জামাতে ইসলামী ২৯ জুলাই বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে সমাবেশ করবে বলছে। প্রশ্ন মনে উদয় হয়, ঝকে জিজ্ঞেস করি, জামাতে ইসলামী সম্মিলিত সংগ্রাম পরিষদের সঙ্গে লং মার্চ আর মহাসমাবেশ করছে না, কারণটি কি?
ঝও ব্যাপারটি বুঝতে পারছেন না। জামাত হঠাৎ আলাদা হয়ে গেল কেন? জামাত ছাড়া আর সব মৌলবাদী দল তো সব একসঙ্গে আছে। মৌলবাদী জোটে জামাত নেই কেন?
আগের একটি খবরের কথা মনে করে ঝ বললেন, নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব। জামাতে ইসলামী মনে করে তাদের নেতারা অন্য ইসলামী দলের চেয়ে বড় নেতা, সুতরাং জামাত হয়ত পুরো জোটের নেতৃত্ব দিতে চায়। কিন্তু ওদিকে আমিনী, শায়খুল হাদিস এরা নাম করে ফেলেছে যথেষ্ট, এরা এখন নিজামীদের ওপর নাপতানি করতে চাইছে। সম্মিলিত সংগ্রাম পরিষদের তো গোপন মিটিংও হয়ে গেছে জামাতকে তারা দলে নেবে কি নেবে না এ নিয়ে। কেউ বলছে জামাত থাকুক, কেউ বলছে না দরকার নেই। সম্মিলিত সংগ্রাম পরিষদ এখন জামাতের চেয়েও বেশি শক্তিশালী, জামাত এখন সঙ্গে না থাকলেও তাদের কোনও কিছু যায় আসে না।
এদের মধ্যে একটা ব্যাপার দেখেছো? আমি বলি, জামাতে ইসলামী আর ইসলামী ঐক্যজোট বা সম্মিলিত সংগ্রাম পরিষদের মধ্যে মতবিরোধ থাকলেও তারা কিন্তু মঞ্চে উঠে এক দল আরেক দলকে গালাগাল করছে না। কিন্তু এখানে বিএনপি আর আওয়ামী লীগ হলে চুলোচুলি লেগে যেত।
এদেশে মৌলবাদীদেরই মনে হয় ভবিষ্যৎ ভাল। তাদের মধ্যে একতা আছে। আজ জামাতে ইসলামীর প্রতি থানায় পথসভা আছে ও মিছিল আছে। কাল বাদ আছর বায়তুল মোকাররম থেকে মিছিল বের করবে, কেবল তাই নয়, প্রতিটি থানা, ওয়ার্ড আর মহল্লা থেকে জামাতের মিছিল বেরোবে, আর ২৯শে জুলাই বিকেল ৩টায় বায়তুল মোকাররমের সামনে জনসভা। মোল্লারা ২৪ ঘণ্টা ব্যস্ত। দিনে মিছিল করছে, রাতে মশাল মিছিল করছে। রাতে যে ব্যাটারা একটু ঘুমোবে তাও না, এমনই উত্তেজিত।
আমি বলি, এই যে জনসভাগুলো করছে, সবই তো রাস্তা বন্ধ করে। মঞ্চ করছে রাস্তার ওপর। সাধারণ মানুষকে কি কম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে!
ঝর কণ্ঠে নির্লিপ্তি, তাতো হচ্ছেই। তা আর কে কেয়ার করে! জনগণ নিয়ে এ দেশের কোনও রাজনৈতিক দল ভাবে না। জামাতে ইসলামী কার কাছ থেকে শিখেছে রাস্তা বন্ধ করে জনসভা করা? বিএনপি আওয়ামী লীগের কাছ থেকেই তো!
–এ দেশে, দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলি,কোনওদিনই একটি সুস্থ নেতৃত্বের দেখা পাবো না, যারা সত্যিকার দেশের মানুষের মঙ্গল কামনা করে!
–তা তো আছেই। গণফোরাম আছে। বাম দলগুলো দুএকটা আছে। কিন্তু তাদের কোনও জনপ্রিয়তা নেই। আর ক্ষমতায় গেলে সব লোকই যখন করাপ্ট হয়ে যায়, তখন কারও ওপর আর আস্থা নেই।
–কামাল হোসেন আমার লইয়ার বলে বলছি না। তাঁর দলটিই মনে হয় সত্যিকার একটি দল যে দলটি ক্ষমতায় গেলে দেশের সত্যিকার উন্নতি হতে পারে।
ঝ জোরে হেসে বলেন, একই বু−র্জায়া দল। একই একই। আওয়ামী বিএনপির চেয়ে আলটিমেটলি কোনও পার্থক্য নেই। ক্যাপিটালিস্ট। তবে অনেস্ট ক্যাপিটালিস্ট। এখন যেরকম দুর্নীতি চলে, তেমন হয়তো চলবে না। কিন্তু গরিব গরিবই থেকে যাবে। যাই হোক, কারা ভোট দেবে কামাল হোসেনকে?
ঝ একটু থেমে, একটু ভেবে বলেন, দেশের কিছু শিক্ষিত মধ্যবিত্ত মানুষের ভোট পেয়ে আর যাই হোক নির্বাচনে জেতা হয় না। ভোট পাওয়ার জন্য যেমন অসৎ হতে হয়, তেমন অসৎ কামাল হোসেন হতে পারবেন না, তাই তিনি ভোট পাবেন না। গণফোরাম বাংলাদেশের সংজ্ঞায় কোনও রাজনৈতিক দল না হয়ে হয়ে গেছে রাজনৈতিক বুদ্ধিজীবীদের ক্লাব। সাধারণ মানুষ গণফোরাম চিনতে চিনতে আরও কয়েক যুগ নেবে।
ঝ আর আমি মুখোমুখি আধশোয়া হয়ে এসব নিয়ে কথা বলি। একটি খবর দেখে আমি চমকে উঠি, উঠে বসি, শেষ পর্যন্ত ..
শেষ পর্যন্ত কি?
শেষ পর্যন্ত সরকারকে বলতে হল..
কি বলতে হল বলই না! ঝ টান দিয়ে কাগজটি আমার হাত থেকে নিয়ে নিলেন।
পড়ে, হেসে, তিনি বললেন, তথ্যমন্ত্রী বলেছে মৌলবাদীদের আস্কারা দেওয়া যাবে না। বলেছে বাংলাদেশে মৌলবাদীদের কোনও স্থান নেই।
আমি বলি, কেমন বেসুরো লাগছে শুনতে যে বিএনপি সরকার এ কথা বলছে। ঝ বললেন, বলেছে বিদেশে এ দেশটা মৌলবাদী দেশ হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে বলে। তা না হলে মৌলবাদীরা যে দীর্ঘদিন থেকে সন্ত্রাস চালিয়ে যাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কোনও কথাই তো আগে বলেনি। বলেনি আগে। এই সরকার নিজেকে গণতান্ত্রিক সরকার বলে। তা বটে, গভরমেন্ট অব দ্য ফান্ডামেন্টালিস্টস, বাই দ্য ফান্ডামেন্টালিস্টস, ফর দ্য ফান্ডামেন্টালিস্টস হঠাৎ করে গণতন্ত্রের কথা বলছে।
ঝ যখন নিচে চলে যান কিছু জরুরি ফোন করতে, তখন পত্রিকার বড় একটি খবরে হঠাৎ চোখ পড়ে।
তসলিমা নাসরিনকে হত্যার জন্যে ইসলামী জেহাদ বিশেষ স্কোয়াড গঠন করেছে। আনুষ্ঠুষ্ঠানিক ঘোষণা ২৯ জুলুলাই।
তসলিমা নাসরিনকে হত্যা করার জন্য ইসলামি জেহাদ নামে একটি সংগঠন বিশেষ স্কোয়াড গঠন করেছে। আগামি ২৯ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে এই স্কোয়াডের নাম ঘোষণা করা হবে। ইসলামী জেহাদের আহবায়ক মাওলানা বরকতউল্লাহ নিউজ এণ্ড ফিচার সার্ভিসকে বলেছেন, শুধু তসলিমা নাসরিন নয়, ইসলাম এবং কোরআন বিরোধী সকল মুরতাদের বিরুদ্ধে স্কোয়াড সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তিনি বলেন, যে সব পত্রপত্রিকা কোরআনের অবমাননা করেছে, সেইসব পত্রপত্রিকার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ইসলামী জেহাদ নামের এই সংগঠনটির ঠিকানা বলা হয়েছে নয়ারহাট, সাভার। তবে এর আহবায়ক জানান, বর্তমানে ঢাকার নয়াটোলা, মগবাজারে তাদের অস্থায়ী কার্যালয় রয়েছে। ২৯ জুলাই লং মার্চের প্রতি ঐ সংগঠন সমর্থন জানিয়েছে। সংগঠনে সহস্রাধিক সাচ্চা মুজাহিদ রয়েছে বলে মাওলানা বরকত উল্লাহ জানান। যারা ইসলাম এবং কোরআন রক্ষার জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত। ইসলামী জেহাদ মনে করে তসলিমা নাসরিনসহ দেশের অধিকাংশ বুদ্ধিজীবী মুরতাদ। তাদের ফাঁসি হওয়া উচিত। তবে, এজন্যে তারা প্রথমে সরকারের কাছে ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাবে। পরবর্তী পর্যায়ে সরকার ব্যর্থ হলে তারা নিজেরাই ইসলাম রক্ষার জন্যে ঝাঁপিয়ে পড়বে বলে তারা জানিয়েছে। এই সংগঠনের সঙ্গে জামাতের কোনও সম্পর্ক আছে কী না এ ব্যাপারে পরিষ্কার কিছু বলেননি। তবে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের পর ৭৫ পর্যন্ত বরকত উল্লাহ কারাগারে ছিলেন। এখন অবশ্য তার চলাফেরা প্রকাশ্যে। বরকত উল্লাহ বলেন, বাংলাদেশের মানুষ বুঝতে পেরেছে, ইসলাম ছাড়া এই দেশ চলতে পারে না।
