আত্মার আত্মীয় তসলিমার জন্য অস্থির আনন্দবাজার গোষ্ঠী ভারতীয় কর্তৃপক্ষ, বিভিন্ন সংগঠন তসলিমার পক্ষে এবং বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছে না কেন, সে জন্য যেমন প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ, বাংলাদেশের গুটিকয়েক বিপথগামী তসলিমার পক্ষে কথা বলায় তেমনি আবার পুলকিত।
ইনকিলাবের লোকেরা ভারত বিরোধী হলেও ভারতে কোথাও আমার নিন্দা করা হলে সেটিকে লুফে নিয়ে পুনঃপ্রকাশ করে। ভারতীয় হিন্দু সোমক দাসকে রীতিমত সম্মান করছে ইনকিলাব গোষ্ঠী। রবিবারের প্রতিদিনএ প্রকাশিত সোমক দাসের তসলিমা নাসরিনের নারীবাদ ও লেখক সত্তা ইনকিলাবে ধারাবাহিকভাবে ছাপা হচ্ছে। —তসলিমা নাসরিনের হাতে দুটো তাস, যৌনতা ও ইসলাম। এই তাস দুটিকেই নানাভাবে ব্যবহার করে যাচ্ছেন তিনি একের পর এক রচনায়, আলোচনায় ও সাক্ষাৎকারে। তাঁর নারীবাদে নারী স্বাধীনতার প্রশ্ন যৌন য়েচ্ছ!চারে পর্যবসিত। আসলে পশ্চিমী দৃষ্টিভঙ্গিতে ধর্মের ব্যাখ্যা। লেখক হিসেবেই তিনি কতখানি বিষয় ও ভাষা সচেতন? এই প্রশ্ন তিনি নিজেই করেছেন এবং নিজে যা উত্তর দিয়েছেন তা ইনকিলাব গোষ্ঠীর খুব পছন্দ হয়েছে।
আমাকে এখনও গ্রেফতার করা হচ্ছে না কেন, এ নিয়ে এখন অনেকের সন্দেহ। সরকার কি ইচ্ছে করেই আমাকে গ্রেফতার করছে না! সত্যসন্ধ তাঁর নিয়মিত কলামে লিখেছেন, তসলিমা নাসরিন সরকারের দৃষ্টিতে আছেন বহুদিন থেকেই। সরকারি চাকুরে হওয়া সত্ত্বেও সে পরিচয় গোপন করে বিদেশে যাবার সময় তাঁকে জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাধা দেয়া হয়েছিল এবং সেই সুবাদে তার পাসপোর্ট বহুদিন আটক ছিল। অতি সম্প্রতি বিদেশ সফরকালে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও এ দেশের গণমানুষের ধর্মবিশ্বাসের প্রতি কটাক্ষ করার কারণে সারাদেশে তার বিচারের দাবিতে জনমত ফুঁসে উঠেছে। এ প্রেক্ষিতেই তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। কিন্তু গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা সত্ত্বেও পুলিশ তাকে আজও গ্রেফতার করতে সম্ভব হয়নি। এ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী উচ্চারণে যার রচনাবলী কণ্টকিত, যার অবৈধ বহির্গমন প্রয়াসের কারণে পাসপোর্ট আটক হতে পারে এবং যিনি বিদেশে গিয়ে এ দেশের আইন ও সার্বভৌমত্বের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠি দেখিয়ে বক্তব্য দেবার স্পর্ধা রাখেন, যার সঙ্গে আন্তর্জাতিক কুচক্রী মহলের গভীর সম্পর্ক সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত, তার গতিবিধি সম্পর্কে পুলিশ খোঁজ রাখে না, এটা কি বিশ্বাসযোগ্য কথা? তা হলে পুলিশ বা স্পেশাল ব্রাঞ্চের প্রয়োজনটা কোথায়? আমরা নিশ্চয়ই গোটা পুলিশ বিভাগের কথা বলছি না। আমাদের আইন শৃঙ্খলা সংস্থার অধিকাংশ সদস্য কর্তব্যপরায়ণ না হলে দেশ এতদিন নিশ্চয়ই মনুষ্যবাসযোগ্য থাকত না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বেশ সৎ এবং কর্তব্যপরায়ণ। আমরা জানি যে তসলিমা নাসরিনের মত বির্তকিত ব্যক্তিদের গতিবিধি সম্পর্কে কড়া নজর রাখা সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্ব এবং আমরা বিশ্বাস করি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পূর্বেও এ দায়িত্ব যথারীতি পালিতই হয়ে থাকবে। সুতরাং প্রশ্ন জাগে, গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর পরই তসলিমা নাসরিন উধাও হয়ে যাবার সুযোগ পেলেন কাদের প্রশ্রয় বা সহযোগিতায়। তাই বলি,বাংলাদেশে বুঝি সরকারের মধ্যেও আরেক অদৃশ্য শক্তি আছে যার কাজ নিয়মতান্ত্রিক সরকারের সব নীতি ও কর্মকাণ্ডকে নস্যাৎ করে দেওয়া।
সরকার ব্যর্থ হলে জনগণই মুরতাদদের বিষদাঁত ভেঙে দেবে–চট্টগ্রামে জামাতে ইসলামির সভায় বলা হয়েছে। সরকার ধর্মদ্রোহী তসলিমা নাসরিন, আহমদ শরীফ, কবীর চৌধুরী গংদের শাস্তিদানে ব্যর্থ হলে দেশের ধর্মপ্রাণ জনগণই ঐক্যবদ্ধভাবে এসব ধর্মদ্রোহীদের বিষদাঁত ভেঙে দেবে। বিশ্বব্যাপী ইসলামী পুনঃজাগরণ ঠেকানো এবং ব্রাহ্মণ্যবাদী ভারত উপমহাদেশে একটি রামরাজ্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে টেস্ট কেস হিসেবে এ দেশীয় এজেন্টদের দিয়ে এসব ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের ঈমান আকিদায় আঘান হেনে পরীক্ষা করছে কতটুকু প্রতিবাদ আসে। অপরদিকে সরকার এসব ষড়যন্ত্রে মদদ যোগাচ্ছে। তসলিমাকে গ্রেফতার করতে না পারা জনগণকে ব্ল্যাকমেইল করা ছাড়া আর কিছু নয়। আল্লাহর আসমানী কিতাব পবিত্র কোরান সম্পর্কে তসলিমার ধৃষ্টতাপূর্ণ উক্তির বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও ধিককার জানিয়ে আন্তর্জাতিক ইসলাম বিরোধী চক্রের অন্যতম সদস্য তসলিমার প্রকাশ্য ফাঁসির ব্যবস্থা করা আর ধর্মদ্রোহীতার শাস্তি বিল পাস করার দাবি জানানো হয়। পবিত্র কোরানের সম্পূর্ণ পরিবর্তনের দাবি করে এবং ইসলাম ও মুসলিম মিল্লাতকে ধ্বংসের পাঁয়তারা করার মত অপরাধ করে কুখ্যাত লেখিকা তসলিমার আর আল্লাহর এই জমিনে বেঁচে থাকার কোনও অধিকার নেই। সরকার আজ তসলিমাকে বাঁচানোর জন্য ফন্দি ফিকিরে রয়েছে, না হলে তাকে গ্রেফতার করা সরকারের জন্য এত কঠিন হয়ে দাঁড়াতো না।
রাজশাহীতে জামাতে ইসলামীর বিশাল বিক্ষোভ মিছিল শেষে সভায় বলা হয়েছে, নাস্তিক মুরতাদদের স্পর্ধা সীমা ছাড়িয়ে গেছে। ইসলামের জাগরণের জোয়ার দেখে সাম্রাজ্যবাদীরা ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। তাদের বেতনভোগী দালাল তসলিমাসহ কতিপয় বিকৃত মানসিকতার লেখক লেখিকা আল্লাহ রসুল ও কোরান হাদিস নিয়ে ঔদ্ধত্যপূর্ণ কথাবার্তা বলছে। সরকার যদি তাদের রহস্যজনক নীরবতা ভেঙে মুরতাদদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে আপামর জনগণ ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে। আমার পক্ষে বুদ্ধিজীবীরা বিবৃতি দিয়েছেন, তার সমালোচনা করে জামাতে ইসলামি দলের পত্রিকায় আজকের সম্পাদকীয়, ধর্মদ্রোহী রাহুর গ্রাস।
