খবরঃ ধর্মদ্রোহীদের শাস্তি দিতে সংসদে আইন পাস করার দাবি নিয়ে জামাতে ইসলামি বায়তুল মোকাররম মসজিদের প্রাঙ্গণে এক বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। জামাতে ইসলামি বাংলাদেশের নায়েবে আমীর মাওলানা আবুল কালাম মুহম্মদ ইউসুফ বলেছেন, তসলিমা নাসরিনসহ ধর্মদ্রোহীদের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেষনীকে স্পষ্ট বক্তব্য দিতে হবে। দেশবাসীকে জানাতে হবে খালেদা হাসিনা কি ধর্মদ্রোহী তসলিমার পক্ষে, না সাধারণ জনগণের পক্ষে। তসলিমা পবিত্র কোরান উল্টে দিতে চায় অথচ খালেদা হাসিনা একটা কথাও বলেন না। তসলিমার লাগামহীন বক্তব্য ও ঔদ্ধত্য সীমা ছাড়িয়ে গেছে। ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক ইসলাম বিরোধী চক্রের সাথে তার কর্মকাণ্ড বেড়ে গেছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সে বলছে। কলকাতার সল্ট লেকে তাকে বাড়ি বানিয়ে দিচ্ছে বিজেপি। তসলিমা নিজেকে বেশ্যা বানিয়েছে, এখন আরও মহিলাকে সে বেশ্যা বানাতে চাচ্ছে। আগামী শুক্রবার জুম্মাহর নামাজের পর খুৎবায় তসলিমা সম্পর্কে বক্তব্য রাখার জন্য তিনি মসজিদের ইমামদের আহবান করেছেন। বক্তাদের মধ্যে জামাতে ইসলামির বড় নেতারা ছিলেন, সংসদ সদস্যও ছিলেন। তাঁরা বলেছেন, এবারের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনকে শুধু রাজপথের আন্দোলনে সীমাবদ্ধ না রেখে একটা পরিণতিতে নিয়ে যাওয়া হবে যাতে বাংলাদেশে আর কেউ ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বলতে না পারে। ভণ্ডামির একটা সীমা আছে, তসলিমাকে পুলিশ পাহারা দেবে আর গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর তাকে খুঁজে পাওয়া যাবে না, এটা কেমন কথা!
খবরঃ সারাদেশে তসলিমার ফাঁসির দাবি তুঙ্গে উঠেছে। পবিত্র কোরান সম্পর্কে ধৃষ্টতাপূর্ণ উক্তির জন্য কুখ্যাত লেখিকা তসলিমা নাসরিনের ফাঁসি এবং দৈনিক জনকণ্ঠ নিষিদ্ধ করার দাবিতে সারাদেশে প্রতিবাদ সভা, মিছিল ও বিবৃতি অব্যাহত রয়েছে এবং তসলিমার প্রতি ঘৃণা ও ধিককারের জোয়ার প্রবলতর হচ্ছে। ঢাকা তো আছেই, এ ছাড়াও খুলনা, চট্টগ্রাম রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন সভা সমিতি সংগঠন থেকে দাবি উঠেছে, নাস্তিকতাবাদের নেষনী লজ্জার কুখ্যাত লেখিকা নির্লজ্জ তসলিমার বিরুদ্ধে কেবল গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলে চলবে না, ফাঁসি দিতে হবে। জনকণ্ঠ পত্রিকায় সুরা ত্বীন এর অপব্যাখ্যা করা হয়েছে, জনকণ্ঠ নিষিদ্ধ করতে হবে। হাদিস ফাউণ্ডেশনের পরিচালক ডঃ মুহম্মদ আসাদুল্লাহ আল গালিব বিবৃতিতে বলেন, আট হাজার পাশ্চাত্য লেখক ও ছয় হাজার তিনশ পাশ্চাত্য সংগঠন যে তসলিমার পক্ষে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছে, নিশ্চয়ই সে ইহুদি নাছারাদের এ দেশীয় এজেন্ট, এতে কোনও সন্দেহ নেই। আর সে কারণেই সরকার এই কুখ্যাত মেয়েটি ও তার লেখনীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ভয় পায়। সম্প্রতি তাকে গ্রেফতারের এক চমৎকার নাটক দেখিয়ে বর্তমান সরকার তার ভোটারদের আশ্বস্ত করতে চেয়েছিল। কিন্তু সে চালাকি বুঝতে কারো কষ্ট হয়নি।
গ্রেফতারি পরোয়ানার বিরুদ্ধে বিবৃতি দিয়েছে চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ( কোনওদিন নাম শুনিনি), লেখক শিল্পী সংসদের ২৫ জন তরুণ লেখক লেখিকা ( মৃগাঙ্ক সিংহ ছাড়া কোনও নাম আগে শুনিনি)। ব্যক্তিগত বিবৃতি দিয়েছেন বিকল্প ধারার চলচ্চিত্র নির্মাতা মোরশেদুল ইসলাম (নাম শুনেছি)। বলেছেন যে তিনি অবাক হচ্ছেন আমার গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির বিরুদ্ধে কেউ কোনও প্রতিবাদ করছেন না দেখে।
ঘ আজ সকালে আমার জন্য নাস্তা নিয়ে এসে চোখ টিপে বলেছেন আজ তিনি কাজের মহিলাকে সকাল সকাল বিদেয় করে দেবেন। তখন আমি এ ঘর ছেড়ে বেরোতে পারব, আমি এমনকী চাইলে সোফায় গিয়ে বসতে পারব। এই প্রস্তাব নিঃসন্দেহে চমৎকার। এই ঘরটি যদি প্রাসাদ হয়, তবে পাশের ঘরের সোফা তো রাজদরবারের মত। রীতিমত মসনদে গিয়ে বসা। পত্রিকার ওপর আমার এমন ঝুঁকে থাকা দেখে ঘ বলেন, এত কী পড়? বাদ দাও পড়া। আজ না হয় কাল তুমি জামিন পেয়ে যাবে। হৈ চৈ আর থাকবে না। দেখো তুমি!
জামিন যদি না হয়! আমার মলিন স্বর।
এও একটা কথা। জামিন যদি না হয়। এই সরকার যদি তোমাকে জেলে পাঠাতে চায়, যে করেই হোক পাঠাবে। এ দেশের জুডিশিয়াল সিসটেম তো ইনডিপেনডেন্ট না, সরকারি ইনফ্লুয়েন্সেই সব চলে। লোয়ার কোর্ট সরকারের ডাইরেক্ট আণ্ডারে। হাইকোর্ট অফিসিয়ালি ডাইরেক্ট না হলেও ইনডাইরেক্টলি আন্ডারে। তা না হলে হাইকোর্ট কিভাবে গোলাম আযমকে নির্দোষ প্রমাণ করে, বল! এই সরকার গোলাম আযমকে মুক্তি দিয়ে দেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন হাইকোর্টকে সরকারের আদেশ শুনতে হবে। তাছাড়া জাজরা তো আবার এক একটা পার্টির লোক।
হয়ত জেলই আছে কপালে। দীর্ঘশ্বাস ফেলতে ফেলতে বলি।
ঘ বললেন, ‘জেলে তো আর পলিটিক্যাল প্রিজনারদের সঙ্গে তোমাকে রাখবে না। রাখবে ক্রিমিনালদের সঙ্গে। খুনী বদমাশদের সঙ্গে। তোমার বিরুদ্ধে যে কেইস, সেটা তো ক্রিমিনাল কেইস। তোমাকে ক্রিমিনাল হিসেবে ট্রিট করা হবে। জেলে তুমি থাকবে কি করে! অসম্ভব। আমি দেখেছি জেলের ভেতরটা। ক্রিমিনালদের যেখানে রাখা হয়, সেখানে খুবই জঘন্য অবস্থা। ফ্লোরে শুতে হয়, কোনও বেড দেওয়া হয় না। গাদাগাদি করে শোয় সব। ঘরে কোনও ফ্যান নেই। দুর্গন্ধ। আন-হাইজিনিক আন- হেলদি পরিবেশ। পেচ্ছ!ব পায়খানার অবস্থা কল্পনা করা যায় না। যেখানে ঘুমোয়, সেখানেই পেচ্ছ!বপায়খানা করে। জঘন্য খাবার দেওয়া হয়। দুর্গন্ধ, বাসি পচা। মোটা মোটা লোহার মত শক্ত রুটি। উফ!’ ক্ষণে ক্ষণে শিউরে ওঠার কাঁপুনি ঘএর গায়ে, জ্ঞএসব তো আছেই, গার্ডরা মহিলা প্রিজনারদের রেপ করছে যখন তখন। না না, জেলের নাম নিও না। আমি ভাবতেই পারি না. ..’
