মার্কিন দূতাবাসে মোল্লাদের বিক্ষোভ মিছিল যাবে এই ঘটনা জানার পরই কাল শহরে পুলিশ নামানো হয়েছিল পল্টন আর বিজয়নগর এলাকার রাস্তায় এমন কি বাড়ির ছাদেও পুলিশ ছিল। যানবাহন চলাচল ওই এলাকায় বন্ধ থাকে। রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষেরা মিছিলকারীদের হাততালি দিয়ে অভিনন্দন জানাতে থাকে। একসময় তারাও নেমে পড়ে মিছিলে। কিন্তু পুলিশ বিজয়নগরের বেশি একটুও মিছিলকে সামনে এগোতে দেয় না।
গণজমায়েতে সম্মিলিত সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়কারী বায়তুল মোকাররমের খতিব ওবায়দুল হক বলেন, যতদিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন তসলিমার পক্ষে দেওয়া বিবৃতি প্রত্যাহার না করবে, ততদিন তৌহিদী জনতার প্রতিবাদ জ্ঞাপন অব্যাহত থাকবে। প্রেসিডেন্ট ক্লিনটন ধর্মদ্রোহীদের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন। আমার বিশ্বাস যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মভীরু জনগণও ক্লিনটনের বিরোধিতা করবে। মুসলমান কখনও জালিমের পক্ষ নিতে পারে না। ইসলাম ধর্মকে যারা কটাক্ষ করে তাদের সঙ্গে মুসলমানের বন্ধুত্ব হতে পারে না। ইসলাম গ্রহণ করে যে ত্যাগ করে তার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।
শায়খুল হাদিন বলেছেন, এক ভ্রষ্টা নারীর প্রেমে পড়ে ক্লিনটন তার পক্ষে ওকালতি করছেন। তিনি বারো কোটি মুসলমানের এবং বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছেন। বাঘের লেজ দিয়ে কান চুলকানোর পরিণাম ভাল হবে না। ইসলাম ও রাষ্ট্রদ্রোহী তৎপরতা প্রতিরোধ মোর্চার আহবায়ক মাওলানা মুহিউদ্দিন খান বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ গরিব হতে পারে কিন্তু তারা কারও চোখ রাঙানিকে ভয় পায় না। ২৯ জুলাই লং মার্চ আর মহাসমাবেশ করে তৌহিদী জনতা দেখিয়ে দেবে বাংলাদেশে ইসলামের দুর্গ কত মজবুত।
মোর্চার মহাসচিব ফজলুল হক আমিনী বলেছেন, টুপি দাড়ির ইসলাম ও মুসলমানের বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্র চলছে, তার শেষ জবাব দিতে সারাদেশের তৌহিদী জনতা আজ ঐক্যবদ্ধ। ২৯ জুলাই লং মার্চে ঢাকায় লাখো জনতার ঢল নামবে। মুসলমান কেবল আল্লাহর শক্তির কাছে মাথা নত করে, কোনও পরাশক্তির কাছে নয়।
আনোয়ার জাহিদ বলেছেন, আমরা বিশ্বাস করি হায়াত মওত আর রিযিকের মালিক আল্লাহ। মুসলমান একমাত্র আল্লাহকে ভয় করে, কোনও পরাশক্তিকে নয়। মার্কিন জনগণের বিরুদ্ধে আমাদের কোনও অভিযোগ নেই। বাংলাদেশের জনগণ ক্ষুব্ধ ও ব্যথিত প্রেসিডেন্ট ক্লিনটনের ভূমিকায়। তিনি ভ্রষ্টা নারী তসলিমার পক্ষে ওকালতি করেছেন। বারো কোটি মুসলমানের ঈমান ও আকিদাকে যে কুলাঙ্গার মেয়ে আঘাত করেছে ক্লিনটন তার সাফাই গেয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ক্লিনটন গায়ে পড়ে বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে ঝগড়া বাঁধিয়েছেন। তসলিমা তার কবিতা ও প্রবন্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ও ধর্মীয় মূল্যবোধের বিরুদ্ধে যে কটাক্ষ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কোনও নাগরিক তা করলে প্রেসিডেন্ট ক্লিনটনও তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতেন। কারণ ক্লিনটন বাইবেলে হাত রেখে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছেন। মার্কিন ডলারে এখনও লেখা আছে, ইন গড উই ট্রাস্ট। অর্থাৎ আমরা আল্লায় বিশ্বাস করি। পলাতক তসলিমা বলছে কোর্টে বা জেলে গেলে মৌলবাদীরা আমাকে মেরে ফেলবে। তাই পাশ্চাত্যের কোনও দেশে আমার আশ্রয় প্রয়োজন। ইরানের দোর্দণ্ড প্রতাপশালী শাহকে যুক্তরাষ্ট্র আশ্রয় দিয়ে বাঁচাতে পারেনি। তাই তসলিমাকে আল্লাহ যেদিন নিয়ে যাবেন, কেউ বাঁচাতে পারবে না। পরাশক্তির আঁচলে মুখ লুকিয়ে রাষ্ট্র ও ধর্মদ্রোহীরা কোনওদিন রেহাই পাবে না। তসলিমা বাংলাদেশকে শুয়োরের বাচ্চা বলে গালি দিয়েছে। বাংলাদেশের সীমানা মুছে ফেলার কথা বলেছে। পবিত্র কোরআন সংশোধনের স্পর্ধা দেখিয়েছে। ভারতীয় পত্রপত্রিকায় তার বক্তব্য ফলাও করে ছাপা হয়েছে। এরকম নষ্টা ও দেশদ্রোহী মেয়ের মানবাধিকার নিয়ে প্রেসিডেন্ট ক্লিনটন উদ্বিগ্ন। অথচ বসনিয়া ফিলিস্তিন ও কাশ্মীরে যখন প্রতিদিন মুসলমানদের জবাই করা হচ্ছে তখন সেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট কোনও কথা বলেন না। এদেশের জনগণ তসলিমার বিচার চেয়েছে শুধু। এর আগে একটি মহল রাস্তায় গণআদালত বসিয়ে যখন কারও কারও বিচার করেছে, তখন মানবাধিকার নিয়ে ক্লিনটন কোনও উদ্বেগ প্রকাশ করেননি। ব্রিটিশ রচিত আইনের (২৯৫ ক) মাধ্যমেই তসলিমার বিচার দাবি করা হয়েছে। ধর্মদ্রোহীতার শাস্তির বিধান দুনিয়ার সকল দেশেই আছে। তসলিমার ময়মনসিংহের বাড়িতে কেউ হামলা করেনি, নিজেরাই নিজের বাড়িতে হামলা করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে চাইছে। তৌহিদী জনতা এখনও সংযম প্রকাশ করছে। নতুবা তসলিমার বাড়ির একটি ইটও এতদিন থাকত না। আজকের এই বিক্ষোভ মিছিল এদেশে তৌহিদী জনতার আন্দোলনে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করল। বাংলাদেশের ইসলামের ওপর আজ ঘরে বাইরের শত্রুরা হামলা করছে। আঘাত যখনআসছে আমরা চুপ করে থাকতে পারি না। তবে এই আন্দোলন কোনও দেশের নাগরিকের বিরুদ্ধে নয়। এই আন্দোলন তসলিমা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
ফ্রীডম পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান প্রিন্সিপাল সিরাজুল হক বলেছেন, বাংলাদেশে ইসলাম থাকবে কি থাকবে না সেই ফয়সালার জন্য আজকের আন্দোলন।
খেলাফত মজলিসের মহাসচিব প্রিন্সিপাল মসউদ খান বলেছেন, ভিয়েতনাম, ইরান, সোমালিয়া থেকে মার্কিনীরা নিজেদের গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। বাংলাদেশের মুরতাদ নাস্তিকদের পাশে দাঁড়িয়ে আমেরিকাও রেহাই পাবে না। ইসলাম রাজনীতিবর্জিত ধর্ম নয়।
