বাসদের নেতা খালেকুজ্জামান তোপখানা রোডে মৌলবাদীদের বোমাবাজির নিন্দা করেছেন। বলেছেন, দেশের মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে পুঁজি করে এরা আজ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছে। দেশের অসংখ্য মানুষ ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালন করছেন, এর জন্য বোমার দরকার হচ্ছে না। কিন্তু মৌলবাদী শক্তির নজর পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের কাঁচা টাকার দিকে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে এরা কোটি কোটি টাকা নিচ্ছে আর দেশের সরল ধর্মপ্রাণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য ধর্মকে সাইনবোর্ড হিসেবে ব্যবহার করছে। ধর্মের রাজনৈতিক এবং ব্যবসায়িক ব্যবহারের জন্য দেশের মানুষকে সচেতন থাকার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহবান জানিয়েছেন তিনি।
বিবিসির সঙ্গে ডঃ কামাল হোসেনের সাক্ষাৎকার প্রচার করা হয়েছে। কামাল হোসেন বলেছেন, মৌলবাদী শক্তিগুলো বুঝতে পেরেছে যে দেশে যদি গণতন্ত্র সুসংহত হয়, সংসদীয় গণতন্ত্রের মাধ্যমে গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ বাস্তবায়িত হয়, তাহলে তাদের রাজনীতির অবসান ঘটবে। মৌলবাদীরা তাই কখনও গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে দেবে না। তারা চায় না যে গণতন্ত্র সুংহত হোক। তারা আজকে একটা অদ্ভুত রকমের কৌশল নিয়েছে, তা হল একদিকে তারা সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক রেখেছে, আঁতাত করেছে, পার্লামেণ্টে বিএনপিকে সরকার গঠনে সহায়তা করেছে। কিন্তু পরবর্তী পর্যায়ে মৌলবাদীরা বিরোধী দলের সঙ্গে আঁতাত করে পার্লামেন্ট ত্যাগ করছে লাগাতারভাবে। সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপার হল, তারা সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার পাশাপাশি বিরোধী দলের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে একটা অস্বাভাবিক অবস্থার সৃষ্টি করছে। পার্লামেন্টকে অকার্যকর করার ব্যাপারে তারা একটা ভূমিকা রাখছে। পার্লামেণ্টের বাইরে তারা বিভিন্ন অজুহাতে একটা উত্তপ্ত অবস্থা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।
প্রয়োজনে মার্কিন দূতাবাস ঘেরাও করা হবে– এ কথাটি তাহাফফুজে হারমাইন কমিটির সভাপতি মাওলানা সাদেক আহমেদ বলেছিলেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন আমার পক্ষে বক্তব্য রেখেছেন, এ কারণেই মূলত প্রতিবাদ করতে গিয়ে সাদেক আহমেদ বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশ সরকারের তসলিমাকে গ্রেফতারের ব্যাপারে গড়িমসি রহস্যজনক এবং মার্কিন সরকারের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সঙ্গে এর যোগসূত্র রয়েছে। এমতাবস্থায় প্রয়োজনে আমেরিকার দূতাবাস অবরোধ করা হবে।’ আজকের কাগজে আজ লেখা হয়েছে –সাদেক আহমেদের এই উস্কানিমূলক ও কূটনৈতিক রীতিনীতি বিবর্জিত বিবৃতিতে সারাজাতি আজ আতঙ্কিত, উদ্বিগ্ন, শঙ্কিত এবং মর্মাহত। একটি দেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেষেন দূতাবাস হচ্ছে সর্বোμচ সম্মানিত নিরপেক্ষ এবং স্পর্শকাতর একটি এলাকা। এমনকী যুদ্ধের সময়ও পরস্পর বিরোধী শক্তিগুলো দূতাবাস আক্রমণ থেকে বিরত থাকে। এটাই আন্তর্জাতিক আইন। এ অবস্থায় প্রয়োজনে মার্কিন দূতাবাস ঘেরাও করার মত হুমকি যে আমাদের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেষেন কত বড় বিপর্যয়ের এবং বিপত্তির সৃষ্টি করতে পারে তা যে কোনও সুস্থ ও শান্তিপ্রিয় মানুষ মাত্রই উপলব্ধি করতে পারবে। কিন্তু আমাদের দেশের এক শ্রেণীর উগ্রপন্থী সাম্প্রদায়িক স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি আন্তর্জাতিক রীতিনীতির তোয়াককা না করে হরহামেশাই উস্কানিমূলক এসব বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছে যা দেশে বিদেশে আমাদের মান, সম্মান, ইজ্জতকে ধূলায় নিপতিত করছে। সাম্প্রদায়িক, স্বাধীনতা বিরোধী ও মৌলবাদী এই চক্রের উস্কানিমূলক বিবৃতি বক্তব্যে ঢাকার বিদেশি কূটনৈতিক মহল তাদের নিরাপত্তার ব্যাপারে অত্যন্ত উদ্বেগাকুল হয়ে পড়ছে বলেও জানা গেছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য আমাদের শতকরা একশভাগ গণতান্ত্রিক সরকারের দাবিদাররা এসব উগ্রপন্থী সাম্প্রদায়িক শক্তির সকল অপতৎপরতার মত কূটনৈতিক শিষ্টাচার বিবর্জিত উদ্বেগজনক তৎপরতাকেও নীরবেই হজম করে যাচ্ছে। একটি দূতাবাস ঘেরাওএর মত বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরও সরকার একটি গণতান্ত্রিক সরকার একটি উন্নয়নমুখী সরকার কি করে নীরব থাকে, আমরা বুঝতে পারি না। ……
অনেক লম্বা লেখা। সরকারকে দোষ দিয়েই মূলত লেখাটি। মৌলবাদের উত্থানে নীরব কেন সরকার। সরকারকে আসলে যত প্রশ্নই করা হোক, সরকার কি কখনও উত্তর দেবে! না দেবে না। সরকারের যত নিন্দাই করা হোক, সরকার কি গায়ে মাখে? না মাখে না।
রাত একটায় ক এলেন। ক এসেই কথা নেই বার্তা নেই, বললেন, চলুন। কোথায় চলব, কিছু জানি না। আমার তো তৈরি হওয়ার বেশি কিছু নেই। দ্রুত শাড়িটি পরে নিলাম। ঝ কিছুক্ষণ হতভম্ব দাঁিড়য়ে থেকে ককে জিজ্ঞেস করলেন কোথায় নিচ্ছেন আমাকে। ক কোনও উত্তর দিলেন না। আমিও জিজ্ঞেস করলাম, উত্তর পাইনি। এ সময় ক যা ভাল বুঝবেন তাই করবেন। নিজের জীবনটি কর হাতে পুরোপুরিই ছেড়ে দিয়েছি। ক এখন বায়তুল মোকাররমে নিয়ে আমাকে রেখে আসতে পারেন, ক এখন কোনও অন্ধকার গুহায় আমাকে ফেলে আসতে পারেন। আমি বাঁচব কি মরব তা কর সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। একটি লাল গাড়ি বাইরে অন্ধকারে অপেক্ষা করছিল। ঘোমটা মাথার আমি দ্রুত উঠে যাই গাড়ির ভেতর। পেছনের আসনে শুয়ে পড়ার পরামর্শ দেন ক। ক সামনের আসনে উঠে বসলেই গাড়ি চলতে শুরু করে। কোথাও গিয়ে গাড়ি থামে। কোথায় তা আমার অনুমান করার সাধ্য নেই। একটি দোতলা বাড়িতে কর পেছন পেছন উঠতে হয়। দরজা খুলে যে ব্যক্তিটি দাঁড়ান, দেখে অবাক হই। তিনি এদেশের বিখ্যাত একজন শিল্পী। ধরছি তিনি ঞ। ঞ এবং ঞর স্ত্রী আমাকে একটি ঘরে ঢুকিয়ে দেন। ক ওই দরজা থেকেই অদৃশ্য হয়ে যান।
