…. .. ব্যাপক ঐক্য ও দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলুন। আওয়াজ তুলুন
০সকল ধর্মীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ কর।
০সকল রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম থেকে ধর্মকে বিচ্ছিত কর। ধর্ম ব্যক্তিগত ব্যাপার, এ নীতি প্রতিষ্ঠা কর।
০ধর্ম প্রশ্নে যে কোনও বিশ্বাস ও মতবাদ (নাস্তিকতাসহ) প্রকাশ-প্রচারের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা কর।
০রাষ্ট্রধর্ম বাতিল কর।
০মাদ্রাসা শিক্ষাকে সাধারণ শিক্ষায় পরিণত কর।
০বাধ্যতামূলক ধর্মীয় শিক্ষা এবং বাধ্যতামূলক আরবি ও ইংরেজি ভাষা শিক্ষা বাতিল কর।
০মসজিদ মন্দির গির্জায় রাষ্ট্র থেকে আর্থিক অনুদান বন্ধ কর। এ অর্থ গরিব জনগণের বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা ও অন্যান্য কল্যাণে ব্যয় কর।
০ নারী অধিকারের বিরুদ্ধে ফতোয়াবাজি, ওয়াজ, বাধ্যতামূলক পর্দা বোরখাসহ বিবিধ নিপীড়ন নিষিদ্ধ কর।
০ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান ব্যতিত সকল সালিশ বিচার প্রশাসনে ইমাম মৌলানাদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ কর।
০পীরবাদের নামে ধর্ম ব্যবসা নিষিদ্ধ কর।
০ আহমদ শরীফ, তসলিমা ও জনকণ্ঠের উপর হয়রানি নির্যাতন বন্ধ কর।
০গোলাম আযম সহ একাত্তরের রাজাকার পাণ্ডাদের কঠোর শাস্তি দাও।
এরপর আরও অনেক কথা, শ্রমিক কৃষকের কথা, নিম্নবিত্ত মধ্যবিত্তের কথা, সর্বহারা পার্টির সশন্ত্র সংগ্রাম জাগিয়ে তোলার কথা গ্রামে গ্রামে। সশস্ত্র প্রতিরোধ আর পাল্টা আক্রমণের কথা। শেষ করা হয়েছে আরও কিছু স্লোগান দিয়ে
নিপীড়িত জনগণের বিজয় অনিবার্য। বিজ্ঞানসম্মত সত্যের জয় অবশ্যম্ভাবী।
০গোপন গেরিলা স্কোয়াড গড়ে তুলুন।
০ধর্মীয় ফ্যাসিবাদীদের ওপর সশস্ত্র আত্রমণ চালান।
০বিপ্লবের মতবাদ মার্কসবাদ – লেনিনবাদ – মাওবাদ।
০মাওবাদের আদর্শে সজ্জিত হোন। গ্রাম ভিত্তিক গেরিলা যুদ্ধ গড়ে তুলুন!
০শ্রমিক কৃষক মধ্যবিত্তের গণক্ষমতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সর্বহারা পার্টিতে ঐক্যবদ্ধ হোন।
কেন্দ্রীয় কমিটি, পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি। জুন, ১৯৯৪
ঝকে বলেছিলাম আমার উকিলের কাছে অন্তত একটি ফোন করতে চাই আমি, জানতে চাই আমার জামিন বিষয়ে, কবে হবে জামিন, কখন হবে। ঝ বলেছেন, ক আর ঙ তাঁকে বলে গেছেন কোথাও যেন আমি ফোন না করি।
–ডঃ কামাল হোসেনের কাছে ফোন করলে কি অসুবিধে?
–তোমার উকিলের ফোনে সম্ভবত আড়ি পাতা হচ্ছে, কারণ তুমি ফোন করতে পারো এই সন্দেহে। কোত্থেকে ফোন করেছো, এই খোঁজটি পেয়ে যাবে পুলিশ। তখন কী হবে একবার ভেবে দেখেছো?
–হয়ত আড়ি পাতা হচ্ছে না।
–হয়ত হচ্ছে।
–তবে ককে একটা ফোন করা দরকার, কেন ক আসছেন না..
–কর ফোন নম্বর আমি জানি না। ককে ফোন করতে তো না বলে গেছে সেদিন।
–তবে ঙকে ..
–ঙ ও না বলেছেন। তারপরও আমি ফোন করব, এত যখন তোমার অস্থিরতা..
৩. অতলে অন্তরীণ – ২৩
ছাব্বিশ জুন, রবিবার (?)
ঝ আজ কিঁ কিঁ করা পাখাটি পাল্টে অন্য একটি শব্দহীন পাখা দিয়েছেন। লিফলেট তো আছেই কিছু, পত্রিকাও দিয়েছেন পড়তে। আজকের খবরগুলো হরতালের পক্ষে সারা দেশে সভা সমাবেশ আর মিছিল হওয়ার খবর। ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন বিশাল লাঠি মিছিল করেছে। হাজার হাজার মুলিবাঁশ আন্দোলিত হচ্ছে মাথার ওপর। ডঃ কামাল হোসেন গণফোরামের সভায় বলছেন, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। স্বাধীনতার ২২ বছর পর গোলাম আযমের নাগরিকত্ব ও স্বাধীনতা বিরোধীদের প্রতিহত করতে আন্দোলনে নামতে হয় এটি অকল্পনীয় ব্যাপার। পঁচাত্তরের পর সরকারগুলো রাজাকারদের দেশে এনেছে, প্রতিষ্ঠিত করেছে ইত্যাদি ইত্যাদি, শেষে বলেছেন, এখন মৌলবাদীদের যে করেই হোক রোধ করতে হবে, তা না হলে সর্বনাশ। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের মতবিনিময় সমাবেশ হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি (ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্র)র ভেতর। একই মত সবার, বিনিময়ের কিছু নেই। মত হল, জামাত শিবির সহ সকল সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিষিদ্ধ করার বিল পাস করতে হবে সংসদে, যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমের সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ করতে হবে, ৩০ জুন সকাল সন্ধ্যা হরতাল পালন, গোলাম আযম গংদের বিশেষ ট্রাইবুন্যালে বিচার, গণআদালতের রায় কার্যকর, সাম্প্রদায়িক শক্তিকে চিরতরে নির্মূল করতে হবে। জোটের এই সভায় কেবল যে শিল্পী সাহিত্যিক ছিলেন তা নয়, রাজনৈতিক নেতারাও ছিলেন, বিশেষ করে বামপন্থীরা। শামসুর রাহমান জোটের এই সভায় বলেছেন, আমরা আজ এক বিরাট সংকটের মুখোমুখি এসে দাঁড়িয়েছি। সব পেশার মানুষ আজ গভীর উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। যারা একাত্তর সালে তিরিশ লাখ মানুষকে হত্যা করেছে, যারা বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছে, তারা আজ মাঠে নেমেছে, আমাদের নীরবতার সুযোগ নিয়ে তারা আজ ফণা তুলেছে। যে কোনও মূল্যে এই অপশক্তিকে প্রতিরোধ করতে না পারলে এই দেশে গভীর অন্ধকার নেমে আসবে।
নগর আওয়ামী লীগের সমাবেশে বলা হয়েছে একাত্তরের গণহত্যার নায়ক গোলাম আযমকে নাগরিক করার জন্য এদেশ স্বাধীন হয়নি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে জনগণ যখন সোচ্চার, ঠিক তখনই সরকার স্বাধীনতা বিরোধী সাম্প্রদায়িক শক্তিকে লেলিয়ে দিয়ে দেশকে নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।ন!না কথা .. নানা কথা। একজন কেবল উল্লেখ করেছেন আমার কথা, তসলিমা নাসরিনের বহু লেখার সঙ্গে গোষ্ঠীর নেতারা একমত নন। প্রমাণ সাপেক্ষে আইনের আশ্রয় নিতে পারেন যে কেউ কিন্তু পঞ্চাশ হাজার টাকা শিরোচ্ছেদ ঘোষণা করে মানুষকে বোকা বানানোর অপপ্রয়াস সম্মিলিত ভাবে রোধ করা হবে। জাতীয় সমন্বয় কমিটির সভায় স্বাধীনতা বিরোধী, যুদ্ধাপরাধী, সাম্প্রদায়িক, ফ্যাসিস্ট শক্তিকে নগরে বন্দরে গ্রামে গঞ্জে পাড়া মহল্লায় প্রত্যক্ষ প্রতিরোধের জন্য আহবান জানানো হয়েছে। ২৮ জুন বিকেল চারটায় এই কমিটির সমাবেশ হবে। আজ সাড়ে চারটায় শহীদ মিনারে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের নাগরিক সভা, গণমিছিল। সন্ধে সাড়ে সাতটায় নগর সমন্বয় কমিটির যৌথ কর্মী সমাবেশ, ২৭ জুন বিকেল চারটায় বাম গণতান্ত্রিক ফ্রণ্টের জনসভা, টিএসসিতে চারটায় মুক্তিযোদ্ধা ছাত্র কমান্ডের সমাবেশ, ২৯ জুন সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী ছাত্র সমাজের মশাল মিছিল, ৩০ জুন সকাল এগারোটায় স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি প্রতিরোধ কমিটির সমাবেশের প্রতি সর্বাত্মক সমর্থন জানানো হয়। নতুন কর্মসূচিতে ঘোষণা করা হল, ২৯ জুন রাত আটটায় জাতীয় সমন্বয় কমিটির সভা হবে আর ৩০ জুন বিকেল চারটায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউএ জনসভা হবে। ….. তাহলে হচ্ছে কিছু, হবে কিছু। .আশা নামের একটি শিশু যেন আমার দিকে গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে আসছে। মনে মনে শিশুটির সঙ্গে আমি খেলা করি। সন্ধের দিকে ঝ ঘরে ঢুকলেন জকে নিয়ে। জ পাশে বসে আমার একটি হাত তাঁর হাতের মুঠোয় নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে রইলে। চোখে মায়া। ঝ মেঝেয় আসন পেতে বসে গেলেন। জ আমাকে জিজ্ঞেস করেন না কেমন আছি আমি, তিনি অনুমান করে নেন কেমন আছি। আমার মলিন মুখটিতে তিনি হাত বুলিয়ে দেন, আমার চুলে, পিঠে হাত তাঁর। আমি স্থবির বসে থেকে জর মুখে তাকিয়ে থাকি, জর চোখে জল। জ বললেন, কি বলে তোমাকে সান্ত্বনা দেব, জানি না। আমাদের কোনও ভাষা নেই। ইচ্ছে করে জর কোলে মাথাটি রেখে শুয়ে থাকি। বসে থাকলে মাথা ঘোরে। পড়ে যাবো পড়ে যাবো লাগে। ঝ সিগারেট দেন খেতে।
