____________________________________________
জেহাদের ডাক
আল্লাহু আকবর
মুরতাদ বিরোধী আন্দোলনকে জোরদার করার প্রত্যয়ে
মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও সংহতিকে সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে
ইসলামী তাহজীব ও তমদ্দুনকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার উদ্দেশ্যে
আঞ্জুমুমান এত্তেহাদে মুসুসলেমীন এর উদ্যোগে
তৌহিদী জনতার ঐতিহাসিক মহাসমাবেশ
স্থান চণ্ডিপাশা হাইস্কুলুল মাঠ, নান্দাইল, ময়মনসিংহ
তাং- ২৬ শে জুলাই, ১৯৯৪ইং, মোতাবেক ১০ই শ্রাবণ ১৮০১ সাল (বাং)
রোজ মঙ্গলবার, সময় বেলা ২ ঘটিকা।
সভাপতি-হযরত মাওলানা আমিরউদ্দিন সাহেব
আহবায়ক — আঞ্জুমানে এত্তেহাদে মুসলেমীন
প্রধান অতিথি-মাননীয় জনাব আনওয়ারুল হোসেন খান চৌধুরী এম.পি
প্রধান পৃষ্ঠপোষক– আঞ্জুমানে এত্তেহাদে মুসলেমীন
বক্তব্য প্রদান করিবেন ঃ
১. হযরত মাওলানা আবদুল মান্নান হারুন নগরী সাহেব,
২. হযরত মাওলানা আলী হোসেন রাঘেবী সাহেব
৩. হযরত মাওলানা মজিবর রহমান খান সাহেব, অধ্যক্ষ, ঘোষপাড়া সিনিয়র মাদ্রাসা
৪. হযরত মাওলানা সায়েদুর রাহমান সাহেব, নান্দাইল
৫. হযরত মাওলানা আবদুল মালেক সাহেব, নাজেম, বারুই গ্রাম মাদ্রাসা
৬. হযরত মাওলানা রিয়াজ উদ্দিন সাহেব, প্রাক্তন অধ্যক্ষ, আশরাফ চৌধুরী আলীয়া মাদ্রাসা
৭. হযরত মাওলানা মাহতাব উদ্দিন খাকী সাহেব, আচারগাঁও
৮. হযরত মাওলানা রুহুল আমিন রাজী সাহেব, ঈশ্বরগঞ্জ
৯. হযরত মাওলানা আবদুল গফুর সাহেব, শেরপুর সিনিয়র মাদ্রাসা
১০. হযরত মাওলানা আবদুল মতিন সাহেব, চকমতি আলীয়া মাদ্রাসা
আরও অন্যান্য দেশ বরেণ্য ওলামাগণ বক্তব্য রাখিবেন।
আপনারা তৌহিদের ডাকে দলে দলে যোগদান করে মুরতাদ বিরোধী জেহাদের শপথ নিন।
বেরাদারানে ইসলাম
আসসলামু আলাইকুম।
মুরতাদ, ভ্রষ্টা ও কুলাঙ্গার তসলিমা নাসরিন কোরআন পাকের জঘন্য অবমাননা করেছে। আল্লাহর অস্তিত্বকে অস্বীকার করেছে (নাউজুবিল্লাহ), ৩০৮ কোরআন পাককে মনগড়া ধোঁকাবাজির গ্রন্থ বলেছে (নাউজুবিল্লাহ)।
নারী মুক্তির নামে আমাদের নারী সমাজকে অবাধ যৌন সম্পর্ক তথা বেশ্যাবৃত্তিতে প্ররোচিত করার স্পর্ধা দেখিয়েছে ( নাউজুবিল্লাহ)।
মুরতাদ সালমান রুশদী, তসলিমা নাসরিন ও কাদিয়ানীরা কোরআন হাদিস সুন্নাতে রাসুল( দঃ), সুন্নাতে সাহাবার (রাঃ) অপব্যাখ্যা করে ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহকে হেয় এবং হাস্যাস্পদ করার স্পর্ধা দেখিয়েছে।
মুরতাদ সালমান রুশদী, মুরতাদ তসলিমা নাসরিন ও কাদিয়ানী এবং এক শ্রেণীর এনজিও রা আন্তর্জাতিক ছত্রছায়ায় ইসলাম এবং মুসলিম উম্মাহর বিরুদ্ধে হীন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। হাককানী ওলামা সমাজ ও মুসলিম নেতৃবৃন্দকে হেয় এবং হাস্যাস্পদ করার স্পর্ধা দেখিয়ে যাচ্ছে। আমাদের ইসলামী আক্বিদা, তাহজীব, তমদ্দুন ও জেহাদী চেতনাকে ধ্বংস করে সুকৌশলে অপসংস্কৃতি অনুপ্রবেশ করানোর ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র চলছে। ভণ্ড পীরদের অপতৎপরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। মুসলিম জাহান এক মহা ফিৎনার সম্মুখীন হয়েছে। এই সার্বিক পরিস্থিতিকে মোকাবিলা করার জন্য বালাকোটের বীর শহীদানদের উত্তরসূরী আঞ্জুমানে এত্তেহাদে মুসলেমীন তৌহিদী জনতার পক্ষ থেকে ইসলাম, মুসলিম উম্মাহর বিরুদ্ধে সকল ষড়যন্ত্রকে স্তব্ধ ও নিশ্চিহ্ন করার দৃঢ় প্রত্যয় ঘোষণা করছে। মুসলিম সমাজে জেহাদী চেতনা এবং ঈমানী চেতনাকে সম্বল করে জেহাদের ডাক দিচ্ছে।
উপরোক্ত প্রেক্ষাপটে ঈমানী দায়িত্ব পালনের তাগিদে উক্ত মহা সমাবেশে দলে দলে যোগদান করে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও সংহতিকে সুদৃঢ় করার ও কাফের মুরতাদ ও ধর্মদ্রোহীদের প্রতিরোধের জেহাদকে এগিয়ে নিয়ে চলুন। শান্তি, শৃঙ্খলা এবং সাহসিকতার সাথে মহা সমাবেশে যোগ দিন। নাসরু মিনাল্লাহে ওয়া ফাতহুন কারিব (বিজয় অতি নিকটবর্তী)। আল্লাহ হাফেয।
আরজ গুজার
আঞ্জুমানে এত্তেহাদে মুসলেমীন এর পক্ষে
আলহাজ্ব মাওলানা আনিসুর রাহমান
____________________________________________
বাবার কথা খুব মনে পড়ছে আমার। একবার যদি বাবার সঙ্গে আমার দেখা হত! মনে মনে বাবাকে বলতে থাকি, কতদিন দেখা হয় না তোমার সঙ্গে, কত দীর্ঘদিন! শেষ যখন দেখি, দেখে তোমাকে মনে হয়নি তুমি সেই আগের তুমি, আগের সেই ঋজু শরীর আর নেই, আগের সেই গমগমে কণ্ঠস্বর, আগের সেই জুতোর মচমচ শব্দ, আগের সেই….তুমি তো হেরেছো জীবনে অনেক, আমিও। তুমি তোমার গ্রামকে সমৃদ্ধ করতে চেয়েছিলে, চেয়েছিলে ধানে পাটে শাকে সবজিতে বৃক্ষে ফলে ছেয়ে যাক তোমার শখের গ্রাম, এত সবুজের স্বপ্ন তুমি কি করে লালন করতে! তোমার স্বপ্নের সিঁড়ি বেয়ে যতই ওপরে উঠি, যতই উঠি কোনও শীর্ষের নাগাল পাই না এই কৌতূহলী আমিও। বিনিময়ে ওই গ্রামের লোকেরা তোমার মাথায় কুড়ুলের কোপ বসালো। আর আমার স্বপ্নের ওপর দেশসুদ্ধ মানুষ ঢেলে দিচ্ছে মণ মণ পাথর, গজারি কাঠ, হাতবোমা, আগুন, বিষাক্ত সাপ, ফাঁসির দড়ি, কী ভীষণ তাণ্ডব চারিদিকে, তাই না? একটি মানুষকে হত্যা করবে বলে লক্ষ লক্ষ লোক তাড়া করছে, হন্যে হয়ে খুঁজছে, তুমি কি ভয় পাচ্ছে!, রক্তচাপ বাড়ছে? না বাবা ভয় পেও না, আমি ঠিক দাঁড়াবই, ওদের পাথর, বোমা, সাপ আর ফাঁসির দড়ির সামনে আমি অনড় দাঁড়িয়ে থাকব, এত অনড় দাঁড়াব যে ওরা ওদের অস্ত্র নিক্ষেপ করে আমার দেহকে নির্মূল করবে হয়ত, কিন্তু বিশ্বাস! বিশ্বাস তো মরবে না, যা আমি ছড়িয়ে দিয়ে গেছি হাজার মানুষের মধ্যে, তা মানুষ গোপনে হলেও রোপণ করবে, ওতে জল দেবে, আর চারা যদি বড় হতে হতে বৃক্ষ হয়, মহীরূহ হয়, তবে জগতে কত কুড়ুল আছে যে কোপ বসাবে ওদের গায়ে? না হয় বসাক, মরা বৃক্ষের আনাচ কানাচ থেকে আবার বুঝি অঙ্কুরোদগম হয় না? হয়। বাবা তুমি ভে−ঙা না, যেমন মেরুদণ্ড শক্ত করে দাঁড়াতে শিখিয়েছিলে আমাকে, তেমন দাঁড়িয়ে থাকো। আমরা হেরে গেছি বটে আজ, মানুষ আজ চাবুক মারছে আমাদের পিঠে, একদিন দেখো, তোমার গ্রামও ধানে পাটে শাকে সবজিতে বৃক্ষে ফলে সমৃদ্ধ হবে, একদিন দেখো আমার স্বপ্নগুলোও ডালপালা মেলবে। বিত্ত নেই, মান নেই, আমাদের বুকের ভেতর নিষ্কলুষ স্বপ্ন ছাড়া আর আছে কি, বল!
