খেয়ে ফেলা শব্দদুটো ঝ কে হাসায়। তিনি মাথা ঝাঁকিয়ে বলতে থাকেন, হাল ছেড়ো না, দেখ কি হয়। ওয়েট এণ্ড ওয়াচ।
আজ ইনকিলাবের পুরো পাতার সবটা জুড়ে খবর।
আল কোরানের মর্র্যাাদা সমুন্নুন্নত রাখতে সারাদেশে সকাল সন্ধ্যা হরতাল পালিত।
গতকাল গোটা বাংলাদেশ ছিল তৌহিদী জনতার দখলেঃ নাস্তিক মুরতাদ ইসলাম বিরোধী ও রাষ্ট্রদ্রোহীদের বিরুদ্ধে কোটি কোটি মুসলমানের রায়
গতকাল বৃহস্পতিবার ছিল অভূতপূর্ব এক হরতালের দিন। গোটা বাংলাদেশ ছিল তৌহিদী জনতার দখলে। রাজধানী ঢাকাসহ বাংলাদেশের প্রতিটি শহর বন্দর থেকে শুরু করে ৬৮ হাজার গ্রামে নাস্তিক মুরতাদ, ইসলাম ও রাষ্ট্রদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এই হরতাল পালিত হয়। কিসের জন্য এই হরতাল? ইসলামের ইতিহাস ঐতিহ্য তথা আল কোরানের মর্যাদা সমুন্নত রাখাই ছিল এই হরতালের লক্ষ্য। হরতালের দাবি ছিল– মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতদানকারী ও ইসলামকে নিয়ে ছিনিমিনি খেলায় লিপ্ত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। তথাকথিত মুক্তবুদ্ধির চর্চা ও গণতান্ত্রিক অধিকারের নামে ফ্রি স্টাইল পন্থীদের দুষ্টবুদ্ধিপ্রসূত আক্রমণ থেকে ধর্মের ও ধর্মীয় মহাপুরুষের মর্যাদা সংরক্ষণের লক্ষ্যে অনতিবিলম্বে ব্লাসফেমি আইন প্রবর্তন করতে হবে। ধর্মদ্রোহী পত্রপত্রিকা বাতিল করতে হবে। সেবার নামে একশ্রেণীর এনজিওর তৎপরতা বন্ধ করতে হবে। ইসলামের ইতিহাস ঐতিহ্য এবং আল কোরানের মর্যাদা সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে বাংলাদেশে গতকাল যা ঘটলো এমনটি আর কোথাও হয়েছে বলে জানা নেই। বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন তীব্র স্বতঃস্ফূর্ত হরতাল আর কখনো হয়নি। মূলত গতকাল বাংলাদেশের রাজপথ ছিল আলেম ও ইসলামপন্থী জনতার দখলে। মঙ্গলবার ঢাকায় ঘাদানিকভূক্ত এক নেতা জনসভায় বক্তৃতাকালে চিৎকার করে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, ধর্মদ্রোহিতার বিচারের দাবিতে হরতাল আহবানকারীদের তারা ৩০ জুন মাঠে নামতে দিবেন না। তার ভাষায় ধর্মদ্রোহিতার বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীরা হচ্ছে রাজাকার ও পাকিস্তানের দালাল। কিন্তু গতকাল ঐ নেতা এবং তার সাঙ্গপাঙ্গদেরই মাঠে দেখা যায়নি। ধর্মদ্রোহিতার বিচার দাবিকারী আলেম ও ইসলামপন্থীরাই গতকাল সারাদিন রাজধানী ঢাকাসহ সমগ্র বাংলাদেশের ময়দানে বিচার করছিলেন। শুধুমাত্র ঢাকার প্রেসক্লাবের সামনে বড়জোর শদুয়েক ঘাদানি পুলিশের ছত্রছায়ায় ছিল। এছাড়া আর কোথাও ঘাদানির চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায়নি। জানা যায়, ভোর চারটায়, তসলিমা সমর্থক এসব ঘাদানি প্রেস ক্লাবের সামনে তোপখানা রোডে আসে এবং পুলিশকে বলে কয়ে সেখানে উপস্থিতি বজায় রাখার ব্যবস্থা করে। নইলে নাকি মান ইজ্জত একেবারেই যায়। এদের ছাড়া ঢাকা বা সমগ্র বাংলাদেশের আর কোথাও সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত য়েচ্ছ!য় ধর্মদ্রোহিতার পক্ষ অবলম্বনকারী এসব ঘাদানি চক্রের টিকিটির সন্ধানও মিলেনি। এতেই প্রমাণিত হয় যে এই দেশ মুসলমানদের — এ দেশ পবিত্র কোরানের অনুসারিদের– প্রমাণ হয়েছে –ফতোয়াবাজ সাম্প্রদায়িক রাজাকার ইত্যাদি ধুম্রজাল সৃষ্টি করে গালিগালাজ করে মূল বিষয়কে ধামাচাপা দিয়ে সাধারণ মানুষকে বোকা বানিয়ে রাখা যায় না। গতকাল ফজরের নামাজের পর থেকেই রাজপথে তৌহিদী জনতার ঢল নামে। হাজারো, লাখো কণ্ঠে উচ্চারিত হয়– নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার, আমাদের উৎস কি? লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, তোমার নেতা আমার নেতা– বিশ্ব নবী মোস্তফা। ধর্মপ্রাণ অযুত কণ্ঠের এ স্লোগানে জনপদ, রাজপথ মুখরিত হয়। বিভিন্ন স্থানে ধর্মদ্রোহী ও মুরতাদ চক্রের চোরাগোপ্তা হামলায় আল্লাহর এ বান্দাদের রক্ত ঝরেছে, কিন্তু তাদের অগ্রযাত্রা স্তব্ধ করা যায়নি। ফলে গতকালের ঘাদানি মুক্ত বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষের রায় ঘোষিত হয়েছে–এ দেশে ধর্ম নিয়ে ছিনিমিনি খেলা চলবে না। এ দেশে ধর্মদ্রোহী ও তাদের মদদদাতা ও দোসরদের স্থান নেই। তসলিমা, আহমদ শরীফ গংসহ সকল ধর্মদ্রোহীকে শাস্তি দিতে হবে। ধর্মদ্রোহিতার চিরঅবসানকল্পে অনতিবিলম্বে ব্লাসফেমি ধরনের আইন প্রবর্তন করতে হবে। দীর্ঘ ১২ ঘণ্টাব্যাপী গোটা বাংলাদেশের জনতার ময়দানে প্রতিফলিত ও প্রতিবিম্বিত এ ঐতিহাসিক গণরায় আগামী দিনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে অবশ্যই একটি মাইল ফলক হিসেবে কাজ করবে। বেশ কিছুদিন যাবৎ লক্ষ্য করা যাচ্ছে, বাংলাদেশের এক শ্রেণীর বুদ্ধিজীবীর ইসলামের বিরুদ্ধে বিষোদগার করা একটা ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারতীয় ব্রাহ্মণ্যবাদের পদলেহী এই সব লোক তাদের বেতনভুক এজেন্ট ছাড়া আর কিছু নয়। তসলিমা-আহমদ শরীফ গং এবং এই গংভুক্ত এসব লোকের কুৎসিত কার্যকলাপের প্রতিবাদে ৩০ জুন হরতালের ডাক দেওয়া হলে ভারতীয় দালালরা এই হরতাল প্রতিরোধের হুমকি দিল। কিন্তু যখন তারা জানলো যে এই হরতাল প্রতিরোধ করা যাবে না তখন তারা এই ৩০ তারিখেই পাল্টা হরতাল করে কিছু একটা হাসিলের মতলব এঁটেছিল অথচ হাসিল তো দূরের কথা বেচারা ঘাদানি চক্র মাঠেই নামতে পারেনি। ওলামা সমাজ গতকাল একটি মরণ পণ করে মাঠে নেমেছিলেন। তা হল, শির দেগা, নাহি দেগা আমামা..। রাজনৈতিক মহলের মতে গতকাল বাংলাদেশে ওলামা ও ইসলামপন্থীদের নেতৃত্বে পরিচালিত নজিরবিহীন এই হরতাল ইসলামী আন্দোলনের ধারায় এক নতুন পথ নির্দেশ করছে, নতুন দিগন্তের উন্মোচন করছে। এই প্রেক্ষাপটে স্মরণে থাকে জাতীয় কবি নজরুলের বিখ্যাত কবিতার এই লাইনটি — বাজিছে দামামা বাঁধ রে আমামা শির উঁচু করি মুসলমান, দাওয়াত এসেছে নয়া জমানার, ভাঙা কেল্লায় উড়ে নিশান।
