক্ষুদ্রতাকে কেবলই ছড়িয়ে যাচ্ছে–অর্থাৎ সে যা, সে তার চেয়ে অনেক বড়ো।
–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
১৭৭. মনের কলুষতাই মানুষের আত্মা ও দৃষ্টিকে কদর্যতা দান করে এবং সেই কদর্যতাই নিজের এবং পরিবারের লোকদের জীবনকে বিভীষিকাময় করে তোলে।
স্যার জন ফিলিপস
১৭৮. বৃদ্ধেরা সবকিছুই বিশ্বাস করে, মধ্যবয়সি লোক সবকিছুতে সন্দেহ প্রকাশ করে, আর কমবয়সি লোকেরা সবই জানে।
অস্কার ওয়াইল্ড
১৭৯. পরলোকের ভরসায় জীবনকে সুখ হইতে বঞ্চিত করিও না। মহূর্ত পরমহূর্তের ভিতর দিয়া জীবন ক্রমে নিঃশেষ হইয়া আসিতেছে। এ-জীবন সার্থক করো। প্রতি মুহূর্তটি আঁকড়িয়া ধরিয়া উপভোগ করো, ফুর্তি করো, আনন্দ করো। যে-মুহূর্ত পিছনে পড়িল উহা আর ফিরিয়া আসিবে না, উহার জন্য অনুশোচনা করিও না।
–ওমর খৈয়াম
১৮০. মানুষের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হচ্ছে জীবন, এবং এই জীবন তাকে একবারই ধারণ করতে দেয়া হয়। তাকে এমনভাবে বাঁচতে হবে, যেন বছরের পর বছর অনর্থক অনুতাপ ভোগ করতে না হয়, জঘন্য ও নিকৃষ্ট অতীতের জন্যে কখনো গ্লানি বোধ করতে না হয়; এমনভাবে বাঁচতে হবে যেন মৃত্যুর সময় সে বলতে পারে, আমার সমগ্র শক্তি আমি উৎসর্গ করেছি বিশ্বের সুন্দরতম আদর্শের জন্য মানুষের মুক্তির সংগ্রামে।
–এন, অস্ত্রোভস্কি
১৮১. বৃক্ষের সার্থকতা যেমন ফল ধারণে, সেইরকম নৈতিক গুণাবলির সার্থকতা শান্তিলাভে। চরম ও পরম শান্তিলাভের পথ হচ্ছে ক্রমাগত সৎ জীবনযাপন করা।
–আল-ফারাবি
১৮২. গৌরবময় জীবনের একটি মুহূর্ত সাধারণ জীবনের বিরাট অংশ হতে অনেক বেশি মূল্যবান।
১৮৩. শৈশবে লজ্জা, যৌবনে ভারসাম্য এবং বার্ধক্যে ব্যয়সংকোচন ও দূরদর্শিতার প্রয়োজন।
সক্রেটিস
১৮৪. জীবন ও মৃত্যু একটা ব্যাপারের-ই বিভিন্ন নাম মাত্র। একই টাকার এপিঠ ওপিঠ। উভয়েই মায়া। এ-অবস্থাটাকে পরিষ্কার করে বোঝাবার জো নেই। একসময় বাঁচাবার চেষ্টা হচ্ছে, আবার পর মুহূর্তেই বিনাশ বা মৃত্যুর চেষ্টা।
স্বামী বিবেকানন্দ
১৮৫. মাটির ঢেলা, মাটির ঢেলা,
রক্ত দিলে কে তোমার গায়ে?
গড়লে তোরে কোন আদলের ছাঁচে?
ভুখ দিলে যে বুক দিলে যে
দুখ দিতে সে ভুলল না,
মৃত্যু দিলে লেলিয়ে পাছে পাছে।
–প্রেমেন্দ্র মিত্র
১৮৬. আমাদের জীবনকে এরূপভাবে পরিচালিত করব যেন আমাদের মৃত্যুর পর ভৃত্যটিও অশ্রুবর্ষণ করে।
–মার্ক টোয়েন
১৮৭. বৃদ্ধেরা যেহেতু অন্যায় বা বিশৃঙ্খলাপূর্ণ কোনো কাজ করতে পারে না, সেজন্যই নিজেদেরকে সান্তনাদানের উদ্দেশ্যে অন্য লোককে তারা সৎ উপদেশ বিতরণের শখ পূরণে লিপ্ত হয়।
–লাডলে ফোকাল।
১৮৮. দোষ, গুণ, ভুল, ভ্রান্তি মিলেই মানুষের জীবন। অন্যকে ক্ষমা করার মতো মহৎ মন প্রত্যেকের থাকা চাই।
রবার্ট ক্যাম্বারস
১৮৯. যৌবনকালটাই মাধুর্যমণ্ডিত, যদিও এই সময়েই সাবধানতা অবলম্বন করতে হয় বেশি।
–প্রিন্সেস এমিলিয়া
১৯০. নিম্নশ্রেণীর জন্তুরা ভূমিষ্ঠকাল অবধি মানবশিশুর অপেক্ষা অধিকতর পরিণত। মানবশিশু একান্ত অসহায়। ছাগশিশুকে চলিবার আগে পড়িতে হয় না।
–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
১৯১. বন্ধু, হৃদয় এমনি অবুঝ কারো সে অধীন নয়।
যারে চায় শুধু তারেই চায় নাহি মানে লাজ ভয়।
কাজী নজরুল ইসলাম
১৯২. মন যদি পরিষ্কার হয় তবে চোখের দৃষ্টি স্বচ্ছ হবে।
–টমাস পেইন
১৯৩. বৃদ্ধ লোকের মতো কেউ জীবনকে ভালোবাসে না।
–সোফোক্লেস
১৯৪. বংশের বৈশিষ্ট্য লইয়া প্রত্যেককে জীবনযুদ্ধে প্রবৃত্ত হইতে হয়। প্রাকৃতিক ও সামাজিক পরিবেশের সহিত যুদ্ধ করিতে করিতে তাহার এই উত্তরাধিকার বিনষ্ট হইতে পারে, সমৃদ্ধ হইতে পারে, ঈষৎ পরিবর্তিত হইতে পারে, কিংবা যেমন ছিল তেমনি থাকিতে পারে। কিন্তু এই উত্তরাধিকারের প্রভাব অতিক্রম করিবার উপায় নাই।
–বনফুল
১৯৫. যৌবন যার সৎ, সুন্দর ও কর্মময়, তার বৃদ্ধবয়সকে স্বর্ণযুগ বলা যায়।
–জর্জ গ্রসভিল
১৯৬. জীবনটাকে হরি ঘোষের গোয়ালের মতো দুষ্ট গরুর উৎপাতে ফেলো না। জন্মগতসূত্রে মানসিক গুণাবলি যা পেয়েছে তার মর্যাদা দাও। মরে গিয়েও যেন তোমার মনে না হয়, তোমার জীবনের জন্য তুমি লজ্জিত।
ইলা. কে. মেইলার্ট
১৯৭. জীবনের যত পূজা হল না সারা;
জানি হে জানি তাও হয় নি হারা।
যে ফুল না ফুটিতে ঝরেছে ধরণীতে
যে নদী মরুপথে হারাল ধারা।
জানি হে জানি তাও হয়নি হারা।
–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
১৯৮. তোমার যদি পরিতৃপ্ত মন থাকে তবেই তুমি জীবনকে উপলদ্ধি করতে পারবে।
–পুটাস
১৯৯. কারও কারও জীবনে বসন্ত একান্ত নিভৃতে আসে, বাইরে প্রকাশ পায় না। তার আমেজে সে নিজেই পুলকিত হয়।
–জন ফ্রেচার
২০০. কল্পনাশক্তিই পৃথিবীকে শাসন করে।
নেপোলিয়ন
২০১. কল্পনাশক্তিই হল আত্মার দৃষ্টিশক্তি।
–জোবার্ট
২০২. মন হল সবচেয়ে বড় তর্কশাস্ত্রবিদ।
–ওয়েন্ডেল ফিলিপস
২০৩. জীবন তৃপ্তি দেয় যতটু, অতৃপ্তি দেয় তার চেয়ে বেশি।
