সরকার কি একটু চিন্তায় পড়েছে! ২৯ জুলাই সার্ক দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলন হওয়ার কথা ঢাকায়। আর এই তারিখেই মৌলবাদীরা সারা দেশ থেকে লং মার্চ করে ঢাকায় আসছে মহাসমাবেশে যোগ দিতে। সম্মেলন পণ্ড হয়ে যায় কি না কে জানে। সমাবেশ করো তবে হোটেল শেরাটন থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পর্যন্ত রাস্তাটা বাদ দিয়ে কর। কানে কানে বলে দেওয়া হয়েছে মৌলবাদী নেতাদের।
এদিকে সরকার থেকে তসলিমা নাসরিন ইস্যু নিয়ে বিদেশে নেতিবাচক প্রচারের আচ্ছ!মত জবাব দেবার জন্য বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, সরকার থেকে তসলিমা নাসরিন ইস্যুতে বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করে একটি নোট পাঠানো হয়েছে বিদেশে বাংলাদেশি দূতাবাসগুলোয়। ঢাকায় বিদেশি সাংবাদিকদেরও সেই নোট পাঠানো হয়েছে। ২৯৫ (ক) ধারাটি কি এবং কাহাকে বলে তার ব্যাখ্যা করে দিয়েছে সরকার। ইহা যে কোনও উগ্র ইসলামি আইন নয়, ইহা যে ধর্মনিরপেক্ষ আইন, কারণ ইহা ব্রিটিশের তৈরি করা আইন, তার ব্যাখ্যা। কবে তৈরি করেছিল ব্রিটিশ আইন? ঔপনিবেশিক আমলে। প্রায় দুশ বছর আগে অথবা দেড়শ বছর আগে। ব্রিটিশ তৈরি করলেই আইন বুঝি খুব আধুনিক হয়ে যায়! ধর্মনিরপেক্ষ হয়ে যায়! সেটা কথা নয়, কথা হল, বাংলাদেশ দূতাবাস এখন মোক্ষম জবাব দিতে ব্যস্ত। ব্যস্ততার মধ্যে পাশের কলকাতায় বাংলাদেশ দূতাবাসের ডেপুটি হাইকমিশনার জাহাঙ্গীর সাদাত জানিয়েছেন ভারতীয় পত্র পত্রিকায় তসলিমা ইস্যু সঠিকভাবে তুলে ধরা হচ্ছে না। তার মানে বেঠিকভাবে তুলে ধরা হচ্ছে। বলেছেন,বাংলাদেশকে হেয় করার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে অত্যন্ত আবেগপূর্ণ এবং অপ্রাসঙ্গিক ইস্যুগুলোকে যা ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, তা ভারতীয় পত্রপত্রিকা ফলাও করে প্রচার করছে। জাহাঙ্গীর সাদাত সরকারি আদেশে কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা, যুগান্তর, আজকাল এসব পত্রিকায় চিঠি পাঠিয়েছেন, লিখেছেন, তসলিমা নাসরিনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ২৯৫(ক) ধারায় একটি ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে। বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মবিশ্বাসে আঘাত হেনে প্রকাশ্যে বিদ্বেষপূর্ণ বিবৃতি প্রদানের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এই মামলা করা হয়। তসলিমা আইনের প্রক্রিয়া এড়িয়ে চলছেন। তিনি যদি কোনও অপরাধ করে না থাকেন তাহলে তাকে আদালতেই নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে হবে। বহু পশ্চিমা দেশের মত বাংলাদেশে ব্লাসফেমি আইন নেই। কিন্তু তসলিমার বিরুদ্ধে যে আইনে মামলা হয়েছে সেটি সকল ধর্মের অনুসারীদের নিরাপত্তা প্রদানকারী একটি ধর্ম নিরপেক্ষ আইন। তার প্রকাশ্য বিবৃতিসমূহ সাধারণ আইনের আওতায় তদন্তাধীন রয়েছে। এক শ্রেণীর ভারতীয় পত্রপত্রিকা এমন একটি ধারণা সৃষ্টির চেষ্টা করছে যে তসলিমাকে নির্যাতন করা হচ্ছে। এইসব পত্রিকা ইচ্ছাকৃতভাবে আইনগত ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক নির্যাতনের পরিষ্কার ধারণার মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। ভারতীয় পত্রিকা ও অন্যান্য প্রচার মাধ্যম বাংলাদেশ সরকার জনগণের মৌলিক অধিকার ও বাক স্বাধীনতা রক্ষা করছে না, এমন একটি মিথ্যা ধারণা সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে। বাংলাদেশ সরকার তসলিমা নাসরিনকে প্রকাশ্যে ইসলামের বিরুদ্ধে বিবৃতিদানের মামলায় ন্যায় বিচার পাওয়ার জন্য আইনের নিরাপত্তা দিচ্ছে। একমাত্র আদালতই তাকে বিশাল জনরোষ থেকে রক্ষা করতে পারে। তবে তসলিমা নিজেই ্আইনগত প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা গ্রহণ করেননি। বাংলাদেশ সরকার মৌলবাদী চাপের কাছে হার মানছে বলে যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা মোটেও সত্য নয়। বরং সরকার দেশের ধর্মনিরপেক্ষ আইন অনুসারেই কাজ করছে। দেশের আইনের অধীনেই তসলিমার বিচার হচ্ছে। যেহেতু তসলিমা আত্মগোপন করে আছেন এবং আইনের হাত থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন, তাই তিনি আইনগত নিরাপত্তার দাবি করতে পারেন না। যেহেতু বাংলাদেশের আদালত স্বাধীন, মুক্ত ও নিরপেক্ষ তাই তসলিমা ন্যায় বিচার পাবেন। তসলিমার বিরুদ্ধে কোনও ব্যক্তি বা গ্রুপের হত্যার হুমকি দেওয়ার কোনও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ আছে কি না তা আদালতই সিদ্ধান্ত নেবে। বাংলাদেশ সরকার হত্যার হুমকি প্রদানের বিরুদ্ধে যে কোনও ব্যক্তি বা সংগঠনকে হুঁশিয়ার করে দিয়েছে। বাংলাদেশে এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সরকার বিষয়টিকে আদালতে অর্পণ করে তসলিমাকে শুধু আইনী নিরাপত্তাই দেয়নি, দেশের আইনকে সমুন্নত রাখা ও তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার জন্য রাজনৈতিক ও ধর্মীয় শক্তিকে সাফল্যজনকভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। এই হল সরকারি জবানবন্দি। কিন্তু আত্মপক্ষ সমর্থন কেন করতে হচ্ছে সরকারকে! বিদেশে ছাপানো খবরগুলো সরকারকে অস্বস্তিতে ফেলছে বুঝি!
আরেকটি জরুরি খবর।
তসলিমা নাসরিন ইস্যু কভারের উদ্দেশ্যে কোনও বিদেশি সাংবাদিককে বাংলাদেশে আসার ব্যাপারে ভিসা না দেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় নির্দেশ দিয়েছে।
২৯ জুলাইএর লং মার্চ সফল করার জন্য মৌলবাদী নেতারা দেশের এক শহর থেকে আরেক শহরে দৌড়োচ্ছেন, জনসভায় বক্তৃতা করছেন। আনোয়ার জাহিদ খুলনার জনসভায় বলেছেন, সত্য কথা বললে যদি মৌলবাদী হতে হয়, তবে আমি গর্ব করে বলছি আমি মৌলবাদী।
ঝ আজ আপিসে যাননি, দীর্ঘ সময় কাটাচ্ছেন আমার সঙ্গে। বিভিন্ন খবর নিজে তিনি পড়ছেন, শোনাচ্ছেন।
