লিখে যাই, আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচারকারীরা এবং আমার প্রাণনাশের হুমকি প্রদানকারীরা কেবল আমার জীবন বিপণ্ন করছে না, আমার পরিবারের সদস্যদের জীবনও বিপন্ন করে তুলেছে। যে কথা আমি কখনও উচ্চারণ করিনি তার জন্যে আমাকে দায়ী করে আমার বিরুদ্ধে যে মামলা করা হয়েছে, সেই মামলা প্রত্যাহার করার জন্যে সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে আমি সরকারের কাছে আমার এবং আমার পরিবারের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার আবেদন জানাচ্ছি।
এটুকুর পর ঙ বললেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিতে চাওনি এ কথা বল।
বলি, আমি যা সত্য মনে করি লিখি। কারও ধর্মীয় অনুভতিতে আঘাত লাগবে কি লাগবে না তা ভাবি না।
কিন্তু তুমি তো ইচ্ছে করে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেবার জন্য লেখ না। তোমার কি উদ্দেশ্য অন্যের ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত করা?
না এত স্থূল উদ্দেশ্য আমার নেই।
তবে লিখে দাও।
আশা করি আমার এই বিবৃতির পরে সকল ভুল বোঝাবুঝির অবসান হবে। কেননা আমার মতামত দ্বারা কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার কোনও ইচ্ছে আমার ছিল না, এবং নেই।
সই করি। তারিখ লেখার সময় ঙ আমাকে থামিয়ে একটু ভাবলেন, ভেবে বললেন, গতকালের তারিখ দাও।
কেন?
সবই তোমার নিরাপত্তার কারণে। আজকে যে লোক চিঠিগুলো চিঠির বাক্সে গোপনে রেখে আসবে, তার চিহ্নিত হলে চলবে না।
ঙ চলে যান, রেখে যান আজকের পত্রিকাগুলো।
এবার বন্ধ ঘরে বসে আগুনে পোড়ো। আগুন পাখাহীন হাওয়াহীন ঘরের নয়, আগুন পত্রিকার খবরের।
তসলিমার কর্মকাণ্ডে নাটের গুরুর ভূমিকায় ভারতের একটি মহল
দেশের সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক পত্রিকা ইনকিলাবের প্রথম পাতায় প্রধান খবর হিসেবে ছাপা হয়েছে একটি চিঠি এবং চিঠির ওপর ভিত্তি করে মন্তব্য। _______________________________
25th May,1994
‘Dearest Taslima,
Further to our telephone conversation this afternoon, here is my latest information.
It seems that, due to an oversight by somebody in our financial depertment, a cheque of $ 5,144.21 ( the advance payment of Lajja), dated 15th of April and in your favour was sent directly to your address( instead of a bank order, to your bank account, as per my instructions).
This cheque was cashed and our account debited by the clearing bank in New York on the 19th of May. I have asked the BNP ( our bank) to fax me the copy of this cheque. I can’t understand what happened unless it was stolen and your signature forged.This is what we want to find out.
The two other payments were made according to my instructions on the 15th and 16th of May, and have gone to your bank who should have the money very shortly if not already.
Needless to say that I am pursuing my enquiries. I shall talk to our financial controller tomorrow to see how to solve the problem.
I am awfully worried about you, and the more furious that such a stupid thing should happen at such an inconvenient time.
With lots of love
Christaine Besse
বাংলাদেশের বিতর্কিত লেখিকা দীর্ঘদিন থেকে ইসলাম ধর্ম, আইন, ভারত বিভাগ, বাংলাদেশ ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, দেশের শ্রদ্ধাভাজন পীর মাশায়েখ, আলেম উলামাদের বিরুদ্ধে অযৌক্তিক, অপ্রাসঙ্গিক ও আপত্তিকর মন্তব্য এবং লেখালেখি করে আসছেন। তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি, কথাবার্তা ও লেখালেখির মধ্যে ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে তীব্র ঘৃণা ও বিদ্বেষ খোলাখুলি প্রকাশিত হয়েছে। তসলিমার এসব কর্মকাণ্ডের পিছনে ইন্ধনদাতা তথা নাটের গুরু হিসেবে যে ভারতের একটি বিশেষ মহল কাজ করছে, তা আজ সুবিদিত। মূলত তসলিমা নাসরিনকে ভারত তার দীর্ঘলালিত মুসলিম বিদ্বেষী মনোভাব প্রসূত কর্মকাণ্ড বা সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য হাসিলের লক্ষ্যে প্রণীত নীল নকশা বাস্তবায়নের খুঁটি হিসেবেই ব্যবহার করছে। তাই দেখা যায়, ইসলাম ও মুসলমান বিরোধী, রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় স্বার্থ পরিপন্থী ভূমিকার জন্য তসলিমা নাসরিন যখন দেশপ্রেমী জনগণ কর্তৃক ধিকৃত ও ঘৃণিত, তখন ভারত ও সে দেশের একটি বিশেষ মহল তাকে পরম সমাদরে লুফে নিচ্ছে এবং নগদ অর্থ ও বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা প্রদানসহ প্রচার মাধ্যমে ব্যাপক গুরুত্ব প্রদান করে তাকে প্রায় দেবীর মহিমায় প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তাই যে উপন্যাস পড়ে মানুষ লেখিকার প্রতি ঘৃণা ও ধিককারে সোচ্চার হয়ে ওঠে, সেই লজ্জা উপন্যাস ভারতের উμচ মাধ্যমিক পর্যায়ের ছাত্র ছাত্রীদের জন্য পাঠ্যসূচিভুক্ত করা হয়েছে। মিথ্যা ও বানোয়াট কথাবার্তায় ঠাসা উপন্যাস নামের এ অপ উপন্যাসটি পড়ে ইতোমধ্যেই ছাত্র ছাত্রীরা বিভ্রান্ত হতে শুরু করেছে। সেখানকার অভিভাবক মহলে এই বইটি পাঠ্য করায় তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে অতি সম্প্রতি লজ্জা উপন্যাস লেখার জন্য বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনের ভারতীয় অর্থ পাওয়ার বিষয়টি নিঃসন্দেহে সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে। ভারতীয় বিশেষ মহলের সুকৌশলী ব্যবস্থাপনায় রুপি নয়, এখন তার নামে দফায় দফায় বিদেশি ডলার আসার চাঞ্চল্যকর প্রমাণ পাওয়া গেছে। তসলিমা নাসরিনের লজ্জা উপন্যাসটি প্রকাশিত হওয়ার পর এতে ভিত্তিহীন, মিথ্যা তথ্যের ব্যাপক উপস্থাপন দেশপ্রেমিক জনগণকে ক্ষুব্ধ করে তোলে। সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক বক্তব্য ও তথ্যে ভরা এ উপন্যাসটি সার্বিকভাবে রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় স্বার্থ বিরোধী হওয়ার কারণে সরকার তা নিষিদ্ধ করে। কিন্তু বাংলাদেশে নিষিদ্ধ হলেও প্রতিবেশী দেশ ভারতের একটি বিশেষ গোষ্ঠী ও মৌলবাদী দল বিজেপি লজ্জাকে লুফে নেয় এবং সেখানে উপন্যাসটির ব্যাপকভাবে মুদ্রণ ও প্রচার শুরু হয়। পরবর্তীকালে বিভিন্ন সূষেন জানা যায় যে, বিজেপি এ উপন্যাসটি লেখার জন্য তসলিমাকে ৪৫ লাখ টাকা দিয়েছে। বাংলাদেশে তসলিমার অনুরাগী ও ভক্ত মহলটি সাথে সাথে সোচ্চার হয়ে ওঠে এবং তসলিমাকে ভারতীয় অর্থ মদতানের বিষয়টি মৌলবাদীদের প্রচারণা বলে আখ্যায়িত করে একে ভিত্তিহীন প্রমাণের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। কিন্তু বিধি বাম। অতিসম্প্রতি অপ্রত্যাশিত ভাবে হস্তগত হওয়া তসলিমার নামে নিউইয়র্ক থেকে প্রেরিত একটি ফ্যাক্স থেকে তার ভারতীয় অর্থলাভের চাঞ্চল্যকর প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ফ্যাক্স থেকে দেখা যায় লজ্জা উপন্যাসের জন্য ভারত থেকে তসলিমাকে অর্থ প্রেরণের ঝুঁকি এড়াতে ভিন্ন কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে। তাই ভারত থেকে সরাসরি নয়, অর্থ প্রেরণ করা হয়েছে আমেরিকার একটি ব্যাংকের মাধ্যমে। এভাবে ধর্ম রাষ্ট্র ও জাতীয় স্বার্থের বিরোধী তসলিমা নাসরিনকে অর্থের মদদ জোগানো হচ্ছে — যা তসলিমাকে ধর্মপ্রাণ ও দেশপ্রেমিক মানুষের ধিককার ও প্রতিবাদের প্রতি অবহেলা ও উপেক্ষা প্রকাশের সাহস যোগাচ্ছে।
