আরও খবর। যুব কমাণ্ড ও দালাল প্রতিরোধ কমিটির সমাবেশে বক্তাবৃন্দ বলেছেন–তসলিমা গংদের শাস্তি দিতে ব্যর্থ হলে সরকারকে চরম মূল্য দিতে হবে। গতকাল দৈনিক বাংলার মোড়ে জাতীয় যুব কমাণ্ড ও ভারতীয় দালাল প্রতিরোধ কমিটির উদ্যোগে পৃথক পৃথক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। জনাব বি এম নাজমুল হক এবং জনাব গোলাম নাসেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দুটি সমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষণে এনডিও সেক্রেটারি আনোয়ার জাহিদ বলেন, আজকের ঐতিহাসিক হরতালের মাধ্যমে জনতা যে স্বতঃস্ফূর্ত রায় দিয়েছে তার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে সরকারকে তসলিমা গংদের শাস্তি ও জনকণ্ঠ পত্রিকা নিষিদ্ধ ঘোষণার ব্যবস্থা নিতে হবে। আর সরকার যদি তা করতে ব্যর্থ হয় তাহলে সরকারকে চরম মূল্য দিতে হবে যা হবে অত্যন্ত ভয়াবহ। .. এই ঐতিহাসিক হরতালের মাধ্যমে লড়াইএর শুরু হল। লড়াই করতে হবে জান, স্বাধীনতা ও ধর্ম বাঁচানোর জন্য। তিনি বলেন, এ দেশের মাটিতে ধর্ম পালন করতে হলে দেশকে বাঁচাতে হবে এবং নাস্তিকদের প্রতিহত করতে হবে। আজকের দিন আমাদের বিজয়ের দিন, কোরানের বিজয়ের দিন এবং স্বাধীনতার বিজয়ের দিন। আজ সময় এসেছে প্রতিটি মুসলমানের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার এবং আলেম ওলামা জাতীয়তাবাদী দলসমূহের নেতৃবৃন্দকে একই মঞ্চে সমবেত হওয়ার। এনজিওদের পয়সায় যেসব পত্রিকা চলে তারা মৌলবাদের ধোয়া তুলছে এনজিওদের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণে, স্বাধীনতা রক্ষার কথা বলার কারণে। ইসলাম, কোরান ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে যারা কথা বলে তারা মুসলমান নয়। তারা জানে এদেশ থেকে মুসলমানদের হঠাতে পারলে এদেশকে করদ রাজ্যে পরিণত করা যাবে। আজকের হরতাল তাদের অস্তিত্বের প্রশ্ন। তাই সময় এসেছে সিদ্ধান্ত নেওয়ার– এদেশে হয় তারা থাকবে নতুবা তৌহিদী জনতা থাকবে।
মেজর বজলুল হুদা বলেছেন, আজকে যারা হরতালকে প্রতিহত করতে মাঠে নেমেছে তারা গণতন্ত্রের পিঠে ছুরিকাঘাত করেছে। স্বাধীনতা, গণতন্ত্র এবং ধর্মীয় চেতনাকে রক্ষা করার জন্য আমরা বহু রক্ত দিয়েছি। এবার আর রক্ত দেব না, এখন থেকে আমরাই রক্ত নেব। আমরা ৭১এ মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম পিণ্ডির হাত থেকে দেশকে মুক্ত করতে একথা ঠিক কিন্তু এদেশকে দিল্লির গোলামে পরিণত করার জন্য নয়।
প্রিন্সিপাল সিরাজুল হক গোরা বলেছেন, আজকে আমাদেরকে দেশ ও ধর্মদ্রোহীদেরকে চিরদিনের জন্য নির্মূল করার শপথ নিতে হবে।
খন্দকার আবদুল মান্নান বলেছেন, সকল দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক শক্তিকে একই মঞ্চে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার মাধ্যমে এই হরতালের মর্যাদা রক্ষা করা সম্ভব। আবদুল্লাহিল মাসুদের বক্তব্য, দেশদ্রোহী ঘাতক দালালদের এদেশ থেকে না তাড়ানো পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরে যাবো না।
বাকিরা একই রকম কথাই বলেছেন, দেশদ্রোহীরা বলেছিল দেশপ্রেমিকদের রাজপথে থাকতে দেবে না কিন্তু আজ প্রমাণ হয়েছে বাংলাদেশে দেশ ও ধর্মদ্রোহীদের জায়গা নেই, এই দেশে দেশপ্রেমিকরাই থাকবে। ইত্যাদি ইত্যাদি।
মাওলানা নিজামী ভাষণ দিয়েছেন বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে। গেটের কাছে দাঁড়িয়ে তো আর ভাষণ দেননি তিনি। রাস্তা বন্ধ করে বিশাল মঞ্চ তৈরি করা হয় এসব রাজনৈতিক সভার জন্য। জামাতে ইসলামীর সেক্রেটারি ও সংসদীয় দলের নেতা মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী বলেছেন, স্বতঃস্ফূর্ত এ হরতালের মাধ্যমে প্রমাণিত হল যে ইসলাম ও কোরান অবমাননাকারীদের স্থান এদেশে নেই। যারা কোরান, আলেমা ওলামাদের সাথে বেয়াদবি করেছে, এ হরতালের পর তাদের তওবা করা উচিত। ধর্মপ্রাণ মানুষের ঈমানী তাগিদেই এই স্বতঃস্ফূর্ত হরতাল পালিত হয়েছে। এ হরতালের সময় কোনও পুলিশ নামানোর দরকার ছিল না। সরকার ঘাদানি কমিটিকে রক্ষার জন্যই গতকাল পুলিশ নামিয়েছে। গত কদিনের ঘটনা প্রমাণ করে যে ঘাদানিকএর সাথে সরকারের গভীর যোগাযোগ রয়েছে। ঘাদানিকএর মত নষ্টা ভ্রষ্টা লেখিকার সাথেও সরকারের যোগাযোগ রয়েছে।
নষ্টা ভ্রষ্টা লেখিকা সম্পর্কে এরপর নিজামী বিস্তর কথা বললেন।
ইসলামী ছাত্র শিবির রাগ করেছে, বলেছে, সরকার মুরতাদদের পক্ষ অবলম্বন করেছে।
ভোরের কাগজের খবর, সারা দেশে হরতাল পালিত, সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৩ শতাধিক। সিলেটে এনজিও অফিস ক্লিনিক জ্বালিয়ে দিয়েছে মৌলবাদীরা। হরতাল সম্পর্কে সংসদে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর বিবৃতি। ঢাকার ঘটনায় ১৭ পুলিশসহ শতাধিক আহত। হরতাল চলাকালে বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক সংঘর্ষ, ভাঙচুর। সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের ওপর আক্রোশ।
এনজিও অফিস জ্বালিয়ে দিল? হ্যাঁ জ্বালিয়ে দিল। মৌলবাদী ফতোয়াবাজরা গতকাল সিলেটের জকিগঞ্জ থানার আটগ্রামে এনজিও সংগঠন গ্রাম উন্নয়ন এফআইডিডিবি অফিস ও কোয়ালিশন মেডিকেল ক্লিনিক জ্বালিয়ে দিয়েছে। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী গতকাল দুপুর ১২টার দিকে কয়েকশ মারমুখী মৌলবাদী কর্মী জকিগঞ্জের আটগ্রামস্থ এফআইডিডিবি অফিসে হামলা চালায়। ব্যাপক ভাঙচুরের পর এফআইডিডিবির কর্মকর্তাকে অফিসের ভেতর আটকে আগুন ধরিয়ে দেয়। ঘটনাস্থলে অবস্থানকারী মাত্র সাতজন পুলিশ কোনও রকমে অফিস ঘরে আটক চারজন কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে। অফিসটি জ্বালিয়ে দেবার পর মৌলবাদীরা আটগ্রামস্থ কোয়ালিশন মেডিকেল ক্লিনিকে আগুন দেয়। আগুন নেভাতে স্থানীয় লোকজন আসতে চাইলে তারা বাধা দেয়। অফিস ও ক্লিনিক সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়। থানা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, তারা প্রায় এক কোটি টাকার সম্পদ পুড়িয়ে দিয়েছে। ঘটনার সময় দুজন পুলিশ মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে। সন্ত্রাসীরা তিনটি মোটর সাইকেল পুড়িয়ে দিয়েছে। ঘটনার পর সিলেট থেকে রিজার্ভ পুলিশসহ একজন এএসপি ও এডিএম জকিগঞ্জে গিয়েছেন। এদিকে গতকাল সকাল থেকেই কতিপয় মৌলবাদী কর্মী সিলেট শহরের হকার পয়েণ্টে হামলা চালিয়ে ইনকিলাব ও সংগ্রাম ছাড়া ভোরের কাগজ, জনকণ্ঠ, আজকের কাগজসহ অন্যান্য পত্রিকা ছিনিয়ে নেয়। তারা ইনকিলাব ও সংগ্রাম ছাড়া অন্য সব পত্রিকা বিক্রি বন্ধ রাখতে হকারদের বাধ্য করে। ফলে শতাধিক পত্রিকা-হকার মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।
