তসলিমাসহ মুরতাদদের ফাঁসি ও ধর্মদ্রোহী পত্রিকা নিষিদ্ধ করতে দেশব্যাপী বিক্ষোভ।
ইসলামের ক্ষতি করার জন্য যুগে যুগে কুলাঙ্গারের আবির্ভাব ঘটেছে, বলেছেন মিজানুর রহমান চৌধুরী। লেখিকা তসলিমা তাঁর যা ইচ্ছা তাই লিখুন, কিন্তু লেখার স্বাধীনতার নামে কারও ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর আঘাত হানার অধিকার তাঁর নেই। দেশজুড়ে যে জেহাদী আন্দোলন চলছে, তা তিনি সমর্থন করছেন এবং ধর্মদ্রোহীতার বিরুদ্ধে আইন প্রণয়নের ব্যাপারটিকেও তিনি সমর্থন করছেন।
মিজান চৌধুরী যে সে লোক নন, তিনি বড় রাজনৈতিক নেতা, একসময় আওয়ামী লীগের নেতা ছিলেন, তারপর এরশাদের জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়েছেন। এখন তিনি জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। ভারপ্রাপ্ত এই জন্য যে আসল চেয়ারম্যান এখন জেলে। খালেদা তাঁকে জেলে ভরে রেখেছেন। নব্বইয়ের এরশাদবিরোধী আন্দোলনে জাতীয় পার্টির জনপ্রিয়তা কমে গেছে, তাই জনপ্রিয়তা অর্জন করার জন্য মিজান চৌধুরী ইসলামী দলের সমর্থনে এগিয়ে এলেন।
দেশ ও ঈমানবিরোধী চক্রান্ত রুখতে আজকের সংগ্রামী মিছিলে শরিক হোন।
ইসলাম ও রাষ্ট্রদ্রোহী তৎপরতা প্রতিরোধ মোর্চা গঠনের লক্ষে গঠিত সমন্বয় কমিটির আহবায়ক মাসিক মদীনা সম্পাদক মাওলানা মুহিউদ্দিন খান, সমন্বয় কমিটির আহবায়ক মুফতী ফজলুল হক আমিনী আজ ১২ই জুন সকাল দশটায় বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেটে দেশবাসীকে সমবেত হয়ে দেশ ও ঈমানবিরোধী অপতৎপরতা রুখতে সংগ্রামী মিছিলে শরিক হওয়ার আহবান জানিয়েছেন।
তাঁরা বলেন, আমরা জনতার মিছিল নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যাবো এবং মুরতাদ তসলিমা নাসরিনগংদের ফাঁসি, জনকণ্ঠ নিষিদ্ধকরণ এবং ধর্মদ্রোহিতার জন্য মৃত্যুদন্ডের আইন প্রণয়নের দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি প্রদান করব। এই নিয়মতান্ত্রিকতার মধ্য দিয়েই আমরা সেই সব হায়েনাচক্রের দাফন প্রক্রিয়ার দিকে এগিয়ে যাবো, যারা একটি সরল, ধর্মপ্রাণ ও আত্মমর্যাদাবান জাতিকে বারবার বোকা মনে করে রক্তাক্ত করে চলেছে। এই চক্রের দুঃসাহস আজ সীমাহীন স্পর্ধার রূপ ধারণ করেছে। এরা মুক্তবুদ্ধি, প্রগতিশীলতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং মানবতার জিগির তুলে অব্যাহতভাবে ঈমান ও ইসলামের বিরুদ্ধে সব রকম অস্ত্র প্রয়োগ করে যাচ্ছে। এই হায়েনাচক্র এখন জাতির মুখোমুখি দাঁড়াতে চাচ্ছে। এদের বিরুদ্ধে শহর বন্দর, গ্রাম পর্যায়ের সকল মানুষ ঐক্যবদ্ধ । এদের মৃত্যু সুনিশ্চিত করার জন্য ১২ জুনের স্মারকলিপি প্রদানের শোভাযাত্রায় শরিক হওয়ার জন্য নেতৃবৃন্দ দেশবাসীর প্রতি আহবান জানান।
তসলিমার ফাঁসির দাবিতে বরিশালে স্মরণকালের বৃহত্তম মিছিল।
ইসলাম ও রাষ্ট্রদ্রোহীদের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী প্রতিরোধ গড়ে তুলন।
তসলিমার ফাঁসি ও জনকণ্ঠ নিষিদ্ধের দাবিতে সভা সমাবেশ অব্যাহত।
নাস্তিক মুরতাদের পক্ষে বিবৃতির পরিণাম ভয়াবহ হবে।
নাস্তিক মুরতাদদের ফাঁসির দাবিতে তৌহিদী জনতা রাজপথে।
মুরতাদ তসলিমার জন্য আনন্দবাজার গোষ্ঠী অস্থির হয়ে পড়েছে। মুরতাদ মহিলা তসলিমার জন্য ভারতের আনন্দবাজার গোষ্ঠী বড় বেচায়েন হয়ে পড়েছে। তারা জানিয়েছে, তসলিমা তাদের আত্মার আত্মীয়। আনন্দবাজারীদের এমন আপনজন বাংলাদেশের সকল স্তরের মানুষের কাছ থেকে ঘৃণা, ধিককার ও অবমাননাকর বিষাক্ত শেলে যেভাবে জর্জরিত হচ্ছে, তাতে তারাও অস্থির হয়ে পড়েছে। কারণ, এ শেল যে তাদের উপরও আঘাত হানছে, তসলিমার মত এমন ভ্রষ্টা নারীকেই তাদের প্রয়োজন যে ভ্রষ্টা হতেই গৌরব বোধ করে, যে নীতি-নৈতিকতার তোয়াককা করে না, যে দেশের স্বাধীনতাকে আনন্দবাজারীদের হাতে তুলে দিতে চায় এবং দেশের সার্বভৌম স্বাধীন সীমানাকে মুছে দিয়ে ভারতের সাথে এককার হয়ে যেতে চায়। এই উপমহাদেশে মুসলমানদের মানসম্ভ্রম, ঐতিহ্য গৌরবকে ধুলায় ভূলণ্ঠিত করতে সহায়তা করতে পারে, এমন মুসলিম নামধারী কোনও পা চাটা কুলাঙ্গারকেই আনন্দবাজারীদের প্রয়োজন। এমন প্রয়োজনের ভ্রষ্টা নারী বাংলাদেশে অসুবিধার মধ্যে আছে, আনন্দবাজারীরা তা সইবে কেমনে! তারা অস্থির হয়ে উঠেছে, তসলিমা নামের কুলাঙ্গারকে উদ্ধার করার জন্য। তাদের উদ্বেগ যন্ত্রণা বেড়েই চলেছে। বাংলাদেশে তসলিমার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়ায় ইতোমধ্যে ভারতের উগ্র হিন্দু সংগঠন বিজেপি, যুবকংগ্রেস এবং নিখিল ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি পৃথক পৃথক বিবৃতি দিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করেছে। আনন্দবাজার গোষ্ঠী এতেও তৃপ্ত হতে পারছে না। যেন তাদের তর সইছে না। তারা চাইছে গোটা ভারতে ঝড় উঠুক বাংলাদেশের বিরুদ্ধে। আনন্দবাজারীরা তাই বিভিন্নভাবে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যসরকারসহ ভারতের বিভিন্ন সংগঠনকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে উস্কিয়ে দেওয়ার মত ঘৃণ্য কাজে মেতে উঠেছে। আনন্দবাজার লিখেছে, দুনিয়ার কোথাও পান থেকে চুন খসলেই প্রতিবাদে সরব হতে যাদের তিলমাত্র বিলম্ব হয় না, সেই বামপন্থীদের পড়শি দেশের লেখিকা তসলিমা নাসরিনের ওপরে রাষ্ট্রযন্ত্রের আঘাতের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর ব্যাপারে প্রাথমিক জড়তা কাটতেই বেলা বয়ে গেল। আনন্দবাজার পশ্চিমবঙ্গের বাম সরকার এবং কংগ্রেসকে এই মর্মে অভিযুক্ত করেছে যে তাদের ভোট নষ্ট হওয়ার ভয়েই তারা তসলিমার ব্যাপারে চুপ থাকছে। যারা প্রতিবাদ জানাতে এগিয়ে আসতে বিলম্ব করছে, আনন্দবাজার শক্ত ভাষায় তাদের আক্রমণ করছে। তবে দিল্লিতে সিপিএমএর মহিলা সংগঠন গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি বাংলাদেশের হাই কমিশনারের কাছে তসলিমার পক্ষে যে স্মারকলিপি দিয়েছে, তারা তাতে যেন তসলিমার জন্য কিছু করার পথে আশা দেখতে পেয়েছে। আনন্দবাজারীরা আরও কিছুটা আশ্বস্ত হয়েছে এই দেখে যে, বাংলাদেশের ভেতরের গুটিকয়েক মুরতাদ তসলিমার অপকর্মকে প্রকাশ্যে সমর্থন করার দুঃসাহস দেখাতে পেরেছে। আনন্দবাজার এখন এটাকে ঢালাওভাবে প্রচার করছে যে তসলিমার পক্ষেও এখন ঢাকা সরব। আনন্দবাজার লিখেছে, আজ একেবারে প্রকাশ্যেই তসলিমার সমর্থনে সরব হয়েছে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ও বাংলাদেশ সমাজতন্ত্রী পার্টির মত দল।
