.. .. কয়েকজন আঙুলে গোনা চিহ্নিত বুদ্ধিজীবী ও কবি বাংলাদেশ থেকে ইসলামকে উৎখাতের জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা শুরু করেছেন। যখনই তারা নিজেরাই দলবদ্ধভাবে প্রগতির নামে কিছু করেন তখন যেমন ধর্মীয় মূল্যবোধকে প্রকাশ্যে আহত করার একটা চেষ্টা থাকে। তেমনি ব্যক্তিগতভাবে তাদেরই দ্বারা অনুপ্রাণিত কোনও ব্যক্তিবিশেষ তার কোনও রচনায় কিংবা বক্তৃতা বিবৃতিতে যখন ইসলামি চেতনার ওপর আঘাত হানেন তখন আহত মুসলমানগণের প্রতিক্রিয়াকে বিপথে চালিত করার জন্য ঐ কয়েকজন মাত্র ব্যক্তি নানা বক্তৃতা বিবৃতি প্রচার করে ইসলামকে আঘাতকারী অন্যায়ের পক্ষপাত শুরু করেন। তাদের ধারণা ইসলাম, পবিত্র কুরআন এবং নবী রসুলকে আক্রমণ করে কিংবা আঘাত করে কিছু রচনা করা বা বলাটা হল তাদের প্রগতিশীল অধিকার। আর ধর্মের পক্ষে দাঁড়ানোটা প্রতিক্রিয়াশীল আচরণ। কেউ ইসলামের পক্ষে দাঁড়ালে সেটা মহা অপরাধ। কারণ ধর্মটা হল তাদের দৃষ্টিতে ধাপ্পাবাজি।
এই দৃষ্টিভঙ্গিকে তারা প্রচার করতে চান গণতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গিরূপে। ফলে তসলিমা নাসরিনের মত দেশ ও ধর্মদ্রোহিনীর পবিত্র কুরআন অবমাননাকেও তারা অত্যন্ত সাহসের সাথে সমর্থন করেন। তার অন্যায়ের সাফাই গাইতে এগিয়ে আসেন। তসলিমা যখন পবিত্র কুরআনের শুদ্ধির পরামর্শ দিয়ে বিদেশি পত্রিকায় সাক্ষাৎকার দেন কিংবা দেশের সার্বভৌম সীমানা তুলে দিয়ে ভারতের সাথে মিশে যেতে বলেন তখন তার ঐসব মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবাদী মুরুব্বীরা আড়ালে আবডালে বাহবা দিয়ে বেড়াতে থাকেন। যখন এরই প্রতিক্রিয়ায় সারাদেশের আধ্যাত্মিক চেতনা সহসা প্রচণ্ড আঘাতে গুমড়ে ওঠে, পথে পথে ক্ষিপ্ত জনগণের মিছিল বেরিয়ে আসে এবং ধর্ম সম্বন্ধে সম্পূর্ণ উদাসীন ক্ষমতাসীন সরকার তসলিমা নাসরিনকে গ্রেফতার করা হবে বলে তাকে আত্মগোপনের সুযোগ করে দিয়ে মজা দেখতে থাকেন, তখন ঐসব প্রগতিবাদী বুদ্ধিজীবীরা তাদের গর্ত থেকে বেরিয়ে এসে ক্রমাগত বিবৃতিতে সই করতে থাকেন, তসলিমার গণতান্ত্রিক অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। সরকার মৌলবাদীদের চাপের কাছে নতি স্বীকার করে তসলিমার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন। সরকারের উচিত এক্ষুনি তা তুলে নেওয়া ইত্যাদি। বিবৃতিতে সচরাচর যাদের স্বাক্ষর দেখে আমাদের চোখ অভ্যস্ত হয়ে গেছে সেই কবীর চৌধুরী, কবি শামসুর রাহমান, খান সারওয়ার মুরশিদ, ফয়েজ আহমেদ ও জিল্লুর রহমান সিদ্দিকীর স্বাক্ষর থাকবেই। আমাদের ধর্মের বিরুদ্ধে প্রতিটি আঘাতকারী বিষয়ে কেন এরাই বার বার বিবৃতির স্বাক্ষরদাতা হন? এ দেশে এগারো কোটি মুসলমানের ইসলামের প্রতি আগ্রহ কি তবে তাদের ধারণায় কোনও মৌলিক অধিকারের আওতায় পড়ে না? কেবল তসলিমা নাসরিনের ইসলাম ও পবিত্র কুরআন অবমাননার অধিকারটাই মৌলিক নাগরিক অধিকার? তসলিমা নাসরিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনাশকারী গ্রন্থ লজ্জা নিয়ে যখন ভারতে দাঙ্গা বাঁধে এবং সেখানকার মুসলমানদের নির্বিচারে হত্যা জুলুম এবং অগ্নিসংযোগের মধ্যে ফেলা হয়, মুসলিম মেয়েদের নির্বিচারে ধর্ষণ করা হয় তখন কবীর চৌধুরী, শামসুর রাহমান, ফয়েজ আহমেদ, খান সারওয়ার মুরশিদ এবং জিল্লুর রহমান সিদ্দিকীরা কোথায় থাকেন?
ইসলামের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য বিদ্বেষ প্রচার এ দেশের মানুষ এতদিন দমবন্ধ করে কেবল মৌলিক নাগরিক অধিকারের কথা ভেবেই কিনা জানি না, সহ্য করে এসেছে। এতে এটা ভাবা কারও উচিত নয় যে এগারো কোটি মুসলমান তাদের পবিত্র কুরআনকে বদলে ফেলার কথাও হজম করার পর্যায়ে চলে এসেছে। এখন যা খুশী তাই বলা যায় এবং কেউ বললে বিবৃতি দিয়ে সমর্থনও করা যায়। হ্যাঁ, বর্তমান সরকারের আমলে আপাত দৃষ্টিতে এটাই প্রতীয়মান হয় বটে। কিন্তু আমরা সরকারকে অত্যন্ত বিনয়ের সাথে জানিয়ে দিতে চাই এটা সত্য নয়। বর্তমান সরকারের সাধ্য না থাকলেও এ দেশের এগারো কোটি মুসলিম নর নারীর সাধ্য আছে তাদের পবিত্র ধর্মকে নাস্তিক্যবাদী শয়তানের গোটা কয়েক সন্তানের বিদ্রূপ এবং অবহেলা থেকে বাঁচাবার।
কেবল বিবৃতি দিয়ে মৌলবাদী শক্তিকে ঠেকানো যাবে না, পথে নেমেছে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি। গতকাল বিকেল চারটায় নির্মূল কমিটির সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেছেন, স্বাধীনতা বিরোধী পরাজিত শক্তি যে উদ্দেশ্যে একাত্তরে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছিল সেই একই উদ্দেশ্যে আজ তারা আমাদের মুক্তবুদ্ধির সংবাদপত্রগুলোর ওপর হামলা করছে। আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছি তারাই পরাজিত শষনুকে মাথা তুলতে দিয়েছি। এই শক্তি এখন দেশটাকে পাকিস্তান বানাতে চায়, পতাকা এবং জাতীয় সঙ্গীত বদল করতে চায়। তাদের বিরুদ্ধে আবার নতুন করে জেহাদে নামতে হবে। সমাবেশে জনকণ্ঠের সাংবাদিকদের ওপর থেকে মামলা এবং গ্রেফতারি পরোয়ানা তুলে নেবার জোর দাবি জানানো হয়। ডঃ কামাল হোসেন গতকাল বরিশালের অশ্বিনী কুমার টাউন হলে গণফোরাম আয়োজিত সভায় বক্তৃতা করেছেন, বলেছেন, ধর্মের নামে যারা বিভিন্ন ব্যক্তির ফাঁসি চায় তাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হোন। বর্তমান সংসদ কোনও সমস্যার সমাধান করতে পারেনি। এ সংসদ দেশে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগাতে পারেনি। ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দল, সবাই ব্যর্থ। বহু ত্যাগ তিতিক্ষার মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। তাকে রক্ষা করা সকল নাগরিকের দায়িত্ব। দেশে ইসলাম বিপন্ন হয়নি। ধর্ম ব্যবসায়ীরা ইসলামকে বিপন্ন করেছে। আফ্রিকার নেলসন ম্যাণ্ডেলা শ্বেতাঙ্গদের সাথে আলোচনায় বসতে পারেন। আরাফাত ইজরাইলের সাথে আলোচনা করতে পারেন, কিন্তু আমাদের দুই নেষনী দেশের উন্নয়নের জন্য আলোচনায় বসতে পারেন না। বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে এখনও পৃথক করা হয়নি। .. সরকার সংবাদপষেনর স্বাধীনতার নামে পত্রিকার সম্পাদককে গ্রেফতার ও সাংবাদিকদের হয়রানি করছে। জনগণকে উপেক্ষা করে দেশ চালাচ্ছে ইত্যাদি ইত্যাদি।
