সৌদি আরব থেকে প্রকাশিত আরব নিউজ পত্রিকাটিতে লেখা হয়েছে,তসলিমা প্রসঙ্গটি পশ্চিমা দেশগুলোকে ইতিমধ্যে উত্তেজিত করেছে এবং তারা বাংলদেশের সরকারকে তসলিমার নিরাপত্তা এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষার আহবান জানিয়েছে। তসলিমা তাঁর লেখায় ইসলামী আইন পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছিল এবং ইসলামী বিশ্বাস ও মূল্যবোধকে বিদ্রূপ করেছিল। এর পরেই আন্তর্জাতিক প্রেস ফ্রীডম ও মানবাধিকারের এই স্বঘোষিত অভিভাবকরা তসলিমার উকিল হিসেবে আবির্ভূত হয়। এটি একটি নাটক। এই নাটক তসলিমার নিজের সৃষ্টি, যেন সে যুক্তরাষ্ট্র গমনের সুযোগ পায়। এরপর আমেরিকার সাহিত্য সভাগুলোতে বক্তৃতা দেবার সুযোগ পাবে, বই প্রকাশ করবে এমনকি হিলারি ক্লিনটনেরও সাক্ষাৎ পাবে। মত প্রকাশ মানে জনগণের সেন্টিমেণ্টে আঘাত করার লাইসেন্স নয়। যারা সংঘাতকে উস্কায় ও মদদ যোগায়, সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করে, তারা স্বাধীনতার নয়, নৈরাজ্যেরই প্রবক্তা। এদের শাস্তিই হওয়া উচিত। তসলিমা নাসরিনরা হল হাইড্রার মত মাথা বিশিষ্ট দানব। এদের একটি মাথা কাটলে দুটি মাথা গজায়। এদের গুরু সালমান রুশদি থেকে এরা শিখেছে কিভাবে দ্রুত পয়সা কামানো যায়। তৃতীয় বিশ্বে অনেক উচ্চাকাঙ্খী সাহিত্যিক সাংবাদিক রয়েছে যারা লন্ডন প্যারিস নিউইয়র্ক এর আরাম আয়েশের জন্য যে কোনও কিছু করতে রাজি। এ সকল স্বপ্নিককে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই সেখানে অনেক শীতলতা, অনেক ধূসরতা। প্রাথমিক ঔৎসুক্য নিভে যাওয়ার পর তারাও নিভে যাবে। চীনা প্রবাদ তো আছেই, আবাসত্যাগী সিংহ তো কেবল একটি কুকুর।
খবরটি বিএনপির পত্রিকা দিনকালে ছাপা হয়েছে। দিনকালের উদ্দেশ্য বিধেয়র সঙ্গে মৌলবাদী পত্রিকাগুলোর কোনও পার্থক্য নেই। ইনকিলাব আমাকে যে ভাষায় গালাগাল করে, দিনকাল ঠিক সে ভাষাতেই করে।
তথ্য মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো তসলিমা নাসরিনকে প্রয়োজনীয় সকল নিরাপত্তা প্রদানের জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছে এবং তিনি যদি দেশত্যাগে সম্মত হন তাহলে তাকে অনুমতি প্রদানের জন্যও সুপারিশ করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ ও সরকারগুলো বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহান ঐতিহ্য সম্পর্কে জ্ঞাত আছে এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি তারা তাদের পূর্ণ আস্থাও ব্যক্ত করেছেন। তথ্যমন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা বলেছেন, বর্তমান সরকার লেখার ওপর নিয়ন্ত্রণ করতে চায় না। সরকার লেখকের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। তবে লেখকের স্বাধীনতার নামে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে ব্যাপারটিকে ভেবে দেখতে হয়। অবাধ স্বাধীনতা সামগ্রিক অবস্থাকে কোথায় নিয়ে যায় তাও তলিয়ে দেখার সময় এসেছে।
ঘটনা যে কোনদিকে মোড় নিচ্ছে ঠিক বুঝতে পারি না। আমি বরং ছবি আঁকায় মন দিই। ছবি আঁকাই দেশের রাজনীতি বোঝার চেয়ে অনেক সহজ মনে হয় আমার। রাতে আমার ছবি আঁকায় ব্যাঘাত ঘটে ঝর কারণে। ঝ এঘরে ভাত নিয়ে এলেন, ভাত খেয়ে সিগারেট ধরাবেন, পত্রিকায় চোখ বুলোবেন, কিছু কিছু খবর পড়বেন, খবর নিয়ে কথা বলবেন, আশঙ্কা বা আশায় দুলবেন, আমাকে দোলাবেন। ঝর সঙ্গে তাই হতে থাকে আমার। গরম গরম খাবার আর খবর। মুসলিম সোসাইটির ঘোষণাটি জানতে ইচ্ছে হয়। ঝর দিকে খবরটি ঠেলে দিই। গতকাল বুধবার সকালে বায়তুল মোকাররম দক্ষিণ গেটে ইয়ং মুসলিম সোসাইটি বাংলাদেশ আয়োজিত গণ সমাবেশে বলা হয়েছে, পৃথিবীর যেখানেই থাক, তসলিমা নাসরিনকে কেউ রক্ষা করতে পারবে না। আগামী ২৯শে জুলাই ঢাকা অভিমুখে লং মার্চের আগেই তসলিমাসহ ধর্মদ্রোহীদের গ্রেফতার ও বিচার করতে হবে। অন্যথায় ঢাকার প্রতিটি ঘরে তল্লাশি চালিয়ে তসলিমাকে ধরা হবে।
তসলিমাসহ সকল ধর্মদ্রোহীর ফাঁসি, ব্লাসফেমি আইন প্রণয়ন, এনজিওদের অপতৎপরতা নিষিদ্ধসহ অন্যান্য দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশ শেষে মিছিল সহকারে প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁস্থ কার্যালয়ে যাবার পথে পুলিশ বাধা দেয়। পরে একটি প্রতিনিধিদল সেখানে যায় এবং ১৭ দফা দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব ডঃ কামাল সিদ্দিকীর কাছে পেশ করা হয়। সমাবেশে ইসলাম ও রাষ্ট্রদ্রোহী তৎপরতা প্রতিরোধ মোর্চার সভাপতি মওলানা মহিউদ্দিন খান বলেন, প্রতিরোধ মোর্চা এক লাখ লোকের য়েচ্ছ!সেবক বাহিনী গঠন করেছে। প্রয়োজনে সোসাইটির পাঁচ হাজার কর্মী সুইুইসাইড মিশনে নাম লেখাবে। বিনা চ্যালেঞ্জে ধর্মদ্রোহীদের ছেড়ে দেওয়া হবে না। ঢাকা অভিমুখী ২৯শে জুলাইয়ের ইসলামী কাফেলার যাত্রা কেউ থামাতে পারবে না। মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক আইনুদ্দিন বলেন, এখন পর্যন্ত তসলিমা ও আমরা একই সাথে বেঁচে আছি –এর থেকে লজ্জা আর কি হতে পারে? আজ আমাদের মা আয়শা মদিনার কবর থেকে ফরিয়াদ জানাচ্ছেন, এ দেশের বিখ্যাত ৫/৬ জন বুজুর্গ রসুল(সাঃ)কে স্বপ্নে ফরিয়াদ করতে দেখেছেন। অতএব আর হাত পা গুটিয়ে দাবি জানাবো না। অন্য বক্তারা বলেন, লং মার্চের আগে তসলিমাসহ ধর্মদ্রোহীদের গ্রেফতার ও বিচার শুরু করতে হবে। ব্লাসফেমি আইন প্রণয়ন করতে হবে, অন্যথায় সোসাইটি কর্মীদের নিয়ে ঢাকার প্র্রিতিটি ঘরে তল্লাশি করে তসলিমাকে ধরা হবে।
